Hanif Chowdhury

Hanif Chowdhury Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Hanif Chowdhury, Photography Videography, 18 Daffodil Place, Brampton, ON.

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ. ___________________​ বাংলাদেশ চিরকালই ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহনশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।...
06/20/2026

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ. ___________________

​ বাংলাদেশ চিরকালই ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহনশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠীর এই দেশে যুগ যুগ ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ভোগ করে আসছে, তা সমসাময়িক বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় বিরল। বহিরাগত নানা চক্রান্ত ও উসকানি সত্ত্বেও এ দেশের সাধারণ মানুষ সবসময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রেখেছে।

​ উদ্বেগের বিষয় , সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের এই দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট মহল থেকে নানামুখী অপ তৎপরতা । বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী এবং আমাদের এই দেশে তাদের মদদপুষ্ট ব্যক্তিরা অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানার অপচেষ্টা পরিলক্ষিত।

​ "'চৈতালি চক্রবর্তী'" নামক এক আইনজীবীর মুখে এ দেশের একটি বিশেষ অংশকে নিয়ে হিন্দুদের জন্য পৃথক প্রদেশের দাবি, কিংবা বাংলাদেশে নিযুক্ত সদ্য ভারতের কূটনীতিক "দীনেশ ত্রিবেদী" অখণ্ড ভারত ধারণা উসকে দেওয়ার মতো অবান্তর বক্তব্য—আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি এক ধরনের ধৃষ্টতা। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এ ধরনের বিভাজনমূলক এবং উসকানিমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

​দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এ দেশের অভ্যন্তরে থাকা কিছু স্বার্থান্বেষী সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, কিংবা সুবিধাভোগী অংশ এই উগ্রবাদী আচরণ ও বক্তব্যকে প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ ভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েই চলেছে যাহা জনমনে গভীর ক্ষোভ এর জন্ম দিয়ে চলেছে। এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে ধরনের কঠোর আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান নয়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত।

​ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক হোক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও সম্মানের । কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ বা উসকানিমূলক আচরণ একটি সুস্থ বন্ধুত্বের পরিপন্থী। দেশের অভ্যন্তরে বসে যারা অন্য রাষ্ট্রের এজেন্ডা বাস্তবায়নে উন্মুখ এবং সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের এই আচরণ রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

​জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সরকার তথা বর্তমান প্রশাসনের উচিত, এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই। "ধন্যবাদ"

06/16/2026

রাজনৈতিক অলঙ্কার l
__________________________
​বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ. এম. এরশাদের শাসনামলে নারীদের জন্য ৩০টি আসন সংরক্ষিত করার প্রথা চালু হয়। সেই সময় প্রখ্যাত সাংবাদিক শফিকুর রহমান তার 'যায়যায়দিন' পত্রিকায় এই উদ্যোগকে বিদ্রুপ করে লিখেছিল "সংসদের ৩০ সেট অলঙ্কার" হিসেবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও এই ‘অলঙ্কার’ তকমাটি যেন আজও ঘুচলো না।

​নারীর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখেই প্রশ্ন তুলতে হয়—সংসদের সংরক্ষিত এই আসনগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য কি ?

প্রতিটি সংসদ নির্বাচনেই দেখা যায়, সংরক্ষিত এই আসনগুলোতে দলীয় প্রধানের অনুগত এবং পছন্দের নারীদেরকে সংসদ সদস্য মনোনীত করা হয়। অত্যন্ত হতাশার বিষয় যে, হাতেগোনা দু-একজন বাদে মনোনীত অধিকাংশ নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে রাষ্ট্রীয় বা সংসদীয় প্রজ্ঞার অভাব প্রকট। তারা নিজেদের জন প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তোলার চেয়ে দলীয় প্রধানের তোষামোদ আর চাটুকারীতাই বেশি ব্যস্ত থাকেন। এই সংস্কৃতি সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে ।

