10/05/2026
একটা সময় ছিল, যখন যুদ্ধ মানেই ছিল সাহস, আত্মত্যাগ আর দেশের জন্য নিঃস্বার্থ লড়াই। সেই সময়েরই এক নীরব যোদ্ধা, ব্রিগেডিয়ার জগমল সিং—আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। ৮৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন, রেখে গেছেন এক অমূল্য স্মৃতি আর অনুপ্রেরণার উত্তরাধিকার।
রাজস্থানের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি শুধুই একজন সেনা অফিসার ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক চলমান উদাহরণ—কীভাবে নিজের দেশকে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে দায়িত্বকে নিজের জীবনের থেকেও বড় করে দেখতে হয়।
১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময়, তখন তিনি ১০ প্যারা কমান্ডোর একজন মেজর। সেই সময়ের এক সাহসী অভিযানের কথা আজও সেনাবাহিনীর ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। শত্রু সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ৮০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়া—এটা শুধু একটা অপারেশন ছিল না, ছিল এক দুর্ধর্ষ মনোবলের পরিচয়।
এই অভিযানে তিনি শুধু নেতৃত্বই দেননি, নিজের টিমের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও পিছু হটার কথা ভাবেননি। তার এই অদম্য সাহসিকতার জন্যই তিনি সম্মানিত হন বীর চক্রে—যা দেশের অন্যতম গর্বের সামরিক সম্মান।
জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন এক অনুপ্রেরণার নাম। নতুন প্রজন্মের সেনাদের কাছে তিনি শুধু একজন অফিসার নন, ছিলেন পথপ্রদর্শক, একজন অভিভাবকের মতো মানুষ—যিনি শেখাতেন, যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে হয় না, হয় মনোবল আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে।
২৯ এপ্রিল ২০২৬, বিকানেরের রাজপুত শান্তি ধামে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেই মুহূর্তে যেন গোটা পরিবেশটাই নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে শেষ বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য মানুষ।
তার চলে যাওয়া নিঃসন্দেহে এক বড় ক্ষতি। কিন্তু কিছু মানুষ থাকেন, যারা শারীরিকভাবে না থাকলেও তাদের গল্প, তাদের কাজ—সবকিছুই বেঁচে থাকে বছরের পর বছর। ব্রিগেডিয়ার জগমল সিং ঠিক তেমনই এক নাম।
আজ যখন আমরা তার কথা ভাবি, তখন শুধু একজন সেনার গল্প শুনি না—শুনি এক সাহসী হৃদয়ের স্পন্দন, যে শেষ পর্যন্ত নিজের দেশের জন্য বেঁচে ছিল।
এই মাটির এমন সন্তানদের জন্যই আজও আমরা মাথা উঁচু করে বলতে পারি—আমরা ভারতীয়।