19/05/2026
প্রবাস থেকে পরিচালিত হচ্ছে সাকিবের ভ/য়ং/কর 'স্লি/পার সেল' ডিজিটাল চাঁদাবাজ থেকে চ/রম/পন্থী ‘মাস্টারমাইন্ড’ সাকিব!
প্রবাসে বসে ডিজিটাল ব্ল্যা/কমেইল,হা/নি ট্র্যা/প এবং তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে শতকোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ার পর এবার সরাসরি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে কথিত সাংবাদিক নাজমুস সাকিব। ফ্লোরিডায় বসে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অবৈধ অর্থের জোরে সে বাংলাদেশজুড়ে তৈরি করছে এক গোপন চরমপন্থী নেটওয়ার্ক বা 'স্লি/পার সেল'।
সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘ভুয়া যোদ্ধা’ গ্যাজেট বাতিলের সরকারি উদ্যোগের সূত্র ধরে বেরিয়ে এসেছে সাকিবের এই ভ/য়ং/কর মা/স্টারপ্ল্যান।
অপরাধ বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাকিবের অতীতের ডিজিটাল চাঁদাবাজি এবং ই/স/রা/য়ে/লি হ্যা/কারদের সাথে আঁ/তাতের চেয়েও এই নতুন ‘স্লিপার সেল’ প্রজেক্ট রাষ্ট্রের জন্য হাজার গুণ বেশি বি/পজ্জনক।
ভুয়া ‘জুলাই-যোদ্ধা’ কেলেঙ্কারি এবং সাকিবের রিক্রুটমেন্ট
সম্প্রতি সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্পৃক্ত না হয়েও অবৈধভাবে ‘জুলাই-যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ১০৪ জন ভুয়া ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া একই ব্যক্তির নামে একাধিকবার গ্যাজেট প্রকাশ হওয়া ২৩ জনের একটি গ্যাজেট রেখে বাকিগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে,প্রভাবশালীদের রেফারেন্সে এই তালিকার বাইরেও অসংখ্য ভুয়া যোদ্ধা লুকিয়ে আছে।
গভীর অনুসন্ধানে জানা যায়,এই তালিকার একটি বড় অংশের নেপথ্যে রয়েছে নাজমুস সাকিব। ফ্লোরিডায় বসে বিএনপির কিছু ক্ষমতাবান নেতার প্রভাব খাটিয়ে সে তার নিজস্ব অনুসারীদের ‘ভুয়া জুলাই-যোদ্ধা’ বানিয়েছে। এরা বর্তমানে সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। আর এই অনৈতিক সুবিধার বিনিময়েই তারা সাকিবের নির্দেশে কাজ করছে গোপন ‘স্লিপার সেল’ বা চরমপন্থী গ্যাং হিসেবে। বিদেশ থেকে অনুদানের নামে অবৈধ অর্থ পাঠিয়ে সাকিব এই প্রজেক্টে নিয়মিত বিনিয়োগ করে যাচ্ছে।
সাকিবের ‘গো/পন সে/নাবা/হিনী’র গঠনতন্ত্র
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে,বিভিন্ন ভ/য়ংকর স/ন্ত্রা/সী সংগঠন সৃষ্টির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সাকিবের কাজের ধরনে সেই একই ফর্মুলার প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। সে ধীরে ধীরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিশোর ও তরুণদের হাতে অর্থ, ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা তুলে দিচ্ছে। নিজেকে তাদের কাছে ‘ত্রাণকর্তা’ বা হিরো হিসেবে প্রমাণ করতে ফ্লোরিডায় বসেই অবুঝ তরুণদের ব্যক্তিগত নানা সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছে সে। মূলত, এর মাধ্যমে সে তাদের ব্রেনওয়াশ করে অন্ধ অনুসারীতে পরিণত করছে।
তার এই গোপন নেটওয়ার্কে ইতোমধ্যেই কয়েকটি সুনির্দিষ্ট সেল বা বিভাগ কাজ করছে:
• আদর্শিক প্রচারক: যারা সাকিবের এজেন্ডা তরুণদের মগজে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
• সমন্বয়ক: মেধাবী তরুণ,যারা মাঠপর্যায়ে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
• সাইবার ও টেকনিক্যাল সেল: এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ,ভুয়া পরিচয় তৈরি,ডিজিটাল নিরাপত্তা, হ্যাকিং এবং অনলাইনে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে পারদর্শী একদল প্রযুক্তি-দক্ষ সদস্য।
সমাজবিজ্ঞান ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের শঙ্কা,আধুনিক চরমপন্থা যেহেতু মূলত “স/হিং/সতা নির্ভর”, তাই সাকিব খুব শিগগিরই তার দলে অ/স্ত্রচা/লনা,বি/স্ফোর/ক ও নিরাপত্তা কাঠামো সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের রিক্রুট করা শুরু করবে।
আন্তর্জাতিক কেস স্টাডি: সাকিবের চরমপন্থার ভবিষ্যৎ কতটা বিধ্বংসী?
