খড়কুটো - Khorkuto

খড়কুটো - Khorkuto ভালোবাসা আর আবেগ দিয়ে তৈরি

একটা সময় ছিল, যখন যুদ্ধ মানেই ছিল সাহস, আত্মত্যাগ আর দেশের জন্য নিঃস্বার্থ লড়াই। সেই সময়েরই এক নীরব যোদ্ধা, ব্রিগেডিয...
10/05/2026

একটা সময় ছিল, যখন যুদ্ধ মানেই ছিল সাহস, আত্মত্যাগ আর দেশের জন্য নিঃস্বার্থ লড়াই। সেই সময়েরই এক নীরব যোদ্ধা, ব্রিগেডিয়ার জগমল সিং—আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। ৮৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন, রেখে গেছেন এক অমূল্য স্মৃতি আর অনুপ্রেরণার উত্তরাধিকার।

রাজস্থানের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি শুধুই একজন সেনা অফিসার ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক চলমান উদাহরণ—কীভাবে নিজের দেশকে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে দায়িত্বকে নিজের জীবনের থেকেও বড় করে দেখতে হয়।

১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময়, তখন তিনি ১০ প্যারা কমান্ডোর একজন মেজর। সেই সময়ের এক সাহসী অভিযানের কথা আজও সেনাবাহিনীর ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। শত্রু সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়া—এটা শুধু একটা অপারেশন ছিল না, ছিল এক দুর্ধর্ষ মনোবলের পরিচয়।

এই অভিযানে তিনি শুধু নেতৃত্বই দেননি, নিজের টিমের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও পিছু হটার কথা ভাবেননি। তার এই অদম্য সাহসিকতার জন্যই তিনি সম্মানিত হন বীর চক্রে—যা দেশের অন্যতম গর্বের সামরিক সম্মান।

জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন এক অনুপ্রেরণার নাম। নতুন প্রজন্মের সেনাদের কাছে তিনি শুধু একজন অফিসার নন, ছিলেন পথপ্রদর্শক, একজন অভিভাবকের মতো মানুষ—যিনি শেখাতেন, যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে হয় না, হয় মনোবল আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে।

২৯ এপ্রিল ২০২৬, বিকানেরের রাজপুত শান্তি ধামে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেই মুহূর্তে যেন গোটা পরিবেশটাই নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে শেষ বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য মানুষ।

তার চলে যাওয়া নিঃসন্দেহে এক বড় ক্ষতি। কিন্তু কিছু মানুষ থাকেন, যারা শারীরিকভাবে না থাকলেও তাদের গল্প, তাদের কাজ—সবকিছুই বেঁচে থাকে বছরের পর বছর। ব্রিগেডিয়ার জগমল সিং ঠিক তেমনই এক নাম।

আজ যখন আমরা তার কথা ভাবি, তখন শুধু একজন সেনার গল্প শুনি না—শুনি এক সাহসী হৃদয়ের স্পন্দন, যে শেষ পর্যন্ত নিজের দেশের জন্য বেঁচে ছিল।

এই মাটির এমন সন্তানদের জন্যই আজও আমরা মাথা উঁচু করে বলতে পারি—আমরা ভারতীয়।





আফ্রিকার দরিদ্রতম একটি গ্রাম। এতটাই দরিদ্র যে সেখানে সন্তানের জননী এক মা একটু নুন আর সবজির খোসা ছিটিয়ে মাটির বিস্কুট তৈ...
06/09/2024

আফ্রিকার দরিদ্রতম একটি গ্রাম। এতটাই দরিদ্র যে সেখানে সন্তানের জননী এক মা একটু নুন আর সবজির খোসা ছিটিয়ে মাটির বিস্কুট তৈরি করে নিজে খান, বাচ্চাদের খাওয়ান, বিক্রিও করেন।

রাতে যখন গল্প বলে ভুলিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ান, ওরা কাঁদে,

খেতে চায়না। মা বলেন,

'কাঁদিস না বাছা, একদিন আমরা থালাভরা ভাত খাবো। শীগগিরই'...।

সেই গ্রামের স্কুলে একদিন রেস হবে। বিজয়ীর পুরস্কার মেডেল নয়, ট্রফি নয় এক ঝুড়ি খাবার রুটি, বিস্কুট, কেক, চকলেট এসব।

ওদের মধ্যে খুব উৎসাহ। পরদিন রেস শুরু হবে। জীর্ণ বস্ত্রে অর্ধ নগ্ন বাচ্চারা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে।

'On Your Mark Ready Steady Go....' দৌড় শুরু। কিন্তু এ কি কান্ড!

