SM Tarek vlogs

SM Tarek vlogs Personal Vlog, Travel, Riding, Food & Drink Vlog, Photography etc.

12/03/2026

সোনারগাঁও ,নারায়গজ্ঞ । যেটা প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগে বাংলার বারো ভূইয়াদের রাজধানী ছিল। শহরটি তৎকালিন সময় পরিকল্পনা এবং কাঠামোগত অতি আধুনিক ছিল । যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে এবং স্বাক্ষী হিসাবে কিছু কাঠামো আজো জাড়িয়ে আছে ।

02/03/2026

সোনারগাঁও ,নারায়গজ্ঞ । যেটা প্রায় সাড়ে চারশো বছর আগে বাংলার বারো ভূইয়াদের রাজধানী ছিল। শহরটি তৎকালিন সময় পরিকল্পনা এবং কাঠামোগত অতি আধুনিক ছিল । যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে এবং স্বাক্ষী হিসাবে কিছু কাঠামো আজো জাড়িয়ে আছে ।

21/02/2026

রাজশাহী এক্সপ্রেস টাংগাইলের ইব্রাহিমবাদ ষ্টেশন পাসিং হবার সময়......

নাম না জানা জংলী ঘাস ফুল.....
21/02/2026

নাম না জানা জংলী ঘাস ফুল.....

ধনিয়া ফুল...
20/02/2026

ধনিয়া ফুল...

23/01/2026

কিছু সিংহ মিলে একটি গাধাকে বন্দী করলো।সেই সিংহের মধ্যে একটি সিংহ বললো, একে মেরো না। আমার কাছে নিয়ে এসো। ওকে নিয়ে আমার একটি বড় পরিকল্পনা আছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গাধাটিকে নিজেদের সাথে রাখলো। এর খুব আদর যন্ত করে গাধাটির বিশ্বাস জিতে নিল।

তারপর একদিন একে গাধার সমাজে ছেড়ে দিল। কিন্তু এবার গাধা আর গাধার মত নাই। বরং সিংহের মত রাজা হয়ে আসলো গাধার সমাজে। যেহেতু এই গাধার সাথে সিংহের বন্ধুত্ব ছিল তাই অন্য গাধারা একে ভয় পেতে লাগলো এবং ওর বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে দ্বিধা বোধ করতো।

সিংহ যখন গাধাটির সাথে দেখা করতে আসতো, তখন গাধাটি রাজার মত তার পিছনে একটি গাধার দল নিয়ে সিংহের সাথে দেখা করতে আসতো। আর সিংহের যাওয়ার সময় তাকে গাধা উপহার দিত খাওয়ার জন্য।
এই গাধা সিংহের মতো ক্ষমতাবান হয়ে গেল কিন্তু সে সিংহের কাছে সেই গাধাই রয়ে গেল রয়ে গেল। সে,, গাধা সমাজে রাজা হয়ে গিয়েছিল ঠিকই কিন্তু সে এমন একটি শক্তির সাথে আটকে গিয়েছিল, যেখান থেকে সে পালাতে পারছিল না।

যার কারণে সে হাজার হাজার নিরাপদ গাধাকে কোরবানি দিয়েছিল শুধু এই ভেবে যে, এতে করে সে আরো বেশি শক্তিশালী হবে এবং সে তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারবে। কিন্তু এমন একদিন এলো যেদিন সব গাধারা একজোট হয়ে সেই গাধার অন্যায়ের বিরোধিতা করলো এবং ওরা সিদ্ধান্ত নিল এরপর যখনই সিংহ আসবে তখন তাদের মধ্যে কেউ গাধার সাথে সেখানে যাবে না। তা এর পরিণাম যতই খারাপ হোক না কেন।

পরের দিন যখন সিংহ এলো তখন সেই গাধা একাই তার সাথে দেখা করতে গেল। তার পিছনে কোন গাধার পাল ছিল না। তখন গাধাটি সিংহকে অনুরোধ করে বলল যে, তার ভয় এখন গাধার সমাজ থেকে শেষ হয়ে গেছে । তাকে এখন কেউ ভয় পায় না। তার কথাও কেউ শোনে না।