আন্তর্জাতিক চরমপন্থী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর উত্থানের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে সাকিবের এই স্লিপার সেল মডেলের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়:
১. মেক্সিকান কার্টেল এবং মাফিয়াদের ‘রবিনহুড কমপ্লেক্স’: মেক্সিকোর 'লস জেটাস' বা পাবলো এসকোবারের মতো ড্রাগ লর্ডরা শুরুতে সাধারণ তরুণদের ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান,অর্থ ও ক্ষমতা দিয়ে সমাজে নিজেদের 'ত্রাণকর্তা' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তরুণরা একসময় অন্ধবিশ্বাসে তাদের জন্য জীবন দিতে বা নিতে প্রস্তুত হয়ে যায়। সাকিব ফ্লোরিডায় বসে ঠিক সেই ‘রবিনহুড’ সাজার চেষ্টা করছে। তরুণদের ইমোশনকে পুঁজি করে সে মূলত রাষ্ট্রের ভেতরে তার নিজস্ব একটি ‘সশস্ত্র প্রাইভেট আর্মি’ বা মিলিশিয়া তৈরির পথে এগোচ্ছে।
অ/পরাধের মহাসমুদ্র: অতীত ও বর্তমানের যোগসূত্র
সাকিবের এই চরমপন্থী সেল গঠনের খবর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি তার ধারাবাহিক অপরাধজগতের চূড়ান্ত রূপ। এর আগে তার বিরুদ্ধে যেসব জঘন্য অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তার প্রতিটিই এই চরমপন্থী সেলকে টিকিয়ে রাখার রসদ জোগাচ্ছে:
• চাঁদাবাজি ও মানি লন্ডারিং: দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের (যেমন- বসুন্ধরা, হামিম, থার্মেক্স গ্রুপ) নিয়ে ভুয়া ‘ফটোকার্ড’ বানিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা এবং কারাবন্দিদের জিম্মি করে আদায় করা চাঁদার ডলার ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশে পাঠিয়ে সে এই স্লিপার সেলে অর্থায়ন করছে।
• ই/স/রা/য়ে/লি হ্যাকারদের সাথে আঁতাত: বাংলাদেশের রিজার্ভ হ্যাক করার জন্য সে যে ইসরায়েলি প্রযুক্তি কোম্পানির সাথে চুক্তি করছে, সেই হ্যাকিং প্রক্রিয়ায় দেশের ভেতরকার সাইবার সহায়তা দেওয়ার জন্যই মূলত তার এই গোপন আইটি বা সাইবার সেলকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
• হানি ট্র্যা/প ও চ/রি/ত্র হ/নন: সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ থেকে শুরু করে প্রবাসীদের হা/নি ট্র্যা/পে ফেলে সে যে জি/ম্মি দ/শা তৈরি করে, তার মূল উদ্দেশ্যই হলো এই চরমপন্থী নেটওয়ার্কের জন্য ব্ল্যা/কমেইল করে অর্থের জোগান নিশ্চিত করা।
নাজমুস সাকিব এখন আর কেবল একজন বিতর্কিত ব্যক্তি বা ডিজিটাল চাঁদাবাজ নয়; সে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক টাইম বোমায় পরিণত হয়েছে।
এখনই ইন্টারপোল এবং আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সহায়তায় এই ‘মাস্টারমাইন্ড’কে আইনের আওতায় আনা না গেলে, ভবিষ্যতে এই চরমপন্থী স্লিপার সেলের বিস্ফোরণে রাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে।