⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸

⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸ ︻╦̵̿╤──
Contact :[email protected]
⚠ bangladesh borisal bohawhhin vola garam chrtiya bohanwhin

 #স্নিগ্ধ_প্রেমাবেশ (১১) #জেরিন_আক্তার       [কার্টেসি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ]হিয়া শ্রাবণকে নিয়ে ছাদে এলো। বেশ কিছুক্ষন...
12/06/2026

#স্নিগ্ধ_প্রেমাবেশ (১১)
#জেরিন_আক্তার

[কার্টেসি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ]

হিয়া শ্রাবণকে নিয়ে ছাদে এলো। বেশ কিছুক্ষন টুকটাক কথা বলার পরে হিয়া শ্রাবণকে একটু জেলাস ফিল করাতে চাইলো। সামনের একটা বিল্ডিং দেখিয়ে শ্রাবণকে বলল,
-“দেখুন ওই যে বিল্ডিংটা দেখা যায়। ওই বিল্ডিংয়ের মালিকের ছেলে আমাকে পছন্দ করে। হয়তো জানে না আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে।”

শ্রাবণ স্বাভাবিক ভাবেই শুনলো। ও বুঝতে পেরেছে হিয়া ওকে বাজিয়ে দেখছে। কিন্তু শ্রাবণও তো চালাক কম নয়। হিয়া বলল,
-“ওই ছেলেটা না প্রত্যেকদিন দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতো আমার জন্য। ফুল দিয়েছে আমাকে।”

শ্রাবণের রাগ উঠছে কিন্তু প্রকাশ করলেই হিয়ার দাম বেড়ে যাবে। ও অন্য বাহানা দিয়ে বলল,
-“এসবের এখন চান্স নেই। আমার ওয়াইফ তুমি। আর এগুলো পরে শুনবো এখন নিচে চলো।”

-“আরেকটু থাকেন।”

-“না চলো। আমি তোমার মুখে অন্য কারো নাম শুনতে ইচ্ছুক না। যদি থাকতে হয় অন্য কথা বলো।”

হিয়া বিড়বিড় করে বকতে লাগলো। শ্রাবণ বলল,
-“তুমি সারাদিন বকো, সমস্যা নেই। তবে অন্যকারো কথা আমার সামনে বলবে না।”
-“ঠিক আছে।”

শ্রাবণ এগিয়ে এসে পাশ থেকে একটা গোলাপ ফুল ছিঁড়ে হিয়ার কাছে এসে ওর কানে গুজে দিলো। হিয়া শ্রাবণের দিকে তাকালো। শ্রাবণ হেসে বলল,
-“সেই লাগছে তোমাকে।”

দুপুরের পরপর এলো নেহা। হিয়া শাওয়ার নিতে ঢুকেছে। আর শ্রাবণ ড্রইং রুমে বসে আছে। নেহা এসে শ্রাবণকে চিনতে পেরে বলল,
-“আস্সালামুআলাইকুম দুলাভাই। ভালো আছেন?”
-“ওয়ালাইকুম আসসালাম। হ্যা ভালো। তুমি কেমন আছো?”
-“ভালো। আমি হিয়ার বান্ধবী।”

শ্রাবণ হেসে বলল,
-“তোমাকে চিনি আমি। হিয়া তোমার ছবি দেখিয়েছে।”
-“ওহহ। হিয়া কোথায়?”
-“রুমে শাওয়ার নিচ্ছে।”

মাহিমা বেগম এলেন নেহা তার সাথে কথা বলতে বলতে ভিতরে গেলো। হিয়া শাওয়ার নিয়ে নিচে নামলো। শ্রাবণ বলল,
-“তোমার বান্ধবী এসেছিলো। তোমাকে না পেয়ে চলে গিয়েছে।”

হিয়া কপালে ভাজ ফেলে বলল,
-“কিহ? চলে গিয়েছে কেনো?”
-“হুম। ও এসে জিজ্ঞাসা করলো হিয়া কোথায়? আমি বলেছি ও শাওয়ার নিচ্ছে। এরপরে বলল পরে আসবো।”
-“থাকতে বলেননি?”
-“আমি আর তোমার মা দুজনে মিলে থাকতে বলেছি কিন্তু রইলো না।”

হিয়া মুখটা শুকনো করে ভিতরের রুমের দিকে গেলো। সেই রুমে নেহাকে দেখে প্রায় চিৎকার করে উঠল। দুজনেই এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলো। মাহিমা বেগম হিয়াকে বললেন,
-“জামাই বাহিরে বসা আস্তে চিল্লা।”
-“আম্মু আর চিল্লাবো না। আসলে নেহাকে দেখে একটু খুশি হয়ে গিয়েছিলাম।”

মাহিমা বেগম চলে গেলেন। হিয়া নেহাকে বলল,
-“জানিস উনি বলল তু্ই নাকি চলে গিয়েছিস। তাই তোকে দেখে চিৎকার দিয়ে ফেলেছি।”
-“ধুর এসব বাদ দে। আগে বল থাকবি কতদিন?”

হিয়া উত্তরে বলল,
-“পরশু দিন চলে যাবো।”
-“আজকে চল তাহলে আমাদের বাড়িতে!”
-“আজকে যাবো না রে। কালকে যাবোনি।”
-“ঠিক আছে। সবাইকে নিয়ে যাবি। আম্মু বলে দিয়েছে।”
-“আচ্ছা।”

নেহা চলে যাওয়ার পরে হিয়া রুমে ফিরে। শ্রাবণ শুয়ে ছিলো। হিয়া চুল মুছতে মুছতে জিজ্ঞাসা করলো,
-“তখন মিথ্যে বললেন কেনো?”
-“কখন কি মিথ্যে বলেছি?”
-“বললেন যে নেহা চলে গিয়েছে।”
-“আমি কি বলেছি ও বাড়ি থেকে চলে গিয়েছে। আমি বোঝাতে চেয়েছি ও ঐরুমে চলে গিয়েছে।”
-“কিহ? মিথ্যে বলছেন কেনো?”
-“আমি মিথ্যে বলিনা বুঝলে।”

হিয়া শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে রইলো। লোকটা সোজাসুজি মিথ্যে বলে। হাবভাব দেখে বোঝা যায়না যে মিথ্যে বলে। এই লোকের সাথে কথায় পারবে না তাই ব্যালকনিতে চলে গেলো টাওয়াল মেলে দিতে। শ্রাবণ সেই সুযোগে দরজা লাগিয়ে দিয়ে এসে হিয়ার পেছনে দাড়ালো। হিয়া শ্রাবণকে দেখে আবার সামনে দিকে তাকালো। শ্রাবণ হিয়ার চুলগুলো সরিয়ে ওর উন্মুক্ত ঘাড়ে চুমু দিলো। হিয়ার সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠল। শ্রাবণ পরপর কয়েকটা চুমু দিলো। হিয়া লজ্জায় পেছন ফিরে প্রথমবারের মতো শ্রাবণকে জড়িয়ে ধরলো। শ্রাবণ নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারলো না। ওর হৃদস্পন্দন বেড়ে চলল। হিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-“আজ নিজেই জড়িয়ে ধরলে?”

হিয়া মাথা তুলে বলল,
-“জড়িয়ে ধরলেও দোষ না ধরলেও দোষ ছাড়ুন আমায়! আপনি ধরে রেখেছেন কেনো?”

শ্রাবণ বাকা হেসে হিয়াকে পাজা কোলে তুলে রুমে এলো। হিয়াকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজে পাশে শুলো। হিয়ার গলায় নাক ঘষতে ঘষতে বলল,
-“তোমার কি ইচ্ছে হয়না এই রাগী মানুষটাকে ভালো করতে। তুমি দূরে দূরে থাকলে কেমন যেনো বেশি রাগ হয়। তোমার মুখে কারো কোনো কথা শুনতে পারি না। ভালো লাগে না। বিরক্ত লাগে। তুমিই পারো আমার কাছে কাছে থেকে আমাকে ভালো করতে। তোমায় কাছে পেলে রাগ আসে না।”

হিয়া থমথমে গলায় বলল,
-“আমি যখন ছিলাম না তখন যে রাগ করতেন, আবার শান্ত হতেন। তেমনই এখন হবেন।”

-“তখন আর এখনকার সময় মোটেও এক না। তখন বউ ছিলো না। আর এখন লাল টুকটুকে একটা বউ আছে। কিন্তু আফসোস বউটা আমাকে কাছাকাছি আসেই না। তাই তো এখন শান্ত থাকতে পারি না।”

হিয়া লজ্জা পেলো। অন্যদিক হয়ে শুয়ে বলল,
-“ঘুমাবো।”
-“ঘুমাও না করেছে কে?”
শ্রাবণ গম্ভীর গলায় কথাটা বলে বিছানায় থেকে নেমে চলে গেলো। হিয়া শ্রাবণের যাওয়ার পানে তাকিয়ে উঠে বসলো। ভাবতে লাগলো শ্রাবণ কি রাগ করলো ওর কথায়?

