04/02/2026
যাঁরা দিনের পর দিন তাঁর উচ্চারণের দিকে আঙুল তুলেছে,
যাঁরা হিন্দি–ইংরেজির ভাঙাচোরা টানকে বিদ্রুপের বস্তু করেছে,
যাঁরা চাতক পাখির মতো বসে থেকেছে—কবে আবার একটি মিম বানানো যাবে,
কবে আবার হাসির আড়ালে অপমান ছুড়ে দেওয়া যাবে—
আজ তাঁদের সকলের গালে যেন পড়ে এক সপাটে চড়।
সে চড় ক্ষমতার নয়,
সে চড় অহংকারের নয়—
সে চড় কালীঘাটের এক টালির চালের ঘরের মেয়ের।
যে মেয়ে জানত অভাব কী,
যে মেয়ে জানত লড়াই কী,
যে মেয়ে শিখেছিল—ভাষা নিখুঁত না হলেও মনটা সৎ হতে হয়,
উচ্চারণ ঝরঝরে না হলেও উচ্চতা অর্জন করা যায়।
এই দেশ বড় অদ্ভুত।
এখানে অনেক সময় ইংরেজির ব্যাকরণকে যোগ্যতার মাপকাঠি ধরা হয়,
আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে বলা হয় “পপুলিজ়ম”।
এখানে উচ্চারণ ভুল হলে ক্ষমা নেই,
কিন্তু নীরব অন্যায়ে চুপ থাকলে বাহবা।
আর ঠিক এই জায়গাতেই তিনি আলাদা।
তিনি ব্যতিক্রম।
তিনি ব্যাখ্যা নন—তিনি প্রতিবাদ।
আমি ভাগ্যবান।
আমরা সত্যিই ভাগ্যবান—কারণ আমরা এমন এক সময়ে বেঁচে আছি,
যে সময়ে দেখতে পাচ্ছি এমন এক নেত্রীকে
যাঁর কাছে রাজনীতি কেবল ক্ষমতার খেলা নয়,
বরং মানুষের হয়ে দাঁড়ানোর শপথ।
তিনি শুধু ফাইল ঘেঁটে নির্দেশ দেন না,
তিনি শুধু মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্লোগান তোলেন না—
প্রয়োজনে তিনি নিজেই নেমে পড়েন লড়াইয়ের ময়দানে।
সুপ্রিম কোর্টের দরজায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের মানুষের অধিকারের প্রশ্নে
নিজের কণ্ঠস্বরকে ঢাল করে তোলার যে দৃশ্য—
তা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে কালির নয়, সাহসের অক্ষরে।
এখানে কেউ বলবে—
“উনি তো নিখুঁত নন।”
হ্যাঁ, নন।
কারণ নিখুঁত মানুষরা সাধারণত মানুষের ভিড়ে মিশে না,
তারা দূরে দাঁড়িয়ে বিচার করে।
আর তিনি?
তিনি ভিড়ের মধ্যেই হাঁটেন।
তিনি রাস্তায় পড়ে যাওয়া মানুষটিকে তুলে ধরেন,
তিনি দুর্বল উচ্চারণে হলেও শক্ত কথাটাই বলেন।
তাঁর হিন্দি হাসির খোরাক হয়েছে,
তাঁর ইংরেজি ট্রোলের বিষয় হয়েছে—
কিন্তু কখনও তাঁর সাহসকে কেউ নকল করতে পারেনি।
কারণ সাহস শেখানো যায় না,
সাহস আসে জীবন থেকে, লড়াই থেকে, একা দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস থেকে।
কালীঘাটের সেই টালির চালের ঘর আজও তাঁর ভিতরে আছে।
সে ঘর তাঁকে মনে করিয়ে দেয়—
ক্ষমতা ধার করা,
কিন্তু দায়িত্ব চিরস্থায়ী।
আজ যখন তিনি দাঁড়ান,
তিনি শুধু একজন মুখ্যমন্ত্রী নন—
তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের কণ্ঠস্বর।
যাঁরা ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন না,
কিন্তু অন্যায় বুঝতে পারেন।
যাঁরা আদালতের ভাষা জানেন না,
কিন্তু অধিকার কী, তা বুকের ভেতর আগলে রাখেন।
এই জন্যই তিনি “গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম” শুধু স্লোগানে নন,
অভিজ্ঞতায়, লড়াইয়ে, একা হয়ে যাওয়ার সাহসে।
মুকুট তাঁর মাথায় নয়—
মুকুট তাঁর যাত্রায়।
আর ইতিহাস?
ইতিহাস খুব বেছে বেছে মানুষকে মনে রাখে।
সে উচ্চারণ মনে রাখে না,
সে সাহস মনে রাখে।
Part 8