Tha Tuba

Tha Tuba The page for Travel,music,health,Art,writing movies,photography,comedy,vlog

04/11/2023

শাশুড়ির হাতের পাঁচটে আঙুলের ছাপ বসে গেছে আমার গালে। অগ্নিচোখে তাকিয়ে আছেন তিনি আমার দিকে। আমার অপরাধ হলো, তরকারীতে লবন বেশি দিয়ে ফেলেছি। খাবার মুখে দিতে দেরি; চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে আমার গালে চড় বসাতে দেরি করেননি তিনি। আমি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম। এ বাড়িতে আমার মার খাওয়াটা অস্বাভাবিক না বরং মার না খাওয়াটাই অস্বাভাবিক!

আমার বিয়ে হয়েছে প্রায় বছর খানেক হলো। বিয়ের প্রথম থেকেই শাশুড়ি আমাকে পছন্দ করতেন না। সব সময় ঝাঁঝ নিয়ে কথা বলতেন আমার সাথে। পান থেকে চুন খসলেই মুখ দিয়ে গালাগালির তুবড়ি ছুটাতেন। শাশুড়ির এহেন আচরণের হেতু প্রথমদিকে আমার বোধগম্য না হলেও পরে অবশ্য জানতে পেরেছি এর কারণ। শাশুড়ি তার বাল্যকালের বান্ধবীর সুন্দরী মেয়ে জ্যোতির বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন তার ছেলে অর্থাৎ আমার স্বামী রায়ানের সাথে। এতে বাধ সাধলেন আমার শ্বশুর। জ্যোতি ছেলেবাজ মেয়ে। চরিত্র ভালো না। তাই আমার শ্বশুর জ্যোতির সাথে রায়ানের বিয়ে না দিয়ে পুত্রবধূ হিসেবে পছন্দ করলেন আমাকে।

আমার মা বাবা নেই। বড়ো এক ভাই আছে। আমার জন্মের পর মা মারা যান। তার কয়েক বছর পর বাবাও। এতিম করে পৃথিবীতে রেখে গেছেন আমাদের দুই ভাই বোনকে। ভাইয়া আমার চেয়ে সাত বছরের বড়ো। মা বাবা মারা যাবার পর পিতৃতুল্য ভাইটা আমাকে লালন পালন করেছে, বড়ো করেছে। আমার সমস্ত আবদার অনায়াসে মিটিয়েছে।

রায়ান দেখতে হ্যাণ্ডসাম, সরকারি চাকরি করে। বিয়ের বাজারে তাকে যোগ্য পাত্রই বলা যায়। তাই আমার শ্বশুর যখন ভাইয়ার কাছে বিয়ের প্রস্তাব রাখলেন তখন ভাইয়া আপত্তি করেনি রায়ানের সাথে আমার বিয়ে দিতে।

শ্বশুরের স্নেহ আর রায়ানের ভালোবাসা পেয়ে শাশুড়ির কটু কথাকে থোড়াই কেয়ার করে দিব্যি সংসার করে যাচ্ছিলাম আমি। শাশুড়ি অবশ্য বেশিকিছু বলতে পারতেন না। শ্বশুরের চোখ রাঙানিতে চুপ মেরে যেতেন। কিন্তু কিছুদিন পরেই আমার জীবনে নেমে আসে দুর্বিষহ!

বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় আমার শ্বশুর স্ট্রোক করে মারা যান। সেই সাথে আমার মাথার উপর থেকে ছায়াটাও সরে যায়। উঠতে বসতে শাশুড়ির খোঁটা শুনতে হতো। আমাকে বাক্যবাণে জর্জরিত হতে হতো প্রতিনিয়ত। আমিও যে মুখে একেবারে কুলুপ এঁটে থাকতাম, তেমনটি না। মাঝে মাঝে তার মুখের উপর দু চার কথা শুনিয়ে দিতাম। কারণ, তখনও রায়ানের সাপোর্ট ছিল আমার সাথে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটুকুও উবে গেল।

এক রাতে রায়ান আমার সাথে ঘনিষ্ট হতে চাইল। আমার সেদিন শরীরটা ভালো ছিল না। তাই রায়ানের আহ্বানে সাড়া দেইনি। কিন্তু রায়ান নাছোড়বান্দা। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেই রায়ানকে। রায়ান সেদিন রেগে গিয়েছিল খুব। এরপর থেকে সে ধীরে ধীরে পাল্টে যেতে লাগল। কিছুদিন পর জানতে পারলাম রায়ান পরকীয়া করছে, তাও আবার শাশুড়ির বান্ধবীর মেয়ে সেই জ্যোতির সাথে। রায়ানকে জ্যোতির পেছনে আরো বেশি লেলিয়ে দিয়েছেন আমার শাশুড়ি। আমি সেটা টের পাই। অনেক চেষ্টা করেছি রায়ানকে সঠিক পথে ফেরানোর জন্য কিন্তু পারিনি। পরনারীতে যে ছেলে মজে গেছে, তাকে ফেরানো কি অতো সোজা?

