05/06/2024
লেখনী ✒ অনিপা ভট্টাচার্য
চিত্র : সংগৃহীত
নিবেদনে : শিল্পীমহল
বৈশেষিক সূত্রের আলোকে গুরুত্ব আকর্ষন শক্তির ব্যাখ্যা।
গুরুত্ব আকর্ষন শক্তি যার ফলে, সকল বস্তুই মাটিতে পড়ে। কিন্তু এই গুরুত্ব আকর্ষন শক্তির ব্যাখ্যা সর্বপ্রথম কে সে বিষয়ে অধিকাংশ মানুষই জানেন না।
আমরা সাধারণত এই টা জানি যে নিউটন ই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কার করেছেন। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে এটাই শেখানো হচ্ছে যে বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনই সর্বপ্রথম গুরুত্ব আকর্ষন ( gravity) শক্তির ব্যাখ্যা করে ছিলেন । কিন্তু এই কথা টা প্রকৃত সত্য নয়, অর্থাৎ বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনই মাধ্যাকর্ষণ বা গুরুত্ব আকর্ষন শক্তির ব্যাখ্যা সর্বপ্রথম করেন নি। বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটনের প্রায় ২০০ বছর পূর্বে মহর্ষি কনাদ গুরুত্ব আকর্ষন শক্তির প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ,
তাঁর বৈশেষিক সূত্রে।
মহর্ষি কনাদ ছিলেন একজন শিব ভক্ত, তিনি তপস্যা দ্বারা শিবকে সন্তুষ্ট করেন, এবং শিব তাঁকে বৈশেষিক সূত্র রচনার জন্য বর প্রদান করেন। বৈশেষিক সূত্র হল আধুনিক physices বা
পদার্থ বিজ্ঞান এর জন্ম দাতা ও। আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের
যা তত্ত্ব আমরা জানছি, সেটা বহু বছর পূর্বেই মহর্ষি কনাদ তাঁর বৈশেষিক সূত্রে ছিল। পদার্থ বিজ্ঞানের সাথে বৈশেষিক সূত্র এর অদ্ভুত রকমের মিল পাওয়া যায়।
এর থেকেই জানা যায় প্রাচীন ভারত জ্ঞান বিজ্ঞানে কত উন্নত ছিল । বর্তমান প্রজন্মের
অধিকাংশ ভারতীয়ই জানেন না মহান ঋষিদের সম্পর্কে , বিশেষ করে আজকের শিক্ষিত প্রজন্ম । আবার অনেকেই ভাবেন যে আধুনিক বিজ্ঞানীরা নাকি ঋষিদের চিন্তা ধারা কে উন্নত করছেন ,
কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো টা। বিজ্ঞানীরাই ঋষিদের চিন্তা ও জ্ঞানে আলোকিত হচ্ছেন। পাশ্চাত্যে বহু বৈজ্ঞানিক দের কাছে, ভারতীয় ঋষিদের চিন্তা গুরুত্ব পাচ্ছে, কিন্তু বর্তমান ভারতীয় রাই উপেক্ষা করে চলেছে ঋষি দের , তাঁদের মতে নাকি ঋষিরা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি। কিন্তু
সেই পদার্থ বিদ্যার অন্যতম তত্ত্ব গুরুত্ব আকর্ষণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিউটনের ও পূর্বে দিয়ে ছিলেন মহর্ষি কণাদ ।
বৈশেষিক সূত্রের পঞ্চম অধ্যায়ের দ্বিতীয় আহ্নিক এর
৭ নম্বর শ্লোকে আছে -
" সংযোগাভাবে গুরুত্বাৎ পতনম্ "
সংযোগ বলতে বোঝানো হয়েছে যখন কোনো বস্তুর মাটিতে পড়ার আগে, যখন কোনো বস্তু কোনো কিছুর সাথে যুক্ত থাকে তাকে সংযোগ বলে, উদাহরন স্বরুপ, একটি ফলের সাথে একটি গাছের যতক্ষন যোগ থাকবে তত ক্ষণ ওই ফলটি মাটিতে পড়বে না , কিন্তু যখনই ওই ফলটির সাথে গাছের ডালের সংযোগ নষ্ট হয়ে যাবে, তখনই ফলটি মাটিতে পড়বে।
যেভাবে নিউটন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন , ঠিক সেই ভাবেই । কিন্তু নিউটনের অবদান স্বীকার করা হলেও, অজানা থেকে যাচ্ছে মহান ঋষিদের অবদান।
তবে সত্য কখনোই চাপা থাকে না , একদিন না একদিন আত্ম প্রকাশ হবেই।
©️ All Copyrights Reserved To শিল্পীমহল