06/20/2026
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ. ___________________
বাংলাদেশ চিরকালই ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহনশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠীর এই দেশে যুগ যুগ ধরে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ভোগ করে আসছে, তা সমসাময়িক বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় বিরল। বহিরাগত নানা চক্রান্ত ও উসকানি সত্ত্বেও এ দেশের সাধারণ মানুষ সবসময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রেখেছে।
উদ্বেগের বিষয় , সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের এই দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট মহল থেকে নানামুখী অপ তৎপরতা । বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী এবং আমাদের এই দেশে তাদের মদদপুষ্ট ব্যক্তিরা অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানার অপচেষ্টা পরিলক্ষিত।
"'চৈতালি চক্রবর্তী'" নামক এক আইনজীবীর মুখে এ দেশের একটি বিশেষ অংশকে নিয়ে হিন্দুদের জন্য পৃথক প্রদেশের দাবি, কিংবা বাংলাদেশে নিযুক্ত সদ্য ভারতের কূটনীতিক "দীনেশ ত্রিবেদী" অখণ্ড ভারত ধারণা উসকে দেওয়ার মতো অবান্তর বক্তব্য—আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি সরাসরি এক ধরনের ধৃষ্টতা। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এ ধরনের বিভাজনমূলক এবং উসকানিমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এ দেশের অভ্যন্তরে থাকা কিছু স্বার্থান্বেষী সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, কিংবা সুবিধাভোগী অংশ এই উগ্রবাদী আচরণ ও বক্তব্যকে প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ ভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েই চলেছে যাহা জনমনে গভীর ক্ষোভ এর জন্ম দিয়ে চলেছে। এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যে ধরনের কঠোর আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান নয়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক হোক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও সম্মানের । কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ বা উসকানিমূলক আচরণ একটি সুস্থ বন্ধুত্বের পরিপন্থী। দেশের অভ্যন্তরে বসে যারা অন্য রাষ্ট্রের এজেন্ডা বাস্তবায়নে উন্মুখ এবং সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের এই আচরণ রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।
জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সরকার তথা বর্তমান প্রশাসনের উচিত, এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই। "ধন্যবাদ"