শেষ তিনটা মাস আমার জীবনটা চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে আমার শাশুড়ি আর রায়ান। আগে শাশুড়ি বকাঝকা করত। এখন মুখের আগে তার হাত চলে। কিছু থেকে কিছু হলেই গায়ে হাত তোলে। এই যে আজ দুপুরে, নিজের ভাগ্যবঞ্চিত জীবনের কথা ভাবতে ভাবতে বেখেয়ালে তরকারিতে লবণ বেশি দিয়ে ফেলেছি। সে কারণে তিনি আমার গায়ে হাত তুলতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি৷ তার ছেলেও কম যায় না। রায়ানের দেয়া অসংখ্য মারের দাগ আছে আমার শরীরে।

ইদানীং খুব দেরী করে বাসায় ফেরে রায়ান। কখনো ওর শার্টে মেয়েলী পারফিউমের সুবাস পাই, কখনোবা শার্টে লিপস্টিকের দাগ দেখতে পাই। বাসায় ফেরার আগে যে জ্যোতির সাথে সময় কাটিয়ে এসেছে সেটা বুঝতে বিন্দুমাত্র বিলম্ব হয় না আমার। এ নিয়ে কিছু বলতে গেলেই গায়ে হাত তোলে। একবার তো গলা টিপে ধরেছিল আমার। শেষ মুহূর্তে গলা ছেড়ে দিয়ে বলেছিল, আমি যেন ওর ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক না গলাই।

এতকিছুর পরেও আমি এ বাড়ির মাটি কামড়ে পড়ে আছি এখানে। কারণ আমার পায়ের তলায় শক্ত মাটি নেই। মা বাবা তো নেই-ই। একটা ভাই আছে, এক সময় যার চোখের মণি ছিলাম আমি। কিন্তু এখন সেই ভাইয়ের চোখের মণি থেকে চোখের বালি হয়ে গেছি। আমি যখন ভাইয়ার চোখের দিকে তাকাই, তখন তার চোখে আমার জন্য তীব্র বিতৃষ্ণা দেখতে পাই। ভাইয়া মুখে আমাকে কিছু বলেনি কখনো। কিন্তু সে যে আমাকে কতটা ঘৃণা করে তা তার চোখের দিকে তাকালেই আমি বুঝতে পারি।

শ্বশুরবাড়িতে আমার দুর্দশার কথা ভাইয়াকে কয়েকবার বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারিনি। বলবই বা কি করে! ভাইয়া তো আমার সাথে কথাই বলে না। ভালো করে তাকায়ও না তার এই বোনটার মুখের দিকে।

রায়ান বাসায় এলো রাত সাড়ে এগারোটায়। আমার গালে স্পষ্ট আঙুলের ছাপ তার চোখে পড়লেও এ নিয়ে কথা বলল না একটাও। ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং এ বসল। চুপচাপ খেয়েদেয়ে উঠে চলে গেল ঘরে। একটাবার জিজ্ঞেসও করল না আমি খেয়েছি কি না! ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে একটা প্লেটে ভাত-তরকারি নিয়ে আমি খেতে বসলাম। টানা এক সপ্তাহ না খেয়ে থাকলেও এ বাড়ির কেউ এসে জিজ্ঞেস করবে না আমি খাইনি কেন! সুতরাং, নিজেকে অভুক্ত রেখে কোনো লাভ নেই।

ভাত খেয়ে টেবিল গুছিয়ে ডায়নিং রুমের লাইট অফ করে ঘরে এলাম আমি। দরজা আটকে বিছানার কাছাকাছি যেতেই হাত টান মেরে আমাকে বিছানায় ফেলে দিল রায়ান। লেগে পড়ল নিজের শরীরের চাহিদা মেটানোর কাজে। আমি বাধা দিলাম না কিংবা বাধা দিতে পারলাম না।
আমাদের সম্পর্কটা এখন কেবল এই শারীরিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অন্য সময় রায়ান আমার মুখের দিকে ভালো করে তাকায়ও না অবধি! বুক ফেঁটে আর্তনাদ বের হতে চাইছে আমার।

আজকাল শারীরিক সম্পর্কগুলো খুব তিক্ত লাগে আমার কাছে। কষ্ট হয় খুব। রায়ান আমাকে স্পর্শ তো করে কিন্তু সে স্পর্শে ভালবাসা নেই ছিটেফোঁটাও; আছে কামনা। ঘৃণায় চোখ ফেটে জল বেরোচ্ছে আমার। রায়ানের সেদিকে খেয়াল নেই। সে তার কাজে ব্যস্ত।

রাত তখন তিনটা। রায়ান বিছানা থেকে উঠে সিগারেট, লাইটার আর মোবাইল নিয়ে বারান্দায় গেল। লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরিয়ে কয়েকটা সুখটান দিল। এরপর ফোন করল জ্যোতিকে। দুজন মিলে সিডাকটিভ কথাবার্তা শুরু করল। ঘেন্নায় শরীর রি রি করে উঠল আমার। এতক্ষণ আমার সাথে অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়ে এখন জ্যোতির সাথে কিসব কথা বলছে! নাহ, আর সহ্য হচ্ছে না। এতদিন অনেক সহ্য করেছি। আজ এর একটা বিহিত করতেই হবে।

আমি বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম। রায়ান আমাকে খেয়াল করেনি। সে কথা বলায় ব্যস্ত। আমি ঝট করে রায়ানের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিলাম। তারপর রেলিং এর ওপর দিয়ে বাইরে ফেলে দিলাম মোবাইলটা।

রায়ান হতভম্ব হয়ে কয়েক সেকেণ্ড আমার দিকে তাকিয়ে রইল। পরক্ষণেই ওর মুখের অভিব্যক্তি পাল্টে গেল। হতভম্ব চেহারায় এসে ভর করল ক্রোধ। আচমকা এক হাতে শক্ত করে আমার চুলের মুঠি চেপে ধরল। আমি ব্যথায় কঁকিয়ে উঠলাম।
”শালী! তোর সাহস হয় কী করে আমার মোবাইল ফেলে দেওয়ার? খুব তেজ বাড়ছে তাই না? তোর তেজ কমাইতেছি।”

