12/06/2026
#স্নিগ্ধ_প্রেমাবেশ (১১)
#জেরিন_আক্তার
[কার্টেসি ব্যাতিত কপি করা নিষিদ্ধ]
হিয়া শ্রাবণকে নিয়ে ছাদে এলো। বেশ কিছুক্ষন টুকটাক কথা বলার পরে হিয়া শ্রাবণকে একটু জেলাস ফিল করাতে চাইলো। সামনের একটা বিল্ডিং দেখিয়ে শ্রাবণকে বলল,
-“দেখুন ওই যে বিল্ডিংটা দেখা যায়। ওই বিল্ডিংয়ের মালিকের ছেলে আমাকে পছন্দ করে। হয়তো জানে না আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে।”
শ্রাবণ স্বাভাবিক ভাবেই শুনলো। ও বুঝতে পেরেছে হিয়া ওকে বাজিয়ে দেখছে। কিন্তু শ্রাবণও তো চালাক কম নয়। হিয়া বলল,
-“ওই ছেলেটা না প্রত্যেকদিন দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতো আমার জন্য। ফুল দিয়েছে আমাকে।”
শ্রাবণের রাগ উঠছে কিন্তু প্রকাশ করলেই হিয়ার দাম বেড়ে যাবে। ও অন্য বাহানা দিয়ে বলল,
-“এসবের এখন চান্স নেই। আমার ওয়াইফ তুমি। আর এগুলো পরে শুনবো এখন নিচে চলো।”
-“আরেকটু থাকেন।”
-“না চলো। আমি তোমার মুখে অন্য কারো নাম শুনতে ইচ্ছুক না। যদি থাকতে হয় অন্য কথা বলো।”
হিয়া বিড়বিড় করে বকতে লাগলো। শ্রাবণ বলল,
-“তুমি সারাদিন বকো, সমস্যা নেই। তবে অন্যকারো কথা আমার সামনে বলবে না।”
-“ঠিক আছে।”
শ্রাবণ এগিয়ে এসে পাশ থেকে একটা গোলাপ ফুল ছিঁড়ে হিয়ার কাছে এসে ওর কানে গুজে দিলো। হিয়া শ্রাবণের দিকে তাকালো। শ্রাবণ হেসে বলল,
-“সেই লাগছে তোমাকে।”
দুপুরের পরপর এলো নেহা। হিয়া শাওয়ার নিতে ঢুকেছে। আর শ্রাবণ ড্রইং রুমে বসে আছে। নেহা এসে শ্রাবণকে চিনতে পেরে বলল,
-“আস্সালামুআলাইকুম দুলাভাই। ভালো আছেন?”
-“ওয়ালাইকুম আসসালাম। হ্যা ভালো। তুমি কেমন আছো?”
-“ভালো। আমি হিয়ার বান্ধবী।”
শ্রাবণ হেসে বলল,
-“তোমাকে চিনি আমি। হিয়া তোমার ছবি দেখিয়েছে।”
-“ওহহ। হিয়া কোথায়?”
-“রুমে শাওয়ার নিচ্ছে।”
মাহিমা বেগম এলেন নেহা তার সাথে কথা বলতে বলতে ভিতরে গেলো। হিয়া শাওয়ার নিয়ে নিচে নামলো। শ্রাবণ বলল,
-“তোমার বান্ধবী এসেছিলো। তোমাকে না পেয়ে চলে গিয়েছে।”
হিয়া কপালে ভাজ ফেলে বলল,
-“কিহ? চলে গিয়েছে কেনো?”
-“হুম। ও এসে জিজ্ঞাসা করলো হিয়া কোথায়? আমি বলেছি ও শাওয়ার নিচ্ছে। এরপরে বলল পরে আসবো।”
-“থাকতে বলেননি?”
