01/03/2026
🔴পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার সিঙ্গারকোণ গ্রামে অবস্থিত রাধাকান্ত মন্দির এই অঞ্চলের এক অন্যতম ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য নিদর্শন। এই মন্দিরটি মূলত তার পোড়ামাটির (Terracotta) কারুকার্যের জন্য পরিচিত।
নিচে এই মন্দিরের ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিষ্ঠা
* প্রতিষ্ঠাতা: মন্দিরটি বর্ধমানের মহারাজা তিলকচাঁদ বাহাদুরের আমলে (১৭৪৪-১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ) নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে স্থানীয় মতে, রাজপরিবারের কোনো ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বা স্থানীয় জমিদার এটি নির্মাণ করেন।
* সময়কাল: এটি মূলত ১৮শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নির্মিত। তৎকালীন সময়ে কালনা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ছিল বৈষ্ণব সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
* দেবতা: মন্দিরের প্রধান আরাধ্য দেবতা হলেন শ্রীরাধাকান্ত (কৃষ্ণ)।
২. স্থাপত্য শৈলী
সিঙ্গারকোনের রাধাকান্ত মন্দিরটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী 'আটচালা' রীতিতে তৈরি।
* গঠন: উঁচু বেদীর ওপর নির্মিত এই মন্দিরে দুটি থাক বা স্তরে মোট আটটি চাল (ছাদ) রয়েছে। এটি বাংলার নিজস্ব মন্দির স্থাপত্যের একটি ধ্রুপদী উদাহরণ।
* পোড়ামাটির কাজ: মন্দিরের সম্মুখভাগ সূক্ষ্ম টেরাকোটার কাজ দিয়ে সজ্জিত। এই ফলকগুলোতে রামায়ণ, মহাভারত, কৃষ্ণের বাল্যলীলা এবং তৎকালীন সামাজিক জীবনের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৩. বর্তমান অবস্থা ও গুরুত্ব
* অবস্থান: কালনা শহর থেকে প্রায় ৭-৮ কিমি দূরে সিঙ্গারকোণ গ্রামে এটি অবস্থিত।
* উত্সব: জন্মাষ্টমী, ঝুলনযাত্রা এবং রাসপূর্ণিমার সময় এখানে ধুমধাম করে উৎসব পালিত হয়। এই সময়ে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা সমবেত হন।
* বিশেষ আকর্ষণ এখানকার দোল উৎসব
* সংরক্ষণ: মন্দিরটি বর্তমানে রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং বেশ কিছু সংস্কারের কাজও করা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য তথ্য
আপনি যদি মন্দিরটি পরিদর্শনে যেতে চান, তবে কালনা স্টেশন থেকে টোটো বা অটো বা বাসে করে সহজেই সিঙ্গারকোণ পৌঁছাতে পারবেন। মন্দিরের শান্ত পরিবেশ এবং প্রাচীন স্থাপত্যের কারুকাজ আপনাকে মুগ্ধ করবে।
তথ্য : গুগল থেকে সংগ্রহীত