রায়ান চুল ছেড়ে সপাটে চড় মারল আমার গালে। দুপুরে শাশুড়ি যে গালে চড় মেরেছে, রায়ান সে গালেই মেরেছে। চড় খেয়ে দু চোখে অন্ধকার দেখছিলাম আমি। এক্ষুনি যেন মাথা ঘুরে পড়ে যাব। দেয়াল ধরে কোনো রকমভাবে পতন ঠেকালাম। তাকালাম রায়ানের দিকে। এই মানুষটা আমার স্বামী, সেটা ভেবে ঘেন্না হচ্ছিল আমার। একদলা থুথু ছুঁড়ে মারলাম রায়ানের মুখে। এতে রায়ান আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে গেল। চুলের মুঠি ধরে সজোরে ধাক্কা দিল আমাকে। আমার কপালটা প্রচণ্ড জোরে বারি খেল দেয়ালের সাথে। ভারসাম্য হারিয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলাম আমি। টের পেলাম, আমার কপাল বেয়ে রক্তের ফোয়ারা নামছে। এরপর আর কিছু মনে নেই।

জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় আবিষ্কার করলাম। একই সাথে আবিষ্কার করলাম, কেউ পরম যত্নে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কপালটা ব্যথা করছে বড্ড। অজান্তেই হাত চলে গেল কপালে। বুঝতে পারলাম সেখানে ব্যন্ডেজ করা। কপালে হাত রেখেই ধীরে ধীরে চোখ খুললাম। চোখ মেলে তাকিয়ে প্রথমেই ভাবীর চিন্তিত চেহারা টা আমার নজরে পড়ল। আমি তাকাতেই ভাবীর চিন্তিতভাবটা উবে গেল যেন। ভাবী তার হাতটা আমার মাথা থেকে নামিয়ে গালের উপর আলতো করে রাখল। নরম গলায় জিজ্ঞেস করল, ”এখন কেমন লাগছে, প্রিয়ন্তী?”
”ভালো।” অস্ফুট স্বরে বললাম আমি।
আমি উঠে বসার চেষ্টা করলাম। ভাবী বাধা দিয়ে বলল, ”উঁহু, উঠো না। হাতে ক্যানোলা পরানো। স্যালাইন চলছে।”
আমি আর ওঠার চেষ্টা করলাম না।

কেবিনে ভাবীকে ছাড়া আর কাউকে দেখতে পেলাম না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ”ভাইয়া কোথায়?”
”তোমার ভাইয়া নিচে ফার্মেসীতে গেছে। ডাক্তার কিছু ঔষধ আর ইনজেকশন দিয়েছে। সেগুলো আনতে গেছে।”
আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। কিছুক্ষণ পর ভাবী বলল, ”ওরা তোমার উপর এত অত্যাচার করেছে অথচ তুমি আমাদের কিচ্ছু জানাওনি! কেন বলোনি আমাদের?”
আমি জবাব দিলাম না। কিছু বলতে ইচ্ছে হলো না।

ঘর লাগোয়া ঝুল বারান্দাটায় দাঁড়িয়ে আছি। তাকিয়ে আছি উন্মুক্ত আকাশপানে। গতকাল বিকেলেই হসপিটাল থেকে ভাইয়া-ভাবীর সাথে বাসায় চলে এসেছি। কিভাবে আমার মন ভালো রাখা যায়, কি করলে আমি একটু খুশী থাকব- সেসব নিয়ে ভাবি তটস্থ থাকে সারাক্ষণ। ভাবী আমাকে যতটা আদর আর স্নেহ করে, দুনিয়ায় আর কোনো ভাবী তার ননদকে এতটা আদর করে বলে আমার মনে হয় না। অথচ আমি কী করলাম? সেই ভাবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ কেড়ে নিলাম তার কাছ থেকে। তার পেটের সন্তান কেড়ে নিলাম। একই সাথে কেড়ে নিলাম তার মা হওয়ার সক্ষমতাটুকু! এই আমার জন্য সে কখনো মাতৃত্বের স্বাদ নিতে পারবে না!
(চলবে)

#প্রকৃতির_প্রতিশোধ
লেখ-আরব মালিক
পর্ব ১
পরের পর্বে সমাপ্তি

25/07/2023
সূর্য আস্ত
19/07/2023

সূর্য আস্ত

আমরা সব কিছু জেনে বুঝে ও মিথ্যার মায়ায় আসক্ত হই। নিচের চমৎকার গল্পটি পড়ুন আর ভাবুন...নিন্মের ছবিটি নগ্ন। এটি Jean Leon G...
19/07/2023

আমরা সব কিছু জেনে বুঝে ও মিথ্যার মায়ায় আসক্ত হই। নিচের চমৎকার গল্পটি পড়ুন আর ভাবুন...

নিন্মের ছবিটি নগ্ন। এটি Jean Leon Gerome নামক বিখ্যাত চিত্রকরের পেইন্টিং। ১৮৯৬ তে আঁকা এই ছবিটা ঊনিশ শতকের একটি লোক কথাকে ভিত্তি করে আঁকা হয়েছিলো যার শিরোনাম ছিলো- "The truth is coming out of the well."

গল্পটা ছিল এরকম -একবার সত্য এবং মিথ্যা পরস্পরের সঙ্গে দেখা করলো কিছু বিষয়ে মীমাংসার তাগিদে। হাঁটতে হাঁটতে তারা চলে গেলো একটা কুয়োর পাশে।

মিথ্যা বললো, দেখো, কী পরিষ্কার জল। চলো স্নান করি।

বলাবাহুল্য সত্য বিশ্বাস করেনি মিথ্যার কথা। নিজে পরখ করে দেখলো। যখন দেখলো কুয়োর জল সত্যিই পরিষ্কার তখন মিথ্যার প্রস্তাবে রাজী হলো।

দুজনে পোশাক ছেড়ে নেমে পড়লো কুয়োয়। স্নানের মাঝপথে মিথ্যা কুয়ো থেকে উঠে এসে সত্যের পোশাক পরে পালিয়ে গেলো।

খানিকক্ষণ অপেক্ষা করার পর মিথ্যাকে ফিরতে না দেখে সত্য উঠে এলো কুয়ো থেকে। না, মিথ্যা তো কোথাও নেই, পোশাকও নেই। রাগে অন্ধ হয়ে সত্য বের হলো মিথ্যাকে খুঁজতে, কিন্তু নগ্ন সত্যকে দেখে ছিঃ ছিঃ ধিক্কার করলো সভ্য মানুষেরা। এমন কী তেড়েও এলো অনেকে।