ছেলেরা দৌড়াতে দৌড়াতে একজন পাশের জনের হাত ধরে ফেলল। হাতে হাত ধরে দৌড়। কেউ হারেনি। সবাই জয়ী! দৌড় শেষে দু'হাত তুলে নাচ। Ubuntu!! Ubuntu!!

রক্তচক্ষু শিক্ষকের জিজ্ঞাসু চাহনি,

এমনতো কথা ছিলনা। এর মানেটা কি?

শিশুদের জবাব - আমরা কেউ একা জিতলে অন্য ক্ষুধার্ত বন্ধুদের না দিয়ে কোন আনন্দে খেতাম?

শিক্ষকের থোতা মুখ ভোঁতা! Ubuntu - আফ্রিকার Xhosa সংস্কৃতিতে যার অর্থ -

"I am B'coz we are!"

আমরা আছি, তাই আমি আছি। আমরা না হলে আমি কে?

লাখ কথার এক কথা এবং শেষ কথা।

"দরিদ্র ক্ষুধার্ত মানুষের নীরব কান্না হাহাকার যখন আফ্রিকার বাতাস ভারী হয়ে উঠে তখন উন্নত বিশ্বের লোকেরা মহানন্দে বিভোর। সারা বিশ্বের সম্পদ অল্প সংখ্যক মানুষের হাতে স্তূপীকৃত। হায়রে অসম বন্টন!

আমরা মানবতার কথা বলি, ধর্মের বুলি ছুঁড়ি, সমরাস্ত্রের জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করি, নিজেকে বাঁচানোর জন্য অন্যকে হত্যা করি, ধর্মের নামে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছি আগুন, অথচ পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে।

এই অত্যাধুনিক সভ্য যুগেও মা'কে সন্তানদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য মিথ্যা আশ্বাসের গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াতে হয়। আশ্চর্য এই পৃথিবী। কোথায় আমাদের মানবতা, কোথায় আমাদের ধর্ম, কোথায় আমাদের বিবেক?"

শৈশবের দোকান,💝কে কে এই দোকানের মালিক ছিলেন..!😊
06/09/2024

শৈশবের দোকান,💝
কে কে এই দোকানের মালিক ছিলেন..!😊

মাইরি বলছি,,, মা*লটাকে সামনে  পেলে কে কি করতেন একটু কমেন্টে জানান তো🥲
04/09/2024

মাইরি বলছি,,, মা*লটাকে সামনে পেলে কে কি করতেন একটু কমেন্টে জানান তো🥲

মাসে অন্তত একবার শ্মশানে যেও। সঙ্গে মোবাইল নয়, সঙ্গী নয়, কর্মের উচাটন নয়, পরিবারের তাড়না নয়। সঙ্গী হবে শুধু একাকীত্ব। দে...
03/09/2024

মাসে অন্তত একবার শ্মশানে যেও। সঙ্গে মোবাইল নয়, সঙ্গী নয়, কর্মের উচাটন নয়, পরিবারের তাড়না নয়। সঙ্গী হবে শুধু একাকীত্ব।

দেখো, অবিশ্রান্ত ঢেউয়ের মতো ভেসে আসে এক একটি মৃতদেহ ঘিরে পরিজনের ভীড়। নাম ছিল হয়তো তাঁর, কিন্তু এখন সে দেহমাত্র। Some 'Body'। সারা জীবন দায়িত্ব আর কর্তব্যে নিষ্ঠ কাঁধ আজ অবহেলায় দায়িত্বমুক্ত। নেই কোনো পিছুটান। ভালোবাসার মানুষকে চিরদিন ভালো রাখার অনর্থক প্রতিজ্ঞার চিরঅবসান। সোহাগী আলিঙ্গন আর রোমকূপে উত্তেজনা ছড়াবে না, প্রিয় করস্পর্শে অব্যক্ত পুলকে গেয়ে উঠবে না বসন্ত বাতাস, রোদ-বৃষ্টি-ঝর্ণা। সাতরংয়ে উজ্জ্বল চোখের ক্যানভাসে আজ শুধু একটাই রং – কালো।

