07/31/2025
অনেক বছর পর, পুরনো বন্ধুদের দেখা। কেউ এসেছে বরিশাল থেকে, কেউ চট্টগ্রাম, কেউ ঢাকায় থাকে এখন, কেউ সিলেট থেকে ট্রেনে করে এসেছিল। সবাই মিলেছে একসাথে—একই জায়গায়, একই সময়ে—দারুচিনি দ্বীপে ঘুরতে যাওয়ার জন্য।নৌকা ভাড়া করা হয়েছে আগেই। বড় একটা গ্রামের নৌযান, কাঠের তৈরি, সামনের দিকে লাল-নীল কাপড় বাঁধা। মাঝি হিন্দু, নাম গণেশ; তার সহকারী মুসলমান, নাম রহিম। দুজনই প্রাণখোলা মানুষ—মুখে হাসি আর সুরে গান।নৌকা ছাড়তেই নদীর হাওয়ায় এক অন্যরকম আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল। সূর্য ডুবছে ধীরে ধীরে, পানির ওপর পড়ছে সোনালি আলো। হঠাৎ করে কেউ একজন গেয়ে উঠল:"ও নদীরে, তুই যাবে কোথায়..."আরেকজন সঙ্গে সুর মিলাল। কিছুক্ষণ পর গোটা নৌকাজুড়ে গানের ঢেউ বয়ে গেল। একেকজন একেক গানে গলা মিলিয়ে দিল। কেউ বকুল ফুলের কথা গাইছে, কেউ আবার গাইছে ব্যান্ড সঙ্গীত, কেউ রবীন্দ্রসঙ্গীত। গণেশ দা ঢোল হাতে নিলেন, আর রহিম ভাই তালি দিয়ে তালে তালে নাচলেন। হিন্দু-মুসলমান, শহরের ছেলে-মেয়ে, পুরনো বন্ধু, নতুন মুখ—সবাই এক ছাতার নিচে, নদীর মাঝখানে, সুরে বাঁধা।বন্ধুত্ব, গান আর প্রকৃতির এমন মিশ্রণে, সবার মুখে একটাই হাসি। এক বন্ধু বলল,“এই মুহূর্তটাই মনে রাখার মতো। কে কোথা থেকে এসেছে, সেটা কোনো ব্যাপার না—আজ আমরা একসাথে।”নৌকা তখন ছুটছে দারুচিনি দ্বীপের দিকে। আর গান ছুটছে সবার হৃদয়ের গভীরে।
🏝️দারুচিনি দ্বীপ