সত্য অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের বোঝাতে না পেরে রাগে দুঃখে অপমানে ফের কুয়োয় নেমে গেলো।

তারপর থেকে সত্যকে আর কখনও কেউ দেখেনি।
যাকে দেখেছে কিংবা দেখছে সে আসলে সত্যের পোশাক পরা মিথ্যা!

profile:--Arob malik
19th July, 2023

♦ কপি করা নিষেধ ♦ #জীবন_দর্পণপর্ব - ৩© আরব মালিক (কপি করা নিষেধ)বাসায় যে বিয়ে নিয়ে এতকিছু ঘটে গেছে তার কিছুই জানে না পিউ...
19/07/2023

♦ কপি করা নিষেধ ♦
#জীবন_দর্পণ
পর্ব - ৩
© আরব মালিক (কপি করা নিষেধ)

বাসায় যে বিয়ে নিয়ে এতকিছু ঘটে গেছে তার কিছুই জানে না পিউ। আসলে আশফাক চেয়েছিল সবাই রাজি হলে তবেই যেন পিউয়ের কানে তোলা হয় বিয়ের বিষয়টা। যাতে বিয়েটা না হলেও কখনো আশফাকের সামনে আসতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যেন পড়তে না হয় ওর। শেষমেশ সবাই যখন মোটামুটি রাজি পিউ তখনো ঢাকায়, রিতু আপুর বাসায়।

আপুই প্রথম ওকে জিজ্ঞাসা করে, "কি রে পিউ, তোর কোন পছন্দ টছন্দ আছে নাকি?"

হঠাৎ এমন প্রশ্নে আকাশ থেকে পড়ে পিউ।

"হঠাৎ এ কথা কেন আপা?"

"তোর বিয়ের জন্য একটা প্রস্তাব এসেছে। বিয়ে অবশ্য এখন না, শুধু আংটি পরাবে। বাসার সবারই পছন্দ। তবে চিন্তা করিস না তুই রাজি না থাকলে আগাবে না।"

"আমার আলাদা করে কোন পছন্দ অপছন্দ নাই আপা। তোমরা সবাই যা বলবা তাই হবে।"

বোনের উত্তরে নির্ভার হয় রিতু। কারন বিয়ের কথা অনেকদুর গড়িয়েছে এর মধ্য। পিউ রাজি না হলে বাবা হয়ত পিছিয়ে আসবে, তবে ছেলেপক্ষ যেমন নাছোড়বান্দা হয়ে লেগে আছে, তাতে বেশ কঠিন হবে পুরো বিষয়টা।
সেদিন রাতেই প্রথমবারের মত পিউকে ফোন করে আশফাক। ওকে পিউ তখনো চেনে "আর্মি ভাইয়া" বলে। ওর সাথেই যে বিয়ের কথা চলছে সেটা তখনো মেয়েটার অজানা। তাই কথা বলতে সেরকম কোন অস্বস্তি কাজ করে না।

অন্য সবার মতই ফোনে শরীরের খোঁজ খবর নেয় আশফাক। ফোন রাখার আগে শুধু বলে, “তোমার জন্য আমরা ছেলে দেখতেছি, তোমার কি কোন পছন্দ আছে?”
এত সহজভাবে আশফাক প্রশ্নটা করে যে পিউ ঘুনাক্ষরেও টের পায়নি কিছু। ওদিকে পিউয়ের না বোধক উত্তরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আশফাক।

আশফাকের ইচ্ছা ছিল একেবারে বিয়ের পরেই কথা বলবে পিউয়ের সাথে। কিন্তু যে পাগলামী ও করতে চলেছে তার আগে পিউয়ের সাথে একবার কথা বলা জরুরী ছিল। এতদিন মেয়েটা অসুস্থ ছিল বলে তাড়াহুড়া করেনি আশফাক। কিন্তু আর তো বেশি সময় বাঁকি নেই।

আশফাকের ইউনিট রাঙামাটির নানিয়ারচরে শিফট হবে সপ্তাহ দুয়েক বাদেই। রংপুর ছাড়ার দিনক্ষণ ঝড়ের গতিতে এগিয়ে আসছে। একবার নানিয়ারচর পোস্টিং হলে আবার কবে এদিকে আসা হবে তার ঠিক নেই। আর অন্যদিকে আর্মি মেডিকেল কোরের সেই পাত্রের পরিবার থেকে ভীষণ আগ্রহ দেখাচ্ছে পিউকে বউ করার। হুট করে যদি পিউয়ের বাসা থেকে রাজি হয়ে যায় তখন দেশের অন্যপ্রান্তে থেকে ঠিক কতটা কি করতে পারবে সেটা নিয়ে সন্দিহান আশফাক। সবকিছু মিলিয়ে মরিয়া হয়ে হাসান ভাইকে পিউয়ের কথা বলেছিল আশফাক। নাহলে হয়ত মুখ ফুটে প্রকাশ করা হতো না কি ভীষণভাবে লুট হয়েছে আশফাকের প্রাণ, মন।

**

পরদিনই রংপুর ফেরে পিউ। ও জানতো যে বিকেলে ছেলেপক্ষ আসবে দেখতে, হয়ত আংটিবদলও হয়ে যাবে আজই। কিন্তু চায়ের ট্রে হাতে ড্রইংরুমে এসে “আর্মি ভাইয়া” কে বাবা মা সহ দেখে যারপরনাই অবাক হয় পিউ। তবে পিউসহ বাঁকি সবাইকে অবাক হওয়ার চুড়ান্ত সীমায় টেনে নেওয়ার পণ করেই যেন সেদিন বাসা থেকে বেরিয়েছে আশফাক। শুরু থেকেই শান্তশিষ্টভাবে মৌণব্রত পালন করলেও আংটি পরানোর সময় আসতেই বেঁকে বসে ও।

