03/12/2024
একজন প্রফেশনাল মাসে ৩০ দিন কাজ করবে না। মাসের প্রতিদিন কাজ করলে তাকে খ্যাপ বলা যেতে পারে, যার ভেতর থেকে আর্ট বা শিল্পমান হারায়…
ফটোগ্রাফি একটা আর্ট এবং যিনি ফটোগ্রাফি করেন তিনি একজন আর্টিষ্ট। যদি তিনি মাসে ৩০ দিন কাজ করেন তবে নিশ্চয় তার কাজের মান অক্ষুন্ন থাকবেনা। তিনি বিষাদে ভুগবেন। সৃস্টিমান একই রকম হতে শুরু করবে। তিনি টাকার বিনিময়ে ছবি তুলছেন রোজ রোজ আর এটাকেই দেশীয় ভাষায় খ্যাপ বলে…
কেউ কেউ দিনে ৫/৭ টা ইভেন্ট করেন যা রীতিমত অবাস্তব কল্পনা। দূর থেকে দেখে বিরাট কিছু মনে হলেও আসলে ভেতরটা ফাঁকা। কারণটা হচ্ছে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় ইভেন্টে পূর্ণ এনার্জির প্রয়োগ সম্ভব হলেও তৃতীয়, চতুর্থ ও পরবর্তি ইভেন্ট নিশ্চয় তা হারাতে হারাতে শূণ্যের কোঠায় নামবে। যা রীতিমত ক্লাইন্ট ঠকানোর মাধ্যম মাত্র। ক্লাইন্ট অনেক সময় সস্তায় পাবার আশাতে ফটোগ্রাফারকে বলেন- জানি আপনি ওমক দিন বুক হয়েছেন তবু আমার টা করে দিতেই হবে। ফটোগ্রাফার রাজি হয়ে যেতে পারেন কিংবা ক্লাইন্ট ভাবতে পারেন কমে পেয়ে গেলেন কিন্তু আসলে আর্টের সাথে এই বিষয়গুলো যায়না। সৃষ্টি করতে সুন্দর পরিবেশ আবশ্যক। টাকার কাছে বিক্রি হলে আর যা হোক সৃষ্টি হবেনা।
একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার কিংবা সিনেমেটোগ্রাফারের মাসের ৩০ দিন কাজ করার প্রয়োজন নেই। অনেকটা তার নিজের জন্য আর কিছুটা ক্লাইন্ট ও দর্শকদের জন্য। নিজের জন্য কারণ ৩০ দিন ছবি ভিডিও করতে থাকলে সৃষ্টি তার মান হারাবে। একজন শিল্পী যদি তার সৃষ্টির সাথেই সৎ থাকতে না পারে তাহলে বিষাদ নামবেই। আর ক্লাইন্টের জন্য কারণ ফটোগ্রাফারের জীবনে কোন ইভেন্ট ৫০০/১০০০ তম ইভেন্ট হতেই পারে কিন্তু ক্লাইন্টের যা প্রথম ইভেন্ট তাই টাকার লোভে একদিনে বুকিং বাড়িয়ে, যার তার হাতে ক্যামেরা তুলে দিয়ে, নিজে দায়সারা ভাবে ছবি/ভিডিও করে। মাসের পর মাস ঘুরিয়ে লামছাম, যদু-মদু কিছু একটা উপস্থাপন করে নিজের ও ফটোগ্রাফি মার্কেটের ক্ষতি করবেন না।
আপনি যদি একজন ফটোগ্রাফার কিংবা সিনেমেটোগ্রাফার হয়ে থাকেন। যদি নিজেকে আর্টিষ্ট মনে করে থাকেন তবে আজই নিজের মূল্যায়ন করুন। নিজের সৃষ্টির মূল্যমান এমন ভাবে নির্ধারণ করুন যেন প্রতিটা কাজে সৎ থেকে আপনি আপনার প্রতিটা ক্লাইন্টকে সন্তুষ্ট করতে পারেন। টাকার কাছে নিজেকে বিক্রি করে দেবেন না। শিল্পী হয়ে যদি সৃষ্টিতেই সৎ থাকতে না পারেন তবে আপনি প্রতারণা করছেন।