26/04/2025
কাঞ্চনজংঘা অভিযান
আজকের গন্তব্য পেশক। পুরো ট্রিপ টাই যেহেতু বার্থডে গিফট হিসেবে ছিল, টাই কোনো গন্তব্য সম্পর্কেই আমার কোনো ধারণা ছিল না। এটুকু জানতাম ওখানে আছে আর একটা চমক। কোলাখাম থেকে একটু তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পরে, লাভা র সিনারি দেখতে দেখতে পৌঁছলাম তিস্তা বাজার। সে তিস্তার এক ধংস্বাত্বক রূপ। কয়েক মাস আগের এক ভয়াল বন্যায় পারের ঘর বাড়ি গুলো সব ভেঙে চুরমার। আমরা ডান দিক দিয়ে অসম্ভব চড়াই রাস্তা দিয়ে ওপরে উঠে দাঁড়ালাম sunset পয়েন্ট এ। তখন আবার দেখলাম নদীর অন্য এক রূপ। গোধূলি লগ্নে মেয়ে আমার ভারী শান্ত।
বেশিক্ষন দাঁড়ালে চলবে না, সূয্যি মামা ডোবার আগেই আমাদের পৌঁছতে হবে home stay তে। তাই আবার চললাম খাড়াই পাহাড়ের আঁকা বাঁকা রাস্তা দিয়ে চা বাগানের দিকে।
আকাশের সূর্য তখন জাস্ট ডুবেছে, আমার রাইডার মশাই যেখানে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করলেন, তার দূর দূরান্তে কিচ্ছু নেই শুধু চা বাগান ছাড়া। চারিদিকে চা বাগান অর মাঝে 4 টা তাঁবু। আমি তো দেখে নাচতে শুরু করে দিলাম। সেদিন ওখানেই camp -fire করে, আড্ডা, ডিনার করে চললাম তাঁবু তে ঘুমোতে।
শরীর অসম্ভব ক্লান্ত , কিন্তু super excited। একে তো প্রথম বার তাঁবু তে থাকা , তার ওপর এরকম লোকেশন, ঘুম আসতেই চাইছিলো না।
ভোর 4 টের সময় তাঁবুর চেন টা খুলে জাস্ট মুন্ডু টা বাড়িয়েছি। পাহাড়ে Blue Hour দেখার মজাই আলাদা । ডিসেম্বর এর কনকনে ঠান্ডায় দুই মক্কেল ই কম্বল মুড়ি দিয়ে বসে আছি, পাহাড় প্রেমী দের প্রথম ভালোবাসা কাঞ্চনজঙ্ঘা র দিকে তাকিয়ে। ভোরের প্রথম আলো "Sleeping Buddha" এর বরফে মোড়া চূড়ার ওপর পড়তেই, সোনার মতো ঝলমলিয়ে উঠলো আমাদের প্রিয় কাঞ্চনজঙ্ঘা।
রবি ঠাকুর এর ভাষায়,
"স্বর্ণময় কাঞ্চনজঙ্ঘা, সকালে রঙিন আগুন,
প্রভাতের আলোয় দিগন্ত জ্বলে, জাগে উজ্জ্বল সম্ভ্রম।"
আমি তো কম্বল ফেলে তাঁবুর বাইরে দুহাত মেলে দাঁড়িয়ে পড়লাম, ঠিক শাহরুখ খান এর মত।
"পাহাড়, তোমার এই অপূর্ব সৌন্দর্যের প্রেমে পরেই তো ছুটে আসি বার বার। "
এতটা রাইড করে এসে চোখ দুটো যেন স্বার্থক হয়ে গেলো। কিন্তু একটু পরেই মেঘ করে আসায় এই অপরূপ দৃশ্য টা দীর্ঘস্থায়ী হলো না।
ভেবেছিলাম এই মায়াবী দৃশ্যের রেশ নিয়েই সোজা বাড়ি ফিরবো, কিন্তু ........