তারপর এসো আগুনের কাছে। সর্বগ্রাসী লেলিহান খিদে নিয়ে জ্বলছে সে অনন্তকাল। তার কাছে পাপ নেই, পুণ্য নেই, নেই বাল্মীকি-রত্নাকরের বিচার। যে কোনো মানবশরীরে তাঁর দৃপ্ত অধিকার। পরিবারের তাড়ায় দ্রুত চুল্লিগহ্বরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে মুছে যাবে তোমার কর্তৃত্বের আস্ফালন, লালসার উদগ্র ইঁদুরদৌড়, প্রেমের মাধুর্য, অপমানে অশ্রুপাত, সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা, প্রতিজ্ঞার লৌহমুষ্টি, আন্টি-এজিং কসরত, ঝিলমিলে সম্মোহন... যাবতীয় পুতুলখেলা।

অবশেষে জল। নদীর প্রবাহে প্লাবনে ভেসে যাবে অবশেষ নাভিমূল। এভাবেই... এভাবেই সমুদ্রে চলে যেতে হবে জানলে ভাসাবে কি ঔদ্ধত্যের পানসিখানি? গায়ে মাখবে কি জীবনের ঝড়-ঝঞ্ঝা? বলো, এ সত্যকে এড়িয়ে কোথায় পালাবে তুমি?

তাই.. নিজের অন্তিম সত্য বুঝতে মাসে অন্তত একবার শ্মশানে যেও। নির্ভয়ে। একাকী....🙏
collected...
#সা_ই_কো_ল_জি
এ রকম আরও তথ্য পেতে সা ই কো ল জি পেজটি ফলো করুন।
ধন্যবাদ।

কসময় পেঁয়াজ কাটার ভয়ে কখনো নিজ হাতে ডিম ভেজে খেতাম না। হাত কালো হয়ে যাবে বলে কখনো আলু কাটতাম না। সবজি কাটার ভয়ে মা যখন র...
02/09/2024

কসময় পেঁয়াজ কাটার ভয়ে কখনো নিজ হাতে ডিম ভেজে খেতাম না। হাত কালো হয়ে যাবে বলে কখনো আলু কাটতাম না। সবজি কাটার ভয়ে মা যখন রান্না ঘরে ঢুকতো তখন তার আশে পাশেও থাকতাম না। রান্না ঘরে ঢুকতাম না,যদি হাত পুড়ে যায় আর পোড়া দাগ টা যদি থেকে যায়! কি বিশ্রী ব্যপার হবে....!!😊❤️
___খাবার শেষে প্লেট টা টেবিলে রেখেই উঠে যেতাম। তবুও মায়ের কোন অভিযোগ থাকত না-আমার মা টা খুব দুঃখী। সারাজীবন কষ্টই করে গেছে, একা একা সব কাজ করে। কখনো বলেনি আমার মেয়ে কোন কাজ করে না। বরং বলে,আমার মেয়েটার কাজ করার প্রয়োজন নেই,মেয়েটা সারাদিন খুব খাটুনির
উপরে থাকে!💚
আজ যখন পেঁয়াজ কাটি, সবজি কাটি, আলু কাটি ,রান্নাও করি; তেল ছিটে আসলে উহ্ শব্দও করি না; তখন মায়ের মুখ টা চোখে ভাসে আর দু চোখ গড়িয়ে মায়ের জন্য জল পড়ে। তখন খুব ইচ্ছা হয় আবার যদি মায়ের কাছে চলে যেতে পারতাম, তাকে কোন কাজ
করতেই দিতাম না......☺️🤍
আজ মায়ের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারি। সেও হয়তো তার মায়ের ঘরে আমার মতো
আদরের মেয়েই ছিলো....🙂❤️
ইতি---
একজন মা❤️‍🩹🌸
゚ ゚

01/09/2024

ধাধা:একটা মেয়ে ঘন্টাই ৩০ টা রুটি বানাই।তাহলে ৩ টা মেয়ে ঘন্টাই কয়টা রুটি বানাবে??

নিজের বয়স কমানোর জন্য কত রকম পথ যে অবলম্বন করতে পারে, সেটাই ভাবছি। গতকালের ঘটনা। স্টেশন রোড থেকে টোটোতে উঠেছি।  পিছনের স...
01/09/2024

নিজের বয়স কমানোর জন্য কত রকম পথ যে অবলম্বন করতে পারে, সেটাই ভাবছি। গতকালের ঘটনা। স্টেশন রোড থেকে টোটোতে উঠেছি। পিছনের সীটে আমি একাই বসে আছি। কিছুটা যাওয়ার পর চল্লিশোর্ধ্ব এক ভদ্রমহিলা হাত দেখিয়ে টোটো চালককে জিজ্ঞেস করলেন, এই টোটো কোর্ট যাবে?