হিয়া বিছানায় থেকে নেমে রুম থেকে বের হলো। ড্রইং রুমে এসে মাহিমা বেগমকে জিজ্ঞাসা করলো,
-“আম্মু তোমার জামাই কোথায় গেলো দেখেছো?”
-“বাহিরে গেলো দেখলাম।”
-“কিছু বলে গিয়েছে কি?”
-“না। একটু পরেই দেখবি চলে আসবে।”

হিয়া উপরে চলে এলো। নিজের রুমের ব্যালকনিতে এসে শ্রাবণকে দেখার চেষ্টা করলো কিন্তু ততক্ষনে শ্রাবণ হেটে কিছুদূর এগিয়ে গিয়েছে। হিয়া রুমে ফিরে বিছানায় বসলো।

শ্রাবণ রনিকে কল দিয়ে আসতে বলেছে। ও মিনিট বিশেকের মধ্যে চলেও এসেছে। শ্রাবণ গাড়িতে উঠে একটু ঘুরতে চলে গেলো। আবার সন্ধ্যার আগ দিয়েই ফিরে আসবে।

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলো কিন্তু শ্রাবণের আসার নাম নেই। হিয়া মাহিমা বেগমের সাথে রান্না-বান্নায় সাহায্য করে দিচ্ছে। আরেকদিকে শ্রাবণের জন্য চিন্তিত হয়ে আছে। তবে ওর মাকে বুঝতে দিচ্ছে না। হিয়া ওর মায়ের সাথে কিছু রান্না এগিয়ে দিয়ে রুমে ফিরে এলো। ফোনটা হাতে নিয়ে শ্রাবণকে কল দিলো। কিন্তু ফোনটা সুইচ অফ বলছে। ওদিকে শ্রাবণের ফোনে চার্জ নেই। ফোনে কথা বলতে বলতে অফ হয়ে গিয়েছে। হিয়ার চিন্তা হচ্ছিলো। বাহিরে আবার বৃষ্টিও শুরু হয়েছে।

আরও আধঘন্টা পেরিয়ে গেলো। মাহিমা বেগম হামিদ শিকদারকে কল দিলেন। তার আসতে তাও এক থেকে দেড় ঘন্টা লাগবে। আবার শ্রাবণও আসছে না, বাহিরে বৃষ্টি কোথাও রয়েছে না রয়েছে, কি করছে আল্লাহ ভালো জানে।

শ্রাবণ হিয়াদের বাড়ির সামনে এসেছে। গাড়িতে বসে আছে। বের হয়ে যে বাড়িতে ঢুকবে বৃষ্টিতে ভিজে যাবে। ও রনির ফোনটা নিয়ে হিয়াকে কল দিলো। হিয়া নাম্বারটা চিনলো। কলটা রিসিভ করতেই শ্রাবণ বলল,
-“ছাতাটা নিয়ে বাহিরে এসো তো। নিয়ে যাও আমাকে।”

হিয়া জিজ্ঞাসা করলো,
-“কোথায় ছিলেন আপনি হ্যা?”

-“এসো বলছি।”

হিয়া ফোনটা রেখে ওদের বাসার বড় ছাতাটা নিয়ে বের হতে নিলে মাহিমা বেগম জিজ্ঞাসা করলেন,
-“তু্ই এই সময় ছাতা নিয়ে বাহিরে যাচ্ছিস কেনো?”
-“আম্মু উনি এসেছে। বলছে ছাতা নিয়ে যেতে।”
-“ওহ তাড়াতাড়ি যা।”

হিয়া বেরিয়ে গেলো। গেটের সামনেই দেখলো শ্রাবণের গাড়িটা। হিয়া গাড়ির সামনে এসে দাড়ালো। শ্রাবণ গাড়ির দরজাটা খুলে হিয়ার ছাতার নিচে এসে দাড়ালো। হিয়া শ্রাবণের বুকের উপরে শার্টটা খামচে ধরে অভিমানী কণ্ঠে বলল,
-“কোথায় ছিলেন হ্যা? কতবার কল দিয়েছি।”
-“কেনো মনে পড়ছিলো নাকি?”
-“মনে পড়বে কেনো? এমনেই।”

এই বলে হিয়া রনিকে বলল,
-“ভাইয়া ভিতরে আসুন। দাঁড়ান আমি ছাতা নিয়ে আসছি।”
রনি অনীহা জানিয়ে বলল,
-“না, ম্যাডাম যেতে হবে।”
-“পরে যাবেন ভিতরে আসুন।”
-“অন্য একদিন আসবো। আজ আসি।”

রনি গাড়ি নিয়ে চলে গেলো। শ্রাবণ ভ্রু উঠিয়ে বলল,
-“বাব্বাহ যাকে সহ্য করতে পারো না তাকে ডাকলে যে?”
-“না ডাকার কি আছে। উনি তো আপনারই লোক। আর আমাদের বাড়িতে কেউ এলে আমরা তাকে আপ্পায়ন না করে যেতে দেই না। এখন আপনি ভিতরে চলুন। না বলে কই যান, বলে যান না। আপনার সাথে বোঝাপড়া আছে।”

শ্রাবণ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। হিয়া ঝাড়ি মেরে বলল,
-“চলুন ভিজে যাবো।”

শ্রাবণ হিয়ার কোমরে টান দিয়ে নিজের কাছে এনে বলল,
-“চলো একসাথে ভিজি। সেই একটা ওয়েদার, সাথে তুমি, আর কি চাই বলো।”
-“এখন না, পরে দিনেরবেলা বৃষ্টি হলে ভিজবো।”
-“প্রমিস!”
-“হুমম প্রমিস।”

শ্রাবণ ভিতরে এসে হিয়ার রুমে চলে গেলো। হিয়া ছাতাটা রেখে উপরে চলে এলো। শ্রাবণ আগে ফোনটা চার্জ দিলো। হিয়া রুমে ঢুকে শ্রাবণকে বলল,
-“কোথায় গিয়েছিলেন বললেন না তো?”
শ্রাবণ হেয়ালি করে বলল,
-“ওই এমনেই একটু এক্সের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।”
-“কিহ!”
-“হুমম।”

হিয়া তেড়ে এসে বলল,
-“এক্স মানে?”
শ্রাবণ টেডি স্মাইল দিয়ে বলল,
-“ঐযে একটু রনির সাথে ঘুরতে গিয়েছিলাম। এক্সের কথা মজা করে বলেছি।”
-“বেচে গেলেন। খেতে চলুন।”
-“হুমম চলো।”

শ্রাবণ যেতে যেতে বিড়বিড় করে বলল, -“একদম ঝাল মরিচ। কথা দিয়ে যেনো গুলি বের হয়। এই শ্রাবণকে ঝাড়ি দিয়ে চুপ রাখে, কি সাংঘাতিক মেয়ে রে। আল্লাহ আমার বউকে হেদায়েত দাও।”

#চলবে

প্রিয় পাঠক ও পাঠিকা,ফেইক পেইজ থেকে দূরে থাকুন।এটাই আমার একমাত্র অফিসিয়াল পেইজ।
গল্প পড়ে চলে যাবেন না প্লিজ—
একটি Follow একজন লেখিকার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নিজের বাই মনে করে নীল লিখায় চাপ দিয়ে পেইজটি ফলো করে রাখুন প্লীজ

🔵 ফলো পেইজঃ ⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸

আমি বেশি কিছু চাই না—
শুধু একটি ফলো। আশা করি এতটুকু দাবি সবাই রাখবেন

যারা যারা গল্পটা পড়ছেন রেসপন্স করবেন।

 #স্নিগ্ধ_প্রেমাবেশ (১০) #জেরিন_আক্তার        [কার্টেসি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ]রাত ৮ টা,শ্রাবণ ড্রইং রুমে বসে কারো সাথে...
11/06/2026

#স্নিগ্ধ_প্রেমাবেশ (১০)
#জেরিন_আক্তার

[কার্টেসি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ]

রাত ৮ টা,
শ্রাবণ ড্রইং রুমে বসে কারো সাথে কথা বলছে বলতে রাগারাগি করে কথা বলছে। পুরো বাড়িতে ওর উচ্চকণ্ঠ ভেসে যাচ্ছে। হিয়া একটু দূরে দাড়িয়ে আছে। কি নিয়ে কথা বলছে বোঝারও চেষ্টা করছে। হয়তো কাউকে কোনো একটা কাজ দিয়েছিলো কিন্তু সেটা তার মনমতো হয়নি। এই নিয়ে শ্রাবণের এতো রাগারাগি।

হিয়া সবার জন্য খাবার বাড়ছিলো। সাবিহা চৌধুরী নিচে এসে ওর কাজে হাত লাগালো। এরপরে ও তৌকির চৌধুরী, কাব্যকে ডাকলো। শ্রাবণ ফোনে কথা বলছে বলে ডিসটার্ব করলো না।

শ্রাবণ কথা বলা শেষে ডাইনিং টেবিলে এসে বসলো। গম্ভীর হয়ে খাবার খেতে শুরু করলো। এরপরে সবাইকেই উদ্দেশ্য করে বলল,
-“কালকে আমার একটা বন্ধুর বিয়ে দাওয়াত আছে। তোমাদের সবাইকে যেতে বলেছে। আমাকে সকালে বলেছে কিন্তু মনে ছিলো না।”

কাব্য বলল ওর ভার্সিটিতে ভাইবা এক্সাম আছে। ফিরতে লেট্ হবে, আর বন্ধুদের সাথে পেজেন্টেশন নিয়ে কথা আছে।
তৌকির চৌধুরী বললেন,
-“তোমার আম্মুকে নিয়ে আমার আরেক জায়গায় ইভেন্ট এটেন্ট করতে হবে। তুমি বরং হিয়াকে নিয়ে যাও।”
শ্রাবণ হিয়ার দিকে তাকালো ওর উত্তরের আশায়। হিয়া মাথা নাড়িয়ে বলল,
-“ঠিক আছে যাবো।”

এখন যদি হিয়া না করতো একদম তুলোকালাম লাগিয়ে দিতো। শ্রাবণ খাওয়া শেষ করে উঠে চলে গেলো উপরে। হিয়া হাফ ছাড়লো। যতক্ষণ শ্রাবণ সামনে থাকে ওর গলা শুকিয়ে যায়।

তৌকির চৌধুরী হিয়াকে বললেন,
“যাক প্রথমবার শ্রাবণের সাথে কোথাও যাবে।”