-“আমি আর তোমার মা দুজনে মিলে থাকতে বলেছি কিন্তু রইলো না।”
হিয়া মুখটা শুকনো করে ভিতরের রুমের দিকে গেলো। সেই রুমে নেহাকে দেখে প্রায় চিৎকার করে উঠল। দুজনেই এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলো। মাহিমা বেগম হিয়াকে বললেন,
-“জামাই বাহিরে বসা আস্তে চিল্লা।”
-“আম্মু আর চিল্লাবো না। আসলে নেহাকে দেখে একটু খুশি হয়ে গিয়েছিলাম।”
মাহিমা বেগম চলে গেলেন। হিয়া নেহাকে বলল,
-“জানিস উনি বলল তু্ই নাকি চলে গিয়েছিস। তাই তোকে দেখে চিৎকার দিয়ে ফেলেছি।”
-“ধুর এসব বাদ দে। আগে বল থাকবি কতদিন?”
হিয়া উত্তরে বলল,
-“পরশু দিন চলে যাবো।”
-“আজকে চল তাহলে আমাদের বাড়িতে!”
-“আজকে যাবো না রে। কালকে যাবোনি।”
-“ঠিক আছে। সবাইকে নিয়ে যাবি। আম্মু বলে দিয়েছে।”
-“আচ্ছা।”
নেহা চলে যাওয়ার পরে হিয়া রুমে ফিরে। শ্রাবণ শুয়ে ছিলো। হিয়া চুল মুছতে মুছতে জিজ্ঞাসা করলো,
-“তখন মিথ্যে বললেন কেনো?”
-“কখন কি মিথ্যে বলেছি?”
-“বললেন যে নেহা চলে গিয়েছে।”
-“আমি কি বলেছি ও বাড়ি থেকে চলে গিয়েছে। আমি বোঝাতে চেয়েছি ও ঐরুমে চলে গিয়েছে।”
-“কিহ? মিথ্যে বলছেন কেনো?”
-“আমি মিথ্যে বলিনা বুঝলে।”
হিয়া শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে রইলো। লোকটা সোজাসুজি মিথ্যে বলে। হাবভাব দেখে বোঝা যায়না যে মিথ্যে বলে। এই লোকের সাথে কথায় পারবে না তাই ব্যালকনিতে চলে গেলো টাওয়াল মেলে দিতে। শ্রাবণ সেই সুযোগে দরজা লাগিয়ে দিয়ে এসে হিয়ার পেছনে দাড়ালো। হিয়া শ্রাবণকে দেখে আবার সামনে দিকে তাকালো। শ্রাবণ হিয়ার চুলগুলো সরিয়ে ওর উন্মুক্ত ঘাড়ে চুমু দিলো। হিয়ার সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠল। শ্রাবণ পরপর কয়েকটা চুমু দিলো। হিয়া লজ্জায় পেছন ফিরে প্রথমবারের মতো শ্রাবণকে জড়িয়ে ধরলো। শ্রাবণ নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারলো না। ওর হৃদস্পন্দন বেড়ে চলল। হিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলল,
-“আজ নিজেই জড়িয়ে ধরলে?”
হিয়া মাথা তুলে বলল,
-“জড়িয়ে ধরলেও দোষ না ধরলেও দোষ ছাড়ুন আমায়! আপনি ধরে রেখেছেন কেনো?”
শ্রাবণ বাকা হেসে হিয়াকে পাজা কোলে তুলে রুমে এলো। হিয়াকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজে পাশে শুলো। হিয়ার গলায় নাক ঘষতে ঘষতে বলল,
-“তোমার কি ইচ্ছে হয়না এই রাগী মানুষটাকে ভালো করতে। তুমি দূরে দূরে থাকলে কেমন যেনো বেশি রাগ হয়। তোমার মুখে কারো কোনো কথা শুনতে পারি না। ভালো লাগে না। বিরক্ত লাগে। তুমিই পারো আমার কাছে কাছে থেকে আমাকে ভালো করতে। তোমায় কাছে পেলে রাগ আসে না।”
হিয়া থমথমে গলায় বলল,
-“আমি যখন ছিলাম না তখন যে রাগ করতেন, আবার শান্ত হতেন। তেমনই এখন হবেন।”
-“তখন আর এখনকার সময় মোটেও এক না। তখন বউ ছিলো না। আর এখন লাল টুকটুকে একটা বউ আছে। কিন্তু আফসোস বউটা আমাকে কাছাকাছি আসেই না। তাই তো এখন শান্ত থাকতে পারি না।”
হিয়া লজ্জা পেলো। অন্যদিক হয়ে শুয়ে বলল,
-“ঘুমাবো।”
-“ঘুমাও না করেছে কে?”