এই কথা শুনে সিংহরা সিদ্ধান্ত নিল, এই গাধা তো এখন আর কোন কাজে আসবে না। তাই তারা ওই গাধাটিকে সাথে নিয়ে গেল তাদের খাওয়ার জন্য। এইভাবে শেষ পর্যন্ত সেই গাধাটিরও শিকার হয়ে গেল।।

ঠিক এইরকমই প্রত্যেকটা সমাজে এমন গাধা অবশ্যই থাকে যে নিজের
লোভের কারণে,
নিজের শক্তি বাড়ানোর জন্য,
নিজের ক্ষমতার জন্য,
নিজের সমাজকেই বিপদে ফেলে দেয়।

স্কুলের সিঁড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল তাকে। সবাই ভেবেছিল ছেলেটা শেষ।সেই ছেলেটাই আজ...... না...
31/12/2025

স্কুলের সিঁড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল তাকে।
সবাই ভেবেছিল ছেলেটা শেষ।

সেই ছেলেটাই আজ......

নাসা (NASA) কিংবা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করছে ওপেন!

গল্পটা শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়।

একটা বাচ্চা ছেলে, ভীষণ চুপচাপ আর ইন্ট্রোভার্ট।

ক্লাসের মাস্তান ছেলেরা তাকে দেখতেই পারত না।

একদিন টিফিনের ফাঁকে একদল ছেলে তাকে সিঁড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিল।

শুধু ফেলেই দিল না, ছেলেটা অজ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত তাকে লাথি মারতে থাকল।

তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো, সার্জারি করতে হলো। ওই বয়সেই ছেলেটা বুঝে গিয়েছিল, দুনিয়াটা দুর্বলদের জায়গা না। শক্তি অর্জন করতে হবে।

কিন্তু টুইস্ট হলো, সে জিমে গিয়ে বডি বানাল না। সে বডি বানাল তার ব্রেইনের।

মাত্র ১২ বছর বয়সে সে কোডিং শিখে একটা ভিডিও গেম বানিয়ে ফেলল এবং সেটা ৫০০ ডলারে বিক্রিও করল! ভাবুন তো, যে বয়সে আমরা কার্টুন দেখি, সে বয়সে সে সফটওয়্যার বেচছে!

কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকলে তার স্বপ্ন পূরণ হবে না, এটা বুঝে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সে পাড়ি জমাল আমেরিকায়। পকেটে টাকা নেই, থাকার জায়গা নেই।

কানাডায় হাড়কাঁপানো শীতে তাকে বয়লার পরিষ্কার করার কাজ করতে হয়েছে, যেখানে টেম্পারেচার থাকত অসহ্য গরম।

এক ডলার দিয়ে হটডগ আর কমলা খেয়ে দিনের পর দিন কাটিয়েছে।

কষ্টের পর সুখ আসে, তাই না? ইলনের জীবনেও এল।

সে দুটি কোম্পানি বানাল—Zip2 এবং PayPal। পেপাল বিক্রি করে সে পেল প্রায় ১৮০ মিলিয়ন ডলার।

সাধারণ মানুষ হলে কী করত?

একটা দ্বীপ কিনত, গাড়ি কিনত, আর বাকি জীবন আরাম করত। কিন্তু ইলন মাস্ক তো সাধারণ নন। তিনি করলেন এক পাগলামি।

তিনি তার সব টাকা—হ্যাঁ, আক্ষরিক অর্থেই সব টাকা—ঢেলে দিলেন এমন দুটি জিনিসে যা তখন কেউ বিশ্বাস করত না।

এক, ইলেকট্রিক গাড়ি (Tesla)। দুই, রকেট (SpaceX)।

বন্ধুরা বলল, "তুই পাগল হয়ে গেছিস! রকেট সায়েন্স তুই বুঝিস না, তোর সব টাকা ডুবে যাবে।" ইলন শুনলেন না। আর ঠিক তখনই শুরু হলো তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়—২০০৮ সাল।

এটা ছিল তার জীবনের ক্লাইম্যাক্স সিন।

স্পেসএক্স-এর প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ—ফেইল! বিস্ফোরণ।

দ্বিতীয় রকেট—আবারও ফেইল! তৃতীয় রকেট—এবার তো হবেই?