"আমি এংগেজমেন্টে বিশ্বাস করি না। বিয়ে করতে চাই। এবং তা আজই।", আশফাকের কন্ঠে দৃঢ়তা।

আশফাকের বাবা মা ও ছেলের বিয়ে দিতে চান। তাদের মতে আজই দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলা গেলে মন্দ হয়না। কিন্তু তাই বলে আশফাকের বোন, দুলাভাই, মামা, চাচা, খালা, ফুপুদের ছাড়াই বিয়ের মত এত বড় একটা ব্যাপারে রাজি নন তারা। তাই ছেলের এহেন দাবি শুনে আকাশ থেকে পড়লেন দুজনেই। হবু আত্মীয়দের সামনে আশফাকের এমন যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখে যারপরনাই বিরক্ত ওর মা।
অন্যদিকে পিউয়ের বাবা মা এত তাড়াতাড়ি মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি নন। তারা ভেবেছিলেন ছেলে যেহেতু আর্মিতে আছে, বিয়ের বয়স হতে এখনো বছর দুয়েক সময় পাওয়া যাবে। ততদিনে পিউ চতুর্থ বর্ষে উঠে যাবে। এসব হিসেবনিকেশ করেই ছেলেপক্ষকে বাসায় আসতে দিতে সম্মত হয়েছিলেন তারা। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে খাল কেটে কুমির ডেকে এনেছেন। ইতোমধ্যে জানা গেছে ছেলেটা বিয়ের স্পেশাল পারমিশন নিয়ে আটঘাট বেধেই এসেছে। এদিকে যুবায়েরের কোর্স চলছে চট্টগ্রামে। রিতুও জার্মান এম্বাসিতে দৌড়াদৌড়ি নিয়ে ব্যস্ত দেখে আসতে পারেনি। পরিবারের অন্য কোন বয়োজেষ্ঠ্যও উপস্থিত নেই। তাই রাজি হওয়ার কোন কারন নেই। আবার এত ভালো একটা ছেলে, ভালো পরিবার হাতছাড়া করতেও মন সায় দিচ্ছেনা।

আর আশফাক নাছোড়বান্দা। ওর এক কথা, "বিয়ে ছাড়া কথা বলবোনা দেখেই তো আড়াই মাস অপেক্ষা করেছি। বিয়ে যদি পরেই করতে চাইতাম তাহলে তো বাসায় জানাতাম না। সরাসরি কথা বলতাম, এফেয়ার করতে পারতাম। সেটাই কি আপনাদের সবার কাছে বেশি গ্রহনযোগ্য?"

আশফাকের অকাট্য যুক্তির বিপরীতে বলার মত কিছু খুঁজে পাননা তারা। কিন্তু তাই বলে সবার অনুপস্থিতিতে এমন হুট করে বিয়েও মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না।
ছেলের জেদের মুখে রাজি হলেও আশফাকের মা শর্ত দিলেন যতদিন অনুষ্ঠান না হচ্ছে এ বিয়ের কথা যেন এই চারদেয়ালের মাঝেই থাকে। নিকটআত্মীয়রাও যেন এ বিষয়ে জানতে না পারে। সবাইকে জানানো হবে যে আজ শুধু আংটিবদল হয়েছে। অন্যদিকে পিউয়ের বাবা শর্ত দিলেন বিয়ের অনুষ্ঠান হবে পিউয়ের সেকেন্ড প্রফের পরে। ততদিন পর্যন্ত দেখা সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হলো দুজনের। এসব শর্ত না মানলে বিয়েটাই আজ হবে না দেখে আশফাকও রাজি হয়ে যায় আর কোন ঝামেলা না করে।

পিউ কবুল বলা পর্যন্ত বলা যায় দম আটকে ছিল আশফাক। মনে হচ্ছিল, এই বুঝি কেউ বেঁকে বসে, বা পিউ নিজেই বলবে ও এখন বিয়ে করবে না। আক্বদের পর এংগেজমেন্টের জন্য নিয়ে আসা আংটি বের করলেন আশফাকের মা। ছেলের হাতে ধরিয়ে দিলেন। আংটি পরাতে গিয়ে সে এক বিড়ম্বনা, কোন আঙুলে পরাবে তা যেন ঠিক করেই উঠতে পারছিল না আশফাক। এসির মধ্যেও ঘেমে নেয়ে একাকার মানুষটা। আংটি পরানোর জন্য স্ত্রীর কোমল হাতটা ধরার সময় তিরতির করে কাঁপছিল এস এমজির বেস্ট ফায়ারারের শক্তসমর্থ হাত।

ঘটনাবহুল এই বিকেলে পিউয়ের মনে দাগ কাটলো অন্যকিছু। তা হলো পছন্দের নারীকে স্বল্পতম সময়ে হালাল করে পাওয়ার জন্য সবাইকে রাজি করানোর দৃঢ়তা। অথচ পুরো সময়টাতে একবারের জন্যও সে নারীর দিকে চোখ তুলে তাকায়নি মানুষটা। শ্রদ্ধা বা ভালবাসা যাই বলুন নিভৃতে যেন তার বীজ প্রোথিত হলো পিউয়ের কুসুমকোমল অন্তরে।

গোধুলিবেলায় ক্যাপ্টেন আশফাক রহমানের সাথে একজীবনের জন্য বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলো মেহেরিন বিনতে জামান পিউ। না কোন আড়ম্বর, না কোন হই হুল্লোড়। কনের পরনে উঠলোনা কোন শাড়ি। না বরের পরনে শেরোয়ানি বা মাথায় পাগড়ি। আটপৌরে পোষাকে তিনবার "কবুল" এর জোরে বৈধতা পেল অনাগত মিষ্টি সুন্দর একটা সম্পর্ক। আচ্ছা, অনেকগুলো দিন, মাস, কিংবা বছর পরে দুজনের কি কখনো আফসোস হবে যে এই সুন্দরতম মুহুর্তটাকে ফ্রেমবন্দি করেনি কেউ?

