15/02/2019
পড়ুন এবং একটু ভেবে দেখুন। ভালো লাগলে share করুন।
বদলা নাকি বদল
কেউ বলছে বদলা চাই, surgical strike ডাকো; কেউ আবার বলছে 'এত বাড়াবাড়ির কি আছে? এ তো রোজকার ব্যাপার ওখানে।' কারও কাছে এটা শাসন-ব্যবস্থার ত্রুটি; আবার কেউ মনে করে 'ওসব পরে হবে, আগে Valentine’s day টা ভালো করে enjoy করি।' দেখতে দেখতে দিন কেটে যায় এরকমই নানা মন্তব্য শুনে, facebook এর news feed উপচে পরে নানা মুনির নানা মতে। কিন্তু এসবের মাঝেও একটা আওয়াজ একটানা কানে ভেসে আসে, যেন কেউ ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে অনেকক্ষন ধরে। হতেই পারে, হয়তো আজ প্রেমদিবসে কারো ভালোবাসার মানুষটি আসবে বলেও আসেনি শেষপর্যন্ত। কিন্তু না, এ কান্না যেন আরো বেশি গভীর, যেন হৃদয়ের কোনো গভীরতম ক্ষতের মধ্যে দিয়ে ভেসে আসছে। আরে এ তো এক মায়ের কান্না। দুহাতে মুখ ঢেকে ক্রমাগত সে কেঁদে চলেছে। লোকমুখে শুনলাম, তার ছেলেরা সকালে বেরিয়েছিল কাজে, যাওয়ার সময় বলেওছিলো " মা আসছি" , কিন্তু এসেছে কেবল তাদের নিথর দেহটুকু। এতক্ষনে মা টি মুখ থেকে হাত সরিয়েছে, মৃত ছেলেদের একবার দেখবার জন্য। চমকে উঠলাম আমি, এ যে আমারই মা। তার মানে এই যাদের ধুলো-রক্ত মাখা মৃতদেহ লুটিয়ে পরে আছে অবহেলায় , এরা সবাই আমারই ভাই। বুকে হাত রেখে বসে পড়লাম মাটিতে , যা দেখছি তা কি সত্যি? নাকি কোনো অতি ভয়ানক দুঃস্বপ্ন। যে ব্যাথাটা আমি আমার বুকে অনুভব করছি, তা কি বাকিরাও করছে? কান্নার আওয়াজ ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে, পিছনে তাকিয়ে দেখি, মায়ের আরো ১৩০ কোটি সন্তান , আমার ই সব ভাই-বোন এসে দাঁড়িয়েছে। তারাই কাঁদছে। কেউ বা তার আদরের ভাইদের কে শুইয়ে দিচ্ছে কফিনে, কেউ ঢেকে দিচ্ছে ফুলের তোড়ায়, কেউ বা তিরঙা পতাকায়। থেকে থেকে 'জয় হিন্দ' ভেসে আসছে, আমার মনোবলও ধীরে ধীরে ফিরছে। আর কাঁদবো না আমি, আমায় শক্ত হতে হবে, মা কে সামলাতে হবে। এতদিন ধরে যত আঘাত-ক্ষত-ঘা তার সারা শরীর এ উল্কির মতো বেড়ে উঠেছে , তা সারাতে হবে। সব ভাই বোনদের এক হতে হবে, আমরা কেউ আর কাঁদবো না, লড়বো। সব ভাই-বোনেরা মিলে গাইতে লাগলাম জন-গণ-মন অধিনায়ক জয় হে........ মা উঠে দাড়ালো, তার মুখে স্মিত হাসি, মা হাসছে, আজ সমস্ত সন্তানদের একযোগে হাতে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে হাসছে।আর এক এক করে তার দেহের ক্ষতগুলো যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ আলার্মের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। ও তবে সত্যিই স্বপ্ন ছিল। Facebook দেখতে দেখতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম কে জানে। তবে স্বপ্নটা যতই অবাস্তব হোক, সেটা বাস্তবের চেয়েও সেরা। হয়তো সমস্ত ভারতবাসীকে একসাথে, একসূত্রে গাঁথা আজ খুব কঠিন, কিন্তু যেদিন সেটা সম্ভব হবে, সেদিন এই স্বপ্নটাও বাস্তব হয়ে যাবে। সেদিন সবাই আমাদের ভাইদের সাথে লড়াই করার আগে দশবার ভাববে, আমাদের বোনেরা মাথা উঁচু করে সমাজে চলতে পারবে। যদি আমরা চাই যে পরবর্তী প্রজন্ম ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটাকে আর কালো দিন নয়, ভালোবাসা তথা ভ্রাত্রিত্বের দিন হিসাবে মনে রাখুক তবে আমাদের আজই তার জন্য তৈরি হতে হবে। এই দেশের ভবিষ্যৎ আজ আমাদেরই হাতে ।।