হিয়া তৌকির চৌধুরীকে বলল,
-“বাবা, আপনার ছেলে এতো রাগী বলার বাহিরে। যতক্ষণ পাশে থাকে কেমন যেনো বুক ধুকবুক ধুকবুক করে। কখন ধমক দেয়।”

তৌকির চৌধুরী রসিকতা করে বললেন,
-“ছেলের মা যেমন রাগী তার ছেলেও তেমন রাগী।”
হিয়া মাথা নাড়িয়ে বলল,
-“মোটেও না। মা রাগী না। আপনারা কেউই রাগী না। শুধু আপনাদের ছেলে রাগী।”

শ্রাবণ সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে সবার উদ্দেশ্যে বলল,
-“আমাকে নিয়ে কি কোনো কথা হচ্ছে।”

হিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে শ্রাবণকে দেখে বলল,
-“জি না। আপনাকে নিয়ে না। আমার একটা খালা আছে তাকে নিয়ে।”
তৌকির চৌধুরী আর সাবিহা চৌধুরী মুখটিপে হাসছেন। শ্রাবণ হিয়ার দিকে তাকিয়ে হাঁটা দিলো বাইরের দিকে। ও উপরে থেকে আসতে আসতে হিয়া ওকে নিয়ে কি কথা বলেছে শুনেছে।

পরদিন বিকেলবেলা শ্রাবণ আর হিয়া রেডি হলো। শ্রাবণ সাদা রঙের শার্ট সাথে কালো রঙের প্যান্ট পড়েছে। আর হিয়া নেভি ব্লু রঙের শাড়ি পড়েছে। শাড়িটা জর্জেটের মাঝে স্টোন বসানো। চুলগুলো খোলা রেখেছে হালকা কার্ল করে নিয়েছে।

শ্রাবণ মুগ্ধ চোখে হিয়াকে কতক্ষন দেখলো এরপরে ডাক দিলো,
-“এই এদিকে এসো।”
হিয়া শ্রাবণের কাছে এসে বলল,
-“হ্যা বলুন।”
শ্রাবণ উঠে দাড়ালো। এরপরে ফোনটা বের করে বলল,
-“একটা পাশে দাঁড়াও দুজনে মিলে ছবি তুলবো।”

হিয়া বাধ্য মেয়ের মতো শ্রাবণের পাশে দাড়ালো। ও কয়েকটা ছবি তুলে আবার হিয়াকে সিঙ্গেল ছবিও তুলে দিলো। এরপরে ছবিগুলো দেখতে দেখতে বলল,
-“তাড়াতাড়ি রেডি হও।”
-“আমি রেডি চলুন।”
-“হুমম।”

হিয়া এগিয়ে এসে শ্রাবণের কাছে এসে আবদার করা সুরে বলল,
-“শুনুন আজকে গাড়ি আপনি ড্রাইভ করবেন হ্যা!”
-“বেশ, এসো।”

শ্রাবণের বন্ধুর বিয়ে থেকে ফিরে আসার সময়,,
শ্রাবণ গাড়ি থামায়। হিয়াকে জিজ্ঞাসা করে,
-“কোথাও যাবে এখন?”

হিয়া গালে হাত দিয়ে বলল,
-“কোথায় যাবো?”
-“চলো ঘুরতে যাই।”
-“ঠিক আছে নিয়ে যান।”

ঘোরাঘুরি শেষে ১০ টার দিকে দুজনে ফিরে এলো। শ্রাবণ নিজেই ভাবতে পারছে না যে এই মেয়ে সারাদিন শুধু শুধুই ঝগড়া করবে আবার ওর কথা শুনবেও। ও যখন যা করতে বলবে তাই করে। কোনোটাই আর না করে না।

হিয়াও ভাবছে লোকটা সারাদিন ঝগড়া করলেও কেয়ার করবে, ঘুরতে নিয়ে যাবে, কখন কি করি সব খোঁজ রাখবে। হিয়ার ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্যায়নও করবে।

পরদিন সকালে সাবিহা চৌধুরী, হিয়া, ফাহিমা বেগম রান্না-বান্নার কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। আজকে হামিদ শিকদার আর মাহিমা বেগম আসবেন শ্রাবণ আর হিয়াকে নিতে। বিয়ের পরে শ্রাবণ হিয়াকে নিয়ে প্রথম শশুরবাড়ি যাবে। দুজনে থাকবে ২-৩ দিন।

হামিদ শিকদার আর মাহিমা বেগম সকালেই আসতেন। কিন্তু সকালে বৃষ্টি থাকার কারণে আসতে পারেননি। দুপুরের পরে এলেন। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে একটু রেস্ট নিলেন। এরপরে বাড়ির সবার সাথে কথা বলার পরে, যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। হিয়া আর শ্রাবণ রেডি। ওদের সবার বের হতে হতে বিকেল পার হয়ে গেলো। হিয়া ওর বাবা-মাকে বলেছিলো আজ এখানে থেকে কালকে সকালে বাড়িতে যাবে। কিন্তু হামিদ শিকদারের সকালে কোর্টে যেতে হবে। তাই আজই ওদের নিয়ে চলে গেলেন।

…....
হিয়া বাড়িতে পৌঁছে শ্রাবণকে নিয়ে নিজের রুমে ঢুকলো। শ্রাবণ ওর রুমটা আশেপাশে দেখতে দেখতে বলল,
-“বাহ্ সুন্দর তো তোমার রুমটা।”
-“থ্যাংক ইউ।”

শ্রাবণ বিছানায় বসলো। হিয়া ব্যাগ থেকে জামাকাপড় বের করে নিজের কাভার্ডে তুলে রাখলো। মাহিমা বেগম নক করে রুমে ঢুকলেন। হাতে বড় একটা ট্রে। কিছু মিষ্টি আইটেম, কফি, আর পায়েস। তিনি এগুলো রেখে চলে গেলেন। শ্রাবণ তো এই টাইমে কফি খায় না। কফিটা নিয়ে হিয়াকে দিলো। হিয়ার আবার এতোকিছু মেইনটেইন করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস নেই। ও কফি খেতে খেতে পাশে বসলো।

রাতের খাবার খাওয়ার সময় সবাই একসাথে বসলো। হামিদ শিকদার শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে আছেন। ছেলেটাকে আগে যেরকম ভেবেছিলেন ছেলেটা তেমন না। রাগী হলেও তার মেয়েকে সত্যিই ভালোবাসেন। অবশ্য মেয়ে বিয়ে দিয়ে ভুল কিছু করেননি। মেয়ের সুখেই তার খুশি।

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে শ্রাবণ রুমে ফিরলো। হিয়ার খেতে একটু দেরিই হলো। অনেকদিন পরে বাড়িতে এসেছে। খাওয়ার সময় কথা বলতে বলতে দেরি হয়েছে। শ্রাবণ ততক্ষনে এসে একটু শুয়েছে। হিয়া রুমে ফিরে দরজা লাগিয়ে দিয়ে বিছানায় এসে শুয়ে ফোনটা হাতে নেয়। নেহাকে কল দিয়ে বলল,
-“কিরে কেমন আছিস?”
-“ভালো। তু্ই কেমন আছিস বান্ধবী?”
-“ভালো।”
-“দুলাভাই কেমন আছে?”
-“ভালো। নেহা আমি বাড়িতে এসেছি।”
-“কবে এসেছিস?”
-“আজকে সন্ধ্যায়।”
-“ওহ। তাহলে কালকে দুলাভাইকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে আয়।”
-“যাবো। তু্ই আগে কালকে আয়।”
-“ঠিক আছে যাবো।”

হিয়া কথা বলছে আর শ্রাবণ ওর পা নিয়ে হিয়ার পায়ে স্লাইড করছে। হিয়া যতই পা সরাচ্ছে শ্রাবণ ততই কাছে আসছে। হিয়া নেহাকে বলল,
-“আচ্ছা তোকে পরে ফোন করবো। তু্ই কিন্তু কালকে আসবি।”
-“ঠিক আছে যাবো।”

হিয়া কল কেটে দিয়ে শ্রাবণের উপরে ক্ষেপে উঠে বলল,
-“আপনি তো ভারী আজব লোক। সবসময় পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করার ফন্দি খোঁজেন?”
শ্রাবণ হিয়ার কাছে এসে বলল,
-“সবসময় ঝগড়া করার মুড হয়না। অন্য কিছুরও মুড হয়।”
হিয়া আমতা আমতা করে বলল,
-“অন্য কিছুর মুড হয় মানে? ঘুমান।”

শ্রাবণ হিয়ার গলায় নাক ঘষে বলল,
-“ঘুম আসছে না। মাথায় হাত বুলিয়ে দাও।”
হিয়া শ্রাবণের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকলো। শ্রাবণ টুকটাক কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়লো। হিয়াও কখন ঘুমিয়ে গেলো বলা মুশকিল।

শ্রাবণের ঘুম ভাঙার পরে সামনেই পড়লো হিয়াকে। হাত-মুখ মুছে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এরপরে চুলগুলো বিনুনি করলো। শ্রাবণ তাকিয়ে দেখছে। হিয়া বুঝতেই পারছে যে ওকে কেউ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পরখ করছে। হিয়া নিজেকে পরিপাটি করে তুলে, রুমের দরজার কাছে যেতে যেতে শ্রাবণকে দেখলো। ও হেসে শ্রাবণকে বলল,
-“উঠে গিয়েছেন কফি আনি?”
-“হুমম যাও।”

