Arindam NBD

Arindam NBD Stories,Novels,Travel stories,Personal Blogs,Photography,Videography,Personal opinions etc.

 #মেঘালয়ে_কালো_ছায়া ভ্রমণ কাহিনী (পর্ব - ৯)আজ একটু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। আজ অনেকটাই বড় পরিকল্পনা বানিয়ে রে...
19/11/2025

#মেঘালয়ে_কালো_ছায়া ভ্রমণ কাহিনী (পর্ব - ৯)
আজ একটু তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। আজ অনেকটাই বড় পরিকল্পনা বানিয়ে রেখেছি। বিপ্লবদা আর ওর বান্ধবী ঠিক করেছে, আজ ওরা শিলিগুড়িতে নাইট স্টে করবে। কিন্তু আমার ইচ্ছা গুয়াহাটি থেকে এক টানে কলকাতা ফিরে যাওয়ার।

যদিও এই কয়েকদিন প্রচুর পরিমাণে রাইড করে শরীর যথেষ্ট ক্লান্ত আছে। এর উপর একটানা ২৪ ঘন্টা বাইক চালানো, যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। যদি সেরকম কোন সমস্যা হয়, তাহলে রিক্স নেব না।

আজ আমার শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা শুধুমাত্র হবে না। এর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যেরও যথেষ্ট পরীক্ষা হয়ে যাবে।

বিপ্লবদারা রোজ দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে। এই কারণে আমি ফোন করে ওদের উঠে পড়তে বললাম।

স্নান করে, ব্যাগ গুছিয়ে, ব্রেকফাস্ট করে আমি আটটার মধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেলাম। কিন্তু এখনো ওদের দেরি হবে।

যার কারনে আমি বসে গেলাম ইউটিউবের ভিডিও এডিটিং-এ। Arindam NBD নামেই আমার একটা ছোট্ট ইউটিউব চ্যানেল। আমার বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটি এখানে আমি শেয়ার করি।

আমাদের হোটেল থেকে বের হতে সকাল নটা বেজে গেল। বাইরে যথেষ্ট রোদ উঠে গেছে। মেঘালয়ে ঠান্ডা থাকলেও, গুয়াহাটিতে যথেষ্ট গরম।

অফিস টাইম হয়ে যাওয়ায় গুয়াহাটি শহরে যথেষ্ট ভিড় রয়েছে। জাতীয় সড়কেও যানবাহনের মেলা। বাধ্য হয়েই ধীরে ধীরে এগোতে লাগলাম।

গুয়াহাটি শহরটা একটা উপত্যকা শহর। এই শহরকে চতুর্দিকে পাহাড়ে ঘিরে রেখেছে। আর গুয়াহাটি শহরের পশ্চিম দিক দিয়ে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদী। এই ব্রহ্মপুত্র নদীর ব্রিজ পেরিয়ে যাওয়া মানেই, গুয়াহাটি শহর থেকে বেরিয়ে যাওয়া।

ব্রহ্মপুত্র নদী পার হতেই যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে গেল। এবার যথেষ্ট ফাঁকা রাস্তা। তুলনামূলক স্পিড বেড়ে গেল আমাদের বাইকের।

রাস্তা যথেষ্ট ভালো হওয়ায় এবং পরিকল্পনা অনেক বড় হওয়ায় মাঝে কোথাও দাঁড়াতে ইচ্ছা করছে না। কিন্তু দেখতে দেখতে পাঁচ ঘন্টা অতিক্রম হয়ে গেছে। এবার একটু রেস্ট দরকার। সঙ্গে খিদেও পেয়ে গেছে। কারণ এখন দুপুর দুটো বাজে।

রাস্তা ভালো হলেও, ভালো খাবারের জায়গার বড়ই অভাব। প্রায় আধঘন্টা খোঁজার পর একটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ধাবা দেখতে পেলাম। এখানেই ভাত ডাল সবজি ডিমের ওমলেট সহযোগে দুপুরের খাওয়া সেরে নিলাম।

খাওয়ার পরে বিপ্লবদার এখন ঘুম পাচ্ছে। এরই মধ্যে আমি বিপ্লবদাকে একটানা কলকাতা যাওয়ার প্রস্তাব দিলাম। আমার প্রস্তাব শুনে চোখগুলো আমড়ার মত গোল গোল করে, ঘাড় নাড়া বুড়োর মতো জোরে জোরে মাথা নাড়িয়ে বুঝিয়ে দিল তার পক্ষে অসম্ভব।

বাধ্য হয়ে, ওদের অনুমতি নিয়ে আমি আগেই রওনা হলাম। এখন প্রত্যেকটা মুহূর্ত আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন ম্যাপের সময় অনুযায়ী আমার কলকাতায় পৌঁছাতে আটটা বাজবে।

ওদিকে বেলা যত বাড়বে, তত বেশি ঘুম পাবে। সেই কারণে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাকে কলকাতা ঢুকতে হবে। অন্যথা আমার এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে যেতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার কিছু কিলোমিটার পূর্বে পেট্রোল পাম্প থেকে বাইকে ফুল ট্যাংকি তেল ভরে দিলাম। কারণ এখানে পেট্রোলের দাম পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় ৭ টাকা কম। আসামের সীমানাবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ গাড়ি আসাম থেকেই তেল ভরে। কিন্তু আমরা এই সুযোগ রোজ পাই না। যার কারনে আমাদের বেশি টাকা দিয়েই তেল ভরতে হয়।

পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে বেশ কিছুটা এগোতেই রাস্তা সরু হয়ে গেল। এখন দু দিক থেকেই গাড়ি যাতায়াত করছে। এইরকম জাতীয় সড়কে যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

রাস্তার বেশ কিছু জায়গায় কাজ চলছে। আর জমাট ধুলোয় অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।

ভারতের সবথেকে বেশি চা উৎপাদন হয় আসামে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা আসামে কোন চা বাগান দেখতে পাইনি। পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে কিছু কিলোমিটার এগোতেই রাস্তার দুদিকে সুন্দর সুন্দর চা বাগান।

রাস্তার দু'পাশে বড় বড় গাছ আছে। আর রাস্তা শুরু হওয়ার কারণে, রাস্তায় যথেষ্ট ছায়া আছে। বিকালের সময় এই রাস্তায় বাইক চালাতে সত্যিই অপূর্ব লাগছে।

জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের সামনে কয়েক মিনিট দাঁড়ালাম। মনে হচ্ছিল এখানে একদিন থেকে যাই। কিন্তু একদিন অতিরিক্ত থাকার সময় আমার হাতে নেই। আগামীকাল পর্যন্তই ছুটি। আগামীকাল যাতে সারাদিন রেস্ট নিতে পারি, সেই উদ্দেশ্যেই একটানা বাইক চালিয়ে কলকাতায় যাবো।

অনলাইন ম্যাপ সময় দিয়েছিল সন্ধ্যা সাতটায় আমি শিলিগুড়ি পৌঁছাব। কিন্তু আমি এক ঘন্টা পূর্বেই শিলিগুড়ি ঢুকে গেলাম। শিলিগুড়িতে একটা ছোট্ট চা বিরতি নিয়ে পুনরায় রওনা হলাম।

অন্ধকারের পরিমাণ বাড়তে শুরু করেছে। শরীরে এখনো ভরপুর উদ্যম রয়েছে। কিন্তু এই প্রথমবার আমি একা একা বাইক নিয়ে এই রাস্তায় সারারাত রাইড করবো। কোনরকম যান্ত্রিক গোলযোগ না হলে, অন্য কোন সমস্যা এই রাস্তায় হওয়ার কথা নয়। তবুও একা থাকায় একটু ভয় থেকেই যায়।

অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় রাস্তার দু'পাশের চা বাগান গুলো দেখা যাচ্ছে না। শিলিগুড়ি থেকে ডালখোলা পর্যন্ত রাস্তা যথেষ্ট খারাপ। এই রাস্তাটা একটু সাবধানে চালাতে হবে।

ডালখোলা পর্যন্ত বাইকের গতি অনেকটাই কমিয়ে নিলাম। একা থাকায় সাবধানতা একটু বেশিই অবলম্বন করা ভালো। ডালখোলা পৌঁছাতেই প্রায় নটা বেজে গেল।

সারাদিন বাইক চালানোর কারণে খিদে একদমই পাচ্ছেনা। পুনরায় একটা চায়ের দোকানে দাঁড়ালাম। এখান থেকে দুটো কেক আর গরম দুকাপ চা খেয়ে নিলাম। ঘুম কাটানোর সবথেকে ভালো ওষুধ হচ্ছে চা। যদিও এখনো আমার বিন্দুমাত্র ঘুম পায়নি।