টোটো চালক বললেন,

-যাবে। উঠুন।

পিছনের সীটে আমি বসে আছি। ভদ্রমহিলা টোটোতে উঠতে যাওয়ার আগে আমাকে বললেন,

-কাকু একটু সরে বসুন না?

আমি আবার এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছি, কাকু মানে অন্য কাউকে বলছে কিনা। দেখলাম অন্য কেউ নেই। মনে মনে ভাবছি আমাকে কাকু বলছে কাকিমার বয়সী এই মহিলা?জিজ্ঞেস করলাম, আমাকে বললেন?

ভদ্রমহিলা বললেন,

-আপনাকেই বলছি কাকু। একটু চেপে বসুন।

আমি সরে বসতেই চল্লিশ পার করা ভদ্রমহিলা আমার পাশে বসলেন। আমি তৎক্ষণাৎই উঠে গিয়ে উল্টোদিকের সীটে বসলাম। কাকিমা এবার আয়েস করে বসলেন। মুখের দিকে তাকিয়ে তারপর ভালো করে দেখলাম, কাকিমা কম করে পঁয়তাল্লিশ তো হবেই। গালাগালি দিলাম মনে মনে। শ্লা নিজের বয়স বেড়েছে বলে আমাকে কাকু? কি নিনজা টেকনিক মাইরি।

এই সব ভাবতে আবতে টোটো কোর্টের কাছে পৌঁছে গেছে। টোটো চালক জিজ্ঞেস করলেন,

-মাসিমা কোর্ট নামবেন তো?

আমি তো শুনে চমকে গেছি। টোটো চালকের বয়স আবার পঞ্চাশের বেশি। কাকিমা তখন টোটো থেকে নেমে টোটো চালককে দশটাকা হাতে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

-আমার কি দেখে আমাকে মাসিমা মনে হলো? নিজের বয়সটা দেখেছো, বুড়ো লোক একটা। চশমা নাও । বলেই বেরিয়ে গেলেন।

আমি পিছনে বসে শুনছি আর হাসছি। মনে মনে ভাবছি, আমাকে কাকু বলছিলে তাই না? কথায় বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। ততক্ষণে টোটো চলতে শুরু করল। টোটো চালক নিজের মনে বলতে লাগলেন,

"মুখে ময়দা মেখে ঠোঁট লাল করলেই বয়স কমে যায় না।বুড়ি হতে চলল, বৌদি ডাক শোনার ইচ্ছে এখনও।"

নিজের মনে আর কত হাসব বলুন তো? একা একা আর এত মজা নেওয়া যায়। টোটো চালককে বললাম, বড়দা সামনে ওই বাঁদিকের গলিটার সামনে দাঁড়িয়ে যান। বড়দা বলাতে টোটো চালক দেখলাম খুব খুশী। কুড়ি টাকার নোটটা দিতেই দশ টাকা ফেরত দিল। বুঝলাম সত্যিই খুশী হয়েছে বড়দা। এমনিতেই পনেরো টাকা ভাড়া, খুশীতে পাঁচ টাকা কম নিয়েছে।

কলমে: সরজিৎ ঘোষ।

01/09/2024

জল নয়, বৃষ্টি ও নয় কিন্তু ভিজে সারা, বাড়ীঘর ডুবল-ডুবল পাহাড়েরও চূড়া। এইটা কি?

আমি মনে করি বিয়ের পর পর নবদম্পতির আলাদা বাসায় শিফট হওয়া উচিত যদি সামর্থ্য থাকে।সামর্থ্য না থাকলেও চেষ্টা করা উচিত আলাদা ...
31/08/2024

আমি মনে করি বিয়ের পর পর নবদম্পতির আলাদা বাসায় শিফট হওয়া উচিত যদি সামর্থ্য থাকে।

সামর্থ্য না থাকলেও চেষ্টা করা উচিত আলাদা থাকার ব্যবস্থা করার।

কারণ, বিয়ের পরের সময়টাই আসল সময় নিজেদেরকে ভালো ভাবে জানার বোঝার, আর এই জানাবোঝার জন্য একান্ত সময়ের প্রয়োজন।
যে সময়টা পরিবারের সাথে থাকলে পাওয়া সম্ভব না। এখানে কিন্তু পরিবার আলাদা সময় দিবেনা, ব্যাপার টা এমন না।

পরিবার নবদম্পতিকে আলাদা সময় দিতে চাইলেও সেটা তারা ব্যবহার করতে পারেনা অনেক কারণে।

ছোটখাটো কয়েকটি উদাহরণ দিই-
রাতভর গল্প করে সকালে দেরিতে উঠলে কেউ কিছু না বললেও নিজের কাছেই গিল্টি ফিল হয়, একই সাথে লজ্জাও লাগে এই ভেবে যে কে কি মনে করলো!

