26/07/2024
বামন মাসের মাসিক বার্তা (২৩শে জুন, ২০২৪ থেকে ২১শে জুলাই, ২০২৪)
আমার প্রিয় দীক্ষা, আশ্রিত, আকাঙ্ক্ষী, শিক্ষা, প্রশিষ্য-শিষ্যা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ,
আমার আশীর্বাদ এবং শুভেচ্ছা গ্রহণ করো। শ্রীল প্রভুপাদের জয়!
জয় জগন্নাথ!
হোমবেজ: শ্রীমায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দির, শ্রীধাম মায়াপুর থেকে লিখিত
আমি ১০০০-এরও বেশি ভক্ত- যারা ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পাদপদ্মচিহ্ন স্থাপনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত সাফারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে এসেছিল, তাঁদের সাথে শ্রীধাম বৃন্দাবনে গিয়েছি। সেই রাতে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। তারা আমাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছে এবং ৫ দিনের একটানা বিরতিহীন ডায়ালাইসিস করিয়েছে যার মাধ্যমে তারা আমার শরীর থেকে সংক্রমণের প্রভাবে সৃষ্ট সমস্ত এসিড অপসারণ করেছে।
তারপর মায়াপুর থেকে একটি ফোনকল আসে। তারা বললো যে, আমার পুরোপুরি সুস্থ হওয়া উচিত এবং ডা. সারিন যখন সম্মত হবেন তখনই কেবল আমার মায়াপুরে ফিরে আসা উচিত। আমি প্রায় ৩ মাস যাবৎ দিল্লিতে অবস্থান করেছি এবং নরসিংহ চতুর্দশীসহ অন্যান্য পবিত্র তিথিসমূহ সেখানে পালন করেছি।
আমি ভাবছিলাম কখন আমি মায়াপুরে ফিরে আসতে পারব। আমি ডায়ালাইসিসের জন্য গিয়েছিলাম, কিন্তু কিডনি বিশেষজ্ঞ, নেফ্রলোজিস্ট বললো যে, আমার দেহে অত্যন্ত জলশূন্যতার জন্য আমি ডায়ালাইসিস গ্রহণ করতে পারব না, তাই তিনি আমাকে আগামীকাল আসতে বললেন এবং তখন তিনি নির্ধারণ করে দেখবেন যে, আমাকে ডায়ালাইসিস করানো যাবে কিনা।
আমি জলশূন্যতায় ভুগছিলাম। তারপর আমরা খুঁজে পেলাম যে, ILBS হাসপাতালের মতো একই দূরত্বে একটি হাসপাতাল আছে তা হলো ফোর্টিস হাসপাতাল এবং সেখানে একই ডায়ালাইসিস মেশিন আছে যেমনটা আমাদের মায়াপুরে আছে। তাই আমি সেখানে গেলাম এবং আমাদের টেকনিশিয়ান কিছু ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পেয়েছে। তারপর আমি কলকাতায় এসেছি এবং এক রাত নিউটাউনের টাটা ইডেন কোর্টে ছিলাম এবং তারপর আমি মায়াপুরে এসেছি। কিন্তু আমি কেবল একদিন মায়াপুরে অবস্থান করেছি কেননা আমার থেরাপির মেশিনে কিছু সমস্যা ছিল। আমাকে কলকাতায় যেতে হয়েছিল এবং সেখানে গিয়ে আমার থেরাপি নিতে হয়েছিল। মেডিকা হাসপাতালে একই রকমের মেশিন আছে যেমনটা মায়াপুরে আছে। ডাক্তার ও টেকনিশিয়ানরা বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়ালাইসিস কেন্দ্রে গিয়েছিলেন কিন্তু এটিই ছিল সর্বোত্তম। তারপর আমি মন্দির ও প্যান্ডেলের কাছাকাছি চলে এসেছি। আমি প্যান্ডেল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতাম ও রথযাত্রায়ও অংশ নিয়েছি।
রথযাত্রার দিন পশ্চিমবঙ্গের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ভিক্টোরিয়া পার্কের নাম পরিবর্তন করে 'ভক্তিবেদান্ত স্বামী সরোবর' হিসেবে নামকরণ করেছেন। ৪ একর সমন্বিত এই জায়গাটি বিশাল এবং ২.৫ একরের একটি সরোবর এখানে রয়েছে৷ আমরা একটি উড়িয়া নৃত্য পরিবেশনা দেখেছি। তারপর সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী ভগবান শ্রীজগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যে পূজা নিবেদন করতে রথে উঠেছেন। তিনি একটি বক্তব্য দিয়েছেন ও তারপর একটি বাটন চেপে দূর থেকেই পার্কের নাম পরিবর্তন করলেন।