এই রাতে কোন দোকানে দাঁড়ালে একটাই সমস্যা, মানুষ জন জিজ্ঞাসা করে “কোথায় যাচ্ছি”। কিন্তু বর্তমান সময়ে সঠিক উত্তর দেওয়া বিপদজনক হতে পারে।

বিপ্লবদারা নিশ্চয়ই এর মধ্যে শিলিগুড়ি পৌঁছে গেছে। ওদের একটা ফোন করলাম। ফোনে জানতে পারলাম মাঝ রাস্তায় ওদের একটা ছোট এক্সিডেন্ট হয়েছে। একটা বাইক বেপরোয়া ভাবে ওদের সামনে চলে আসে। আর সেই বাইকের সাথেই ধাক্কা লেগে ওরা পড়ে যায়। বাইকের অল্প বিস্তার ক্ষতির সঙ্গে, ওদের হাত পা কেটে গেছে।

ওদের এই অবস্থা শুনে আমি পুনরায় শিলিগুড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বললাম। কিন্তু ওরা আমাকে বারণ করলো। ভয় পাওয়ার মত কিছু হয়নি আশ্বস্ত করে, আমাকে সাবধানে কলকাতা যেতে বলল।

আমি পুনরায় বাইক ছুটিয়ে দিলাম কলকাতার উদ্দেশ্যে। মালদা পর্যন্ত কোনো অসুবিধা হয়নি। কিন্তু মালদার পরে অল্প অল্প কোমরে ব্যথা হতে শুরু করলো। এতক্ষণ হেলমেট পড়ে থাকায় ঘাড়েও ব্যথা করছে।

এবার ঠিক করলাম প্রত্যেক টোল গেটে কিছুক্ষণ সময় বিশ্রাম নিয়ে যাত্রা করব। বাকি রাস্তাটুকু যে সুখকর হবে না, তা ভালোমতোই বুঝতে পারছি।

কৃষ্ণনগর পৌঁছাতে ভোর চারটে বেজে গেল। শরীর এবার যথেষ্ট ক্লান্ত লাগছে। বাইক চালাতে আর একদমই ইচ্ছা করছে না। একটু একটু ঘুম পাচ্ছে।

আর মাত্র ১৩০ কিলোমিটার রাস্তা বাকি। এখন মন ও মস্তিষ্ক দুটোকেই যথেষ্ট সংযত রাখতে হবে। এই রাস্তাটুকুই হবে এই রাইডের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

বহু কষ্টে রানাঘাট পর্যন্ত এলাম। বাইকের সিটে আর বসে থাকা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে যেন গরম তাওয়ার উপর বসে আছি।

ভালোমতোই বুঝতে পারছি আর একটানা বেশিক্ষণ বাইক চালানো যাবে না। এবার পরিকল্পনা করলাম প্রত্যেক কুড়ি কিলোমিটার অন্তর 10 মিনিট বিশ্রাম নেব। এর ফলে একটু দেরি হলেও, কষ্ট কম হবে।

এই ভাবেই ধীরে ধীরে বারাসাত পর্যন্ত আসলাম। কিন্তু অবাক কান্ড। বারাসাত আসতেই শরীরের ক্লান্তি অনেকটাই কমে গেল। আর সামান্য কিছুটা রাস্তা অতিক্রম করলেই বাড়ি পৌঁছে যাব। আর সেই আনন্দে সমস্ত ক্লান্তি ডানা মেলে উড়ে গেছে।

এবার বারাসাত থেকে একটানা বাইক চালিয়ে সকাল আটটায় বাড়ি চলে আসলাম।

শরীরে এখন বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই। এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই এখন আমার মূল উদ্দেশ্য।

বিপ্লবদা কে একটা ফোন করলাম। জানতে পারলাম, ওরা সুস্থ আছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শিলিগুড়ি থেকে রওনা হবে।

সবাইকে আমার এই ভ্রমণের গল্প শোনানো সম্পন্ন হল। এবার আমি চললাম ঘুমাতে। খুব তাড়াতাড়ি সব পাঠকদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় বেরিয়ে পড়বো নতুন কোন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। সবাই ভাল থাকবেন।

** আমার সমস্ত ভ্রমণ কাহিনী ভিডিও ফর্মে পেতে "Arindam NBD" ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুন।

** এই ভ্রমণ সিরিজের প্রত্যেকটা পার্ট সহজে পেতে #মেঘালয়ে_কালো_ছায়া বা লিখে সার্চ করুন।

** আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

#মেঘালয়_ভ্রমণ_কাহিনী #মেঘালয়_ভ্রমণ #ভ্রমণকাহিনী

 #মেঘালয়ে_কালো_ছায়া ভ্রমণ কাহিনী (পর্ব - ৮)আরওয়াহ গুহার রোমাঞ্চকর অনুভূতির রেশ কাটাতে বেশ কিছুটা সময় লাগলো। গুহার বাইর...
28/10/2025

#মেঘালয়ে_কালো_ছায়া ভ্রমণ কাহিনী (পর্ব - ৮)
আরওয়াহ গুহার রোমাঞ্চকর অনুভূতির রেশ কাটাতে বেশ কিছুটা সময় লাগলো।

গুহার বাইরের চেয়ারে কতক্ষণ বসে আছি খেয়াল নেই। হুঁশ ফিরল ফোনের আওয়াজে। পার্কিং স্পট থেকে বিপ্লবদা ফোন করেছে। তাড়াতাড়ি ফিরে আসার জন্য বলছে।

বিপ্লবদা বড্ড আন-রোমান্টিক। সারা সময় শুধু বান্ধবীকে নিয়েই ব্যস্ত। প্রকৃতির প্রেম উপভোগই করতে পারছে না। আর এর মধ্যে আমি হয়ে গেছি কাবাবে হাড্ডি। সেই কারণে আমিও ইচ্ছা করে মাঝে মাঝেই একটু আলাদা থাকছি।

ওদের এগিয়ে যেতে বললাম। এবার আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ইকো পার্ক ও সেভেন সিস্টার জলপ্রপাত।

পুনরায় আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় প্রকৃতির মাধুর্য আহরণ করতে করতে ছুটে চলল আমার বাইক। অপরিচিত জায়গায় সর্বদা ঠিক রাস্তায় যাওয়ার জন্য অনলাইন ম্যাপ বিশেষ ভরসা। কিন্তু এখন সেই ভরসায় কিছুটা ছেদ পড়লো। আমাদের সামনের রাস্তায় বীভৎস কাদা। এই কাদায় বাইক চালানো একদমই অসম্ভব।

ভাগ্য ভালো। কাছেই কিছু স্থানীয় মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারলাম, অনলাইন ম্যাপ আমাদের শর্টকাট রাস্তা দেখিয়েছে। মেইন হাইওয়ে দিয়েই ভালো ভাবে যাওয়া যায়। বাধ্য হয়ে পুনরায় ঘুরে গিয়ে মেইন রোডে উঠলাম।

চেরাপুঞ্জির বেশিরভাগ রাস্তাই যথেষ্ট সুন্দর। এমনকি মেঘালয় রাজ্যের কিছু জায়গা ব্যতীত, সর্বত্র রাস্তা যথেষ্ট ভালো।

মাত্র ১৫ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম ইকো পার্কের পার্কিং স্পটে। মেঘালয়ের প্রত্যেকটা দর্শনীয় স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের যথেষ্ট সুন্দর ব্যবস্থা আছে। এবং যথেষ্ট সুরক্ষিত।

আমরা টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করলাম। কিন্তু যথেষ্ট হতাশ হলাম। এই ইকোপার্ক এখনো সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়নি। চতুর্দিকে কাজ চলছে। মাঝে কিছুটা জায়গায় বাচ্চাদের পার্ক আছে। এর বাইরে আর তেমন কিছুই দেখার নেই।

পার্কের শেষ প্রান্তে পাহাড়ের ঢাল নেমে গেছে সোজাসুজি। নীচে বিশাল খাদ। এই ঢাল থেকেই বেশ কয়েকটা জলের ধারা নেমে যাচ্ছে। আর এটাই সেভেন সিস্টার জলপ্রপাত। যদিও ইকো পার্ক থেকে দেখতে তেমন ভালো লাগছে না। সামনে থেকে দেখলে হয়তো ভালো লাগতে পারে।

