29/12/2025
|| তাঁতিদের বিশ্বকর্মা পুজো ||
বাংলা ক্যালেন্ডার দেখলে দেখা যাবে পৌষের শুক্লা নবমী, আর লেখা আছে "বঙ্গীয় তন্তুবায় সমিতির বিশ্বকর্মা পূজা"! এ বড় অদ্ভুত।
হুগলির বেগমপুর, খরসরাই, ছোট তাজপুর এলাকায় কম বেশি অনেক তাঁতিদের বাস। তাঁরাই মূলত এই পুজোর হোতা। আজ থেকে প্রায় ৭০-৭৫ বছর আগে ছবি সেন এবং নিমাই কুণ্ডু নামক দুই তাঁতি এই পুজোর প্রচলন করেন। আসলে ভাদ্র মাসে এই পুজো হলেও তখন তাঁরা ব্যস্ততার কারনে পুজো অনুষ্ঠান করতে পারতেন না।
একটু ভাবলেই উত্তর পাওয়া যায়, দুর্গাপূজার আগে আগে যে বিশ্বকর্মা পূজা, তখন তাঁতিদের ব্যস্ততা থাকে চরমে! ছুটি বলতে সেসময়ে কিছু থাকেনা। কিন্তু এই ভরা শীতে তাদের ব্যস্ততা তুলনামূলক কম। আর তাই দুর্গানবমী থেকে গুনে গুনে প্রায় দু-তিনমাস পর এবার পৌষের শুক্লা নবমীতে হচ্ছে বাবা বিশ্বকর্মার পূজা। এধরনের অকাল পুজোর ভাবনা অনেকটা নবদ্বীপের শাক্তরাসের সূচনার ইতিহাসের সাথেও মিলে যায়।
এই মূর্তি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাকে দুই হাতের বিশ্বকর্মা, যা চার হাতের বিশ্বকর্মার থেকে পৃথক। আরেকটা বিষয় পৃথক থাকে, সেটি হল এনার বাহনে। এনার বাহন ঘোড়া।
তাঁত বোনার যে যন্ত্র থাকে তা ব্যবহারের সময় যে শব্দ হয় তা অনেকটাই ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দের মত। কি সুন্দর এই বিষয়টি মাথায় রেখে ঠাকুরের বাহন ঘোড়া রাখা হয়েছে।
মূলত তাঁত শিল্পীদের ঘরোয়া পুজো এটি, তবে বারোয়ারী পুজোও জাঁকজমক ভাবে হয়। নজরকাড়া প্যাণ্ডেল, প্রতিমা, আলোকসজ্জা সব থাকে। সাথে থাকে ঘুড়ির লড়াই।
তন্তুবায় সম্প্রদায়ের মানুষদের বড় আনন্দের দিন এই সময়। এই মানুষদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাদের বাংলার মা বোনেরা সেজে ওঠে। আজকের যান্ত্রিক সভ্যতায় হাতে তৈরি শাড়িকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এটা আমাদের সম্পদ। আসুন না, শিল্পীদের হাতের কাজকে নিজেরা ব্যবহার করে শিল্পীদের সাহায্য করি। অর্থনীতি সবল করি। বঙ্গভূমিকে আরও সমৃদ্ধ করি! বাবা বিশ্বকর্মার আশীর্বাদে ওনাদের ভালো হোক, আপনাদের ভালো হোক।
কিভাবে আসবেন?
হাওড়া বা বর্ধমান থেকে সরাসরি কর্ড লাইনের ট্রেন ধরে আসুন বেগমপুর। সেখান থেকে টোটো ভাড়া করে সবকটি ঠাকুর দেখে নেওয়া যায়।