দুপুরের ভাত ঘুমের পর হয়তো একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে গল্প করছে, অমনি কেউ ডাক দিবে, গেস্ট এসেছে নতুন বউকে দেখতে!

সন্ধ্যায় কিংবা মধ্যরাতে বারান্দায় অপরকে বাহুতে জড়িয়ে ধরে বসতে পারা যায়না, কে কখন ডাক দিবে!

দুজনে চা/কফি কিংবা ডিনারে যেতে চাইলে একটা দ্বিধা কাজ করে, পরিবারকে ছাড়া যাওয়াটা কেমন লাগে...ছোট ভাইবোন থাকলে আরও খারাপ লাগে তাদেরকে রেখে যেতে।

৩/৪ দিনের ছুটি পেলে কোথাও ট্যুরে যাওয়ার ইচ্ছে করতে পারে, কিন্তু সেখানেও দ্বিধা, এভাবে হুটহাট যাবো বাসায় কি বলা যায়...তাদেরকে রেখে যাওয়াটা কেমন দেখায়!

যেমন ইচ্ছে তেমন পোশাক পরা যায়না, যা ইচ্ছে তা বলা যায়না, যখন তখন রোমান্স করা যায়না...
সবসময় মাথায় রাখা লাগে সবার মধ্যে আছি!

সময় মতো না উঠলে কে কি ভাবে, এই পোশাক টা পরলে কে কি ভাববে, এই সময় ইন্টিমেট হইলে কেউ যদি বুঝে কেমন লাগবে, এই অবেলায় গোসল করা যায় কি বাহানায়...

কেউ কিছু ভাবুক আর না ভাবুক, ভাবতে পারে বলতে পারে বুঝতে পারে এই ভাবনাতেই নিজেদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়টা সুন্দর ভাবে কাটানো সম্ভব হয়না!

শুনতে এসব খুব সাধারণ মনে হলেও ঘরে ঘরে এইসব নিয়ে অনেক অশান্তি হতে দেখেছি শুনেছি।

কেউ স্বীকার করুক আর না করুক, এটাই সত্য যে বিয়ের পর প্রথম কয়েকবছর যে পরিমাণ আগ্রহ একে অপরকে মানসিক শারীরিক ভাবে চেনার জানার কাছে পাওয়ার থাকে তা একেবারেই অন্য লেভেলের!
সময়ের সাথে সাথে এক্সাইটমেন্ট টা পরিবর্তন হয়ে যায়, তখন জীবন রুটিনের মধ্যে চলে আসে। ভবিষ্যৎ প্ল্যানিং, ফ্যামিলি প্ল্যানিং, ক্যারিয়ার ইত্যাদি ইত্যাদির মধ্যে নিজেদের একান্ত চাওয়া পাওয়া গুলা কিছুটা হলেও কমে যায়...

ভালবাসা কমার কথা বলছিনা কিন্তু!
ভালবাসা থাকলে আজীবন ই থাকে।
বলছি ভালবাসার ধরণ পাল্টানোর কথা।

একটা বাচ্চা হয়ে গেলে তখন জীবনসঙ্গী শুধু জীবনসঙ্গী থাকেনা, বাচ্চার বাবা/মা হয়ে যায়। তখন নিজেদের একান্ত সময়ের ভাগ বাচ্চাকে দেয়া লাগে...বাচ্চাকে নিয়ে নানান ব্যস্ততা চলে আসে।

তাই বাচ্চা হবার আগে যতটা সম্ভব নিজেদের সম্পর্কে সময় দেয়া উচিত, বন্ডিং টা শক্তপোক্ত করা উচিত, নিজেদের অভ্যাসের সাথে পরিচিত হওয়া উচিত। বিয়ে/জীবনসঙ্গী নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন/ফ্যান্টাসি গুলা পূরণ করে ফেলা উচিত।