ইকোপার্কে সময় কাটানোর মতো আর তেমন কিছুই নেই। তাই বেরিয়ে আসলাম। বেলাও অনেকটা হয়ে গেছে। যার কারণে খিদে পেয়ে গেছে। পার্কিং স্পটেই বেশ কিছু হোটেল আছে। সেখান থেকেই দুপুরের খাওয়া সেরে নিলাম। বিপ্লবদারা হোম স্টেতেই কিছু খাবার বানিয়ে খেয়ে নিয়েছিল। যার কারণে ওরা আর কিছু খেলো না।

এবার আমরা সেভেন সিস্টার ওয়াটার ফলসকে সামনে থেকে দেখার উদ্দেশ্য নিয়ে রওনা হলাম। বেশ কিছুটা রাস্তা যাওয়ার পর, একটা টুরিস্ট গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। তারমানে এখান থেকে নিশ্চয়ই কোন ভালো ভিউ পাওয়া যাচ্ছে।

আমরা বাইকগুলো রাস্তার ধারে রেখে ছোট্ট একটা বাগান পেরিয়ে পুনরায় সেভেন সিস্টার ওয়াটার ফলস দেখতে পেলাম। এইবার এই জলপ্রপাতটা সম্পূর্ণ সামনে থেকে দেখা যাচ্ছে। যদিও এর ভিউ পয়েন্ট আছে অনেকটাই নিচে। কিন্তু এখান থেকেই সব থেকে সুন্দর ভাবে দেখা যাচ্ছে।এখান থেকেই আমরা বেশ কিছু ফটো ভিডিও তুলে নিলাম।

টুরিস্ট গাড়িটা বেরিয়ে যেতেই, জায়গাটা সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। যেন একটা আলাদা রকম শান্তি বিরাজ করছে এখানে। এমন জায়গা মেডিটেশনের জন্য সবথেকে উপযুক্ত। মুহূর্তটা চিরস্মরণীয় করে রাখতে আমিও কিছুক্ষণ পাথরের উপর চুপচাপ বসে থাকলাম।

এবার আমাদের ফেরার পালা। ইচ্ছা আছে গুয়াহাটি পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার। সুতরাং আর বেশি সময় নষ্ট করা ঠিক নয়। যাওয়ার পথে লাইটলুম ক্যানিয়ন যাওয়ার ইচ্ছা আছে। বিপ্লবদা প্রথম দিন থেকে এই জায়গাটার কথা বলছে। আর সম্ভব হলে উমিয়াম লেকেও কিছুক্ষণ দাঁড়াবো।

মেঘালয়ের মেঘের খেলা ও পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে ছুটে চলল আমাদের বাইক। কিন্তু এক জায়গায় এসে আমরা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। এখানে রাস্তা দুই দিকে ভাগ হয়ে গেছে। চওড়া মেইন রাস্তা বাঁদিকে চলে গেছে। এবং ডান দিকে ঢুকে গেছে একটি স্থানীয় রাস্তা। অনলাইন ম্যাপ আমাদের এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার জন্য বলছে।

এখান থেকে লাইটলুম ক্যানিয়নের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। কিন্তু সব থেকে চিন্তার বিষয়, বিকাল ৫ টার সময় এই জায়গায় প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। যদি আমরা রাস্তা ভুল করি, এবং পুনরায় ফিরে আসতে হয়, তাহলেই সব গন্ডগোল হয়ে যাবে।

তবে এই রাস্তার নয়নাভিরাম দৃশ্য, এই মেঘালয় ভ্রমণের এক অন্যতম অভিজ্ঞতা। সুন্দর সবুজ ঘাসে ঢাকা পাহাড়, দুদিকের পাইনের জঙ্গল ও অসাধারণ ভূমিরূপ, এক অনন্য পরিচিতি নির্মাণ করতে চাইছে।

এই জায়গার স্থানীয় মানুষ যেখানেই সমতল জায়গা পেয়েছে, সেখানেই কিছু না কিছু ফসল চাষ করেছে। অনেক জায়গাতেই আলু চাষ করতে দেখতে পেলাম। পাহাড়ের কোলে এইরকম ফসলের চাষ, এক অনবদ্ধ দৃষ্টিপট ফুটিয়ে তুলেছে।

কিন্তু পুনরায় সমস্যার সম্মুখীন। হঠাৎ করে মোবাইলের ইন্টারনেট উড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ম্যাপও বিগড়ে গেলো। এবার পড়লাম সমস্যায়। একে তো এই রাস্তায় মানুষজন খুবই কম, তার উপর লাইটলুম ক্যানিয়নের সম্বন্ধে কেউ সঠিক বলতেই পারছে না। বাধ্য হয়ে আমরা সম্পূর্ণ আন্দাজেই চলতে থাকলাম। অবশেষে ভাগ্যক্রমে একটা ট্যুরিস্ট গাড়ি দেখতে পেলাম। তার কাছ থেকেই দিক নির্দেশ পেয়ে পৌঁছে গেলাম বিপ্লবদার বিশেষ আকর্ষণ লাইটলুম ক্যানিয়নে।

পার্কিং চার্জ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম। কিন্তু যতটা আশা নিয়ে এখানে এসেছিলাম, তার বিন্দুমাত্র পূরণ হল না। আমরা যে পাহাড়ে দাঁড়িয়ে আছি, তার উল্টো দিকের পাহাড়ের একটা বিস্তীর্ণ দেওয়াল। এবং পাহাড়ের গা বেয়ে কিছু শিরা নেমে গেছে। এখান থেকে নীচে নামার কোনও উপায় নেই।

এই কারণেই হয়তো এখানে ট্যুরিস্ট এতো কম আসে। কিছুটা সময় কাটিয়ে আমরা রওনা হলাম গুয়াহাটির উদ্দেশ্যে।

শিলং শহরে এই মুহূর্তে অফিস ফেরা মানুষের ভিড়। রাস্তার জ্যাম ঠেলে শিলং থেকে বেরোতেই আমাদের সন্ধ্যে হয়ে গেলো। ভেবেছিলাম আজও উমিয়াম লেকে কিছুটা সময় কাটাবো। কিন্তু অন্ধকারে সেভাবে কিছুই দেখা যাবে না।

সন্ধ্যে হয়ে যাওয়ায় যথেষ্ট ঠাণ্ডা লাগছে। কিন্তু কিছুটা নেমে গেলেই ঠাণ্ডা কেটে যাবে।

শিলং থেকে উমিয়াম লেক আসতে আমাদের খুব বেশি সময় লাগলো না। কিন্তু ঠাণ্ডায় আমাদের অবস্থা খারাপ। এই সময় লেকের ধারে এক কাপ গরম চায়ের মজাই আলাদা।

এতক্ষণ পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু এবার মনটা খারাপ লাগছে। মেঘালয় থেকে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের বেড়িয়ে যেতে হবে। এবারের এই ভ্রমনে প্রচুর বাঁধা বিপত্তি এসেছে। অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু প্রকৃতিকে মন ভরে উপভোগও করেছি। অনেক স্মৃতি রেখে যাচ্ছি মেঘালয়ের পাহাড়ের কোলে। খুব তাড়াতাড়ি আবার ফিরে আসবো।

বাইকে ওঠার আগে একবার পিছন দিকে তাকালাম। সন্ধ্যার অন্ধকারে কালো পাহাড়ের সারি মাথা তুলে আমাদের বিদায় জানালো। আমরাও এবার বাইক ছুটিয়ে দিলাম গুয়াহাটির উদ্দেশ্যে।

গুয়াহাটি পৌছাতে আমাদের রাত দশটা বেজে গেলো। এখনো শরীরে যথেষ্ট কর্মশক্তি রয়েছে। আমার ইচ্ছা ছিল সারারাত বাইক চালিয়ে শিলিগুড়ি চলে যাওয়ার। কিন্তু বিপ্লবদার অনুরোধে গুয়াহাটিতেই হোটেল নিয়ে নিলাম।

এই গুয়াহাটিতেই আমি প্রথম দেখলাম সিঙ্গেল বেডের ঘর। যথেষ্ট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। আর সবথেকে মজার ব্যাপার ঘরের থেকে বাথরুম বড়।

এতো রাতে ডিনারে বিরিয়ানি ছাড়া আর কিছুই পাচ্ছি না। তাই বিরিয়ানি খেয়েই শুয়ে পড়ি। আজ একটু ভালোভাবে ঘুমাতে হবে। কারণ আগামীকাল আমার একটা মজার প্ল্যান আছে। আপাতত শুভরাত্রি।