চলবে..

আশফাক আর পিউয়ের শুভ বিবাহ রচনা করতে গতকাল বিকেল থেকে আজ দুপুর হয়ে গেল। একলাইন লিখি তো দুই লাইন মুছি। খুব ইচ্ছা ছিল যে সুন্দরতম মুহুর্ত কোন ফ্রেমে বন্দি নেই তা আমার হাজারখানেক শব্দের গাথুনিতে চিত্রিত করি আরেকবার। শেষমেশ যে কি লিখতে পারলাম আপনারাই ভাল বলতে পারবেন। জানাবেন কেমন? আর হ্যাঁ, কমেন্ট সেকশনে দুটো ছবি পোস্ট করেছি, পোস্টে না হোক কমেন্টে কিন্তু লাভ রিএক্ট চাই।

♦ কপি করা নিষেধ ♦ #জীবন_দর্পণপর্ব - ২ © আরব মালিকপিউকে আশফাক প্রথম দেখেছিল আর্মির কোর্সমেট যুবায়েরের বাসায়। তা প্রায় দুই...
18/07/2023

♦ কপি করা নিষেধ ♦
#জীবন_দর্পণ
পর্ব - ২
© আরব মালিক

পিউকে আশফাক প্রথম দেখেছিল আর্মির কোর্সমেট যুবায়েরের বাসায়। তা প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস আগের কথা। বড় বোন রিতুর বিয়েতে সব কোর্সমেটদেরকে দাওয়াত করেছিল যুবায়ের। তাদের মধ্যে আশফাকসহ তিনজনের পোস্টিং ছিল রংপুর ক্যান্টনমেন্টে। আর জুবায়েরদের বাসাও রংপুরেই। তাই ওদের গায়ে হলুদ থেকে শুরু করে সব অনুষ্ঠানেই দাওয়াত ছিল। তবে একটা জরুরী কাজ পড়ে যাওয়ায় শুধু বিয়ের অনুষ্টানটাতেই যেতে পেরেছিল আশফাক। আর ওখানেই দেখা হয়েছিল যুবায়েরের ছোট বোন পিউয়ের সাথে। নাহ বিয়েবাড়িতে গিয়ে মেয়ে খুঁজে বেড়ানোর মত ছেলে না আশফাক, নাই বা পিউ কোন আগুনসুন্দরী। কিন্তু পিউয়ের প্রসাধনবিহীন মিষ্টি চেহারা, উচ্ছল হাসি, ডান গালের টোলের গভীরতা ভীষণভাবে ঘায়েল করল ধীরস্থির আর বিয়ে নামক বন্ধনে বিমুখ আশফাককে। বার বার মেয়েটার দিকে ফিরে তাকানোর অপ্রতিরোধ্য ইচ্ছেকে আগ্রাহ্য করা যে কি ভীষণ কঠিন ছিল তা কেবল আশফাকই জানে।

কতবার যে নিজের মনকে বুঝিয়েছে “এটা সাময়িক মোহ। চোখের আড়াল হলেই কেটে যাবে। তাছাড়া বিয়েশাদী তোমার জন্য না আশফাক!” কিন্তু তাতে বোধহয় খুব একটা লাভ হয়নি। সেদিনের পর থেকেই চোখ বন্ধ করলেই হুটহাট মানসপটে ভেসে ওঠে মেয়েটার টোলপড়া গালের মিষ্টি হাসি। সে নিদারুন বিড়ম্বনা থেকে নিস্তার পেতে নিজেকে ব্যাস্ততার চাদরে মুড়িয়ে রাখে আশফাক। আর কখনো যুবায়েরদের বাসামুখো হবে না বলে নিজেই নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। আশফাক আর যুবায়ের ভিন্ন ভিন্ন ক্যাডেট কলেজ থেকে পড়েছে, আর্মিতেও ভিন্ন ভিন্ন কোরে। তাই কোর্সমেট হলেও তাদের সেরকম যোগাযোগ নেই। কাজেই যুবায়েরদের বাড়িতে এমনিতেও খুব একটা যাওয়ার কথা না আশফাকের। কিন্তু, ভবিতব্যে থাকলে যা হয় আর কি। কিছুদিনের মধ্যেই বাঁকি দুই কোর্সমেট ইমরান আর ফয়সাল মিলে আশফাককে বগলদাবা করে নিয়ে গেল যুবায়েরদের বাড়িতে। উদ্দেশ্য, বিয়ের ভিডিও দেখা। বিয়ের সবগুলো অনুষ্ঠানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করায় ওদের দুজনের সাথে যুবায়েরদের বাড়ির সবারই বেশ সখ্যতা হয়েছে। তাই সবাই মিলে বিয়ের ভিডিও দেখার জন্য আর ভুরিভোজ করার জন্য ওদেরকে দাওয়াত করেছিল যুবায়ের। আশফাক চাইলে এড়িয়ে যেতে পারত। কিন্তু অবচেতন মন বোধহয় ততদিনে বানভাসী মানুষের মত মরিয়া হইয়ে খড়কুটো খুঁজছিল চঞ্চলা মেয়েটিকে এক নজর দেখার।

সবাই মিলে বিয়ের ভিডিও দেখতে বসলো ওরা। এর মাঝেই চলছে আড্ডা, খুনশুটি, নাস্তাপানি। পিউও ছিল ওখানেই। বারবরের মতই সদাহস্যময়ী, চপলা, চঞ্চলা। আশফাকের চোরাচোখ বারবার ডুবে যাচ্ছিল পিউয়ের ডান গালের জেঁকে বসা টোলের গভীরতায়। বেহায়া চোখকে শাসাতে পারলেও, মন সে তো লাগামহীন বল্গা ঘোড়ার মতই দুর্দমনীয় গতিতে ছুটে চলেছে।