শ্রাবণ উঠে চলে গেলো ওয়াশরুমে। ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে আয়নার সামনে দাড়ালো। হিয়া নিজে কফি বানিয়ে নিয়ে এলো। শ্রাবণকে কফি দিয়ে নিজের ব্যালকনিতে চলে এলো। ছোটবেলা থেকে এইখানেই ওর কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। শ্রাবণ কফি খেয়ে ব্যালকনিতে এসে হিয়ার চুলের বিনুনিটা হাতে পেঁচিয়ে ধরে বলল,
-“কি করছো এখানে?”
-“কিছুনা। অনেকদিন পরে নিজের ব্যালকনিতে এলাম তাই দাড়িয়ে দেখছি আশপাশ।”
-“ওহহ।”
-“চলুন ছাদে যাবেন? ছাদটা অনেক সুন্দর পছন্দ হবে আপনার।”
শ্রাবণ হেসে জবাব দিলো,
-“আপনি তো আমার পছন্দের মানুষ। আর আপনার পছন্দের জিনিস আমার পছন্দ না হয়ে যাবে কোথায়? নিয়ে চলুন।”

#চলবে

প্রিয় পাঠক ও পাঠিকা,ফেইক পেইজ থেকে দূরে থাকুন।এটাই আমার একমাত্র অফিসিয়াল পেইজ।
গল্প পড়ে চলে যাবেন না প্লিজ—
একটি Follow একজন লেখিকার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নিজের বাই মনে করে নীল লিখায় চাপ দিয়ে পেইজটি ফলো করে রাখুন প্লীজ

🔵 ফলো পেইজঃ ⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸

আমি বেশি কিছু চাই না—
শুধু একটি ফলো। আশা করি এতটুকু দাবি সবাই রাখবেন

যারা যারা গল্পটা পড়ছেন রেসপন্স করবেন।

10/06/2026

#স্নিগ্ধ_প্রেমাবেশ (০৯)
#জেরিন_আক্তার

[কার্টেসি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ]

শ্রাবণ রনির কথা শুনে হিয়াকে কল দিলো। হিয়া কলটা ধরলো। শ্রাবণ একটু করে গলা খাকারি দিয়ে বলল,
-“কি করছো?”
-“কিছুনা, মায়ের সাথে বসেছিলাম। মাত্র রুমে এলাম।”
-“ভার্সিটি গিয়েছিলে তো?”
-“হুম। ফিরবেন কখন?”
শ্রাবণ গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
-“অনেক রাত হবে। অফিস শেষ করে বারে যেতে হবে।”
-“সেখানে গিয়ে কি করবেন?”

শ্রাবণ বাকা হেসে বলল,
-“আরে বোঝোই তো ব্যাবসায়ী মানুষ, অনেক ব্যাবসায়ীদের সাথে ডিল করতে হয়। একটা ডিল ফাইনাল করতেই যাবো। তারপর সেখানেই ডিনার, এমনকি নাচ-গানের ব্যবস্থাও আছে।”

হিয়া কয়েক সেকেন্ড ভেবে বলল,
-“মেয়েরাও তো সেখানে থাকে তাইনা?”
-“হুমম থাকবেই তো।”

হিয়া ভ্রু উঠিয়ে বলল,
-“আপনারা তো বড়োলোক মানুষ, কত লোকের সাথেই উঠাবসা। আপনার যেটা ভালো মনে হয় তাই করবেন। রাখছি।”

এই শুনে শ্রাবণ ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লো। মনে মনে বলল, এই মেয়ে সহজে জেলাস ফিল হবে না। শয়তান মেয়ে একটা। ইচ্ছে করছে কথা না বলে ওকে ধরে কতক্ষন পেটাতে।

শ্রাবণ কথা না বলে রেগে কল কেটে দিলো। হিয়া ফোনটা রেখে রুম থেকে বেরোলো। ড্রইং রুমে এসে সাবিহা চৌধুরীর পাশে এসে বসে মুখটা শুকনো করে ডাক দিলো,
-“মা.. ”
-“হ্যা বলো!”
-“মা আপনার ছেলে কি বলছে শুনবেন!”
-“কি বলেছে বলো।”

হিয়া অভিযোগ করে বলল,
-“মা উনাকে সারাদিন ধরে কল দিয়েছি ধরেনি। একটু আগে আবারও কল দিয়েছি আপনার ছেলে এবার ধরেছে, তারপর বলেছি ফিরবেন কখন? বলে যে অনেক রাত হবে, আর নাকি বারে যাবে, সেখানে কিসের ডিল ফাইনাল করবে। তারপর নাচগানের আয়োজন করবে। বলেছি যাওয়া লাগবে না বাড়িতে চলে আসুন। সে আমার উপরে রাগ করে কল কেটে দিয়েছে। মা আমি ভুল কি বলেছি বলুন। উনার বউ আছে, উনি বউ রেখে কেনোই বা ওইখানে যাবে নাচগান দেখতে।”

সাবিহা চৌধুরী শক্ত কণ্ঠে বললেন,
-“দাড়াও ওকে কল করছি। এখনই বউয়ের কথা শোনে না। ওর বাপ এখনও ওর মায়ের কথায় উঠবস করে আর ও বউকে পাত্তা দেয় না। দাড়াও এক্ষুনি ওকে বাড়িতে আনছি। ওর ডিল করা বের করছি।”

সাবিহা চৌধুরী তৎক্ষণাৎ শ্রাবণকে কল দিলেন। শ্রাবণ কল ধরে বলল,
-“হ্যা বলো মা।”
সাবিহা চৌধুরী বললেন,
-“তুমি কোথায়? শুনলাম বারে যাবে ডিল করতে?”

শ্রাবণ সোজা হয়ে বসে বলল,
-“তোমাকে কে বলল? আমি তো কাউকেই বলিনি? শুনলে কোথায় থেকে?”

সাবিহা চৌধুরী শক্ত গলায় বললেন,
-“যেখানেই শুনি না কেনো তুমি আধঘন্টার মধ্যে বাড়িতে আসবে। এখনই বউয়ের কথা শোনো না, বাড়িতে এসে আমার সাথে দেখা করবে।”

শ্রাবণ কি বলবে ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। হিয়াকে বলেছে ভালোভাবে আর ওর আম্মু কি করে জানলো? কলটা কেটে দিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে তপ্ত শ্বাস ছাড়লো শ্রাবণ। রনি বলল,
-“কি হয়েছে স্যার?”
-“হিয়াকে বললাম বারে যাবো ফিরতে রাত হবে। আর আম্মু বলছে আধঘন্টার মধ্যে বাড়িতে আসো, কোনো ডিল লাগবে না, বউয়ের কথা শোনো না। এইগুলো বলল। আমি তো আম্মুকে বলিনি।”

রনি কয়েক সেকেন্ড ভেবে বলল,
-“আপনার ওয়াইফ মানে ম্যাডাম কি আপনার মাকে বলেছে।”

শ্রাবণ ভাবুক গলায় বলল,
-“হতে পারে।”

এর মিনিট পাঁচেক পরে কাব্যই শ্রাবণকে কল দিলো। শ্রাবণ স্ক্রিনে ওর নাম্বার দেখে বলল,
-“কাব্য আবার কি বলবে!”

কলটা রিসিভ করলো শ্রাবণ। কাব্য বলল,
-“ভাইয়া তুমি কি আম্মুর কথায় আসছো?”
-“না। এই কাব্য কি হয়েছে রে বাড়িতে?”

কাব্য অবলীলায় বলে দিলো,
-“ভাইয়া ভাবি না একটু আগে আম্মুকে এসে বলল তোমাকে নাকি সকালে থেকে কল দিয়েছে তুমি নাকি ধরোনি। একটু আগে কল দিয়েছে তুমি নাকি বলেছো বারে যাবে। আর ভাবি বলেছে যে তোমাকে ফিরে আসতে। তুমি নাকি তার কথা না শুনে রাগ করে কল কেটে দিয়েছো। আর ভাবি আম্মুকে বলছিলো, উনার বউ আছে, উনি বউ রেখে বারে যাবে কেনো? আর আম্মু সেটা নিয়েই রেগে আছে।”

শ্রাবণ চোয়ালে শক্ত করে বলল,
-“ঠিক আছে, আসছি।”

শ্রাবণ উঠে দাড়িয়ে রাগী কণ্ঠে বলল,
-“রনি গাড়ি বের করো। বের হবো।”

রনি বেরিয়ে গেলো। শ্রাবণ ওয়ালেট আর ফোনটা হাতে নিয়ে বের হলো। সামনেই তৌকির চৌধুরী শ্রাবণকে তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে যেতে দেখে বললেন,
-“কোথাও যাচ্ছো?”

শ্রাবণ শ্বাস ছেড়ে আশেপাশে তাকিয়ে একটু এগিয়ে এসে তৌকির চৌধুরীকে বলল,
-“হুমম, বাড়িতে। আম্মু তোমাকে সাথে নিয়ে যেতে বলেছে। তুমি নাকি আম্মুর কোনো কথা শোনো না। রেগে আছে। তাড়াতাড়ি চলো!”
তৌকির চৌধুরী কপাল কুঁচকে বললেন,
-“কিহ তোমার আম্মু রেগে আছে?”

