24/07/2019
প্রাথমিক শিক্ষক দের লড়াই দাবি এবং জনসংযোগ নিয়ে কিছু কথা।যেগুলো সাধারণ মানুষ এবং নন-টিচার্স দের জানা প্রয়োজন।আলোচনা বা লেখার বিপক্ষে কথা দুটো ই চলতে পারে যদি আপনি ডিসএগ্রী করেন।
প্রথমত,মাইনে বাড়ানো বা ন্যায্য বেতন নিয়ে পরে কথা হোক।তার আগে একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া উচিৎ।একটা খুব জনপ্রিয় কথা উঠে আসছে বাজার এ এই কদিনে।যদি ঐ টাকায় কাজ করতে না পোশায়,তো ছেড়ে দিক ওরা,অনেক বেকার ছেলে মেয়ে আছে যারা ওই টাকায় কাজ করে দেবে।বেশ উত্তরে আসি।
যদি আপনি এই দাবি বা মতামত মেনে নেন,তার মানে এই দাঁড়ালো যে পক্ষান্তরে আপনি সিভিক টিচার বা অনুরূপ সিভিক পুলিশ বা সিভিক ভলান্টিয়ার পদ এ বিশ্বাসী।এবং তার মানে এটাও দাঁড়ালো যে আপনি রোজ নামচা জীবনে দেখতে ই পান না কি রকম ভাবে সাধারণ মানুষ হ্যারাস হয় তাদের হাতে।ঠিক এক ই ভাবে আমি আপনি এই দাবি টাও এখন করতে পারি যে আইপিএস বা এইএএস দের ও মাইনে বাড়িয়ে কাজ নেই।আমাদের ওই মাইনে টা দিক।আমরা ওদের কাজ টা করে দেবো।বলতেই পারি।মুখের কথার ট্যাক্স কবেই বা এই দেশ এ লেগেছে।
কিন্তু দাদা ভাই,মুড়ি আর মুড়কি এক করে দিলে যে কোনো দেশ এর ফেডারেল স্ট্রাকচার ভেঙে পড়ে এটাও যেমন সত্যি,আমাদের অর্জন করা জিনিস অন্য কেউ করতে পারবে না,কারণ তারা সেটা অর্জন করতে পারেনি এটাও তেমন ই সত্যি।
দ্বিতীয়ত,আমরা কি এমন কাজ ই বা করি ???
যার জন্য আমাদের আরো বেশি বেতন চাই !!???
সবাই তো বেসরকারি স্কুলমুখি।সরকারি স্কুলে কেউ পড়তে আসে না।
উত্তর দিই।
কিছু দিন আগে ডাক্তার বাবু দের করা আন্দোলনের সময় দেখেছিলাম ওদের দাবি গুলো।হসপিটাল এ উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই।দূরে স্বাস্থ কেন্দ্র থেকে রুগী দের ট্রান্সফার করতে হয় হসপিটাল এ উপযুক্ত ওষুধ এমন কি এনটি ভেনম ও না থাকার জন্য।অতক্ষন বিনা চিকিৎসা তে থেকে রুগী মারা গেলে দোষ হয় ডাক্তার এর।
ঠিক এক ই অবস্থা আমাদের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার।বিনা চিকিৎসায় ধুঁকছে, আর দোষ শিক্ষক দের ???
উদাহরণ দিই।
প্রথমত, পাস ফেল নেই।মানে আপনি একবার স্কুলে ভর্তি হলে ক্লাস ৮ অবধি নিশ্চিত।অক্ষর জ্ঞান না শিখেও আপনি ৮ পাস তৈরি হবেন।ছেলে রা স্কুলে আসে না এই স্বাচ্ছন্দ্য পেয়ে গিয়ে।এতে শিক্ষক দের দোষ ???
দ্বিতীয়ত, স্কুল মুখী করার জন্য প্রয়োজন স্মার্ট ক্লাসরুম,খেলনাপাতি,ভালো শিক্ষা সহযোগী মেটেরিয়াল,যেগুলো দেখে স্টুডেন্ট রা আকৃষ্ট হয়।এসব কিন্তু আপনার তুলনা দেয়া বেসরকারি স্কুলে আছে।আর আমরা হলাম ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার।একবার স্কুল রং করার জন্য টাকা এসেছিল মনে আছে।মিস্ত্রি অনেক দেখে টেখে ১৫ হাজার টাকার এসটিমেট করেছিলেন।পেয়েছিলাম ৪ হাজার টাকা গ্রান্ট এ।
এবার এই যে নেই কোনো উন্নত ব্যবস্থা,সেটা শিক্ষক দের দোষ ???
তৃতীয়ত,তবুও শিক্ষক রা তো আছে।শুধু মাত্র পরিয়ে ই মন জয় করে নিতে হবে শিক্ষার্থী দের।সেটাই বা কেন হবে না ???
উত্তর নয়,উদাহরণ দিই।
ধরুন আপনি পড়তে বসেছেন বাড়ি তে।
আপনার মা এসে বললো যা তো বাবা,একটু বাজার যা।আবার খানিকক্ষণ পরে বললো যা বাবা ঘর ঝাঁট দে, আবার খানিকক্ষণ পরে আর একটা কাজ,তারপর আর একটা কাজ।বলুন এবার।কত টা পড়া হবে আপনার ???