সেদিনের আড্ডায় আশফাক যখন অশান্ত মনকে আগলাতে ব্যাস্ত তখন অন্যরা ব্যাস্ত পিউয়ের বিয়ে নিয়ে মজা করায়। রিতুর বিয়েতে আগত একজন অতিথী তাঁর আর্মি মেডিক্যাল কোরের ডাক্তার ভাতিজার জন্য পছন্দ করেছেন পিউকে। সরাসরি প্রস্তাবও দিয়েছেন ইতোমধ্যে। পিউ যেহেতু ডাক্তারী পড়ছে তাই এমন পাত্র তো সোনায় সোহাগা। এমন আলোচনাই চলছিল ওদের কাজিন সমপ্রদায়ের মাঝে। সাথে যোগ দিয়েছিল ইমরান আর ফয়সালও। শরীর খারাপের বাহানায় আড্ডা ছেড়ে সেদিন উঠে পড়ে আশফাক।

ভীষণ অন্তর্মুখী আশফাক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ও কখনো বিয়ে করবে না। বাবা মা ভীষণ অখুশী ছিল ওর এই সিদ্ধান্তে। ওর বাবা অসুস্থ মানুষ। ডায়াবেটিকস তো আগে থেকেই ছিল। তারপর হলো হার্ট এটাক।, সবশেষে স্ট্রোক করার পরে বামপাশটা বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে উনার। তারচেয়েও বেশি দুর্বল হয়েছে ছেলের ভবিষ্যত চিন্তায় অস্থির বাবার মন। স্বামীর স্বস্তি এনে দিতে আশফাকের মা ও কিছুদিন পরপর ছেলেকে নানান ভাবে বুঝিয়ে যাচ্ছেন বিয়েতে রাজি করানোর জন্য। আজকাল সেটা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলের পর্যায়ে চলে গেছে কিছুটা। বাবামা অন্তপ্রাণ আশফাক, তাদের জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতেও দুবার ভাববে না ও, সেখানে বিয়ে খুবই মামুলী ব্যপার। তবু একটা মানুষকে নিজের জীবনের সাথে জড়ানো নিয়ে ভীষণ দ্বিধান্বিত আশফাক। নিজের বাবামাকে খুশি করতে গিয়ে আরেকজনের জীবন না নষ্ট করে ফেলে এমন চিন্তা থেকে বের হতে পারে না ও। অবশ্য সেটা পিউকে দেখার আগ পর্যন্ত। হাসিখুশি মেয়েটাকে কাছ থেকে দেখে আশফাকের কেন জানি মনে হয় এই মেয়েটার বিরামহীন হাসি আর মিষ্টি কন্ঠের কলকাকলিতে বুদ হয়েই এক জীবন কাটিয়ে দেওয়া যাবে বোধহয়। নিজে খুব কম কথা বললেও পিউয়ের কথামালার ব্যাক্তিগত শ্রোতা হতে বোধহয় খারাপ লাগবে না খুব একটা। তবু মনের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা তো ছিলই। কোর্সমেটের ছোট বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াটা কতখানি ঠিক হবে সেটা নিয়েও সন্দিহান আশফাক।

এর মাঝে হঠাত অসুস্থ হয়ে পড়ল পিউ। ধরা পড়ল হেপাটাইটিস এ। রংপুরে সেসময় কোন হেপাটোলজিস্ট ছিল না। তাই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয় পিউকে। বিলিরুবিন কমে গেলেও এসজিপিটি(SGPT) স্বাভাবিক মাত্রায় আসতে বেশ সময় লাগছিল। শরীরও বেশ দুর্বল। ডাক্তার বেডরেস্টে থাকতে বললেন পুরোদমে। রিতু আপুর বাসা ঢাকায়। তাই হসপিটাল থেকে ছাড়া পেয়ে পিউয়ের ঠিকানা হলো বোনের বাসা। সে সময় সবাই ফোন করে খোঁজ নিত। এর মাঝে জন্মদিন পড়ায় শুভেচ্ছা জানাতেও ফোন করত অনেকেই। ফয়সাল আর ইমরানও খোঁজ নেওয়ায় ওদের কাছেই পিউয়ের অসুস্থতার কথা জানতে পারে আশফাক। মন অকারণ চঞ্চল হয়ে উঠলো ঠিকই, কিন্তু একবারের জন্যও ফোন করেনা নিজে। হাসিখুশি মুখটার নিস্প্রভ, ফ্যাকাসে অবস্থা কল্পনায় আসতেই এক অচেনা কষ্টে মনটা দুমড়ে মুচড়ে আসে ওর। বারবার ছুটে যেতে ইচ্ছে করে ঢাকায়, একনজর দেখতে ইচ্ছে করে মেয়েটাকে। নিজেই বোঝে এটাকে শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহানুভুতি বললে মিথ্যে বলা হবে।
সৌম্য শান্ত আশফাকের মন ছুটে গেছে এই মেয়েটাকে একান্ত নিজের করে নেওয়ার ইচ্ছেতে। ফুপাত ভাই হাসানের কাছে প্রথম পিউয়ের ব্যাপারে মুখ খোলে ও। সম্পর্কে ভাই হলেও হাসানই বলা যায় ছোট থেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে আশফাককে। তাই ওদের মধ্যের আত্মিক বন্ধনটা এমন যে আশফাক কিছু বলার আগেই অনেক কিছু বুঝে যায় হাসান। সে ই প্রথম ধরে ফেলেছিল, আশফাকের স্বভাববিরুদ্ধ তীব্র অস্থিরতা।

ভাইকে কাছে বসিয়ে হাসান ভাই জানতে চায়, “মেয়েটা কে? যার জন্য আমার ভাইটা এত উতলা?”

