10/08/2026
কুমিল্লায় ১১২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত যে ব্যাংকটির শাখা লন্ডনেও ছিল।
কুমিল্লায় ১১২ বছর আগে প্রথম ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।একসময় কুমিল্লাকে বলা হতো ‘ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর’। এখন সেই ব্যাংকও নেই, ট্যাংকও নেই। সবই যেন কথার কথা। কালের অতলে হারিয়ে গেছে ব্যাংক।
বিলুপ্ত সেই ব্যাংকের ইতিহাসে এবার চোখ রাখা যাক। ১৯০৬ সালে বঙ্গভঙ্গ, অর্থাৎ বাংলা দুই ভাগ হওয়ার পর এদেশে ব্যবসায়–বাণিজ্য বাড়তে থাকে। কুমিল্লার মতো বড় শহরগুলো প্রশাসনিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বড় বড় শহরে তখন ব্যবসায়ী সমাজ গড়ে ওঠে। ব্যবসায়-বাণিজ্যে অর্থের জোগান দিতে প্রয়োজন পড়ে ব্যাংকব্যবস্থার।
১৯১৪ সালে তাঁরা ‘দ্য কুমিল্লা ব্যাংকিং করপোরেশন’ নামে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। নরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত নামে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর আদি বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কালিকচ্ছ গ্রামে হলেও কুমিল্লা শহরেই তিনি ব্যবসা করতেন। পেশায় আইনজীবী হলেও তাঁর নানা ধরনের ব্যবসা ছিল। মনতলা টি এস্টেট ও মনতলা ইস্পাত নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কুমিল্লা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবসাও ছিল তাঁর।
বর্তমানে কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ের যে লাল দালানটি পূবালী ব্যাংকের কার্যালয়, সেটিই একসময় ছিল কুমিল্লা ব্যাংকিং করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়। ব্যাংকটির জন্য তখন এই ভবনটি বানানো হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকাসহ কলকাতা, দিল্লি, লখনৌ, কানপুর, মুম্বাইসহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে কুমিল্লা ব্যাংকিং করপোরেশনের শাখা ছিল। এমনকি সুদূর লন্ডনেও ব্যাংকটির একটি শাখা খোলা হয়েছিল বলে জানান কুমিল্লার ইতিহাসবিদেরা। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান ব্যবস্থাপক ছিলেন কুমিল্লার আরেক সন্তান সুকুমার সেন।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর কুমিল্লা ব্যাংকিং করপোরেশনের সার্বিক পরিস্থিতি বদলে যায়। ১৯৫০ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাঙালিদের আরও তিনটি ব্যাংকের সঙ্গে কুমিল্লা ব্যাংকিং করপোরেশনকে নিয়ে ভারতে গঠিত হয় ইউনাইটেড ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। কুমিল্লার ব্যাংকটির মূল প্রতিষ্ঠাতা নরেন্দ্র চন্দ্র দত্ত ইউনাইটেড ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার পরিচালক নিযুক্ত হন।