**আমার সমস্ত ভ্রমণ কাহিনী ভিডিও ফর্মে পেতে "Arindam NBD" ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুন।

**এই ভ্রমণ সিরিজের প্রত্যেকটা পার্ট সহজে পেতে #মেঘালয়ে_কালো_ছায়া বা লিখে সার্চ করুন।

**আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

#মেঘালয়_ভ্রমণ_কাহিনী #মেঘালয়_ভ্রমণ #ভ্রমণকাহিনী

 #মেঘালয়ে_কালো_ছায়া ভ্রমণ কাহিনী (পর্ব - ৭)চেরাপুঞ্জি এমন এক জায়গা, এখানে কোন একটা স্থানে শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে থাকলেই ...
07/10/2025

#মেঘালয়ে_কালো_ছায়া ভ্রমণ কাহিনী (পর্ব - ৭)
চেরাপুঞ্জি এমন এক জায়গা, এখানে কোন একটা স্থানে শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে থাকলেই অকল্পনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মন আপ্লুত হতে বাধ্য। ঘুরে দেখলে তো এক আলাদাই অনুভূতি। ভগবান তার নিপুন হাতের শিল্পকলায় সাজিয়ে তুলেছেন এই চেরাপুঞ্জি।

ভেবেছিলাম আজ একটু বেশি সময় নিদ্রাদেবীর আরাধনা করব। কিন্তু বিহঙ্গের কলতানে সাধনা ভঙ্গ হল।

চোখ ডলতে ডলতে জানলার পর্দা সরাতেই মুহূর্তে নিদ্রাদেবী ব্যাগপত্র গুছিয়ে বিদায় নিলেন। মাথার উপর ঘন নীল আকাশ। আর এই আকাশের রঙে নিজেদের রাঙিয়ে নিতে অসংখ্য ধূসর পর্বত চূড়া মাথা তুলে আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

একটি পাহাড়ের ঢাল থেকে সূর্যি মামা লজ্জিত আননে উঁকি দিচ্ছেন।কারণ গতকাল সন্ধ্যাবেলায় অন্ধকারের মধ্যে, বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি।

আমি ঘরের পিছনের দরজা খুলে বাগানে নেমে আসলাম। সূর্যিমামার আলিঙ্গনে দুহাত তুলে একটাই অনুরোধ করলাম, আজ যেন বৃষ্টি দানবের প্রকোপ থেকে রক্ষা পাই। আমার অনুরোধ শোনা মাত্রই সূর্যি মামা দুর্দণ্ডপ্রতাপ মূর্তিতে আবির্ভূত হলেন।

ছোটবেলা থেকে পাঠ্যপুস্তকে পড়ে এসেছি, সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় চেরাপুঞ্জিতে। গত দুদিন খুব ভালোভাবে তার প্রমাণ পেয়েছি। আজ একটু অন্যথার আশায়।

বিপ্লবদা এখনো ঘুমাচ্ছে। আমি হোমস্টেতে জলখাবারের অর্ডার দিয়ে দিলাম। ওদের বানাতে এক ঘন্টা সময় লাগবে। আমি এই সুযোগে একটু হাঁটতে বেরোলাম। এমন নির্জন নৈসর্গিক প্রকৃতিতে আধুনিকতার ছোঁয়া বেমানান।। কিন্তু প্রয়োজনীয়তা কেও অস্বীকার করা যায় না।

কলকাতার অনেকটা পূর্বে অবস্থান হওয়ায়, এখানে সকাল ও সন্ধ্যা দুটোই তাড়াতাড়ি হয়। সেই কারণে এখানে সময় বিন্যস্ত করা একটু মুশকিল আমাদের জন্য।

সবাইকে ঘুম থেকে তুলে, জলখাবার খেয়ে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়লাম। আজ অনেকগুলো স্পট ঘুরে দেখে গুয়াহাটি ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে।যদি বেশি দেরি হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে শিলংয়ে থেকে যেতে পারি।

হোটেল থেকে বেরিয়ে কিছুটা এগোতেই, একটা বোর্ডে লেখা দেখলাম মাউসেবা ফলস ন্যাচারাল সুইমিংপুল। বাইক রেখে সামান্য একটু পায়ে হেঁটে পাহাড়ের উপরে উঠে দেখতে হবে।

কিন্তু পাহাড়ের উপরে উঠে কিছুটা আশাহত হলাম। ন্যাচারাল সুইমিং পুলের মত কোন কিছুই এখানে নেই। প্রায় দু কিলোমিটার দূরে বয়ে চলেছে একটা ছোট নদী। তাছাড়া দূরদূরান্তে কোন জলের দেখা নেই। কিন্তু পাহাড়ের উপর থেকে চতুর্দিকের ঘাসে ঢাকা সবুজ পাহাড় গুলো দেখতে অসাধারণ লাগছে।

আবার এখান থেকে বাইক নিয়ে এগিয়ে চললাম প্রকৃতিকে অনুভব করতে করতে। যে নদীটা কিছুক্ষণ আগে আমরা দেখেছিলাম, সেই নদীটাই এবার আমাদের সামনে। নদীর উপর নির্মিত আছে একটা লোহার ব্রিজ। আমরা লোহার ব্রিজটার উপর উঠলাম।

এই মুহূর্তে নদীতে বিশেষ জল নেই। যার কারণে পাথরগুলো সর্বাঙ্গে আমাদের সামনে দর্শন দিচ্ছে। পাথর গুলোর গায়ে বড় বড় গোল গোল কলসির মতো গর্ত হয়ে আছে। এগুলো দেখতে যতটা দৃষ্টি নন্দন, বাস্তবে ঠিক ততটাই ভয়ংকর। যখন জল প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়, তখন জলের মধ্যে ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়। এবং দীর্ঘদিন এই ঘূর্ণির আঘাতেই এই গর্তগুলো তৈরি হয়েছে। যখন জল প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়, তখন কোন ব্যক্তি এই গর্তের মধ্যে ঢুকে গেলে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কারণ ঘূর্ণির চাপে এই গর্ত থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়।

এখানে কিছুটা সময় কাটিয়ে আমরা রওনা হলাম নোহকালিকাই জলপ্রপাত দেখার উদ্দেশ্যে। নির্জন পাহাড়ি রাস্তা উপভোগ করতে করতে এগিয়ে চললাম। হঠাৎ একটা বোর্ডে নজর আটকে গেলো। এখান থেকে নোহকালিকাই জলপ্রপাতের উপরে ট্রেকিং করে যাওয়া যায়। একটা রাস্তা ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ে উঠে গেছে।

মনের ইচ্ছা সময়ের বেড়াজালে আটকা পড়ে গেল। ভবিষ্যতের জন্য এই ইচ্ছা বহন করে আমরা আবার এগিয়ে চললাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা পৌঁছে গেলাম নোহকালিকাই জলপ্রপাতের ভিউ পয়েন্টে।

সামনের একটি উঁচু পাহাড় থেকে গভীর খাদে পতিত হচ্ছে বিপুল জলরাশি। এটি ভারতের সবথেকে উঁচু প্লাঞ্জ জলপ্রপাত। এটির উচ্চতা ৩৪০ মিটার।

এই জলপ্রপাতের পাদদেশে বা সন্নিকটে যাওয়ার উপায় নেই ঠিক কথাই, কিন্তু এতো দূর থেকেও এর সৌন্দর্য অতুলনীয় ও অবর্ণনীয়। এই নোহকালিকাই জলপ্রপাত আমার দেখা জলপ্রপাতগুলোর অন্যতম তালিকায় জায়গা করে নিল।

এখান থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত ডবল ডেকার ব্রিজ। এই ব্রিজ মেঘালয়ে আগত পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এই ব্রিজ দেখতে ৩৫০০ সিঁড়ি নীচে নামতে হবে। অর্থাৎ অনেকটাই সময় সাপেক্ষ।

বাধ্য হয়ে ডবল ডেকার ব্রিজ দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে আমরা রওনা হলাম আরওয়াহ গুহার গভীরে হারিয়ে যেতে।

মেইন রাস্তা থেকে আরও প্রায় তিন কিলোমিটার ভিতরে ঢুকতে হবে। কিন্তু রাস্তার অবস্থা খুবই বেহাল। এটাকে রোড না বলে অফরোড বলা চলে। বাইক বিভিন্ন ভঙ্গিমায় নৃত্যরত অবস্থায় চলতে থাকল।