না, এবারও আকাশে গিয়ে রকেট ব্লাস্ট হয়ে গেল।

ওদিকে টেসলা কোম্পানিও ডুবছে।

গাড়ি ডেলিভারি দিতে পারছে না, টাকা শেষ। ইলনের ব্যক্তিগত জীবনও তছনছ।

তার প্রথম সন্তান মারা গিয়েছিল কিছুদিন আগে, আর এর মধ্যেই ডিভোর্স হয়ে গেল।

মিডিয়া তাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করল। বলল, "এই লোকটা একটা ভণ্ড, এর সব প্রজেক্ট ভুয়া।"

অবস্থা এমন হলো যে, ইলনের কাছে টাকা বাকি আছে মাত্র একটা লাস্ট রকেট লঞ্চ করার। অথবা এই টাকা দিয়ে তিনি টেসলা কোম্পানিকে কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারেন।

যে কোনো একটা বাছতে হবে। যদি টাকা ভাগ করে দেন, তবে দুটো কোম্পানিই মারা যাবে।

আর যদি একটাতে সব লাগান, আর সেটা ফেইল করে—তবে তিনি রাস্তায় বসবেন। তিনি তখন বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা ধার করে বাড়িভাড়া দিচ্ছেন।

রাতগুলো কাটছে অফিসের ফ্লোরে ঘুমিয়ে, আর দুঃস্বপ্ন দেখে চিৎকার করে জেগে উঠছেন।

ইলন নিলেন জীবনের সবচেয়ে বড় রিস্ক। তিনি স্পেসএক্স-এর চতুর্থ রকেটের জন্য প্রস্তুতি নিলেন। এটাই শেষ সুযোগ। ডু অর ডাই। দিনটা ছিল ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৮।

রকেট আকাশে উড়ল। কন্ট্রোল রুমে পিনপতন নীরবতা। এক মিনিট, দুই মিনিট... রকেট ঠিকঠাক অরবিটে পৌঁছাল! সাকসেস!

আর ঠিক তার কয়েকদিন পর, ক্রিসমাসের ঠিক আগে আগে, নাসা তাকে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের কন্ট্রাক্ট দিল।

টেসলাও শেষ মুহূর্তে ইনভেস্টমেন্ট পেয়ে গেল।

খাদের কিনারা থেকে ফিরে এল একটা মানুষ।

যে লোকটা ২০০৮ সালে দেউলিয়া হওয়ার ভয়ে কাঁদত, আজ সে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন দেখছে। স্পেসএক্স এখন রকেট ল্যান্ড করায়, যা আগে কেউ কল্পনাও করেনি।

টেসলা এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়ি কোম্পানি।

ব্রাদার, এই গল্পটা আপনাকে কেন বললাম জানেন?

আপনি হয়তো ছোটখাটো ফেইলর দেখে হতাশ হয়ে যান। পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট বা কারো কটু কথা শুনে মনে হয় সব শেষ।

কিন্তু মনে রাখবেন, যাকে ছোটবেলায় পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, যাকে ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে হাসাহাসি করেছিল, সে যদি হাল না ছেড়ে বিশ্ব জয় করতে পারে—তবে আপনি কেন পারবেন না?

ইলন মাস্কের জীবন আমাদের শেখায়—রিস্ক যত বড়, সাফল্য তত বিশাল। যখন মনে হবে সব রাস্তা বন্ধ, তখনই হয়তো আসল ম্যাজিকটা অপেক্ষা করছে।

শুধু লেগে থাকতে হবে, পাগলের মতো, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। ফোনটা রেখে এবার নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটুন। কে জানে, আপনার জেদটাই হয়তো আগামীকালের ইতিহাস!