হ্যাঁ আপনি জানেন না প্রাইমারি টিচার্স দের কাজ।
পড়ানোর জন্য সব চেয়ে কম সময় এলট করা থাকে আমাদের।আপনি জানেন না।তাই প্রশ্ন ছুড়ে দেন কি এমন কাজ করে ওরা বলে।
মিড ডে মিল
বাজার করা
ঘর ঝাঁট দেয়া
বাথরুম পরিষ্কার
সেন্সস
ভোটের ডিউটি
ভোটার কার্ড সংশোধন
জুতো দেয়া
পোশাক দেয়া
মাইনরিটি ডেভেলপমেন্ট
কম্পিউটার এ নাম তোলা
এবং এরকম আরো অনেক কাজ।একটু খোঁজ খবর নিয়ে দেখুন ই না আপনার পাড়ার স্কুল টায়।
ওহ হ্যাঁ ভালো কথা,৪ টাকা ৪৮ পয়সা দেয়া হয় মাথা পিছু খাওয়ানোর জন্য।আর খুব চালু একরা কথা নাকি আমরা মিড ডে মিল চুরি করি।
ওহ হ্যাঁ আর একটা কথা।
জানেন না।জানুন।
স্কুলের ইলেকট্রিক বিল কিন্তু সরকার দেয় না।
আমরা শিক্ষক রা দিই।
বলুন আর কোন সরকারি অফিস এ এরকম হয় ???
এত কথা বলার মানে একটাই।
সবাইকে সাথে চাই এই আন্দোলনে।
যারা শিক্ষক নয় তাদের ও।
আপনি ভুল জেনে বসে আছেন প্রাইমারি টিচার্স দের ব্যাপার এ।
যদি নমনীয় হন তো ভুল ভাঙবেন।
যদি গোঁড়া হন তো সুস্থ হয়ে উঠুন তাড়াতাড়ি।
এবার আসি আন্দোলনের কথায়।
আমরা কি চাইছি।
১৮ জন শিক্ষক আজ ১১ দিন হলো না খেয়ে পথে বসে আছেন।এবং দেখুন,বাইরের তাপমাত্রা কিন্তু মোটেই অনুকূল নয়।যার যখন ইচ্ছা রাস্তায় বসে পড়লে ওরা নিশ্চয় এই রোদ বৃষ্টির সময় বেছে নিত না।তবু ওরা বসে আছে।আমরা শিক্ষক রা স্কুল বন্ধ না করে পালা করে যাচ্ছি রোজ,কেউ থাকছেন রাতে,কেউ বা ফিরে এসেছেন সন্ধ্যায়।স্কুল কিন্তু বন্ধ হয়নি একদিন ও।কারণ আপনারা মানেন না,তবু এটাই সত্যি,যে একদিন স্কুল বন্ধ মানেই অপূরণীয় ক্ষতি।
আন্দোলনের দাবি কি আমাদের।
পিআরটি স্কেল।
আমরা মাইনে বাড়ানোর আন্দোলন করছি না।
কেন্দ্রীয় হারে বেতন ও চাইছি না।
পিআরটি স্কেল স্বয়ং মাননীয়া ও বোঝেন নি কি জিনিস,তো আপনারা জানেন না সেটাই স্বাভাবিক।আসুন বলি।শুনুন।
তিন রকম স্কেল আছে সারা দেশে এবং এই রাজ্যেও খানিক টা।
ক্লাস ১১-১২ র জন্য পিজিটি স্কেল
ক্লাস ৬ থেকে ১০ টিজিটি স্কেল।
ক্লাস ১ থেকে ৫ পিআরটি স্কেল।
এবার সারা দেশ এবং ও রাজ্যেও প্রথম দুটি স্কেলে শিক্ষক রা মাইনে পায়।
কিন্তু তৃতীয় স্কেল টায় সারা দেশ পেলে শুধু মাত্র প্রাথমিক শিক্ষক রা মাইনে পায় না।
মানে বুঝুন।
সারা দেশ অনুযায়ী এই রাজ্যের বাকি শিক্ষক রা মাইনে পেলেও শুধু মাত্র প্রাথমিক শিক্ষক রা মাইনে পায় না।অনেক কম পায়।
আমাদের চাকরী দেয়া হচ্ছে ১২ পাস এবং ডিএলএড যোগ্যতায়, কিন্তু মাইনে দেয়া হচ্ছে ১০ পাস এর যোগ্যতায়।
এই নিয়েই আমাদের আন্দোলন।
কেন্দ্রীয় হারে বেতন চাই না।
চাই বেতন বৈষম্য ঘোচাতে।
এই সমস্যা ২০০৯ সাল থেকেই।যারা রেখে গেছে তারা চলে গেছে।যারা রেখে দিচ্ছে,তাদের ভবিষ্যৎ ও ঈশ্বর এর ইচ্ছায়।
এবার দুটো প্রশ্ন।
চাকরি তে জয়েন করার আগেই তো জানতাম এই মাইনে।তাও কেন জয়েন করলাম।
উত্তর
Beggars must not be choosers
সেটা আপনিও জানেন চাকরি পাওয়া কত কঠিন।
সব তো টাকা দিয়ে চাকরি পাওয়া।
উত্তর- এরকম প্রশ্নকারী দের জন্য করুনা হয়।
তৃতীয়,লক্ষ্য কি ???
পিআরটি ই।
এক মাত্র।
মেরুদন্ড আবিষ্কার হয়েছে রিসেন্টলি দাদা।
এখন এই লড়াই চলবে।
সূর্যের আগুন আবিষ্কার হয়েছে হটাৎ।
দমিয়ে দিতে পারবে নাকি কেউ ???
দেখা যাক।
এতো লেখা একটাই উদ্দেশ্যে।
সাধারণ মানুষ কে জানানো, ইনভলব করা।