পোশাক ব্যক্তিগত স্বাধীনতা l সে যে ধর্মের বা বর্ণের হোক তার পোশাকের প্রতি কটাক্ষ শালীনতার চরম অবমাননা l সে নারী হোক কিংবা পুরুষ l যখন দেখা যায়, সংসদ সদস্যরাই অন্য সহকর্মীর পোশাক বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছেন। তখন সেটা ওই নারী কিংবা পুরুষের প্রতি অসম্মান এবং তার ব্যক্তিগত রুচির উপর হস্তক্ষেপ l অথচ যাদের দ্বারা এই সংস্কৃতি রচিত হওয়ার কথা, তাদেরই মধ্যে এক জনৈক সংসদ সদস্য "মনিরুলের" হিজাব পরিহিত নারী সদস্যদের নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্য। তিনি হিজাব পরিহিত নারী সদস্যদের উপস্থিতিকে বিদ্রূপ করে সংসদে বলেন , তাদের মুখ তিনি দেখতে পান না। এটি কেবল একজন ব্যক্তির মন্তব্য নয়, বরং এটি একটি দলের গভীর সংকীর্ণ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

​আশ্চর্যের বিষয় হলো, যখনই এমন নারীবিদ্বেষী বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য , তখন অন্য অনেক নারী সংসদ সদস্যও প্রতিবাদ করার পরিবর্তে টেবিল চাপড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। যারা নারীদের অধিকার ও মর্যাদার কথা বলে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছেন, তাদেরই এমন আচরণ কেবল লজ্জাজনক নয়, বরং এটি সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের নৈতিক অবস্থানের দৈন্যদশাকেই ফুটিয়ে তোলে।

সংসদীয় সংরক্ষিত নারী আসনের প্রক্রিয়াটি আজ অনেকাংশেই প্রশ্নবিদ্ধ। দলীয় হাই কমান্ডের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার প্রতিযোগিতায় মেধা ও যোগ্যতা আজ গৌণ। নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে তাদের ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তারা যেন কেবল সংসদীয় বিতর্কে সংখ্যার যোগানদাতা বা দলীয় অলংকার ছাড়া আর কিছুই নয়। আমরা চাই না নারীদের দিয়ে সংসদ কেবল ‘অলঙ্কার’ বা ‘মনোরঞ্জনের’ কোনো জায়গা হোক। সংসদের পবিত্রতা রক্ষা এবং নারী মর্যাদার সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। যদি সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যরা নিজেদের প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় না দিয়ে কেবল অনুগত তোষামোদকারী হিসেবে টিকে থাকেন, তবে তারা যে কেবল নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছেন তা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক নারী সমাজের প্রতিনিধিত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছেন। "ধন্যবাদ ,

06/04/2026

সুস্থ রাজনীতি ও সচেতন নাগরিক____________________

​একটি দেশের প্রাণশক্তি তার জনগণ এবং সেই দেশের চালিকাশক্তি তার রাজনীতি। যখন রাজনীতি জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থ, চরিত্রহনন এবং মিথ্যা বয়ান তৈরির হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন পুরো সমাজ কাঠামো ভেঙে পড়ে। আজকের ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রপাগান্ডা বা মানহানিকর প্রচার চালানো সমাজকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন এবং কঠোর আইনি কাঠামোর সমন্বয় প্রয়োজন।

​বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য সত্যতা যাচাইহীন একটা মিথ্যা বানোয়াট বয়ান তৈরির প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু গণমাধ্যমে এসব তথ্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষের বীজ বপন করে। যার প্রকৃষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং আসিফ মাহমুদ এর এলাকার বরাদ্দ অর্থ, ব্যক্তি বিশেষ এর উপর চাপিয়ে দেওয়া l সাধারণ মানুষ, যারা অনেক সময় আবেগতাড়িত হয়ে বা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আশায় এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই অন্ধ অনুসারী হয়ে পড়েন, তারা শেষ পর্যন্ত পরবর্তী সরকারে সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এর ফলে রাজনৈতিক দলাদলি কেবল আদর্শিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাত পর্যন্ত গড়াই l