প্রায় ১০ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম পার্কিং স্পটে। কিন্তু এখান থেকে এখনো প্রায় ৫০০ মিটার হেঁটে যেতে হবে। পাহাড়ি রাস্তায় ৫০০ মিটার হাঁটাও কষ্টকর।

কিন্তু এই রাস্তায় খুব একটা কষ্ট হল না। এই রাস্তায় খুব বেশি চড়াই উৎরাই নেই। তাছাড়া বাঁদিকের পাহাড়ের গা ঘেঁষে, পাখিদের কলতান শুনতে শুনতে, দূরের পাহাড়ের সৌন্দর্য ও ঝর্ণা দেখতে দেখতে খুব সুন্দর ভাবে পৌঁছে গেলাম গুহার মুখে।

গুহার ভিতরে প্রবেশ করতেই বুঝতে পারলাম, বাইরে থেকে গুহাটা যতটা ছোট ভেবেছিলাম, তার থেকে অনেকটাই বড়। গুহাটা সরু, কিন্তু দীর্ঘ। গুহার ভিতরে সূর্যালোক একদমই প্রবেশ করে না। এই কারণে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। খুব জোরালো আলো না হলেও, নিরাপদে হাঁটাচলা করার জন্য যথেষ্ট।

গুহার ভিতরের চুনা পাথরের দেওয়াল ও বিভিন্ন ভূমিরূপ সত্যিই চিত্তাকর্ষক। গুহার ভিতরে বাদুর ও মাকড়সার উপস্থিতি এক রোমহর্ষক পরিবেশ সৃষ্টি করছে। কিছু কিছু জায়গায় গুহার সিলিং এতটাই নিচু, অনেকটাই মাথা নিচু করে ঢুকতে হচ্ছে। গুহাটা ভিতরে বহু শাখা প্রশাখায় বিস্তৃত। বেশীরভাগ শাখায় কোনও আলো নেই। ভিতরে চাপ চাপ অন্ধকার।

গুহাটির ভিতরে একটি গুপ্ত জলপ্রপাত আছে। যার জল গুহার দেওয়ালের গা ঘেঁষে কলকল শব্দে বয়ে চলেছে। যেন মনে হচ্ছে, আমরা কোনও গুহা দর্শনে আসি নি, আমরা এসেছি গুপ্তধনের সন্ধানে। আর সত্যিই এই গুহায় গুপ্তধন আছে। সেই গুপ্তধন হল প্রায় ছয় কোটি বছরের পুরনো জীবাশ্ম। এমন স্যাঁতসেঁতে, গুমট, নির্জন গুহায় জীবাশ্ম দর্শন, আমার জীবনের এক সেরা প্রাপ্তি।

গুহার ভিতর বহু বিস্ময় ও স্মৃতি লুকায়িত রেখে বেড়িয়ে আসতে হল। শুধু কথা দিয়ে গেলাম, আবার আসবো।

এই পরিস্থিতিতে মনের ভাব বিক্ষিপ্ত করতে একদমই ইচ্ছা করছে না। গুহার অদূরে কিছু চেয়ার সাজানো আছে। তারই একটায় বসে দূরের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাকলাম সম্মোহিতের মতো।

** আমার সমস্ত ভ্রমণ কাহিনী ভিডিও ফর্মে পেতে "Arindam NBD" ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুন।

** এই ভ্রমণ সিরিজের প্রত্যেকটা পার্ট সহজে পেতে #মেঘালয়ে_কালো_ছায়া বা লিখে সার্চ করুন।

** আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

#মেঘালয়_ভ্রমণ_কাহিনী #মেঘালয়_ভ্রমণ #ভ্রমণকাহিনী #মেঘালয়

 #মেঘালয়ে_কালো_ছায়া ভ্রমণ কাহিনী (পর্ব -৬)সকাল থেকেই আজ ভারত-বাংলাদেশ বর্ডারে আমার ছোটখাটো যুদ্ধ হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি ...
01/10/2025

#মেঘালয়ে_কালো_ছায়া ভ্রমণ কাহিনী (পর্ব -৬)
সকাল থেকেই আজ ভারত-বাংলাদেশ বর্ডারে আমার ছোটখাটো যুদ্ধ হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি সমস্ত ভেজা জামাকাপড় পাল্টে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় পরে নিলাম। সঙ্গে মুখ চোখ ধুয়ে নিয়ে একটু ভদ্রস্থ হলাম। আর বেশি দেরি করা যাবে না। আজ অনেকটা পথ অতিক্রম করে চেরাপুঞ্জি পৌঁছাতেই হবে।

যদিও মাঝে দুটো আকর্ষণীয় স্পট ঘুরে দেখার পরিকল্পনা আছে। একটা হল জীবন্ত ব্রিজ এবং অপরটি হল এশিয়ার সবথেকে পরিচ্ছন্ন গ্রাম।

ডাউকি নদীর উপর নির্মিত ব্রিজ অতিক্রম করলেই আমরা বেরিয়ে যাব ডাউকি গ্রাম থেকে। ব্রিজের উপর থেকে ডাউকি নদী ও সম্মুখের বাংলাদেশ খুব সুন্দর ভাবে দেখা যায়। এখানে দাঁড়িয়ে বেশ কিছুক্ষন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে এগিয়ে চললাম।

কিছুটা এগোতেই রাস্তা দুদিকে ভাগ হয়ে গেল। ডানদিকের রাস্তা চলে গেল শিলং-এর দিকে। আমরা এখন যাব জীবন্ত ব্রিজ দেখতে। সুতরাং আমাদের বাঁদিকে রাস্তা নিতে হবে।

আমরা বাঁদিকে বাংলাদেশকে রেখে এগিয়ে চললাম। এই রাস্তার বাঁদিক ধরেই আন্তর্জাতিক সীমারেখা। অর্থাৎ বলাই যায় আমরা আন্তর্জাতিক সীমারেখার সঙ্গে এগিয়ে চললাম।

এই রাস্তার ডানদিকে রয়েছে মেঘালয়ের পাহাড়ি এলাকা। এবং বাঁদিকে দূর দুরান্ত সমভূমি। বাঁদিকে রয়েছে চাষের জমি এবং ডানদিকে পাহাড়ি বনস্পতি।

এই রাস্তা মেঘালয়ের অদ্বিতীয়। এই অতুলনীয় সৌন্দর্য ও বৈষম্য ভারতের আর অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না। কিছুটা দূরত্ব অন্তর ডানদিকে ছোট বড় বিভিন্ন পাহাড়ি জলপ্রপাতের সমাহার। গতকাল থেকে কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে জলপ্রপাত গুলোতে প্রচুর পরিমাণে জল রয়েছে। যা এক অকল্পনীয় সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে এই রাস্তায়।

হঠাৎ শুনতে পেলাম দূরে মাইকে বাংলা ভাষায় কিছু বলছে। বাঁদিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম দূরে বাংলাদেশের কোনও গ্রামে ফুটবল খেলা হচ্ছে। এবং তারই ধারাভাষ্য বাংলাতে হচ্ছে। এখানে আমরা বাংলায় কথা বলার দুটো মানুষ খুঁজে পাচ্ছি না, আর সামান্য দূর ওই গোটা দেশের মানুষ বাংলায় কথা বলে। মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদ না থাকলে হয়তো কোনদিনই এই সীমারেখা টানার প্রয়োজন হতো না। প্রকৃতির দুনিয়ায় সত্যিকারের স্বাধীন একমাত্র পশু পাখিরাই। মানুষ নিজেকে নিজেরাই পরাধীনতার শিকলে বন্দি করে রেখেছে।

কিছুটা এগোতেই বাঁদিকে লোহার জালি লাগানো। এবং জালির অন্য প্রান্তে সারি সারি সুপারি গাছ ও কাঁঠাল গাছ। প্রত্যেকটা গাছে ভর্তি হয়ে রয়েছে কাঁঠাল ও এঁচোড়। এত সুন্দর কাঁঠালের লোভ ত্যাগ করা এক প্রকার অসম্ভব। কিন্তু অন্য প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা সম্পূর্ণ রকম নিয়ম বিরুদ্ধ। এবার আমরা শুরু করলাম এই প্রান্তে কাঁঠাল গাছের সন্ধান। আজ খালি হাতে চলে গেলে একটা আফসোস থেকে যাবে।

মাঝে মাঝেই বিপ্লব দা ও তার বান্ধবী ছবি ভিডিও তোলার জন্য দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। সেই কারণে আমি কিছুটা এগিয়ে গেলাম কাঁঠাল গাছের সন্ধান করতে।

