12/06/2026
গরলগাছা জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো ২০২৫
২৫৭ বছরের এক ঐতিহ্য এবং অভিজাত্য'র নাম। হুগলী জেলার চণ্ডীতলা থানার গরলগাছা গ্রাম শুধু একটি জনপদ নয়, এটি বাংলার বনেদি দুর্গাপুজোর ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আঠারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধে পণ্ডিত সন্তোষ মোহন বিদ্যাবাগীশ মুর্শিদাবাদের নবাবের কাছ থেকে গরলগাছার বিস্তীর্ণ জমি উপহারস্বরূপ লাভ করেন। তাঁর দুই পুত্র গোকুলচন্দ্র ও রাধানাথ মুখোপাধ্যায়ই এই বাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। সেই থেকে আজ প্রায় ২৫৭ বছর ধরে [এই বছর ২০২৬ সালে এই পুজো ২৫৭ বছরে পড়বে], মুখোপাধ্যায় পরিবারের প্রজন্মেরা এই ঐতিহ্য বহন করে আসছেন। পুজোর বিশেষত্ব হল এখানে শাক্তাচার মেনে পূজা হয়। প্রতিদিন অন্নভোগ ও খিচুড়ি নিবেদন, মহাষ্টমীর ধুনো পোড়ানো, এবং প্রাচীন একচালা প্রতিমা। তবে এখানে কুমারী পূজার প্রচলন নেই। প্রতিবার জন্মাষ্টমীর দিনে কাঠামো পূজা দিয়ে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরাই এখনো নিষ্ঠাভরে সেই রীতিনীতি মেনে চলেছেন। এই জমিদার পরিবারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার আধ্যাত্মিক পরম্পরাও। লোককথায় আছে যে স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এবং কবিরঞ্জন সাধক রামপ্রসাদ সেন এই বাড়ির সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন। রাধানাথ মুখোপাধ্যায়ের উত্তরসূরিরা জমিদারি প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশদের কাছ থেকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান, আর তখন থেকেই এই বাড়ি পরিচিত হয় “বাবুদের বাড়ি” নামে। আজও মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া-দশমী পর্যন্ত গরলগাছার এই ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরদালানে দুর্গোৎসব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় মানুষ তো বটেই, কলকাতা থেকেও অসংখ্য দর্শনার্থী আসেন এই বনেদি-বাড়ির পুজো দেখতে। পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের আন্তরিক আতিথেয়তা আর বাড়ির স্থাপত্যিক গরিমা মিলিয়ে গরলগাছা জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো আজও বহন করে নিয়ে চলেছে বাংলার সংস্কৃতির এক গর্বিত চর্চার অধ্যায়।
Picture credit - Souvik Bhowmik
#পুজোচর্চা