কলকাতা হলো শ্রীল প্রভুপাদের জন্মস্থান। ১৯৭১ সালে যখন আমরা কলকাতায় রথযাত্রা শুরু করেছিলাম, তখন তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ চেয়েছেন কলকাতার রথযাত্রা মহাসমারোহে উদযাপন করতে ও এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রথযাত্রায় পরিণত করতে৷ তাই ভক্তেরা শ্রীল প্রভুপাদের মনোভিলাষ পূরণের চেষ্টা করছে।
ভারতে পুরীর পাণ্ডারা একটি বড় আন্দোলন করেছিলেন যে, জগন্নাথের সমস্ত রথযাত্রা যেন একইদিনে হয়। তাই ইসকন এই ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা উদযাপন করে। কিন্তু কলকাতা প্রথম দিনটি রথযাত্রা হিসেবে উদযাপন করে এবং উল্টোরথের আগ পর্যন্ত পার্কে অনুষ্ঠান হয়। উল্টো রথের দিন আমি সমস্ত বিগ্রহের রথ উদ্বোধন করেছি। আমি এক দিন পর পর করে থেরাপি নিচ্ছিলাম। আমি চিন্তা করছিলাম কিভাবে গুরুদেব শিষ্যের কর্মফল গ্রহণ করেন। "কখনও কখনও গুরুদেব শিষ্যকে দীক্ষা দেওয়ার পর শিষ্যের পূর্বকৃত পাপের ভার গ্রহণ করেন, এবং শিষ্যের পাপের জন্য ভারাক্রান্ত হয়ে পূর্ণরূপে না হলেও আংশিকভাবে সেই পাপের ফল গ্রহণ করে কষ্ট পান। তাই প্রতিটি শিষ্যের কর্তব্য দীক্ষা গ্রহণের পর আর পাপকর্ম না করা। শ্রীগুরুদেব কৃপাপরবশ হয়ে শিষ্যকে দীক্ষা দান করে তার পাপকর্মের জন্য আংশিকভাবে কষ্টভোগ করেন, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ তাঁর মহিমা প্রচারে রত সেবকের প্রতি কৃপাপরায়ণ হয়ে, তাঁকে সেই পাপের ফল থেকে মুক্ত করেন।" (শ্রীমদ্ভাগবত ৯.৯.৫ তাৎপর্য)
কৃষ্ণ এতই করুণাময় যে, তিনি আমাকে শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশনা পালনের আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন। আমার অনেক সাহায্যের প্রয়োজন। আমি ভেবেছি যখন আমি মায়াপুরে ফিরে আসব, তখন আমি পরিকল্পনা করব কে কে আমাকে শ্রীল প্রভুপাদের বৈদিক তারামণ্ডল মন্দির নির্মাণ, ভক্তিবেদান্ত স্বামী চ্যারিটি ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে শ্রীপাট প্রতিষ্ঠা ও নবদ্বীপ মণ্ডলের উন্নয়নের নির্দেশনা পরিপূরণে সহায়তা করবে। তারপর আমি মায়াপুরে ফিরে এসেছি।
আমি মন্দিরে গিয়ে সমস্ত শ্রীবিগ্রহগণের আশ্রয় গ্রহণ করেছি এবং তারপর উপরে আমার বাসভবনে গিয়েছি। বৈদিক তারামণ্ডলের পশ্চিম অংশের পরবর্তী ধাপ হলো একজন পরামর্শদাতা বাছাই করা যিনি আমাদের প্রদর্শনীটি সম্পূর্ণ করতে সহায়তা করবে। আমরা দু'টো দলের সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তৃতীয় দলটির সাথে শীঘ্রই সাক্ষাৎ হতে চলেছে। তারা একটি প্রতিযোগিতা করছে এটি দেখার জন্য যে কে সর্বোত্তম করে।