​একটি উন্নত ও সভ্য সমাজে মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকবে, কিন্তু তা যেন অন্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার লাইসেন্স না হয়। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ যেকোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার আগে জনসমক্ষে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা অনৈতিক ও অমানবিক। তাই, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা বয়ান এবং মানহানিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনগুলোকে আরও যুগোপযোগী ও কঠোর করা বাঞ্ছনীয়। আইনের প্রয়োগ এত কঠোর হওয়া উচিত , যেন কেউ কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া অন্য কারো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক চরিত্রহননের দুঃসাহস না করে। এটি কেবল বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়াবে না, বরং রাজনৈতিক পরিবেশের দূষিত বর্জ্য থেকে দিনে দিনে উত্তরণের প্রয়াস l

রাজনৈতিক দলের অনুসারী হওয়া দোষের নয়, কিন্তু দাসত্ব করা বা দলের ভুলকে সঠিক বলে দাবি করা মানসিক বিকাশের অন্তরায়। দেশ ও জাতির স্বার্থকে রাজনৈতিক দলের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে শিখলে সমাজ অনেক বেশি এগিয়ে থাকবে l কোনো নেতার তোষামোদি করে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে তা নিজের এবং দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদি প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থানে দায়িত্বশীল হই, তবেই এমন এক সমাজ গঠন সম্ভব যেখানে মিথ্যা বয়ানের চেয়ে সত্যের জয় হবে এবং বিভাজনের চেয়ে ঐক্যই হবে দেশের শক্তি। ধন্যবাদ

06/02/2026
05/31/2026

জায়গায় জায়গায় অনির্বাচিত প্রশাসক বসিয়ে দিয়ে অপতথ্য ছড়ানো বিএনপি'র মূল ধারার সঙ্গে যায় না

বাংলাদেশ: সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব____________________________​বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আমরা দেখেছি প্রায় ২...
05/29/2026

বাংলাদেশ: সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব____________________________

​বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আমরা দেখেছি প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি ছোট-বড় গোষ্ঠী বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথে আন্দোলন এ ছিল। অথচ সেই সরকারের মূল কাজ ছিল কিছু মৌলিক নির্বাচনী সংস্কার ও জাতীয় সংস্কার সম্পন্ন করা। বিগত ১৬-১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী দেশের সংবিধানকে নিজেদের সুবিধামতো বারবার কাটা ছেঁড়া করে এমন এক শাসনতন্ত্র তৈরি করেছিল, যার ওপর ভর করে প্রতিবাদী জনগণের ওপর চালানো হয়েছিল রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের স্টিমরোলার। সেই দুঃসময়ে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা হয় দেশের বাইরে , না হয় দেশের ভেতরে থেকেও নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। আর কিছু সুবিধাবাদী বিরোধী নেতা ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে গোপন আঁতাত করে অবলীলায় ব্যক্তিগত ফায়দা লুটে ছিল।

​দুর্ভাগ্যবশত, আজ সেই নেতারাই আবার '৭২-এর সংবিধানের দোহাই দিয়ে কথা বলছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টদের সুরেরই প্রতিধ্বনি । তারা যেন ভুলে গেছেন ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের সেই রক্তঝরা দিনগুলোর কথা, যেখানে শিশুসহ প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ মানুষ রাজপথে শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ হাজারের বেশি যোদ্ধা পঙ্গুত্ব বরণ করে আহত অবস্থায় কাতরাচ্ছেন এখনো। বিবেকবান মানুষের কাছে প্রশ্ন—গত ৫৪ বছরে এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমাদের কী দিয়েছে? দিয়েছে চাঁদাবাজি, রংবাজি, টেন্ডারবাজি আর চরম নৈতিক অবক্ষয়। সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে প্রতিটি সরকারি অফিস ঘুষখোরদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র নেতৃত্বের নামে চলেছিল বড় বড় টেন্ডারবাজদের দম্ভ ও পেশিশক্তির মহড়া।

​ ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দৃশ্যমান ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশে যে নানামুখী অবরোধ ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল, তার পেছনে ছিল বিএনপি'র মধ্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের দালালদের গভীর রাজনৈতিক হাত। এবং প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী কিছু ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, যারা ফ্যাসিবাদের 'নূনের গুণ' শোধ করতে মরিয়া ছিল, তারা জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করতে নানামুখী ষড়যন্ত্র করেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এবং ফ্যাসিস্টদের সুবিধাভোগী বিএনপি'র উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক শক্তির নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে প্রায় ৫০০-এর অধিক শীর্ষ ফ্যাসিস্ট নেতা নির্বিঘ্নে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

​অন্যদিকে, সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার হাতে পেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করার দিকে মনোযোগ দিয়েছিল বেশি। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্থানে ভীত হয়ে বিএনপিও কৌশলগত কারণে সেনাবাহিনীর ব্যবস্থার প্রতি মৌন বা প্রকাশ্য সম্মতি জানিয়েছিল। আজ জাতীয়তাবাদের শক্তি ক্ষমতায় কিন্তু মনে হয় না দেশ তাদের নিয়ন্ত্রণে l মনে হয় ক্ষমতার সুপ্রিম পাওয়ার ব্যাকস্টেজে অন্য কারও হাতে l যার কারণে আজ সংবাদপত্রের পাতা খুললে শাপলা চত্বরের নির্মমতা, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার কিংবা আয়নাঘরের রূপকারদের শাস্তির বিষয়টি যেন ক্রমশ আড়ালে চলে যাচ্ছে। মাঝখানে আবার আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে দেশ দরদী দালালেরা সাম্যের গান গাই

​বর্তমান বিএনপির ভেতরেও এক ধরনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার খেলা বর্তমান। দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সামনে রেখে, পেছনে একদল সুবিধাবাদী ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিএনপিকে সাধারণ জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এই মুহূর্তে তারেক রহমানের উচিত অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দেওয়া। দলের ভেতরের সেই সুযোগসন্ধানী ও দালাল চক্রকে চিহ্নিত করে, প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও ত্যাগী নেতাদের সামনে এনে একটি ঐতিহাসিক সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া। জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের শর্ত নিশ্চিত করে জনগণের কাতারে এসে দাঁড়ানোই হবে সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত।

​সেনাবাহিনী আমাদের জাতীয় বীর, গৌরব, আমাদের ভাই, বন্ধু এবং শক্তির প্রতীক। তাদের পেশাদারিত্ব ও শক্তিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যেন তারা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যেকোনো বহিঃশত্রুর কাছে আতঙ্কে পরিণত হয়। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি পরিচালিত হবে সম্পূর্ণ বেসামরিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়; সেখানে রাজনীতি করবেন রাজনীতিবিদরাই, আর সেনাবাহিনী থাকবে তার নিজস্ব গৌরবময় ও নিরপেক্ষ অবস্থানে।

​তারেক রহমানের আগামী দিনের জনপ্রিয় এবং একজন সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এটাই একমাত্র পথ। তা' হল জুলাই সনদ এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষা নিশ্চিত করা l অন্যথায়, দলের ভেতরের দালালদের কারণেই দল নিশ্চিত পড়বে, এক গভীর সংকটে । বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে অন্য কোনো দলের প্রয়োজন নেই, দলের ভেতরের এই নীতিহীন দালালরাই দলটির পতনের জন্য যথেষ্ট । তাই সময় থাকতেই জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে জনগণের কাতারে আসা হবে বুদ্ধিমানের কাজ l দুইশত এর অধিক আসন পেয়ে জনগণের "ভুয়া ভুয়া" ডাক আর শুনতে হবে না তখন। ধন্যবাদ ,

05/27/2026

উৎসর্গের মহিমা বনাম প্রদর্শনের অহংকার. ___________________________

​আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আযহা। মহান এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো উৎসব নয়, বরং এটি নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অন্যান্য দিবসের মতো উৎসর্গ করার এক অনন্য দিন, যার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা অত্যন্ত বিস্তৃত। একটি পশুকে আল্লাহর নামে জবেহ করার মাধ্যমে একজন মুমিন ধর্মীয় ও মানসিকভাবে নিজেকে পবিত্রতার এক সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা । তবে বাহ্যিক এই ত্যাগের মূল্যায়ন মহান আল্লাহর দরবারে কতটুকু গ্রহণযোগ্য , তা একমাত্র তিনিই ভালো জানেন।

