11/03/2026
সিঙ্গাপুর সরকার ২০২৬ সালের জন্য ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে। নতুন নিয়মে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে লেভি (Foreign Worker Levy), কোটা সীমা (Dependency Ratio Ceiling) এবং শ্রমিক কল্যাণের মানদণ্ড আরও কঠোর করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো—একদিকে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, অন্যদিকে বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা।
২০২৬ সালের প্রধান পরিবর্তনগুলো
Foreign Worker Levy (লেভি):
নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগকর্তাদের প্রতি বিদেশি শ্রমিকের জন্য মাসিক প্রায় S$300 থেকে S$950 পর্যন্ত লেভি দিতে হতে পারে।
এটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট শিল্পখাত এবং কোম্পানির বিদেশি কর্মী নির্ভরতার ওপর।
মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স:
প্রতিটি ওয়ার্ক পারমিটধারী শ্রমিকের জন্য বছরে কমপক্ষে S$60,000 মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স কভারেজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ:
সাধারণত একটি ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
আবেদন পদ্ধতি:
সব আবেদন এখন Ministry of Manpower (MOM)-এর অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে করতে হবে।
আবাসন ব্যবস্থা:
বিদেশি শ্রমিকদের অবশ্যই সরকার অনুমোদিত ডরমিটরি বা নির্ধারিত আবাসনে থাকতে হবে।
যেসব খাতে ওয়ার্ক পারমিট বেশি:
সিঙ্গাপুরে শ্রমিক সংকট রয়েছে এমন কয়েকটি খাতে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়। যেমন
• নির্মাণ খাত (Construction)
• ম্যানুফ্যাকচারিং
• মেরিন শিপইয়ার্ড
• প্রসেস ইন্ডাস্ট্রি
• সার্ভিস সেক্টর
অন্যান্য কিছু ওয়ার্ক পাসের মতো এখানে নির্দিষ্ট ন্যূনতম বেতনের বাধ্যবাধকতা নেই, তবে কোম্পানিকে অবশ্যই কোটা, লেভি এবং শ্রমিক কল্যাণ সংক্রান্ত সব নিয়ম মানতে হবে।
বিদেশি শ্রমিক কোটা (DRC):
প্রতিটি কোম্পানিতে বিদেশি কর্মীর একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারিত থাকে, যাকে বলা হয় Dependency Ratio Ceiling (DRC)।
২০২৬ সালের সম্ভাব্য সীমা:
খাত
বিদেশি শ্রমিকের সর্বোচ্চ অনুপাত
Construction
87.5% পর্যন্ত
Process Industry
87.5% পর্যন্ত
Manufacturing
60% পর্যন্ত
Services
35% পর্যন্ত
কোনো কোম্পানি যদি এই সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তারা নতুন করে আর ওয়ার্ক পারমিট শ্রমিক নিয়োগ করতে পারবে না।
শ্রমিক কল্যাণে নতুন জোর
২০২৬ সালের নীতিমালায় শ্রমিকদের কল্যাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে
• বছরে কমপক্ষে S$60,000 মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স
• অনুমোদিত ডরমিটরি বা বাসস্থানের ব্যবস্থা
• কর্মস্থলে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা
এই নিয়মগুলো শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং জীবনমান উন্নত করার জন্য করা হয়েছে।
ডিজিটাল সিস্টেমে আবেদন:
এখন থেকে সব ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। যেমন—
• অনলাইনে আবেদন
• ইলেকট্রনিক নবায়ন
• লেভি পেমেন্ট ট্র্যাকিং
• শ্রমিকদের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ
এর ফলে নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।
ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার শর্ত সমূহ :
বিদেশি কর্মীর ক্ষেত্রে প্রয়োজন—
• বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর
• অনুমোদিত দেশ থেকে আসা
• স্বাস্থ্য পরীক্ষা পাস করা
• কোনো অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের রেকর্ড না থাকা
সাধারণত শ্রমিকরা আসে বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, চীন, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।
নিয়ম না মানলে শাস্তি:
সিঙ্গাপুরে শ্রম আইন অত্যন্ত কঠোর। নিয়ম লঙ্ঘন করলে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হতে পারে—
• বড় অঙ্কের জরিমানা
• বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা
• ওয়ার্ক পারমিট বাতিল
• আইনি ব্যবস্থা
সাধারণ লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে—
অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ, লেভি না দেওয়া, খারাপ আবাসন বা মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স না থাকা।
কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ:
সিঙ্গাপুরের নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা খাতের বড় অংশ বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। তাই নতুন নীতিমালা একদিকে দেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা বজায় রাখবে, অন্যদিকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগকর্তাদের উচিত আগেভাগেই লেভি ও কোটা সংক্রান্ত নিয়ম বুঝে নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জরিমানা বা আইনি ঝামেলায় পড়তে না হয়।
Singapore View