এদিকে হিয়া যেনো বিশ্বজয় করে রুমে এলো। তবে মনে হয়না শ্রাবণ ওর আম্মুর কথায় আসবে। কাজ রেখে কি আর আসবে। এতক্ষনে হয়তো বুঝেও গিয়েছে হিয়া মিথ্যে বলেছে ওর মাকে।

হিয়া রুমের দরজা লক করে বিছানায় এলো। পাশ থেকে চকলেট বের করে খেতে শুরু করলো। এমনেও শ্রাবণকে বকা খাইয়ে খুব খুশিই হয়েছে।

এদিকে রনি শ্রাবণের চোখের দিকে তাকাতে পারছে না। খুব রেগে আছে। রনি ভালো মনেই তো এই আইডিয়াটা দিয়েছিলো। হিয়া আবার সাবিহা চৌধুরীকে মিথ্যে বলবে সেটা কি আর রনি বা শ্রাবণ জানতো!
…......
শ্রাবণ বাড়িতে ফিরে ড্রইং রুমে হিয়াকে না পেয়ে ফাহিমা বেগমকে দেখে বলল,
-“আন্টি হিয়া কোথায়?”
-“রুমে। ডেকে দিবো।”
-“না।”

শ্রাবণ ধুপধাপ পা ফেলে উপরে চলে এলো। নিজের রুমেটা লক দেখে জোরে জোরে ধাক্কালো। হিয়া দরজা খুলে দিয়ে শ্রাবণকে দেখে হেসে বলল,
-“এতো আগেই এলেন বারে গেলেন না।”

শ্রাবণ হুড়মুড় করে রুমে ঢুকলো। পরনের সুটটা খুলে হিয়াকে ডাকলো। হিয়া কাছে আসতেই বলল,
-“এটা রাখো।”
হিয়া সুটটা হাতে নিলো। শ্রাবণ ধমক দিয়ে বলল,
-“জামাই কাজে থেকে ফিরে এসেছে পানি কই? পানি আনো!”

হিয়া তড়িৎ পায়ে এগিয়ে এসে পানির গ্লাসটা নিয়ে শ্রাবণকে দিলো। শ্রাবণ পানি খেয়ে বলল,
-“টাওয়াল নিয়ে এসো চেঞ্জ করবো।”

হিয়া বাধ্য মেয়ের মতো তাই গেলো। টাওয়াল নিয়ে এসে শ্রাবণকে দিলো। শ্রাবণ শার্টটা খুলে নিতেই হিয়া ব্যালকনিতে গেলো। শ্রাবণ টাওয়াল কোমরে পেঁচিয়ে নিয়ে প্যান্ট খুলল সেখানেই। এরপরে হিয়াকে ডেকে বলল,
-“এদিকে এসো। লজ্জা পেতে হবে না।”

হিয়া এসে শ্রাবণকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখে একটু মাথা নিচু করে রইলো। চোখ তুলে তাকালো না। শ্রাবণ বলল,
-“আমার জামাকাপড় বের করে দাও। সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট বের করো।”

হিয়া মাথা নাড়িয়ে জামাকাপড় বের করলো। ভাবতে লাগলো এই লোক আজ এতো কাজ করতে বলছে কেনো?

মিনিট ১৫ পরে শ্রাবণ বের হয়ে হিয়াকে বলল,
-“যাও খাবার নিয়ে এসো।”

হিয়া তাই চলে গেলো। শ্রাবণ ওর যাওয়ার পরে বিড়বিড় করে বলল, -“নিজেকে লুকিয়ে লুকিয়ে বউ দাবি করো তাইনা। আজ থেকে বউয়ের সব কাজ, দায়িত্ব পালন করানো শিখাবো।”

হিয়া খাবার নিয়ে এসে টি-টেবিলে রাখলো। শ্রাবণ সোফায় বসে হিয়াকে জিজ্ঞাসা করলো,
-“খেয়েছো তুমি?”
-“হুমম।”

শ্রাবণ খাওয়া শুরু করলো। হিয়া ততক্ষনে শ্রাবণের আর ওর জামাকাপড় আনতে ছাদে গেলো। সেগুলো এনে রুমে বিছানার এককোণে রাখলো।

শ্রাবণ খাওয়া শেষ করে হাত ধুয়ে উঠে বিছানায় এসে হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে বসলো। হিয়া এটো থালাবাসন গুলো নিয়ে নিচে এসে রেখে আবার রুমে ফিরলো। এখন শ্রাবণের জামাকাপড় গুলো ভাজ করে রাখতে হবে।

তখনই শ্রাবণ হিয়াকে পাশে এসে বসতে বলল। হিয়া বসলো। শ্রাবণ পা সরিয়ে বলল আরও কাছে এসে বসতে। হিয়া কাছে এগিয়ে আসতেই শ্রাবণ হেঁচকা টান দিয়ে হিয়াকে শুইয়ে নিজে তার উপরে উঠে শুলো। হিয়া ঝাড়ি মেরে বলল,
-“সরুন তো। দিনদুপুরে একটা মেয়ের সাথে এরকম করতে লজ্জা করে না।”

শ্রাবণ হেসে হেসে বলল,
-“আপনার লজ্জা করে না আমার অগোচরে নিজেকে আমার স্ত্রী দাবি করেন। আমি নাকি আপনার কথা শুনি না। আমাকে সকাল থেকে কল করেন আমি নাকি ধরিনা।”

হিয়া চুপ হয়ে গেলো শ্রাবণের কথায়। শ্রাবণ হিয়ার চোখে চোখ রাখলো। হিয়া চোখ সরাতে চেয়েও পারলো না। শ্রাবণের নেশালো চাহনি চোখ সরাতে দিচ্ছে না। হিয়ার তাকানো দেখে শ্রাবণ জড়ানো গলায় বলল,
-“ভালো লাগছে এভাবে থাকতে?”

হিয়া কথাটা না বুঝে ওর চোখে-চোখ রেখেই জবাব দিলো,
-“হুমম।”
শ্রাবণ বাকা হেসে বলল,
-“আমাকে স্বামী হিসেবে মানো না, আবার আমার কাছাকাছি থাকতে ভালো লাগছে বলছো। ম্যাডাম আপনার ব্যাপার কি বলুন তো!”

হিয়া মাথা নাড়িয়ে বলল,
-“আমি না বুঝে বলেছি ভালো লাগছে। বুঝে বলিনি।”

শ্রাবণ সে কথায় পাত্তা না দিয়ে হিয়ার ঠোঁটের কাছে ঠোঁট এগিয়ে আনলো। হিয়া আসফাঁস করে অন্যদিকে ঘাড় কাত করলো। শ্রাবণ কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে হিয়ার চোয়ালে ধরে মুখোমুখি করে বলল,
-“তুমি ভেবেছো, আমাকে তোমার কাছে আসতে দিবে না। আর আমি শ্রাবণ আসবো না। এতো সিম্পল। শোনো আমি যদি এখন চাই তাহলে এখনই তোমার উপরে নিজের অধিকার খাটাতে পারবো। কিন্তু জোর করে সত্যিই যে ভালোবাসা পাওয়া যায় না। ভালোবাসা আসে বিশ্বাস থেকে।”

হিয়া ঢোক গিলে তাকিয়ে রইলো। শ্রাবণ পরপর বলল,
-“এই তাহসীর চৌধুরী শ্রাবণের ভালোবাসা মিথ্যে মনে করো না। এমন না যে আমার কাছে তুমি ছাড়া অপশন নেই। হাজারও অপশন রেখে তোমাকে জীবনসঙ্গী করেছি। কেনো বলো?”

হিয়া নিরেট কণ্ঠে বলল,
-“ভালোবাসেন বলেই।”

#চলবে

প্রিয় পাঠক ও পাঠিকা,ফেইক পেইজ থেকে দূরে থাকুন।এটাই আমার একমাত্র অফিসিয়াল পেইজ।
গল্প পড়ে চলে যাবেন না প্লিজ—
একটি Follow একজন লেখিকার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নিজের বাই মনে করে নীল লিখায় চাপ দিয়ে পেইজটি ফলো করে রাখুন প্লীজ

🔵 ফলো পেইজঃ ⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸

আমি বেশি কিছু চাই না—
শুধু একটি ফলো। আশা করি এতটুকু দাবি সবাই রাখবেন

যারা যারা গল্পটা পড়ছেন রেসপন্স করবেন।

❤️❤️🥰🥰😎
10/06/2026

❤️❤️🥰🥰😎

💔🥰💔💔💔
09/06/2026

💔🥰💔💔💔

“আমাকে ‘অহংকারী’ বলো… কারণ আমি NORMAL হতে চাইনি! 😎👽
08/06/2026

“আমাকে ‘অহংকারী’ বলো… কারণ আমি NORMAL হতে চাইনি! 😎👽

08/06/2026

#স্নিগ্ধ_প্রেমাবেশ (০৭)
#জেরিন_আক্তার

[কার্টেসি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ]

হিয়া শ্রাবণের ডাকে রুমে এলো। শ্রাবণ রেডি হচ্ছে। হিয়া জিজ্ঞাসা করলো,
-“ডাকলেন কেনো?”
শ্রাবণ হেয়ালি করে বলল,
-“কই ডেকেছি? আমি ডেকেছি বলে কি তোমার আসতে হবে? স্বামী বলে মানো না আবার তার ডাকে ছুটে আসো কেনো?”
হিয়া তাজ্জব বনে গেলো। এমন ভাবে ডাকলো যেনো কি না কি হয়েছে আর এখন বলে ডেকেছি বলে কি আসতে হবে? অসভ্য লোক।
হিয়া বিছানায় এসে বসলো।

শ্রাবণের ফোন বেজে উঠল। ফোনটা ড্রেসিং টেবিলের সামনে রেখে রেডি হচ্ছে। রনি ফোন করেছে। হয়তো তাড়াতাড়ি যেতে বলবে। শ্রাবণ কলটা রিসিভ করে হিয়াকে জেলাস ফিল করাতে রনিকে বলল,
-“হ্যা গো বলো!”
হিয়া তড়িৎ চোখ তাকালো। রনি ওপাশে থেকে বলল,
-“স্যার আপনার বাবা আপনাকে আসতে বলল।”

শ্রাবণ আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে রনিকে বলল,
-“আরেকটু ওয়েট করো। তোমার সাথে দেখা করেই অফিসে যাবো।”

হিয়া চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে রইলো। এদিকে শ্রাবণ কি বলছে রনি এর আগাগোড়া খুঁজে পাচ্ছে না। নাকি অন্য কেউ ভেবে ওকে এগুলো বলছে। রনি কলটা কেটে দিলো।

শ্রাবণ ফোনটা পকেটে ভরে নিলে হিয়া উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
-“কার সাথে এমন করে কথা বললেন।”
-“আছে একজন! কেনো?”
-“কেনো আবার? ভাবছি আবার কোন মেয়ে আপনার মতো বজ্জাত লোকের ফাঁদে পড়ছে।”
শ্রাবণ দাঁত চেপে বলল,
-“শাট আপ!”
-“হাহ উচিত কথা বললে সবারই গায়ে লাগে।”

শ্রাবণ এর প্রতিউত্তরে কিছু না বলে চলে যেতে নিলে হিয়া বলল,
-“শুনুন কালকে থেকে আমি ভার্সিটি যাবো।”
শ্রাবণ ভার গলায় বলল,
-“গাড়ি আছে, পৌঁছে দেবে।”
বলে চলে গেলো। হিয়া একটু জোরেই বলল,
-“ভালো করে বলা যায় না। সবসময় গম্ভীর হয়ে থাকবে।”
শ্রাবণ শুনে মুচকি হেসে হাঁটা দিলো।

রাত ১০ টা—
হিয়া শুয়ে শুয়ে মোবাইল স্ক্রল করছে। শ্রাবণ ফিরে এলো। বিকেলে অফিস শেষ করে একটা ইভেন্টে গিয়েছিলো। সেখানে থেকে আসতেই এতো লেট্ হলো। শ্রাবণ সুট খুলে গম্ভীর কণ্ঠে হিয়াকে বলল,
-“খেয়েছো?”
-“হুমম।”

এরপরে হিয়া শ্রাবণকে শুনিয়ে শুনিয়েই বলল,
-“শুনলাম আজকের ইভেন্টে সব বিজনেসম্যানদের নাকি তাদের ওয়াইফদের সাথে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো?”
শ্রাবণ কপাল কুঁচকে নিয়ে বলো,
-“হুমম। তুমি জানলে কি করে?”

হিয়া শয়তানি হেসে বলল,
-“আপনার যে বিজনেস পার্টনার সে আমার এক্স ছিলো। সেই বলেছে।”
শ্রাবণ ওর শয়তানি বুঝে নিয়ে বলল,
-“হুম, তাই তো সেও বলল। তবে তোমার চয়েস বলতে হবে। তোমার এক্সের মাথায় একটা চুলও নেই। কি দেখে প্রেম করতে গিয়েছিলে গো?”

হিয়া আর কথা বলল না। চুপচাপ বিড়বিড় করে বকতে লাগলো। শ্রাবণ এগিয়ে এসে বলল,
-“তোমার এক্স কেনো, তোমার দিকে যদি কেউ চোখ তুলে তাকায়ও তাকে আমার দুচোখে সহ্য হবে না। আর তার সাথে বিজনেস? হাউ ফানি।”

…..

শ্রাবণ ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় শুয়ে ফোন হাতে নিলো। হিয়া ততক্ষনে ঘুমিয়ে গিয়েছে। বিছানার মাঝখানে আবার দুটো কুশন রাখা। শ্রাবণ কুশনের উপরে ভর রেখে হিয়ার কাছে এসে ওর মুখপানে তাকিয়ে রইলো। কে বলবে এই মায়াবী চোখ-মুখটা শ্রাবণের সামনে এলেই ঝগড়া করার বাহানায় থাকে।

হিয়া সকালে ঘুম থেকে উঠে পাশে শ্রাবণকে পেলো না। বিড়বিড় করে বলল—কি জানি আবার কোথায় গিয়েছে। যতক্ষণ সামনে আসবে ঝগড়া ছাড়া আর পারে টা কি!

হিয়া ফ্রেশ হয়ে নিচে এলো। ফাহিমা বেগম কফি আর ঠান্ডা পানির বোতল নিয়ে কিচেন থেকে বের হলেন। সাবিহা চৌধুরী হিয়াকে বললেন,
-“গুড মর্নিং।”
হিয়া বরাবরের মতো হেসে বলল,
-“গুড মর্নিং মা।”
সাবিহা চৌধুরী ফাহিমা বেগমকে বললেন,
-“ওগুলো হিয়াকে দাও ও নিয়ে যাক।”

হিয়া বলল,
-“কোথায় যাবো মা?”
-“বাহিরে গ্যারেজের পাশে একটা বিশাল রুম আছে। যেটাকে শ্রাবণ আর কাব্য মিলে জিমের সকল সরঞ্জাম সেট করেছে। সেখানে শ্রাবণ জিম করছে। এগুলো ওর জন্যই।”

হিয়া মাহিমা বেগনের থেকে কফি আর পানির বোতল নিয়ে বলল,
-“মা আমি নিয়ে যাচ্ছি।”
সাবিহা চৌধুরী হাসলেন। মনে করেছিলেন ওদের দুজনের মাঝে সবকিছু ঠিকঠাক হতে একটু দেরি হবে। কিন্তু দুজনের মাঝে আন্ডাসস্ট্যান্ডিং দেখে বড়ই খুশি।

সাবিহা চৌধুরী কি আর জানেন দুজনে ঝগড়া ছাড়া আর কিছু বোঝে না।

হিয়া জিম হলের কাঁচের দরজা ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকলো। বাহিরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভিতরে জিম হল।

শ্রাবণ আয়নায় হিয়াকে দেখে কাব্যকে বলল,
-“কাব্য বাহিরে যা তো। তোর ভাবি আবার ভালোবাসা দেখাতে এসেছে বোধহয়।”
কাব্য টাওয়াল হাতে নিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে হিয়াকে বলল,
-“গুড মর্নিং ভাবি।”
-“গুড মর্নিং।”

হিয়া কফি এগিয়ে দিলো শ্রাবণের দিকে। শ্রাবণ তা হাতে নিয়ে বলল,
-“জিম করতে পারো?”
-“এর প্রয়োজন নেই। আমি ফিট আছি।”
-“ওহ ভালোই।”

হিয়া যেতে নিলে শ্রাবণ এগিয়ে এসে দরজা লক করে দেয়। হিয়া কাঁচের দরজাটা আর খুলতে না পেরে বলল,
-“আমি বাহিরে যাবো।”
-“যাও না করেছে কে।”
-“আপনিই।”
-“আমি মুখে একবারই বলেছি যেতে দিবো না।”

শ্রাবণ নাটকীয় ভঙ্গিতে বুকে ব্যাথা হওয়ার ভান করে কফিটা পাশে রেখে পাশেই সিটে বসলো। আর বুকে হাত দিয়ে বলল,
-“উফ, কি যে ব্যাথা!”
হিয়া এগিয়ে এসে দাড়ালো। শ্রাবণ বলল,
-“উফ ভালো লাগছে না। পানি দাওতো!”

হিয়া পানির বোতলটা এগিয়ে দিয়ে পাশে বসে বলল,
-“কি হলো হঠাৎ করে?”
শ্রাবণ অল্প পানি খেয়ে একটু ঝুকে বসলো। হিয়া শ্রাবণের পিঠে হাত রেখে বলল,
-“দেখি কোথায় ব্যাথা করছে!”
শ্রাবণ সোজা হয়ে বসে হিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
-“এই বুকে। হাত দিয়ে দেখো।”

হিয়া ভালো মনে হাত দিতেই শ্রাবণ বাকা হেসে বলল,
-“দেখলে তোমার পরশে কেমন ভালো হয়ে গেলাম।”
হিয়া কপাল কুচকালো। তার মানে নাটক করছে উনি। হিয়া হাত সরিয়ে নিতে চাইলে শ্রাবণ ওর হাতটা বুকে চেপে ধরে রইলো। হিয়া ঝাড়ি মেরে বলল,
-“এই হাত ছাড়ুন। যেতে দিন। কাজ আছে আমার।”
-“কোনো কাজ করতে হবে না।”
-“তাহলে কি করবো শুনি?”
-“কি আর করবে ঝগড়া করো।”
-“আপনি ভালো কথা বলতে পারেন না?”
-“তুমি ভালো কথা বলতে পারো না।”
-“না পারি না।”
-“তাহলে আমিও পারি না।”

এর কিছুক্ষন পরে শ্রাবণ কাঠ গলায় বলল,
-“আমি যতক্ষণ না এখানে থেকে বের হচ্ছি তুমি এখানেই থাকবে।”

হিয়া মিনমিন করে বলল,
-“জানিই তো যেতে দিবেন না মানে দিবেন না। আপনাকে চেনা শেষ।”

রাত অনেকটাই। বাহিরে বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক জোরে জোরে মেঘ ডেকে বাজও পড়ছে। হিয়া বালিশের নিচে মাথা রেখে শুয়ে আছে। প্রত্যেকটা বাজের শব্দ ছিটকে উঠছে। শ্রাবণ ল্যাম্প লাইট জ্বালিয়ে উঠে বসলো। হিয়ার দিকে একটু ঝুকে জিজ্ঞাসা করলো,
-“ভয় পাচ্ছো?”

হিয়া উঠে বসলো। মাথা উপর-নিচ নাড়িয়ে বলল,
-“হুমম।”
শ্রাবণ কুশন দুটো সরিয়ে বলল,
-“কাছে আসবে কি?”
-“উহু!”