ইতস্তত করে পিউয়ের কথা বলে আশফাক, “আমার কোর্সমেটে যুবায়েরের ছোটবোন। রংপুর বাসা। রংপুর মেডিকেলেই পড়ে।”

কথার মাঝে কথা বলে আশফাককে থামায় না হাসান ভাই। আদর্শ শ্রোতার মত শুনে যায়।

“কিছুদিন আগে যুবায়েরের বোনের বিয়ের দাওয়াতে গেছিলাম ওখানেই দেখা। কিছুতেই মাথা থেকে সরাতে পারছি না ভাইয়া। এদিকে ওর বিয়ের কথা চলছে। ”

আশফাকের কথা শেষ হয়েছে বুঝে হাসান ভাই প্রশ্ন করলেন, "তারপর? কি ভাবছিস?"
"আমি বিয়ে করলে ওকেই করতে চাই ভাইয়া।"

“মামা মামীর সাথে আমি কথা বলব? নাকি তুই বলবি?”
চুপ করে থাকে আশফাক। যে কথা নিজের কাছে স্বীকার করতে, মুখ ফুটে হাসান ভাইকে বলতে এতটা সময় লাগলো তা বাবা মাকে বলতে আরী কতশত দিন কেটে যাবে কে জানে। হাসান বুঝে নেয় পরবর্তী করনীয়। আশফাকের অসুস্থ বাবা আগে থেকেই চাইছিলেন, ছেলের বিয়ে দিতে, নিজের ভবলীলা সাঙ্গ হওয়ার আগেই সংসারী দেখতে। তাই হাসান যখন পিউয়ের কথা বলল মামা মামীকে, বিনা বাক্যব্যায়ে ছেলের বিয়ে দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হলেন তাঁরা। কিন্তু আশফাকের বয়স চব্বিশ হতেও কয়েকমাস বাকি, ওদিকে সেনাবাহিনীতে বিয়ের নূন্যতম বয়স ছাব্বিশ। তাই আশফাকের মা বাবা ছেলেকে তাড়াতাড়ি আবেদন করতে বললেন স্পেশাল পারমিশনের জন্য।

ওদিকে আশফাক খুব দ্বিধায় ছিল যে যুবায়েরকে নিজেই বিয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবে নাকি ইমরান বা ফয়সালকে দিয়ে বলাবে। অনেক চিন্তাভাবনা করে নিজে কথা বলাই শ্রেয় মনে করে। তবে তা ফোনে, কারন এই বিষয়ে সামনাসামনি কথা বলা আশফাকের পক্ষে বেশ অস্বস্তিকর। যুবায়েরের সাথে কথা বললে যুবায়ের জানায় বাবা মা আপত্তি না করলে ওর কোন আপত্তি নেই।

ইতোমধ্যে আশফাকের বাবা মা মেয়ের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে গিয়ে জানতে পারে যে আশফাকের মামী আর পিউয়ের চাচী একে অপরের বান্ধবী। তাই উনাদের মাধ্যমেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠান তারা। কিন্তু সবে ফার্স্ট ইয়ারে পড়া আদরের ছোট মেয়েকে এখনই বিয়ে দিতে নারাজ পিউয়ের বাবা মা। বারদুয়েক পিউয়ের বাবা মায়ের অসম্মতির পরেও হাল ছাড়লেন না আশফাকের বাবা মা। একমাত্র ছেলে হলেও কখনো মুখ ফুটে কিছু চায়না আশফাক। আর বিয়ের ব্যাপারে তো ভীষণ অনীহা। তাই একবার যখন মেয়ে পছন্দ করেছে, এই মেয়েকেই তারা বাড়ির বউ করতে চান। পিউয়ের মামা, খালা সবার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন তারা৷ ছেলে এবং ছেলের পরিবারকে ভীষণ পছন্দ সবার। পরিবারের সবার চাপের মুখে পড়ে শেষমেষ তাদেরকে বাসায় আসার পারমিশন দেন তারা। কিন্তু বাসায় যে বিয়ে এতকিছু ঘটে গেছে তার কিছুই জানে না পিউ। ও তখনো ঢাকায়, রিতু আপুর বাসায়।

আপুই প্রথম ওকে জিজ্ঞাসা করে, "কি রে পিউ, তোর কোন পছন্দ টছন্দ আছে নাকি?"

হঠাৎ এমন প্রশ্নে আকাশ থেকে পড়ে পিউ।

চলবে...

(ইদের মধ্যে সবাইই ব্যাস্ত, আমিও। তাও যদি কয়েকঘন্টা সময় বের করে হাজারখানের শব্দ লিখতে পারি, পাঠকদের কাছে কয়েক শব্দের একটা কমেন্ট কি চাইতে পারি না? অপেক্ষাই রইলাম।)

দুই ধরে রাস্তা পাশে পুকুর
18/07/2023

দুই ধরে রাস্তা পাশে পুকুর

18/07/2023

Ballalpur ghat

চৌরাস্তা - দার্জিলিং, বঙ্গ, ১৮৮০সৌজন্যেঃ ব্রিটিশ লাইব্রেরী  Chowrasta- Darjeeling,Bengal,1880Courtesy- British Library  ...
17/07/2023

চৌরাস্তা - দার্জিলিং, বঙ্গ, ১৮৮০
সৌজন্যেঃ ব্রিটিশ লাইব্রেরী
Chowrasta- Darjeeling,Bengal,1880
Courtesy- British Library

#পুরানো_বাংলার_চালচিত্র
#পুরানো_কলকাতার_চালচিত্র

আধুয়া অসম্পূর্ণ ব্রিজ
17/07/2023

আধুয়া অসম্পূর্ণ ব্রিজ

Address

Imamnagar
Berhampore
742202

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tha Tuba posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Tha Tuba:

Share

Category