১৪৫০-এর দশকে, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত প্রস্তাব সামনে আসে। হাঙ্গেরির এক প্রকৌশলী, নাম অ...
21/12/2025

১৪৫০-এর দশকে, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত প্রস্তাব সামনে আসে। হাঙ্গেরির এক প্রকৌশলী, নাম অরবান, তৎকালীন বাইজান্টাইন সম্রাট ১১শ কনস্টান্টাইনের কাছে একটি ব্যতিক্রমী ধারণা উপস্থাপন করেন। তিনি এমন একটি বিশাল কামান নির্মাণের প্রস্তাব দেন, যা মধ্যযুগের সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গপ্রাচীরও ভেদ করতে সক্ষম হবে। এই সুপার-কামান ব্যবহার করে কনস্টান্টিনোপলকে রক্ষার পরিকল্পনা ছিল তার।

অরবান নকশা করেছিলেন একটি বিশাল ব্রোঞ্জ নির্মিত বোম্বার্ড কামানের, যা সে সময়ের যেকোনো অস্ত্রের তুলনায় অনেক বড় ও শক্তিশালী ছিল। তবে আর্থিক সংকট এবং এই নকশা নিয়ে সংশয়ের কারণে সম্রাট কনস্টান্টাইন তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাতে ব্যর্থ হওয়ায় বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেনি।

এরপর অরবান তার প্রস্তাব নিয়ে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদের কাছে যান। সুলতান এই কামানের সামরিক সম্ভাবনা দ্রুত অনুধাবন করেন এবং নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সহায়তা প্রদান করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় অরবানের নকশা বাস্তবে রূপ নেয়।

এই কামান ছিল তৎকালীন প্রযুক্তির এক বিস্ময়। ব্রোঞ্জ দিয়ে ঢালাই করা এই অস্ত্রের ওজন ছিল কয়েক টন। এটি প্রায় ৬০০ পাউন্ডের বেশি ওজনের পাথরের গোলা নিক্ষেপ করতে সক্ষম ছিল। কামানটি পরিবহন ও চালাতে প্রয়োজন হতো অসংখ্য গরু এবং শতাধিক শ্রমিক ও সৈন্যের। শারীরিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি শত্রুপক্ষের ওপর এর মানসিক প্রভাবও ছিল ব্যাপক।

১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল অবরোধের সময় এই কামান শহরের প্রাচীন থিওডোসিয়ান প্রাচীরের বাইরে স্থাপন করা হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে একটানা গোলাবর্ষণে ধীরে ধীরে প্রাচীরে ফাটল সৃষ্টি হয়। সেই ভাঙা অংশ দিয়েই অটোমান বাহিনী আক্রমণ জোরদার করে এবং শেষ পর্যন্ত শহরের পতন ঘটে।

কনস্টান্টিনোপলের পতনের মধ্য দিয়ে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে। অনেক ঐতিহাসিক একে হাজার বছরের রোমান সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হিসেবেও বিবেচনা করেন। অরবানের তৈরি এই কামান শুধু একটি নগরপ্রাচীরই ভাঙেনি, এটি মধ্যযুগীয় যুদ্ধপদ্ধতি থেকে আধুনিক অবরোধ কৌশলে রূপান্তরের প্রতীক হয়ে ওঠে।

ইতিহাসের নির্মম পরিহাস হলো, যে অস্ত্রটি কনস্টান্টিনোপলকে রক্ষা করতে পারত, সেই অস্ত্রই শেষ পর্যন্ত শহরটির পতনের কারণ হয়। এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য বদলে দেয় এবং ইতিহাসের গতিপথে এক গভীর প্রভাব রেখে যায়। অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস জানতে দেখুন আমাদের একটি ভিডিও। লিঙ্ক কমেন্টে।
#সংগ্রহকৃত

