04/11/2021
এই অটল, সুউচ্চ পাহাড়টা দেখো! এই পাহাড়টা বহুযুগ আগে থেকে এইভাবেই আছে। অন্ততপক্ষে, মানুষের চেয়ে অনেক বেশী প্রাচীন এটা। এই পাহাড়ের মত শুদ্ধ, পবিত্র একটা জায়গায় জন্ম নিতে হলে নিশ্চিত ভাগ্যবান হতে হবে। কেননা, পাহাড়ি অঞ্চলের দূষণমুক্ত পরিবেশের বিশুদ্ধ বাতাসে বেড়ে উঠা মানুষগুলা স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক এবং মানসিক উভয় ক্ষেত্রে সুস্থ এবং সমৃদ্ধ। সেই সাথে, তাদের চেতনাও হওয়া উচিৎ পাহাড়েরমত উন্মুক্ত, প্রসারিত, ক্রমবর্ধমান এবং সদাউন্নয়নশীল।
কিন্তু, সেই পাহাড়ে জন্মে, পাহাড়ের কতশত গুণ আর আপার জীবন-দর্শনের সমাহারের মধ্যে বেড়ে উঠে মানুষ তুমি আজও থেকে গেলে অজ্ঞ। জড়তা আর অজ্ঞতা দিয়ে নিজেদের মস্তিস্ক চূর্ণে পরিণত(Calcified) করলে। যুগের সাথে সাথে নিজেরা একত্রিত হয়ে সমষ্টিগতভাবে চেতনা সম্প্রসারণের পরিবর্তে আঁকড়ে পড়ে রইলে প্রাচীনকালের অকেজো বিশ্বাসকে। তৈরি করলে জাতি-বর্ণ-ধর্ম-ভাষা-গোত্র-জাত-কুল-সমাজ এর বৈষম্য, ভেদাভেদে। যে পাহাড়কে নড়ানো যায় না, এমনকি দুটি দেশের সীমান্ত পর্যন্ত যাকে বিভক্ত করতে পারেনা, নিজেদের অন্ধতা, মূর্খতা আর চরম জ্ঞানহীনতা দিয়ে এই স্বাধীন, সুবিশাল পাহাড়কেই তোমরা সংরক্ষিত পার্বত্য আঞ্চল বানিয়ে দিলে।
উপরে চেয়ে দেখো! চিরউন্মুক্ত, চিরবিস্তৃত এই আকাশটা, দেখো! তোমার ক্ষুদ্র মনের ক্ষুদ্র সব বিশ্বাসের সংরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে আকাশটা আটকাও পারলে!
দেখো, তোমাদের সব বাঁধা-বিভেদের উপর দিয়েই, মেঘ হয়ে তুলার মত ভেসে যাচ্ছি, কারও সাধ্য নেই ছোঁয়ার।
ছবিটার স্বত্বাধিকার সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত।
© শুভ্র, ১৪২৮