​বর্তমান সমাজে এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা লক্ষ্য করা যায়। হাতেগোনা কিছু মানুষ ছাড়া সমাজের একটা বড় অংশ আজ ছলচাতুরি বিভিন্ন অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ এবং আভিজাত্যের অহংকারে মত্ত। দুই, চার কিংবা দশ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি পশু কেনা তাদের কাছে যেন এক মামুলি বিষয় কিংবা সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুরি, ডাকাতি, ঘুষ, দুর্নীতি আর বাটপারির অবৈধ অর্থ দিয়ে কেনা এই পশু আল্লাহর দরবারে কতটুকু হালাল বা গ্রহণযোগ্য, তা আধ্যাত্মিক ও বিবেকবোধের জায়গায় এক বিরাট প্রশ্নবোধক । পবিত্র কোরআনে বলা আছে

​"আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না ওসবের গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা ফরহেজকার। (সূরা আল-হাজ্ব )

​তাই প্রকৃত উৎসর্গ বা কোরবানি কেবল সেটাই, যা নিজের সারা জীবনের কষ্টার্জিত হালাল রুজির কিছু অংশ বিনিময়ের সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে আল্লাহর নামে উৎসর্গ করা ।

​আজ সমাজে নানারূপী মানুষের ছড়াছড়ি। কেউ উচ্চশিক্ষিত, কেউ মাঝারি শিক্ষিত, আবার কেউ হয়তো শিক্ষার আলো থেকেই বঞ্চিত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এদের অনেকেই নিজের অবস্থান থেকে দৈনন্দিন জীবনে নিজেদের বিবেককে পশুর মতো জবেহ করে সাধারণ মানুষের হক নষ্ট করাসহ সমাজের নানাবিদ অপকর্মে লিপ্ত , সমাজ পরিবার তথা বৃহত্তর সাধারন মানুষকে নিঃস্ব করছে। অথচ আজ তারাই বড় বড়, দামি দামি পশু নিয়ে আল্লাহর দরবারে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে হাজির হয়েছে। বাহ্যিক এই জাঁকজমক দিয়ে মানুষকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও, অন্তর্যামী আল্লাহকে ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব।

​মহান আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন, কার উৎসর্গ কতটুকু পবিত্র । কোরবানি হোক ঘুষ দুর্নীতি অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন এবং পরের হক নষ্ট না করা আল্লাহর দরবারে অঙ্গীকার এবং অহংকার মুক্তির l প্রদর্শনের নয় l হালাল উপার্জন উপাসনা, ঈদের প্রকৃত আনন্দ এবং পরকালের একমাত্র মুক্তির পথ । ধন্যবাদ

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও জনতার ক্ষোভ______________________​সম্প্রতি "রামিসা" নামের এক শিশুর ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো...
05/23/2026

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও জনতার ক্ষোভ______________________

​সম্প্রতি "রামিসা" নামের এক শিশুর ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলের এই সান্ত্বনা প্রশংসনীয় হলেও, এটিই কি স্থায়ী সমাধান? একই সপ্তাহে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩, ৫, ৭ কিংবা ৮ বছরের নিষ্পাপ শিশুরা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। কোথাও কোথাও গণপিটুনিতে ধর্ষকের মৃত্যুর খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। এটাই সারা বাংলাদেশের সারা বছরের চিত্র l এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, সমাজে অপরাধের গভীরতা কতটা ভয়াবহ রূপ ।

​কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ছুটে যাওয়াই রাষ্ট্রের শেষ দায়িত্ব হতে পারে না। যুগোপযোগী ও কঠোর আইনের অভাব এর প্রধান কারণ l আমাদের বিচার ব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলে অনেক অপরাধীই পার পেয়ে যায়। দীর্ঘসূত্রতার চাদরে ঢাকা পড়ে যায় ভুক্তভোগী পরিবারের