শেখ আকিজ উদ্দিন ------শূন্য থেকে শুরু করা এক মানুষ,যিনি জীবনের কঠিন পথে হেঁটে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন কিংবদন্তি হিসেবে। শেখ...
14/12/2025

শেখ আকিজ উদ্দিন ------
শূন্য থেকে শুরু করা এক মানুষ,যিনি জীবনের কঠিন পথে হেঁটে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন কিংবদন্তি হিসেবে। শেখ আকিজ উদ্দিন,একসময়ের কমলালেবু ফেরিওয়ালা,পকেটে মাত্র ১৭ টাকা নিয়ে শুরু করেছিলেন তার জীবনের ব্যবসায়িক যাত্রা। আজ,তার প্রতিষ্ঠিত আকিজ গ্রুপ "Akiz Group" বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপগুলোর একটি,যার মালিকানায় রয়েছে ২৯টি শিল্প কারখানা এবং ৫০ হাজারেরও বেশি কর্মচারী।

শেখ আকিজ উদ্দিনের জন্ম ১৯২৯ সালে খুলনার ফুলতলা উপজেলার মধ্যেডাঙ্গা গ্রামে। তার বাবা শেখ মফিজউদ্দিন ছিলেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মা মাতিনা বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার পরিবর্তে পরিবারের জীবিকা অর্জনে মনোনিবেশ করতে হয় তাকে। শেখ আকিজ উদ্দিন স্কুলে ভর্তি হলেও দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনায় নিয়মিত হতে পারেননি। ফলে,তিনি তার বাবার ক্ষুদ্র ব্যবসায় সাহায্য করতে বাধ্য হন। মা এর দেয়া ২-৪ আনা জমিয়ে রেল স্টেশনে বাদাম,লজেন্স কিনে দুই পয়সা মুনাফার চেষ্টা ছিল আকিজের।

কিন্তু,জীবনের দারিদ্র্য এবং পরিবারের কষ্ট তাকে ঠেলে দেয় কলকাতায়। ১৯৪২ সালে,মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কলকাতায় পাড়ি জমান। কলকাতায় এসে শেখ আকিজ উদ্দিন জীবনের এক ভিন্ন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তার পকেটে ছিল মাত্র ১৭ টাকা,আর ছিল না কোনো স্থায়ী আশ্রয়,তাই তাকে শিয়ালদহ রেলস্টেশনে রাত কাটাতে বাধ্য হন দিনের পর দিন। জমানো টাকা শেষ হয়ে আসছে দেখে তিনি সিধ্বান্ত নেন অল্প পুঁজি দিয়ে কোনো ব্যবসা শুরু করবেন। প্রথমদিকে কমলা লেবু বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন। স্বল্প লাভ হওয়া সত্ত্বেও তার কঠোর পরিশ্রম এবং ইচ্ছাশক্তির জোরে এই ব্যবসা থেকে তিনি কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে সক্ষম হন।

তবে শুধুমাত্র কমলার ব্যবসা নয়,এর পাশাপাশি কলকাতায় ঠেলা গাড়িতে করে মনিহারির পশরা ও সাজান ছোট্ট আকিজ। ছোট এই ব্যবসাগুলি তাকে একটু একটু করে যখনি আত্মবিশ্বাস এনে দেয়,তখনি কলকাতার কঠিন পরিবেশ এবং আইনি জটিলতায় তিনি একাধিকবার বাধাপ্রাপ্ত হন। তাকে অনুমতি ছাড়া রাস্তায় দোকান সাজানোর জন্য পুলিশ গ্রেফতার করে এবং তাকে তিন দিনের জেল খাটতে হয়। এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও শেখ আকিজ উদ্দিন কখনো দমে যাননি। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও তিনি তার উদ্যোগ চালিয়ে যেতে থাকেন।

কিছুকাল পর,কলকাতায় তার অবস্থার উন্নতি হলেও,
তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে নিজের দেশে ফিরে আসবেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে নিজের দেশেই তার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের পথ সুগম। কলকাতা থেকে ফিরে আসার পর,তিনি খুলনায় নতুনভাবে জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেন।