রাস্তাটা এবার পুনরায় ঘুরে ঘুরে পাহাড়ের উপরে উঠেছে। বেশ কিছুটা উচ্চতায় ওঠার পর অনেকগুলো কাঁঠাল গাছের সন্ধান পেলাম। এগুলো লোহার জালির এই প্রান্তে। সুতরাং এই কাঁঠাল গুলো নেওয়া যেতেই পারে।

আমি বাইক থেকে নেমে দুটো কাঁঠাল পারলাম। এমন সময় শুনতে পেলাম বেশ কিছুটা নিচে ভীষণ চিৎকার চেঁচামেচি হচ্ছে। প্রথমে ভেবেছিলাম স্থানীয় মানুষেরা ঝগড়া করছে। কিন্তু চেঁচামেচির তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে বুঝতে পারলাম অন্য কিছু হয়েছে। কাঁঠাল ফেলে আমি বাইক নিয়ে নিচের দিকে ছুটলাম।

বিপ্লবদা কাঁঠাল গাছের সন্ধান করতে করতে বেখেয়ালে একটা গাড়ির বাম্পারে ধাক্কা মেরে দিয়েছে। বাম্পারে একটা ছোট ক্রাচ হয়েছে, বিশেষ কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু এই সুযোগে গাড়ির ড্রাইভার দশ হাজার টাকা আদায় করার ধান্দায় চিৎকার করছে। আর বিপ্লব দা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া সিঙ্গারার মতো মুখ করে শান্ত গলায় তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সে ব্যাটা নাছোড়বান্দা। কিছু টাকা আদায়ের এটা সুযোগ।

সরু রাস্তা হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতিতে বেশ কিছু গাড়ি আটকে গেছে। সমস্ত লোকাল ড্রাইভাররা এই পরিস্থিতিতে প্রায় একজোট হয়ে গেছে। তারা দশ হাজার টাকা আদায় করেই ছারবে।

এই পরিস্থিতিতে চুপ চাপ থাকলে ওরা আরও ঝামেলা করবে। এই পরিস্থিতিতে আমাকে ময়দানে নামতে হল। আমি স্পষ্ট ভাষায় বললাম, “এই সামান্য ক্ষতির জন্য আমরা দশ হাজার টাকা দেবো না। আপনার কমার্শিয়াল গাড়িতে ইন্সুরেন্স আছে। প্রয়োজনে আপনি আমাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। তাছাড়া আপনাদের সমস্ত ব্যবহার আমাদের ক্যামেরায় রেকর্ড হচ্ছে। আমরা আইনের পথে চলতে রাজি আছি।”

মুহূর্তের মধ্যে অন্যান্য ড্রাইভাররা সুর নরম করে নিজের নিজের গাড়িতে পালিয়ে গেল। এবার ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির ড্রাইভার আমাকে বলল, “তাহলে আমার গাড়ির ক্ষতির কি হবে?”

আমি বললাম, “ইন্সুরেন্স ক্লেম করে নিন। আর তা না হলে লোকাল গ্যারাজে ঠিক করে নিন। ঠিক করতে খুব বেশি হলে দু’হাজার টাকা লাগবে। আমরা আপনাকে ইন্সুরেন্স ক্লেম করার জন্য এক হাজার টাকা দিতে রাজি আছি।”

অগত্যা সেই বাক্তি এক হাজার টাকা নিয়ে, হিন্দিতে কয়েকটা সাধুভাষা প্রয়োগ করে প্রস্থান করলো।

এই ঘটনায় বিপ্লবদার দোষ একশো শতাংশ। কিন্তু ওই ড্রাইভারের মতলব খারাপ ছিল।সেই কারণেই আমি একটু রুঢ় ব্যবহার করতে বাধ্য হলাম।

আমি জানি, নিজের শরীরের আঘাতের থেকেও, গাড়িতে আঘাত বেশি কষ্টের। রাস্তায় বেরোলে আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হতে হবে। সর্বদা চেষ্টা করতে হবে আমাদের জন্য যেন অন্য কোন মানুষের ক্ষতি না হয়।

এই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়ে, এবার বিপ্লবদার মুখ ঠান্ডা সিঙ্গারা থেকে নিমকিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এবার বিপ্লবদাকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় সেই কাঁঠাল গাছের কাছে হাজির হলাম। মিষ্টি কাঁঠালের স্বাদে মন ভরিয়া আমরা আবার যাত্রা শুরু করলাম।

পুনরায় আকাশ কালো হয়ে আসছে। বৃষ্টির শুরু হলে বেড়ানোর আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে। সেই কারণে জোরে বাইক ছুটালাম।

দুপুর ছাড়িয়ে সময় বিকালে পা দিয়েছে। অনেকটা পথ অতিক্রম করে অবশেষে জীবন্ত ব্রিজের কাছে এসে পৌঁছালাম। এখানে পার্কিং স্পটে গাড়ি রেখে কিছুটা পায়ে হেঁটে যেতে হবে।

খুব চড়াই উতরাই পথ না হলেও, বেশ কিছুটা পাহাড়ি রাস্তা অতিক্রম করে অবশেষে পৌঁছে গেলাম জীবন্ত ব্রিজ বা মেঘালয়ের জনপ্রিয় লিভিং রুট ব্রিজের সামনে।

এই ব্রিজের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অকল্পনীয় ও বিস্ময়কর। নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে জলপ্রপাত থেকে পতিত জলের ধারা। এবং এই জলের কলকল ধনী পরিবেশকে মায়াময়ী করে তুলেছে।

উপরে অবস্থান করছে একটি ব্রিজ। এই ব্রিজটিকে দুদিক থেকে নিবিড় আলিঙ্গন বদ্ধ করে আছে বেশ কিছু গাছের ঝুরি ও মূল। এই ব্রিজের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব নির্ভর করছে গাছগুলির ঝুরির উপর। দেখে মনে হচ্ছে, কোন অসীম শক্তি নিপুন হাতে গাছের ঝুরির বিনুনি বানিয়ে এই ব্রীজটি নির্মাণ করেছে। যা সত্যিই বিস্ময়কর। এই ব্রিজ বহু শত বছরের সাক্ষ্য বহন করছে।

বেশ কিছুটা সময় কাটিয়া পুনরায় পার্কিং স্পটে ফিরে আসলাম। আজও সারাদিন কিছু খাওয়া হয়নি। রাস্তাতেও সেই রকম খাবারের হোটেল বা দোকান ছিল না। এখন বড্ড খিদে পেয়েছে। এই পার্কিং স্পটে খাবারের হোটেল আছে ঠিক কথাই, কিন্তু এখন আর দুপুরের ভারী খাবার খেতে ইচ্ছা করছে না। এক প্যাকেট ছোলা ভাজা ও ঠান্ডা জল খেয়ে শরীরকে ঠান্ডা করলাম। অন্যান্য জায়গার তুলনায় এখানে দাম অনেকটাই বেশি।

এবার আমাদের পরবর্তী গন্তব্য এশিয়ার সবথেকে পরিচ্ছন্ন গ্রাম অর্থাৎ ক্লিনেস্ট ভিলেজ। জীবন্ত ব্রীজের থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত। অন্ধকার হওয়ার আগেই ঘুরে নিতে হবে।

এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে হাল্কা ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি। আমরা আর সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি রওনা হলাম। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম ভিলেজের পার্কিং স্পটে। এখানে গাড়ি ও বাইক পার্ক করে ভিলেজে প্রবেশ করতে হবে।

জনপ্রতি পঞ্চাশ টাকা ডেভেলপমেন্ট চার্জ দিয়ে আমরা প্রবেশ করলাম ভিলেজে। কিন্তু এখানে প্রথমেই অনেকটা আশাহত হলাম। যেমন শোনা যায়, বাস্তবে অনেক সময় তেমন কিছুই হয় না। এই ভিলেজ যথেষ্ট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ঠিক কথাই, কিন্তু এখানে মেঘালয়ের সাধারণ মানুষের বসবাস খুবই কম। এখানে বেশিরভাগ জায়গা জুড়েই রয়েছে বিভিন্ন হোমস্টে। আর বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট। সাধারণ গ্রাম্য সংস্কৃতি এখানে কিছুই নেই। এখানে নেই কোন গৃহপালিত পশু পাখি। আমার দেখে মনে হল, সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নিয়ে বানানো হয়েছে এই গ্রাম। এবং এই কারণেই এই গ্রামকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছে।