তো এখন চাতুর্মাস্য শুরু হয়েছে। কেউ কেউ পূর্ণিমা থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত পালন করে, কেউ একাদশী থেকে পালন করে৷ আমি একাদশী থেকে পালন করি। শ্রীল প্রভুপাদ চাতুর্মাস্য পালন করতেন: প্রথম মাসে শাক বর্জন, দ্বিতীয় মাসে দই বর্জন, তৃতীয় মাসে দুধ বর্জন ও শেষ মাসে মাসকলাই ডাল বর্জন। কিন্তু তিনি চাতুর্মাস্যে ভ্রমণ ও প্রচার করতেন। তো আমরা বুঝতে পারি যে, এই সমস্ত তপস্যার চেয়ে মানুষদের কৃষ্ণভাবনামৃত প্রদান করা আরও অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
আমি ভক্তদের কাছ থেকে তাদের সেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন পেয়েছি। একটি প্রতিবেদন ছিল ওঁ চৈতন্য দাসের কাছ থেকে যে পরিবারসহ মায়াপুরে বাস করে৷ শিশু, কিশোর ও যুবকদের জন্য তার অনলাইনে বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে। সে অনেক মানুষদের কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণে উৎসাহিত করছে।
আমি আমার ভক্তিসার্বভৌমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি অনেকবার চৈতন্য চরিতামৃত অধ্যয়ন করেছি কিন্তু এখন পরীক্ষার জন্য আমি তা পুনরায় অধ্যয়ন করছি৷ এখন আমি আদিলীলার অষ্টম পরিচ্ছেদে রয়েছি৷ আমি অধ্যয়ন করছিলাম কেউ যদি স্বল্প শ্রদ্ধার সাথেও কেবল ভগবান শ্রী শ্রী চৈতন্য নিত্যানন্দের নাম কীর্তন করেন, তাহলে অত্যন্ত দ্রুত তিনি সমস্ত অপরাধ থেকে মুক্ত হন। এভাবে যখন তিনি হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করেন, তিনি ভগবৎ-প্রেম অনুভব করেন। (শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত আদিলীলা ৮.৩১)
মায়াপুরে শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহারাজের তিরোভাব তিথি উপলক্ষে আমাদের তিন দিনের উৎসব ছিল। শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ অত্যন্ত সুন্দরভাবে শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করতেন। শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন। এখন তাঁর শিষ্যেরা তাঁর ধারা বহন করে চলেছে। তাঁর শিষ্যেরা 'অভয়চরণ' সিরিজের বাংলা ডাবিং সম্পন্ন করেছে , যা শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ কর্তৃক নির্মিত শ্রীল প্রভুপাদের জীবনীর উপর ভিডিও সিরিজ। তারা আমাকে এটি উদ্বোধনের জন্য অনুরোধ করেছে।
সম্প্রতি ইসকন মায়াপুর 'Mayapur' অ্যাপ চালু করেছে যেখানে ইসকন মায়াপুর ক্যাম্পাসের বিশেষ আকর্ষণ, থাকার জায়গা, প্রসাদ, কেনাকাটা ও দর্শনার্থীদের সুযোগ সুবিধা - এসব তথ্য দিয়ে তীর্থযাত্রীদের উপকার করবে। এটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে পাওয়া যাচ্ছে।
আমি আশা করি তোমরা সকলে প্রত্যেককে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রদানের দায়িত্বটি গ্রহণ করছ এবং এর পাশাপাশি সতর্কতার সাথে হরিনাম জপ ও বিধিনিষেধগুলি পালন করছ। পূর্বতন আচার্যদের সমস্ত আশীর্বাদ তোমাদের উপর বর্ষিত হোক যেন তোমরা অধিক উৎসাহে এই আন্দোলনের প্রচার চালিয়ে যাও।
আমি আশা করি তোমরা সুস্বাস্থ্যে ও কৃষ্ণভাবনামৃতের আনন্দে আছ।
তোমাদের নিত্য শুভেচ্ছক,
জয়পতাকা স্বামী
JPS/ssdb
'Mayapur' অ্যাপ ডাউনলোড করুন (অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে পাওয়া যাচ্ছে) - https://mayapur.page.link/mayapurappdownload
Mayapur অ্যাপের ট্রেইলার - https://www.youtube.com/shorts/0PmdS_qf1ak