03/12/2023
ছবির পেছনের গল্প --
হসপিটাল থেকে বাসায় ফেরার পথ দুটো ,এক্টা হাই স্পিডে যাওয়ার অন্যটি ম্যাক্সিমাম ৩০ স্পিডে যাওয়া যায়। কেমোথেরাপি দেয়ার আগের দিন হসপিটালে জরুরী এক্টা টেস্ট করার জন্য যেতে হয়েছিল ,ফেরার পথে নেভিগেশন কম স্পিডে যাওয়া পথটি ধরে নিয়ে এসেছিল।
আমি সারা জীবনই সারা ঋতুতে পথের দুধারের দৃশ্য দেখতে থাকি ,একই রাস্তায় বার বার গেলেও চোখ দুই ধারের বাড়িঘর ,গাছপালা ,জংগল ,দোকানপাট গাড়ি ,গ্যারেজ ,বাগান যাইই থাকুক তা দেখতে থাকি।যে কেউ দেখলে ভাবতে পারে জীবনের প্রথম আমি গাড়িতে চড়েছি।এই রাস্তাটা ধরে বাড়িতে খুব কম ফেরা হয় ,কিন্তু সারিবদ্ধভাবে এই গাছ গুলো আমার সব সময়ই ভালো লাগতো,অনেকদিন ভেবেছি এখানে ফটোগ্রাফি করতে আসবো।
এই জায়গাটা আমার বাসা থেকে নয় মিনিটের ডাইভ। ২০১৮ সাল থেকে ভাবছিলামই ,কিন্তু ফটোগ্রাফি করতে আর আসা হয় নি।
তো সেদিন এই পথ দিয়ে ফিরছিলাম ,আর দু পাশের দৃশ্য দেখছিলাম।অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল অটামের হলুদ বা কমলা পাতায় ভরা এমন এক্টি ব্যাকগ্রাউন্ডে ফটোগ্রাফি করার।
মিনশেকে অনুরোধ করে গাড়ি থামিয়ে মোবাইলে কয়েক্টি ছবি ও ভিডিও করে বাসায় ফিরলাম।
সেদিনই ছিল হাতে এক্টি দিন,অটাম একবারে শেষ দিকে অনেক এলাকায় গাছেদের পাতা ঝরানো শেষ।প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছিল।বেশির ভাগ জায়গার গাছের পাতা আর বৃষ্টির পানি মিশে কেমন মিয়ে গিয়েছে রং। কাংখিত সেই এড়িয়ার পাতাও পঞ্চাশ ভাগ ঝরে গিয়েছে। তাও কি যে মোহনীয় এক দৃশ্য ,কি যে সুন্দর।
বাসায় এসে যোহর সালাত আদায় করে ,হাতের টুকটাক কাজ সেরে ছেলেকে আবার অনুরোধ করলাম।প্রথমে রাজি হয় নি ,আমার মলিন মুখ দেখে বললো "আচ্ছা রেডি হও "।
এদিকে আকাশ এই রোদ আবার এই অন্ধকার হয়ে আসছে।মনে মনে বললাম যা হয় হবে।আজ না তুলতে পারলে এবছর আর তোলা হবে না।
আমার কেমো দেয়ার পর প্রথম ১২/১৩ দিন প্রচন্ড শরীর খারাপ থাকে। আল্লাহর অশেষ কৃপায় কয়েকদিন এক্টু ভালো থাকার পর পরের সেশনের কেমো দেয়ার দিন এসে যায়। আর সেদিনের পর অটামের এই পাতা দু একদিনের মধ্যেই সব ঝরে যাবে। তাই তাড়াতাড়ি হাতের কাছে যা পেয়েছি তা গুছিয়ে গাড়িতে বসলাম। তারপর খুব দ্রুত গতিতে ট্রাইপড ,টেবিল ,চেয়ার সেট করে শট নেয়া।