শ্রাবণ গম্ভীর গলায় কথাটা বলে বিছানায় থেকে নেমে চলে গেলো। হিয়া শ্রাবণের যাওয়ার পানে তাকিয়ে উঠে বসলো। ভাবতে লাগলো শ্রাবণ কি রাগ করলো ওর কথায়?
হিয়া বিছানায় থেকে নেমে রুম থেকে বের হলো। ড্রইং রুমে এসে মাহিমা বেগমকে জিজ্ঞাসা করলো,
-“আম্মু তোমার জামাই কোথায় গেলো দেখেছো?”
-“বাহিরে গেলো দেখলাম।”
-“কিছু বলে গিয়েছে কি?”
-“না। একটু পরেই দেখবি চলে আসবে।”
হিয়া উপরে চলে এলো। নিজের রুমের ব্যালকনিতে এসে শ্রাবণকে দেখার চেষ্টা করলো কিন্তু ততক্ষনে শ্রাবণ হেটে কিছুদূর এগিয়ে গিয়েছে। হিয়া রুমে ফিরে বিছানায় বসলো।
শ্রাবণ রনিকে কল দিয়ে আসতে বলেছে। ও মিনিট বিশেকের মধ্যে চলেও এসেছে। শ্রাবণ গাড়িতে উঠে একটু ঘুরতে চলে গেলো। আবার সন্ধ্যার আগ দিয়েই ফিরে আসবে।
সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলো কিন্তু শ্রাবণের আসার নাম নেই। হিয়া মাহিমা বেগমের সাথে রান্না-বান্নায় সাহায্য করে দিচ্ছে। আরেকদিকে শ্রাবণের জন্য চিন্তিত হয়ে আছে। তবে ওর মাকে বুঝতে দিচ্ছে না। হিয়া ওর মায়ের সাথে কিছু রান্না এগিয়ে দিয়ে রুমে ফিরে এলো। ফোনটা হাতে নিয়ে শ্রাবণকে কল দিলো। কিন্তু ফোনটা সুইচ অফ বলছে। ওদিকে শ্রাবণের ফোনে চার্জ নেই। ফোনে কথা বলতে বলতে অফ হয়ে গিয়েছে। হিয়ার চিন্তা হচ্ছিলো। বাহিরে আবার বৃষ্টিও শুরু হয়েছে।
আরও আধঘন্টা পেরিয়ে গেলো। মাহিমা বেগম হামিদ শিকদারকে কল দিলেন। তার আসতে তাও এক থেকে দেড় ঘন্টা লাগবে। আবার শ্রাবণও আসছে না, বাহিরে বৃষ্টি কোথাও রয়েছে না রয়েছে, কি করছে আল্লাহ ভালো জানে।
শ্রাবণ হিয়াদের বাড়ির সামনে এসেছে। গাড়িতে বসে আছে। বের হয়ে যে বাড়িতে ঢুকবে বৃষ্টিতে ভিজে যাবে। ও রনির ফোনটা নিয়ে হিয়াকে কল দিলো। হিয়া নাম্বারটা চিনলো। কলটা রিসিভ করতেই শ্রাবণ বলল,
-“ছাতাটা নিয়ে বাহিরে এসো তো। নিয়ে যাও আমাকে।”
হিয়া জিজ্ঞাসা করলো,
-“কোথায় ছিলেন আপনি হ্যা?”
-“এসো বলছি।”
হিয়া ফোনটা রেখে ওদের বাসার বড় ছাতাটা নিয়ে বের হতে নিলে মাহিমা বেগম জিজ্ঞাসা করলেন,
-“তু্ই এই সময় ছাতা নিয়ে বাহিরে যাচ্ছিস কেনো?”
-“আম্মু উনি এসেছে। বলছে ছাতা নিয়ে যেতে।”
-“ওহ তাড়াতাড়ি যা।”
হিয়া বেরিয়ে গেলো। গেটের সামনেই দেখলো শ্রাবণের গাড়িটা। হিয়া গাড়ির সামনে এসে দাড়ালো। শ্রাবণ গাড়ির দরজাটা খুলে হিয়ার ছাতার নিচে এসে দাড়ালো। হিয়া শ্রাবণের বুকের উপরে শার্টটা খামচে ধরে অভিমানী কণ্ঠে বলল,
-“কোথায় ছিলেন হ্যা? কতবার কল দিয়েছি।”
-“কেনো মনে পড়ছিলো নাকি?”
-“মনে পড়বে কেনো? এমনেই।”
এই বলে হিয়া রনিকে বলল,
-“ভাইয়া ভিতরে আসুন। দাঁড়ান আমি ছাতা নিয়ে আসছি।”
রনি অনীহা জানিয়ে বলল,
-“না, ম্যাডাম যেতে হবে।”
-“পরে যাবেন ভিতরে আসুন।”
-“অন্য একদিন আসবো। আজ আসি।”
রনি গাড়ি নিয়ে চলে গেলো। শ্রাবণ ভ্রু উঠিয়ে বলল,
-“বাব্বাহ যাকে সহ্য করতে পারো না তাকে ডাকলে যে?”
-“না ডাকার কি আছে। উনি তো আপনারই লোক। আর আমাদের বাড়িতে কেউ এলে আমরা তাকে আপ্পায়ন না করে যেতে দেই না। এখন আপনি ভিতরে চলুন। না বলে কই যান, বলে যান না। আপনার সাথে বোঝাপড়া আছে।”
শ্রাবণ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। হিয়া ঝাড়ি মেরে বলল,
-“চলুন ভিজে যাবো।”
শ্রাবণ হিয়ার কোমরে টান দিয়ে নিজের কাছে এনে বলল,
-“চলো একসাথে ভিজি। সেই একটা ওয়েদার, সাথে তুমি, আর কি চাই বলো।”
-“এখন না, পরে দিনেরবেলা বৃষ্টি হলে ভিজবো।”
-“প্রমিস!”
-“হুমম প্রমিস।”
শ্রাবণ ভিতরে এসে হিয়ার রুমে চলে গেলো। হিয়া ছাতাটা রেখে উপরে চলে এলো। শ্রাবণ আগে ফোনটা চার্জ দিলো। হিয়া রুমে ঢুকে শ্রাবণকে বলল,
-“কোথায় গিয়েছিলেন বললেন না তো?”
শ্রাবণ হেয়ালি করে বলল,
-“ওই এমনেই একটু এক্সের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।”
-“কিহ!”
-“হুমম।”
হিয়া তেড়ে এসে বলল,
-“এক্স মানে?”
শ্রাবণ টেডি স্মাইল দিয়ে বলল,
-“ঐযে একটু রনির সাথে ঘুরতে গিয়েছিলাম। এক্সের কথা মজা করে বলেছি।”
-“বেচে গেলেন। খেতে চলুন।”
-“হুমম চলো।”
শ্রাবণ যেতে যেতে বিড়বিড় করে বলল, -“একদম ঝাল মরিচ। কথা দিয়ে যেনো গুলি বের হয়। এই শ্রাবণকে ঝাড়ি দিয়ে চুপ রাখে, কি সাংঘাতিক মেয়ে রে। আল্লাহ আমার বউকে হেদায়েত দাও।”
#চলবে
প্রিয় পাঠক ও পাঠিকা,ফেইক পেইজ থেকে দূরে থাকুন।এটাই আমার একমাত্র অফিসিয়াল পেইজ।
গল্প পড়ে চলে যাবেন না প্লিজ—
একটি Follow একজন লেখিকার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নিজের বাই মনে করে নীল লিখায় চাপ দিয়ে পেইজটি ফলো করে রাখুন প্লীজ
🔵 ফলো পেইজঃ ⫷XLN:𝐌ø𝙷ɪ𝙱ᴜ𝙻𝙻ꫝ𝙷⫸
আমি বেশি কিছু চাই না—
শুধু একটি ফলো। আশা করি এতটুকু দাবি সবাই রাখবেন
যারা যারা গল্পটা পড়ছেন রেসপন্স করবেন।