​রামিসার পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে শীর্ষ নেতাদের যে জনরোষের মুখে পড়তে হয়েছে, তা কোনো ব্যক্তি-আক্রমণ নয়। এটি মূলত প্রচলিত আইন ও শাসন ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ। এই ক্ষোভকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। কারণ, দেশের সাধারণ মানুষ এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—রাষ্ট্রের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার আমূল বদলে ফেলার সময় এসেছে। দেশের ভেতরের এই ক্ষতবিক্ষত রূপটি যারা সাহসের সাথে তুলে ধরেছে, তারা সাধুবাদের যোগ্য।

​"দীর্ঘসূত্রতা বিচার কে হত্যা করে।" কালের বিবর্তনে মানুষের মন থেকে ঘটনার দাগ মুছে যায়, আর সেই সুযোগে বারবার একই বর্বরতার পুনরাবৃত্তি ঘটে—যা অতীতেও হয়েছে, বর্তমানেও চলছে।

​বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত 'মানবিক রাষ্ট্র' হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শুধু রাজনৈতিক কৌশল দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা বন্ধ করতে হবে। জনমতের ওপর ভিত্তি করে এবং অপরাধের ধরন বিবেচনা করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংসদে কার্যকর আলোচনা করা উচিত।

​ সংবেদনশীল মামলার বিচার একটি নির্দিষ্ট ও সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা।

কিছু অপরাধের বিচার ও শাস্তি জনসম্মুখে বা দৃশ্যমানভাবে কার্যকর করা উচিত, যেন তা দেখে অন্যান্য অপরাধীদের মনে তীব্র ভয়ের সঞ্চার হয়।

​আইনের মারপ্যাঁচ বন্ধ করা ।

​শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিমের এই দেশে আজ আমরা 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' বা অন্ধকার যুগের বর্বরতাকে পুনরুজ্জীবিত হতে দেখছি। শুধু চারপাশে মসজিদ-মন্দির কিংবা ধর্মীয় উপাসনালয়ের সংখ্যা বাড়ালেই মানুষের কলুষিত মন পরিষ্কার হয় না। ধার্মিকতার বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়েও আজ বেশি প্রয়োজন আইনের কঠোর ও বিশুদ্ধ প্রয়োগ।

​অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না—আইনের এই বজ্রকঠিন বার্তাই মানুষের মনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভয় ও প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে । সমাজে দুষ্টের সংখ্যা হয়তো নগণ্য, কিন্তু তাদের ক্ষমতার দাপটের কাছে আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরীহ মানুষ প্রতিনিয়ত পিষ্ট।

​একটি প্রকৃত 'সুরাষ্ট্র' কখনো তার নাগরিকদের পিশাচ বা দানবে পরিণত হতে দিতে পারে না। রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ আর ক্ষমতার দাপট দিয়ে আর কতদিন? অনতিবিলম্বে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। ৫৪ বছরের শাসন আমলে বিএনপি 15-20 বছর নিজেরাই শাসন করেছে l দেশের কোন কিছুরই পরিবর্তন হয়নি l বিএনপির হাতে আবার সুযোগ এসেছে নিজেদেরকে একটি আদর্শ দল এবং পরিবর্তনের রাজনীতির সংজ্ঞায়িত করার l ধন্যবাদ

রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ: ___________________________​আমাদের সমাজে একটি তিক্ত সত্য হলো, ‘খারাপ’ মানুষের সংখ্যা খুব বে...
05/21/2026

রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ: ___________________________

​আমাদের সমাজে একটি তিক্ত সত্য হলো, ‘খারাপ’ মানুষের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও তারা অত্যন্ত সংঘবদ্ধ। পক্ষান্তরে, ‘ভালো’ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে আদর্শিক বিভাজন ও মতপার্থক্য এতটাই প্রকট যে, তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সত্যটি আরও স্পষ্ট এবং দৃশ্যমান।২৪শে জুলাইয়ের পরবর্তী সময়কাল থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনামল আমাদের ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়। রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা বিনির্মাণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আন্তরিকতা প্রশ্নাতীত থাকলেও, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতা এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ছিল। এটি অনস্বীকার্য যে, রাষ্ট্রের গভীরে শিকড় গেড়ে বসে থাকা দুর্নীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিস্টদের ভূত চেপে থাকায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের হাত খুলে কাজ করা ছিল এক ধরনের চ্যালেঞ্জ।

বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলেও, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তারা অনেকটাই দ্বিমুখী আচরণ পরিলক্ষিত। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করার প্রবণতা ভবিষ্যতে এই সরকারকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলবে। তথাকথিত সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সংসদে বসে থাকা বর্তমান সংবিধানের পরিপন্থী । বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মধ্যে দুইবার নির্বাচন অসংবিধানিক । এর বৈধতা একমাত্র দিতে পারে সংবিধান সংশোধন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মতে সংবিধান কোনো ওহী নয় , এটি জনগণের প্রয়োজনে পরিবর্তনযোগ্য একটি দলিল। ৫৪-৫৫ বছর ধরে যে সংবিধান কেবল দুর্নীতি, মাদক ঘুষ ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার জন্ম দিয়েছে, তাকে আঁকড়ে ধরে রাখা জাতীয় অগ্রগতির পরিপন্থী।

উল্লেখ্য যে, বিশেষ সময়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া বর্তমান সংবিধানে ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সেই বিশেষ সময়ের অপব্যবহার করে বর্তমান সিটি কর্পোরেশন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে যেভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে তুলেছে, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের জন্ম দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুষ ও দুর্নীতির হার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়া রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত। মানুষ কেবল সরকার পরিবর্তন চায়নি, তারা চেয়েছিল রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো শাসন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন l

বাংলাদেশের তখনও এবং এখনো এক ধরনের তথাকথিত সুশীল সমাজ, সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব’ হারানোর ভয় দেখিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাই সর্বদায় লিপ্ত । তাদের অনুধাবনে থাকলেও বিদ্যমান সংবিধানটি মূলত পরিবারতন্ত্র ও এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আইনি হাতিয়ার । তবুও তার পক্ষে কথার মালা গেঁথে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করাই যেন তাদের কাজ l সংবিধান সংশোধনের অর্থ রাষ্ট্র ধ্বংস নয়, বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো এবং ভঙ্গুর রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার আবর্জনা পরিষ্কার করে নতুন কাঠামোর সৃষ্টি ।

সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দেওয়া এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। একটি দায়িত্বশীল সরকারের মূল পরিচয় হওয়া উচিত জনগণের সরকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। জনগণের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন ঘটিয়ে এবং জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে সংবিধানের জরুরি সংস্কার সাধনই এখন সময়ের দাবি। ফ্যাসিবাদী ধারার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে এবং রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। মনে রাখা দরকার, রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই সংবিধান, সংবিধানের প্রয়োজনে রাষ্ট্র নয়।

05/14/2026

সীমান্তের হাহাকার
___________________
​সীমান্তে আজ জোড়া লাশ, রক্তে ভেজে মাটি,

ওদিকে চলে গেরুয়া উৎসব, উল্লাসে পরিপাটি।

হুংকারে কাঁপে আকাশ-বাতাস, দম্ভের আস্ফালন,

দেশপ্রেম কি তবে শুধু লাঞ্ছিতের ক্রন্দন?

​শিলং ফেরত মন্ত্রী শোনান সংবিধানের বাণী,

২৪ শে স্বজন হারানো চোখে কেবলই লোনা পানি।

একাত্তরের দোহাই দিয়ে ঢাকো কত শত ক্ষত?

জুলাই আজ শিকলবন্দি, বিবেকে সে আজ নত।

​ ৫৪ বছর পেরিয়ে আজ ও ব্যর্থতারই ছাপ,

প্রতিশ্রুতির আড়ালে আড়ালে কেবলই পরিতাপ।

জাতীয়তাবাদ অন্ধ যেখানে, বিবেক সেখানে মৌন,

মানুষের প্রাণ সস্তা শুধু , রাজনীতিটাই গৌণ।

Address

18 Daffodil Place
Brampton, ON
L6Y3B8

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hanif Chowdhury posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share