শ্রাবণ গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
-“তাহলে থাকো, আমি ঘুমালাম। এমনেও বৃষ্টির সময় এই বাড়ির পেছনে ভূতেরা একটু ঘোরাঘুরি বেশিই করে।”

হিয়া একটু ভয় পেয়ে গেলো। ঢোক গিলে জিজ্ঞাসা করলো,
-“ভূত মানে? ভূত বলতে কিছু নেই জানেন না?”
-“জানি কিন্তু এতো বছরে দেখে আসছি ভূতের চলাফেরা। সেটা অস্বীকার করবো কি করে?”
-“সত্যিই?”
-“হুমম। তাহলে ঘুমাও বউজান।”

হিয়া বসে রইলো। শ্রাবণের উপরে থেকে পাতলা কমফোর্টারটা নিয়ে পুরো শরীরটা পেঁচিয়ে নিলো। এরপরে জিজ্ঞাসা করলো,
-“শুনুন, এই বাড়ির পেছনে যে ভূত আছে সেটা সূচনা হলো কি করে? কেউ কি সেখানে মারা গিয়েছিলো?”

শ্রাবণ আশেপাশে তাকিয়ে আস্তে আস্তে করে বলল,
-“শোনো কাউকে বলো না যেনো, বাবার থেকে শুনেছি অনেক আগে নাকি এই বাড়ির পেছনে একটা কাপল থাকতো। মেয়েটা ঘাড়তেরা ছিলো। ছেলেটা যা বলতো কিচ্ছু শুনতো না। নিজের মতো থেকেছে মেয়েটা। এভাবেই দিন চলছিল। এরপরে দিনের পরে দিন ছেলেটার সাথে মেয়েটা শুধু শুধু ঝগড়া করতো। এরপরে ছেলেটা আর সহ্য করতে না পেরে এক ঝড়ের রাতে ওই বাড়িতে আত্মহত্যা করেছে। ওই ছেলের আত্মাটা ঝড়ের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়।”

হিয়া ভয় পেয়ে শ্রাবণের কোলে এসে বসলো। শ্রাবণ বাকা হেসে আবারও আস্তে আস্তে বলল,
-“আরও শুনবে কি করে মারা গেলো। ছেলেটা দড়ি ফ্যানের সাথে বেধে আত্মহত্যা করেছে। শুধু ওই মেয়েটার ঝগড়ার জন্যই মরেছে গো।”

হিয়া কান বন্ধ করে শ্রাবণের বুকে মুখ গুজে গুটিশুটি মেরে ভয়ার্ত গলায় বলল,
-“আর বলবেন না ভয় করছে। আমি ভূতে ভয়ে পাই।”
শ্রাবণ মুখ ঘুরিয়ে বাকা হেসে মনে মনে বলল,
-“যাক এতে যদি একটু শিক্ষা হয় তোমার।”

শ্রাবণ বুঝে গিয়েছে হিয়াকে এইসব মিথ্যে বলে ভয় দেখানোর পরে ওকে আর নিজের থেকে আলাদা করা যাবে না। তবুও হিয়াকে বলল,
-“নামো কোলে থেকে। শুয়ে পড়ো।”
হিয়া আরও শক্ত করে শ্রাবণের শার্ট খামচে ধরে বলল,
-“আমি নামবো না। ভয় করছে।”

#চলবে

প্রিয় পাঠক ও পাঠিকা,ফেইক পেইজ থেকে দূরে থাকুন।এটাই আমার একমাত্র অফিসিয়াল পেইজ।
গল্প পড়ে চলে যাবেন না প্লিজ—
একটি Follow একজন লেখিকার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নিজের বাই মনে করে নীল লিখায় চাপ দিয়ে পেইজটি ফলো করে রাখুন প্লীজ

🔵 ফলো পেইজঃ ⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸

আমি বেশি কিছু চাই না—
শুধু একটি ফলো। আশা করি এতটুকু দাবি সবাই রাখবেন

যারা যারা গল্পটা পড়ছেন রেসপন্স করবেন।

 #স্নিগ্ধ_প্রেমাবেশ (৬) #জেরিন_আক্তার       [কার্টেসি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ]শ্রাবণ দরজা লাগিয়ে দিয়ে এসে বিছানায় বসলো। ...
07/06/2026

#স্নিগ্ধ_প্রেমাবেশ (৬)
#জেরিন_আক্তার

[কার্টেসি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ]

শ্রাবণ দরজা লাগিয়ে দিয়ে এসে বিছানায় বসলো। সাইড টেবিলে থেকে পানির গ্লাসটা নিয়ে পানি খেলো। হিয়া বিয়ের দোপাট্টা খুলে সোফায় এসে বসলো। শ্রাবণ উঠে কাভার্ড থেকে শার্ট, প্যান্ট বের করে ওয়াশরুমে চলে গেলো। পাঞ্জাবী-পাজামা খুলে শার্ট, প্যান্ট পড়ে এলো। তারপর হিয়া জামাকাপড় বলতে থ্রি-পিস নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো। শ্রাবণ বিছানায় এসে শুয়ে পড়লো। জোর করে বিয়ে করেছে এটা ঠিক থাকলেও জোর করে বাসর করা মোটেও ঠিক হবে না। ওর যেদিন ইচ্ছা হবে ও নিজেই আসবে। নিজেই এসে ধরা দিবে।

হিয়া ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েই বলল,
-“কোথায় ঘুমাবো আমি?”
শ্রাবণ সোজা গলায় বলল,
-“বিছানায় জায়গা আছে, সোফা আছে। এজ ইওর উইশ।”

হিয়া সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
-“আমি আপনার সাথে ঘুমাবো না।”
শ্রাবণ ধমক দিয়ে বলল,
-“ঘুমাবে না তাহলে জেগে থাকো। আমি তো আমার বেড ছেড়ে দিবো না। যদি ইচ্ছে থাকে এখানে এসে শুয়ে পড়ো। আর যদি না শোও তাহলে এখন জোর করে বাসর করবো।”

হিয়া নাক-মুখ কুঁচকে নিয়ে বলল,
-“আসছি। নাহলে তো আপনাকে দিয়ে বিশ্বাস নেই। জোর করে সবই করতে পারেন।”

-“লাইট নিভিয়ে দিবে।”

হিয়া বিড়বিড় করে বলল,
-“কিন্তু লাইট নিভিয়ে তো ঘুমাতে পারিনা। না সমস্যা নেই আসছি…”

হিয়া সোফায় থেকে দুটো কুশন হাতে নিয়ে এসে লাইট নিভিয়ে ডিম লাইট নিভালো। এরপরে বিছানায় এসে বসলো। বিছানার মাঝখানে কুশন দুটো রেখে শ্রাবণকে বলল,
-“এইযে শুনুন এইটা ডিঙিয়ে আমার কাছে আসবেন না।”
-“ঠিক আছে যাবো না। ঘুমাও।”
হিয়া শুয়ে পড়লো।

সকাল সকাল হিয়া ঘুম থেকে উঠেই বিছানার দিকে তাকালো। শ্রাবণ ওই দিক ফিরে শুয়ে আছে। হিয়া বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে গেলো। ফ্রেশ হয়ে এসে দেখলো শ্রাবণও উঠে গিয়েছে। শ্রাবণ বিছানায় থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে গেলো। ও ফ্রেশ হয়ে এসে হিয়াকে পা থেকে মাথা অব্দি পরখ করলো। এরপরে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে সোফার সামনে থাকা টি-টেবিলে থেকে পানির জগটা নিয়ে হিয়ার দিকে এগিয়ে এলো। হিয়া চুলগুলো আঁচড়ে নিচ্ছিলো। শ্রাবণ হিয়ার পেছনে থেকে পানি ওর মাথায় ঢেলে দিলো। হিয়া ভিজে গিয়ে রেগে বলল,
-“কি করলেন এইটা? আপনি ভিজিয়ে দিলেন কেনো?”

শ্রাবণ বাকা হেসে বলল,
-“নতুম বউয়ের চুল ভেজা দেখলে সবাই খুশি হবে।”

হিয়া এর মানে বুঝতে পেরে দাঁত চেপে বলল,
-“আপনার বাবা-মাকে বলে আপনাকে এই বাড়িতে থেকে বের করে দিতে বলল।”
-“আগে ড্রেস পাল্টে এসো যাও।”
হিয়া লাগেজ খুলে আরেকটা থ্রি-পিস সেট নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো।

হিয়া ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে ভেজা চুলটা মুছে নিয়ে ঘোমটা দিলো। শ্রাবণ আবারও ওয়াশরুমে গেলো। এবার হাতে করে একগাদা শ্যাম্পু নিয়ে এলো। এরপরে হিয়ার মাথায় লাগিয়ে দিলো। হিয়া রাগে কটমট করে তাকিয়ে থেকে বলল,
-“পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া না করলে হচ্ছে না আপনার?”
-“উহু হচ্ছেই না।”

হিয়া সামনে ড্রেসিং টেবিলে থেকে তেলের একটা বোতল নিয়ে শ্রাবণের শরীরে ঢেলে দিলো। শ্রাবণ টি-শার্ট ঝাড়া দিয়ে কিছুটা হিয়ার উপরেই দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো। এরপরে ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে শাওয়ার নিয়ে বের হলো। হিয়া রেগে বসে আছে। শ্রাবণ কাঠ গলায় বলল,
-“নতুন বউ তুমি। এখন শাড়ি পড়বে।”
-“আমি শাড়ি ক্যারি করতে পারি না।”
শ্রাবণ কড়া গলায় বলল,
-“প্রতিদিন পড়তে বলেছি কি? বিয়ের প্রথম দিন তো মেনে চলো।”

হিয়া “ঠিক আছে” বলে শাড়ি নিয়ে শাওয়ার নিতে ঢুকলো।

এদিকে শ্রাবণ কাভার্ড খুলে সাদা রঙের শার্ট আর কালো রঙের প্যান্ট বের করে পড়ে নিলো। হিয়া মিনিট ১৫ পরে বের হলো মেরুন রঙা শাড়ি পড়ে।

