01/06/2026
মায়া সভ্যতার একটি প্রাচীন জলের গুহায় লুকিয়ে রাখা ২৪টি শিরশ্ছেদ করা খুলি পাওয়া গেছে, যার প্রতিটির দাঁতে চমৎকারভাবে জেড পাথর (এক ধরণের মূল্যবান সবুজ রত্ন) দিয়ে নকশা করা ছিল।
দেহ বিচ্ছিন্ন করার এই নিখুঁত ও নির্ভুল পদ্ধতিটি এমন এক বীভৎস ধর্মীয় নরবলির ইঙ্গিত দেয়, যা অভিজ্ঞ প্রত্নতাত্ত্বিকদেরও চমকে দিয়েছে।
জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নিকোলাউস সিফেল্ড, উক্সুল (Uxul) শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার সময় ১৪০০ বছরের পুরোনো এই গণকবরের সন্ধান পান। মৃতদেহের অংশগুলো একটি কৃত্রিম গুহায় রাখা হয়েছিল, যা মূলত পানির আধার বা জলাধার হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
খুলিগুলোর সবকটিই গুহার ভেতরে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, দেহের বাকি অংশের সাথে সেগুলোর কোনো মিল বা সংযোগ ছিল না। এমনকি বেশিরভাগ চোয়ালের নিচের অংশও মাথা থেকে আলাদা করা ছিল। ঘাড়ের হাড়ের (cervical vertebra) ওপর কুড়ালের আঘাতের চিহ্ন থেকে এটি পরিষ্কার যে তাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল।
কিছু কিছু খুলির দাঁতে জেড পাথরের অলঙ্করণ দেখা গেছে, যা ধ্রুপদী মায়া সমাজে শরীর সাজানোর একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল। এই পাথরের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে কেবল উচ্চ সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই এটি ব্যবহার করতে পারতেন। পাথরের তৈরি হাতিয়ার দিয়ে দাঁতে ছোট ছোট গর্ত করা হতো এবং পরবর্তীতে সেই মাপে কেটে নেওয়া জেডের টুকরো দিয়ে তা পূরণ করা হতো।
ভুক্তভোগীদের দাঁত পরীক্ষা করে আরও দেখা গেছে যে, সামনের দাঁতগুলোতে (incisors) অত্যন্ত নিখুঁত ও জটিল নকশা খোদাই করে তা কালো কালি দিয়ে পূরণ করা হয়েছিল। তাদের খাবারের ধরণ, হত্যার পদ্ধতি এবং শরীরের অলঙ্করণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে যে, এই নিহত ব্যক্তিরা সম্ভবত কোনো প্রতিবেশী শহরের উচ্চবংশীয় বা অভিজাত শ্রেণির মানুষ ছিলেন, যাদের বন্দি করে উক্সুলে নিয়ে আসা হয়েছিল।
আইসোটোপ পরীক্ষা (Isotope analysis) থেকে জানা গেছে যে, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই উক্সুল থেকে অন্তত ৯৫ মাইল দূরে, বর্তমান গুয়াতেমালার দক্ষিণাঞ্চলীয় নিচু এলাকায় বেড়ে উঠেছিলেন। এই সমস্ত তথ্য প্রমাণ করে যে, এটি মায়া সভ্যতার ইতিহাসে আবিষ্কৃত হওয়া অন্যতম এক সাধারণ ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের নিদর্শন।