এখনো দিনের আলো আছে ঠিক কথাই, কিন্তু সূর্যি মামা আমাদের অনুমতি না নিয়েই এর মধ্যে বিদায় নিয়েছেন। সুতরাং আলো থাকতে থাকতে যতটা দূরত্ব সম্ভব এগিয়ে যেতে হবে। চেরাপুঞ্জি এখান থেকে আশি কিলোমিটার দূরে। রাস্তা ভালো থাকলেও দু'ঘণ্টার উপর সময় লাগবে।

কিন্তু এখানে কোনরকম মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। যার কারণে ইন্টারনেট অন হচ্ছে না। আর অফলাইন ম্যাপ ও এখানে ঠিক ভাবে কাজ করছে না। অর্থাৎ মানুষকে জিজ্ঞাসা করতে করতে যেতে হবে। কিন্তু এখানকার মানুষ বাংলা, হিন্দি বোঝেনা। একমাত্র ইংরেজি কিছুটা বোঝে।

আমাদের বাইক ছুটে চলেছে নির্জন পাহাড়ি রাস্তায়। এই রাস্তায় অন্য কোন গাড়ি নেই। এমনকি দূরদূরান্ত কোন গ্রাম বা মানুষ নেই। কোন কিছু জিজ্ঞাসা করার উপায় নেই। ভগবানের নাম নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি।

প্রায় ৩০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর মানুষের দেখা পেলাম। এবার এই রাস্তায় কিছু গাড়িও দেখতে পেলাম। কিন্তু শুরু হল খারাপ রাস্তা। এবং অন্ধকারও যথেষ্ট হয়ে গেছে।

এই রাস্তা সোজা শিলং-এর দিকে চলে গেছে। আমরা লাইতলিংকোট নামক একটি বাজার থেকে বাঁদিকে বেঁকে গেলাম। চেরাপুঞ্জি যেতে এখনো এক ঘন্টা সময় লাগবে।

এখানে যথেষ্ট ঠান্ডা রয়েছে। বাইক চালানোর কারণে গায়ে যথেষ্ট হওয়া লাগছে। তাড়াতাড়ি চেরাপুঞ্জি পৌঁছানোর জন্য বাইকের গতি একটু বাড়িয়ে দিলাম। কিন্তু এখানেই বড় বিপত্তি হতে হতে অল্পের জন্য বেঁচে গেলাম।

রাস্তা যথেষ্ট অন্ধকার। রাস্তা ঢালু থাকায় বাইকের স্পিডও যথেষ্ট বেড়ে গিয়েছিল। এই রাস্তার পাশেই ছিল কিছু বাড়ি। সেখান থেকে এক ব্যক্তি হঠাৎ লাঠি নিয়ে একটা কালো কুকুরকে তাড়া করে। কোন কিছু বোঝার আগেই কুকুরটা তড়িৎ বেগে আমার বাইকের সামনে চলে আসে। এই পরিস্থিতিতে আমি জোরে ব্রেক করি। তা সত্ত্বেও কুকুরটার সঙ্গে বাইকের ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। এবং বাইক প্রথমে বাঁদিকে কাত হয়ে এবং পরে ডানদিকে কাত হয়ে রাস্তার ধারে ভাগ্যক্রমে দাঁড়িয়ে যায়।

অনেক বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাই। এইভাবে অবিবেচকের মত পশুপাখিদের রাস্তার দিকে তাড়া করতে নেই। ভাগ্য ভালো কুকুরটাও বড় কোন আঘাত পায়নি।

জীবন প্রতিমুহূর্তে আমাদের শিক্ষা দেয়। এটাও আমার জীবনে একটা বড় শিক্ষা।

এরপর বাইকের গতি কমিয়ে, আরও ৩০ মিনিট পথ অতিক্রম করে, অবশেষে পৌঁছলাম চেরাপুঞ্জি। আজ একটু ভালোভাবে ঘুমিয়ে নিতে হবে। বড্ড ক্লান্ত লাগছে। সঙ্গে পেয়েছে বড্ড খিদে। আজ অনেকটা খাবার খাব। তাই খাওয়ার গল্প বাদ দিলাম। আপনাদের সঙ্গে আবার দেখা হচ্ছে আগামীকাল।

** আমার সমস্ত ভ্রমণ কাহিনী ভিডিও ফর্মে পেতে "Arindam NBD" ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুন।

** এই ভ্রমণ সিরিজের প্রত্যেকটা পার্ট সহজে পেতে #মেঘালয়ে_কালো_ছায়া বা লিখে সার্চ করুন।

** আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

#মেঘালয়_ভ্রমণ #ভ্রমণকাহিনী #মেঘালয় #মেঘালয়_ভ্রমণ_কাহিনী

 #মেঘালয়ে_কালো_ছায়া ভ্রমণ কাহিনী (পর্ব - ৫)সকাল ছ'টায় মোবাইলের এলার্মে ঘুম ভাঙলো। কিন্তু এ কি!বাইরে মেঘের বিভৎস তর্জন...
22/09/2025

#মেঘালয়ে_কালো_ছায়া ভ্রমণ কাহিনী (পর্ব - ৫)
সকাল ছ'টায় মোবাইলের এলার্মে ঘুম ভাঙলো। কিন্তু এ কি!

বাইরে মেঘের বিভৎস তর্জন গর্জন চলছে। মুহূর্তে ঘুমের ঘোর কেটে গেল। আজ অনেকগুলো জায়গায় যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা আছে। তাছাড়া আজ অনেকটা পথ অতিক্রম করে চেরাপুঞ্জি যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। আজও বেরোতে দেরি হয়ে গেলে গতকালের মত সমস্যায় পড়তে হবে।

ব্যালকনির দরজা খুলে বেরোতেই স্নিগ্ধ হাওয়া ও বিন্দু বিন্দু জলকণার ঝাপটা, এ এক মায়াবী সকালের আবাহন। মেঘের আলয়ে মেঘের দামাল শাবকেরা আজ উন্মত্ত খেলায় মত্ত। পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় কালো মেঘের লুকোচুরি খেলা, এক নৈসর্গিক দৃশ্যপট সাজিয়ে তুলেছে।

এই সুন্দর দৃশ্য সত্যিই উপভোগ করার মত। এই পরিস্থিতিতে বাইক নিয়ে বেরোনো এক প্রকার অসম্ভব। অযথা মনকে অস্থির না করে, এই পরিবেশ উপভোগ করাই শ্রেয়। এক কাপ চা নিয়ে ব্যালকনির চেয়ারে বসে পড়লাম।

সাহিত্য চর্চার এ এক উত্তম পরিবেশ। মেঘালয়ের পেক্ষাপটে রহস্য গল্প খুব ভালো মানাবে। সামনের বৃষ্টি ভেজা ঘন সবুজ পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে বিভিন্ন রকমের সৃজনশীল চিন্তা ভাবনা মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো। মূল্যবান বিষয়গুলো ডায়েরিতে নোট করে নিলাম। খুব তাড়াতাড়ি নিয়ে আসব এই রহস্য গল্প।

দেখতে দেখতে দু'ঘণ্টা কেটে গেল। বৃষ্টি থামার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আর বেশি দেরি করাও ঠিক হবে না। এই অবস্থাতেই বেরোনো ছাড়া উপায় নেই।

বিপ্লব দা আর ওর বান্ধবী এখনো অকাতরে ঘুমাচ্ছে। এবার ওদের ঘুম ভাঙাতে বাধ্য হলাম। আমাদের প্রস্তুত হয়ে বেরোতে প্রায় দশটা বেজে গেলো।

মাত্র তিন কিলোমিটার দূরেই আছে ভারত বাংলাদেশ সীমানা। হোটেলের ঘরেই ব্যাগ পত্র রেখে রেইনকোট পরে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ি রাস্তায় বাইক রাইডের একটা সুন্দর অনুভূতি আছে। নেতিবাচক দিকগুলো মাথা থেকে মুছে ফেলতে পারলেই, সব সময় সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করা যায়।

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা পেরিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা পৌঁছে গেলাম সীমানায়। চোখের সামনে বাংলাদেশে প্রবেশের গেট। যার উপর বড় বড় অক্ষরে লেখা আছে "Welcome to Bangladesh". কিন্তু ওয়েলকাম লেখা থাকলেও অন্য দেশের ভূখণ্ডে সহজে প্রবেশ করা যায় না।

মাত্র ১০ ফুট দূর থেকেই প্রতিবেশী দেশ ও প্রতিবেশী দেশের মানুষদের দেখলাম। মেঘালয়ের মানুষ বাংলায় কথা না বললেও, সীমানার ও প্রান্তের মানুষগুলো আমাদের মতই বাংলায় কথা বলে। এ এক অন্যরকম আবেগ।