আর এইটার জন্য প্রয়োজন আলাদা থাকার। শুধুমাত্র দুজনা থাকলে একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ে, মায়া বাড়ে, ভালবাসার প্রকাশ বাড়ে, সম্পর্ক মজবুত হয়।

কিন্তু যেখানে ছেলের বিয়ে দিলেই মনে করা হয় পুত্রবধূ এবার ছেলেকে বশ করে নিবে/নিচ্ছে...
সেখানে আলাদা থাকার কথা বললেই তো হাওকাও বেঁধে যাবে!
যেহেতু বিয়ের পর ছেলের পরিবারের সাথেই থাকা হয়, আপত্তিও তাই ছেলের পরিবার থেকেই আসে/আসবে।

এক্ষেত্রে ছেলের দায়িত্ব এই আপত্তি যেন না আসে সেই ব্যবস্থা করা, সবাইকে বুঝানো এই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে কেন।

অবশ্য বাঙালি ছেলেরা মুখে প্রগতিশীলতার কথা বললেও নিজের ঘরে সেই আদিমকালের মতো ব্যবহার করতে চায়!
মনে করে বিয়ে করলে সেই বউয়ের দায়িত্ব তার পরিবারের দেখাশোনা করা! অথচ এইটা খুবই অহেতুক চাহিদা!

পুত্রবধূ যদি পরিবারের দেখাশোনা করে, খোজ রাখে, ভালবাসে এইটা তার ভালো মানুষী, ভদ্রতা, মানবিকতা।

কিন্তু এইসব করতে সে বাধ্য না, আর তাকে বাধ্য করা উচিতও না।

এদিকে, অনেক ছেলে বিয়েই করে মা বাবার জন্য কাজের মেয়ে পাবার আশায়! অনেকে তো আরও একধাপ এগিয়ে, বিয়ে করে বউকে বাপ মায়ের কাছে রেখে সে চলে যায় দূরে কোথাও!

এইটা কেমন আচরণ আমি আসলেই বুঝিনা!

একটা মেয়ে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করে। আর যাই হোক স্বামী ছাড়া শ্বশুরবাড়িতে থাকার স্বপ্ন দেখেনা মোটেও!

কিন্তু তাকে বাধ্য করা হয় এমন জীবন যাপন করতে...

এই পর্যন্ত পড়ে অনেকেই মনে করতে পারেন এই মেয়ে দেখি ছেলেকে তার পরিবার থেকে দূর হবার কথা বলছে!

ভুল বুঝেছেন।
পরিবারের সাথে দূরত্ব তৈরি করা আমার উদ্দেশ্য না, আমি সে কথা বলছিও না।
পরিবারের সাথে অবশ্যই যোগাযোগ থাকবে, কথা হবে, দেখা করতে যাওয়া হবে, সময় সুযোগ সামর্থ্য মিললে একসাথে ঘুরতে যাওয়াও হবে...
সবই হবে...

শুধু থাকাটা হবে আলাদা ফ্ল্যাটে, কিংবা আলাদা বাসায়।
ভাবতে পারেন যেমনটা বিয়ের পর একটা মেয়ে তার পরিবারের থেকে আলাদা থাকে, তেমনটা।

এতে কিন্তু সম্পর্ক নষ্ট হবার কোনো চান্স নাই।

একসাথে থাকলে বরং নানান সময় নানান রকমের সমস্যা হবে, সেই সমস্যায় না পারবেন স্ত্রীর সাইড নিতে আর না পারবেন পরিবারের সাইড নিতে..
মাঝামাঝি পিষবেন।

বলতে পারেন ব্যালেন্স করে চলা যায়।
তা যায়, কিন্তু এই ব্যালেন্স করা টা খুবই কঠিন...

অন্যদিকে, দূরে থেকেও ব্যালেন্স করে চলা যায়।

যাজ্ঞে, যার যার নিজস্ব ব্যাপার।
যে যেভাবে ভালো থাকে থাকুক।

আমি শুধু আমার মতামত বললাম, যেটা কেউ জিজ্ঞেস করেনাই।
আমি বললাম আমার ইচ্ছে হইসে তাই।
কে বুঝবে, কে মানবে, কে বুঝবেনা মানবেনা এইসব আমার দেখার বিষয় না।

অনেক লম্বা পোস্ট, যারা পড়বেন, তাদেরকে ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন আপনারা, একটাই জীবন, অল্প সময়ের...তাই ভালো থাকা জরুরি এই জীবনে ❤️

#সংগৃহীত

Address

Navadwip
741302

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when খড়কুটো - Khorkuto posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share