08/05/2024
এটি কোনো মূর্তি নয়। মনুষ্য শরীরে মায়ের রূপ দান করা হয়েছে। মানবীর বন্ধ নেত্রের উপর চক্ষুদান করে মায়ের রূপটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
🪷ইনি হলেন হাওড়ার পাঁতিহালে অধিষ্ঠাত্রী প্রাচীনতম জাগ্ৰত দেবী, ফলহারিণী 🌺মা মন্ডলা🌺
রূপদান ও সমগ্ৰ পরিকল্পনায়: Sayak Manna
দেবী রূপে: Ananya Banerjee
চিত্রগ্ৰাহক: Chayan Chakraborty Charu Creation
দেবীর অলংকার নির্মাণে: কুমার সমাদৃত
ছবিঘর: Charu Creation Studio
🪷এবার আসি মায়ের কথায়...
কালী বঙ্গের অধিষ্ঠাত্রী।বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে,বছরের বিভিন্ন সময়ে কালীর বিভিন্ন রূপের আরাধনা হয়।হাওড়া জেলার প্রাচীন কালীপুজো গুলির মধ্যে জগৎবল্লভপুর থানাধীন বর্ধিষ্ণু পাঁতিহাল অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মণ্ডলা কালীমাতার পুজো অন্যতম। জৈষ্ঠ্যের ফলহারিনী অমাবস্যায় আনুমানিক ৩৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পুজো হয়ে আসছে এই পাঁতিহালে।এই পুজোর সাথে জেলা তথা রাজ্যের বহু মানুষই পরিচিত।বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় লক্ষাধিক ভক্ত সমাগম হয় মাতৃ পূজায়। পূর্বে পাঁতিহাল গ্রামস্থিত ঘোষাল পরিবারে মা পূজিতা হতেন।ওই পরিবারের এক পূর্বপুরুষ তন্ত্র সাধনা করতেন।সেই নিয়ে পরিবারে মধ্যে মত বিরোধ হওয়ায়,গৃহে কালীপূজা বন্ধ হয়। অন্যদিকে পাঁতিহাল গ্রামের রায় পরিবারের ধর্মপ্রাণ জমিদার স্বর্গত কাঁলাচাদ রায়কে দেবী স্বপ্নে আদেশ করেন, মণ্ডলা নামক স্থানে দিঘির(বর্তমানে যেটি মণ্ডলা পুকুর)পাশে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করতে।সেই মতো কাঁলাচাদ রায় ঘোষাল পরিবারের দ্বিতীয় পুরুষ গৃহীসাধক রামশরন ঘোষালের সহযোগিতায় পঞ্চমুণ্ডের বেদীতে জৈষ্ঠ্যের ফলহারিনী অমাবস্যায় মায়ের পুজো শুরু করেন।মায়ের পুজোর প্রচলন নিয়ে অনেক জনশ্রুতি প্রচলিত আছে।প্রথমদিকে মাটির দেওয়ালে হোগলা পাতার ছাউনি দেওয়া মন্দিরে মায়ের পুজো হত। বর্তমানে সেই স্থানেই মার্বেলে মোজায়েখ করা মন্দিরে মায়ের পুজো হয়। এবং সম্মুখে বিস্তির্ণ নাটমন্দির, সেখানে বিরাজমান দেবী দশমহাবিদ্যা এবং বিষ্ণুর দশবতার।
দেবী এখানে দ্বিভুজা,সমুদ্রের জলের মতো উজ্জ্বল তাঁর গাত্রবর্ণ।মায়ের একহাতে সদ্য ছিন্নমুণ্ড এবং অন্য হাতে কারন পাত্র।জিহ্বা অপ্রকাশমান,দন্ত সামনের দিকে প্রকাশিত।তিনি সদাহাস্যময়ী।মায়ের গলায় মুণ্ডমালা এবং কোমড়ে ছিন্ন নর কর অনুপস্থিত।দেবীর বাম পা অগ্ৰে এবং ডান পা পশ্চাতে। তিনি শবরূপী শিবের উপর দন্ডায়মান। মা এখানে বলিপ্রিয়া। ফলহারিণী অমাবস্যার রাতে মায়ের পুজো হয় এবং ভোরে সূর্যদয়ের পূর্বে মায়ের মঙ্গলঘট নিরঞ্জন করা হয়। কিন্তু মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি অম্বুবাচী নিবৃত্তির এক সপ্তাহ পরে যে প্রথম শনিবার আসে সেদিন নিরঞ্জন দেওয়া হয়।মা মণ্ডলাকে নিয়ে ছড়িয়ে আছে নানা কিংবদন্তী।পুজো উপলক্ষে বসে বিরাট মেলা।পুজোর কিছুদিন পর হয় মায়ের অন্নকূট মহোৎসব।জনমানসে মা মণ্ডলার স্থান অসীম।বহু ভক্ত আসেন বিভিন্ন মনস্কামনা নিয়ে।মায়ের কৃপায় মনস্কামনা পূর্ণতায় তারা সাধ্যমতো মায়ের কাছে পুজো দেন।এলাকাবাসীর অভিভাবক হিসেবে তিনি পাঁতিহালে বিরাজ করছেন।পাঁতিহাল মহেশতলা বারোয়ারি বহু বছর ধরে হাওড়া জেলার অন্যতম প্রাচীন এই পুজোকে সুনামের সাথে আয়োজন করে চলেছেন।প্রাচীন ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে অক্ষুন্ন রেখে মা মণ্ডলা,পাঁতিহাল তথা সম্পূর্ণ জেলার প্রানের দেবী হিসেবে পূজিতা হয়ে আসছেন।
পাঁতিহাল গ্ৰামের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মণ্ডলা কালী মায়ের রূপ সত্যিই অসাধারণ।সেই রূপকেই মানবীর শরীরে রূপদানের চেষ্টা করা হয়েছে। মানবীর বন্ধ নেত্রের উপর মায়ের চক্ষু দান করা হয়েছে। মা তো সর্বত্রই আছেন।তিনি মৃন্ময়ী রূপ ধরে এসে চিন্ময়ী হন।তাই মানবীর দেহে মায়ের রূপদান।আসুন আমরা সকলেই সেই পরমা শক্তির কৃপা লাভে ধন্য হই।
।।জয় মা মণ্ডলা।।
ভালো লাগলে সকলের মাঝে পৌঁছে দেবেন।সকলের পাশে থাকা একান্ত কাম্য।
কলমে : Suddhasil Ghosh
ধন্যবাদ জানাই এই প্রোজেক্টের সাথে জড়িত সকলকেই। Rimpa Charit রৌণক সামন্ত Ritesh Panja suddhasil Biswanath Dey Biswas Souvik Singha Roy Tuhin Show chayan Chandana Bhattacharya samadrito, ramprasad তারা না থাকলে এই ভাবে কাজটি সম্পন্ন করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না।
আগামী ৫ই জুন মায়ের পুজো।
মা সবার মঙ্গল করো🙏🙏🌺
ধন্যবাদ।