বৃষ্টি পড়ছে ঠিক কথাই। কিন্তু এই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী না করলে অনেক স্মৃতি ভবিষ্যতে হারিয়ে যাবে। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেই বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও তুলে নিলাম।

বৃষ্টি কমার এখনো পর্যন্ত কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পুনরায় আমরা হোটেলে ফিরে আসলাম। সময় ধীরে ধীরে অতিক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। আর দেরি করা ঠিক হবে না। এবার আমাদের রওনা হতে হবে।

বাধ্য হয়ে ব্যাগ পত্র প্লাস্টিকে মুড়ে বাইকে বেঁধে ফেললাম। গায়ে রেইনকোট পরাই আছে। যা হবার হবে, এবার বেরিয়ে পড়া যাক।

এবার আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ডাউকি নদী। এই নদীর জল এতটাই স্বচ্ছ থাকে, জলের উপর নৌকায় যেতে যেতেও নিচের পাথর স্পষ্ট দেখা যায়। ভারতের সবথেকে স্বচ্ছ নদী এটা। মেঘালয়ের টুরিস্ট ডেস্টিনেশন গুলোর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণীয় এই নদী।

কিন্তু সমস্যা বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে মোবাইল বার করতে পারছি না। আর সেই কারণে ম্যাপ দেখতে পাচ্ছি না।হোটেলের একজন স্টাফের কাছ থেকে রাস্তাটা বুঝে নিয়ে শুরু করলাম আমাদের যাত্রা। আমাদের হোটেল থেকে এই নদীর দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আমরা পৌঁছে গেলাম।

এই নদীর স্থানীয় নাম ‘ওয়াহ উমঙ্গোট’। খাসি ভাষায় 'ওয়াহ' কথার অর্থ নদী। সেই কারণে এই নদীকে উমঙ্গোট নদীও বলা হয়।

পার্কিং স্পটে গাড়ি রেখে সামান্য কিছুটা রাস্তা হেঁটে যেতে হবে। একটা সুন্দর সুপারি বাগানের মধ্যে দিয়ে কিছুটা রাস্তা হেঁটে পৌঁছে গেলাম নদীর কাছে। যদিও নদীটা নিচে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, আর আমরা রয়েছি উপরে। উপর থেকে দৃশ্যটা অসাধারণ। নদীর দুই কুলে রং-বেরঙের সরু সরু নৌকা ভর্তি। এমনকি পাহাড়ের ঢালেও বেশ কিছু নৌকা সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। সামান্য একটু দূরে কিছু ছাউনি দেওয়া নৌকা রয়েছে। ওই নৌকাগুলো যন্ত্র চালিত।

এই মুহূর্তে বৃষ্টি প্রায় ছেড়ে গেছে। সামান্য এক ফোঁটা - দু ফোঁটা পড়ছে মাত্র। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম রঙিন হাতে টানা নৌকায় ঘুরতে যাব। আজ বৃষ্টি পড়ায় নদীতে টুরিস্টদের ভিড় নেই বললেই চলে।

কিন্তু টিকিট কাউন্টারের কাছে এসে যথেষ্ট হতাশ হলাম। এখানে এসে জানতে পারলাম, গতকাল রাত থেকে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে নদীর জল অস্বচ্ছ হয়ে গেছে।

বৃষ্টির জল সব জায়গা থেকে বয়ে এসে নদীতে মেশে। এর ফলে প্রচুর নোংরা ও মাটি নদীতে চলে আসে এবং জল অস্বচ্ছ হয়ে যায়।

নদীর জল যতই অস্বচ্ছ থাক, এখানে এসে নদীতে ঘুরতে যাব না, সেটা ভাবাই যায় না। আমরা টিকিট কেটে নিলাম। প্রতি নৌকায় তিনজন চাপতে পারবে। এই নদীতে ৪৫ মিনিট ঘোরাবে ৮০০ টাকার বিনিময়ে।

আমরা তিন জন থাকায় কোনও অসুবিধা হল না। আমরা নৌকা ভাসিয়ে দিলাম নদী বক্ষে। আজ নদীর জল অসচ্ছ রয়েছে ঠিক কথাই, কিন্তু এই জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অকল্পনীয়। নদীর দু'পাশে সুউচ্চ পাথরের দেওয়াল। যেন মনে হচ্ছে, কেউ নিপুন হাতে এই দেওয়াল নির্মাণ করেছে। অতুলনীয় বিস্ময়কর রূপ এই জায়গার। হয়তো এই নদী বহন করছে হাজার হাজার বছরের স্মৃতি।

উপর দিয়ে বানানো হয়েছে একটা সুন্দর ব্রিজ। গতরাতে আমরা এই ব্রিজ অতিক্রম করেছিলাম। সেই সময় নদীর জলের আওয়াজও পেয়েছিলাম। কিন্তু তখন বুঝতে পারিনি আমরা এই নদী অতিক্রম করছি।

আমরা স্রোতের প্রতিকূলে বেশ কিছুটা নদী পথ অতিক্রম করে একটা ছোট ঝর্ণার কাছে থেমে গেলাম। সামান্য কিছুটা উপর থেকে জলস্রোত নিচে নামছে। এখানে নৌকা থেকে নেমে ছোট ছোট পাথরের উপর ঘুরে বেড়ানোর একটা আলাদা আনন্দ আছে। এই জায়গায় ছোট বড় গোল গোল পাথর যেন কেউ বিছিয়ে রেখেছে। সাদা, সবুজ, বাদামি রঙের পাথরের সমাহার। আমি এখান থেকে পছন্দ মত দুটো পাথর সংগ্রহ করলাম। এই পাথর দুটো সারা জীবনের স্মৃতি হয়ে আমার কাছে থেকে যাবে।

এখানে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে আমরা ফিরে চললাম। এখন বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় অনেক মানুষেরই সমাগম হয়েছে। এখন অনেক নৌকা ভেসে চলেছে নদী বক্ষে। নদী পাড়ে এসে জানতে ইচ্ছা করলো ছাউনি দেওয়া নৌকা গুলোর সম্বন্ধে। ওই নৌকাগুলো সব উল্টো পথে যাচ্ছে। মাঝির কাছে জানতে পারলাম ওগুলো বাংলাদেশের নৌকা। ওই নৌকায় যারা ভ্রমণ করছে তারা বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশের নৌকার ভারতের জলভূমিতে আসার অনুমতি নেই।

আমি ভাবতেও পারিনি এমনও আন্তর্জাতিক সীমানা হতে পারে। এখানে নেই কোন রকম কাঁটাতারের বেড়া, না আছে কোন বড় দেওয়াল। শুধুমাত্র বাঁশের খুঁটিতে লম্বা ভাবে বাঁধা রয়েছে একটা সরু নারকেলের দড়ি। আর এটাই নির্দেশ করছে দুই দেশের সীমানা।

মনুষ্য সভ্যতার এটাই হয়তো সব থেকে বড় অভিশাপ। আমরা সবাই নিজেদের আলাদা আলাদা করে নিয়েছি। কোনো এক সময় আমরা সবাই এক সঙ্গে ছিলাম। আর এখন চাইলেও একসঙ্গে হওয়া যাবে না।

এখন বৃষ্টি সম্পূর্ণ রকম বন্ধ হয়ে গেছে। সুপারি বাগানে ছোট ছোট খাবারের দোকান খুলেছে। এখানেই ডিম টোস্ট ও চা সহযোগে জলখাবার সেরে নিলাম।

আজ আমাদের অনেকটা পথ অতিক্রম করতে হবে। সে গল্প না হয় পরের পর্বে করবো। এখন আপাতত ভেজা জামা কাপড় গুলো পাল্টে নিই।

তাহলে সঙ্গে থাকছেন নিশ্চয়ই পরের পর্বে আমার সঙ্গে 🙂🙂

** আমার সমস্ত ভ্রমণ কাহিনী ভিডিও ফর্মে পেতে "Arindam NBD" ইউটিউব চ্যানেল ভিজিট করুন।

** এই ভ্রমণ সিরিজের প্রত্যেকটা পার্ট সহজে পেতে #মেঘালয়ে_কালো_ছায়া বা লিখে সার্চ করুন।

** আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

#ভ্রমণকাহিনী #মেঘালয়_ভ্রমণ #মেঘালয়

Address

Garia
Kolkata
700084

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Arindam NBD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share