ওদিকে ফাহিমা বেগম এসে ডেকে গেলো। হিয়া চুলটা আঁচড়ে নিয়ে স্নো, হালকা করে কাজল, লিপস্টিক আর মাথায় ঘোমটা দিয়ে শ্রাবণের সামনে এসে বলল,
-“চলুন মা ডাকছে।”
শ্রাবণের সেদিকে কোনো তাল নেই হিয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে। এই সাজে বউ বউ ভাব চলে এসেছে এই মেয়ের মাঝে।

হিয়া আবারও ডাক দেওয়ায় শ্রাবণ উঠে দাঁড়িয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে গেলো। দুজনেই ড্রইং রুমে এলো। সবার দৃষ্টি ওদের দিকে। বিশেষ করে হিয়ার ঘোমটার আড়ালে কোমর ছাড়িয়ে ভেজা চুলগুলো নজর কাড়ছে। সাবিহা চৌধুরী মনে মনে বললেন, -“যাক দুজনের মাঝে ভালোবাসা তৈরী হচ্ছে এতেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।”

হিয়া এগিয়ে এসে তৌকির চৌধুরী আর সাবিহা বেগমকে সালাম করলো। এরপরে কাব্যকে সালাম করতেই ও উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
-“আরে ভাবি, সম্পর্কে আমি আপনার থেকে ছোট।”
হিয়া বলল,
-“কিন্তু বয়সে তো আমি ছোট।”
-“না ভাবি সালাম করতে হবে না।”

এর একটু পরেই তৌকির চৌধুরী কাব্যকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। সাবিহা চৌধুরী ফোনে কথা বলছেন। আর শ্রাবণ সোফায় বসে ফোন স্ক্রল করছে।

ফাহিমা বেগম কিচেন থেকে রান্না করা খাবার গুলো এনে ডাইনিং টেবিলে এনে রাখছে। আবার অন্য তরকারি বসিয়ে দিয়েছে। হিয়া বসে থাকবে কি ও ফাহিমা বেগমের সাথে কাজে সাহায্য করলো। হিয়া মনস্থির করেছে ও এখন এই বাড়ির বউ। কিন্তু শ্রাবণের বউ হিসেবে না। শ্রাবণ ওকেই দেখছে, আর মিটিমিটি হাসছে। হিয়া ওর দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙচি দিয়ে অন্যদিক হয়ে দাড়ালো।

হিয়া গ্যাসের চুলার সামনে দাড়িয়ে রান্না করছে। ফাহিমা বেগম ওকে বাহিরে যেতে বললে ও না করে। মাহিমা বেগম চলে গেলো ডাইনিং টেবিলে। হিয়া আঁচলটা নাড়িয়ে ঠাই দাঁড়িয়ে অন্যমনস্ক হয়ে শ্রাবণকে নিয়ে কিছু একটা ভাবতে থাকলো। সাবিহা চৌধুরী এসে শ্রাবণের পাশে বসলেন।

শ্রাবণ আর সাবিহা চৌধুরীর হুট্ করে চোখে পড়লো হিয়ার শাড়ির আঁচলে আগুন। হিয়ার সেদিকে তালই নেই। শ্রাবণ উঠে দৌড়ে আসতে আসতে হিয়া শাড়ির দিকে তাকিয়ে আঁচল ঝাড়া দিতে থাকে। এতে আগুন আরও ছড়ায়। শ্রাবণ এসে হিয়ার শাড়ির আঁচলে পানি ঢেলে দিলে নিভে না। শ্রাবণ তৎক্ষণাৎ আশেপাশে তাকিয়ে ওর শাড়ির আঁচল ধরে টান দিয়ে নিচে ফেলে দিয়ে পানি ঢাললো। হিয়া দুহাত দিয়ে নিজের বক্ষ আড়াল করে নিলো। সাথে লম্বা চুলগুলোও সামনে এনে দাঁড়িয়ে রইলো। ইচ্ছে করে বোকা ফেস বানিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।

শ্রাবণ তপ্ত শ্বাস ছেড়ে হিয়ার মাথায় গাট্টা মেরে বলল,
-“মন কই থাকে। শুধু কথার বেলায় বড় বড় কথা।”

সাবিহা চৌধুরী শ্রাবণকে সরিয়ে দিয়ে বলল,
-“বকো না। বুঝতে পারেনি।”
শ্রাবণ যেতে যেতে কাঠ গলায় বলল,
-“বুঝতে পারেনি, এরপরে এমন হলে না আমার ফার্মহাউসে রেখে আসবো।”

হিয়া দৌড়ে শ্রাবণের আগে আগে গিয়ে বলল,
-“আপনাকেই রেখে আসবো।”

বলে দৌড় দিয়ে রুমে চলে এসে দরজা লক করে দিলো। শ্রাবণ রুমে ঢুকবে তখন দরজা লক করা দেখে কোমরে হাত রেখে শ্বাস ছেড়ে দাঁড়িয়ে রইলো। মেজাজ পুরো গরম হয়ে গিয়েছে। কই বউ একটু ভালোবাসে তা না, উল্টো ঝগড়ার তালে থাকে।

হিয়া বেছে বেছে আরেকটা মেরুন রঙের শাড়ি বের করলো। বিয়ের সময় শ্রাবণ অনেক শাড়ি দিয়েছে। হিয়া শাড়ি পড়ে চুলটা বেধে রুমের দরজা খুলে দিলো। শ্রাবণ রুমে ঢুকলো। হিয়া বেরিয়ে গেলো। এই লোকের সাথে থাকা ওর কোনো ইচ্ছেই নেই। শুধু পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করবে।

শ্রাবণ অফিস ফরমাল ড্রেস পড়ে বের হয়ে এসে ডাইনিং টেবিলে বসলো। সাবিহা চৌধুরী হিয়াকেও জোর করে ওর পাশে বসালো। তৌকির চৌধুরী রুমে, এখন কিছুই খাবেন না। কাব্যও খেতে বসেছে। এদিকে রনিকে শ্রাবণ আসতে বলেছে ও এসে সোফায় বসে ফোন স্ক্রল করছে।

হিয়া বিড়বিড় করে শ্রাবণকে শুনিয়ে খোঁচা মেরে বলল, “এহ কথার বেলায় শুধু বউ বউ করে। ঠিকই তো নতুন বউ রেখে অফিসে যাবে।”

শ্রাবণ শুনে তাকিয়ে রইলো, কোনো কথা বলল না। ও এবার কোনো ঝগড়ার মুডে নেই। তবে হিয়ার মাথায় ঝগড়া করার বুদ্ধি আছে। সাবিহা চৌধুরী রুমে গিয়েছেন। শ্রাবণের খাওয়া শেষ, ও উঠবে ঠিক তখন হিয়া শ্রাবণের সাদা শার্টে তরকারি লেগে থাকা হাতটা একটু করে ছোঁয়ালো। শ্রাবণ কটমট দৃষ্টিতে হিয়ার দিকে তাকিয়ে উঠে দাড়ালো। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
-“কি করলে এইটা?”

রনি ওদের কাহিনীটা বুঝতে পেরে রসিকতা করে বলল,
-“স্যার, ম্যাডাম মনে হয় আপনাকে আজকে অফিসে যেতে দিতে চাইছে না।”

হিয়া সে কথায় পাত্তা না দিয়ে খাওয়ায় মনোযোগ দিলো। শ্রাবণ হিয়াকে শুনিয়ে রনিকে বলল,
-“তোমার ম্যাডামের ভালোবাসা উতলে উঠছে তাই যেতে দিতে চাইছে না। তবে আমি বাড়িতে থাকলে তাকে দ্বিগুন করে ভালোবাসা ফিরত দিবো।”

হিয়া বুঝতে পারলো শ্রাবণ বাড়িতে থাকলে সারাদিনই পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়া করবে। তাই তাড়া দিয়ে বলল,
-“আপনার দেরি হচ্ছে না, ড্রেস চেঞ্জ করে রেডি হয়ে অফিসে যান।”

তৌকির চৌধুরী নিচে নেমে এলেন। শ্রাবণ তাকে দেখে বলল,
-“টেন মিনিট, আসছি।”

শ্রাবণ চলে গেলো। হিয়া মুখ টিপে হেসে হাত ধুয়ে উঠে দাড়ালো। কাব্য বলেই উঠল,
-“ভাবি আপনাদের ঝগড়াটা ভালোই ঝমছে।”
-“আমাকে জোর করে বিয়ে করেছে না, দেখবেন কি ঝগড়া করি।”
-“তবে ভাবি বেশি ঝগড়া করতে যাবেন না। ভাইয়া মোটেও চুপ থাকার মানুষ না।”

ঠিক তখনই হিয়ার ডাক পড়ে গেলো। শ্রাবণ কর্কশ গলায় উপরে থেকে হিয়াকে ডাকছে। হিয়া দৌড় দিয়ে উপরে চলে এলো।

#চলবে

প্রিয় পাঠক ও পাঠিকা,ফেইক পেইজ থেকে দূরে থাকুন।এটাই আমার একমাত্র অফিসিয়াল পেইজ।
গল্প পড়ে চলে যাবেন না প্লিজ—
একটি Follow একজন লেখিকার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নিজের বাই মনে করে নীল লিখায় চাপ দিয়ে পেইজটি ফলো করে রাখুন প্লীজ

🔵 ফলো পেইজঃ ⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸

আমি বেশি কিছু চাই না—
শুধু একটি ফলো। আশা করি এতটুকু দাবি সবাই রাখবেন

গল্পটা যারা যারা পড়ছেন রেসপন্স করবেন।

Adresse

Dakar

Notifications

Soyez le premier à savoir et laissez-nous vous envoyer un courriel lorsque ⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸ publie des nouvelles et des promotions. Votre adresse e-mail ne sera pas utilisée à d'autres fins, et vous pouvez vous désabonner à tout moment.

Partager