খুলনায় ফিরে এসে তিনি তার পুরনো বন্ধুর নিতাই এর সাথে সাক্ষাত হয়,নিতাই এর পিতা বিধু বাবু তখন বিড়ি তৈরির ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন আর সেই বিড়ির নাম ছিল ‘বিধুর বিড়ি’। শেখ আকিজ উদ্দিন বিধু বাবুর কাছ থেকে বিড়ি ব্যবসার সমস্ত কলাকৌশল শিখতে থাকেন।তিনি বন্ধু নিতাই এর সাথে প্রায় ই যেতেন খুলনাতে তামাক কিনতে। এছাড়া বিড়ি তৈরির পদ্ধতির শিখে ফেলেন দ্রুতই। আর এই অভিজ্ঞতা ছিল তার উদ্যক্তা হওয়ার প্রেরনা।

কিন্তু হঠাত ই মৃতু এসে কেড়ে নিয়ে যায় আকিজ উদ্দিনের মা কে। মা এর শেষ ইচ্ছা পুরন করার জন্য বিয়ে করেন নিজ গ্রামের ছকিনা খাতুন কে। আর শশুর এর ইচ্ছায় স্থানিয় বাজারে মুদির দোকান দেন। গ্রাম্য হাটের দিন তার দোকানে বিড়ির আসর বসতে দেখে নিজেই বিড়ি তৈরি করা সিদ্ধান্ত নেন। ক’দিন বাদেই তিন জন কর্মচারী নিয়ে আকিজ উদ্দিন বিড়ি তৈরি কারখানা চালু করেন আর পন্যের নাম দেন আকিজ বিড়ি।

সেই সময় বিড়ি তৈরির প্রধান উপাদান টেন্ডু ও তামাক পাতা আমদানী করতে হত। স্বল্প পুজী থাকায় তাই বাজারের অন্যান্য বিড়ির সাথে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছিলেন না আকিজ। তাই তিনি বিড়ির স্বাদ,গন্ধ আর বিপনন কৌশল এর দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে থাকেন। যেহেতু তখন প্যাকেট এ কোন ব্রান্ডিং থাকতো না তাই তিনি বিভিন্ন বিড়ির প্যাকেট এ আকিজ বিড়ি ঢুকিয়ে দিতেন। আর এভাবেই তার বিঁড়ি জনপ্রিয়তা পায়।

কিন্তু আকিজের এই সাফল্য তাকে অনেক ব্যবসায়ির ঈর্ষা ও ষড়যন্ত্রের মুখে ফেলে দেয়। এক সন্ধায় দোকানে থাকা কালীন অবস্থায় আকিজ ও তার সহকারি মহন আগুন দুর্ঘটনার স্বীকার হোন। এক নিমিষে শেষ হয়ে যায় আকিজের সমস্ত পুঁজি। পথে বসে যান আকিজ উদ্দিন। কিন্তু দমে না গিয়ে নিজের জমানো ৩০ হাজার টাকা দিয়ে আবার ব্যবসা শুরু করেন।

১৯৫৬ সালে আকিজ একটি বেবি ট্যাক্সি কিনে নিজেই বাজারে বাজারে নিজের পণ্য সাপ্লাই করা শুরু করেন,আর ধিরে ধিরে তিনি তার ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকলে আকিজ বিড়ি দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। বিড়ি ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত লাভের টাকা তিনি আরও বড় ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে শুরু করেন।

৬০-এর দশকের শেষের দিকে,শেখ আকিজ উদ্দিন পাট ব্যবসায় প্রবেশ করেন। পাট তখন ছিল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক পণ্য। তার বিড়ির ব্যবসা থেকে প্রাপ্ত সঞ্চয় দিয়ে তিনি পাট ব্যবসায় বিনিয়োগ শুরু করেন। বিড়ি কারখানার জন্য কেনা ২০ বিঘা জমির একাংশে তিনি পাটের গুদাম হিসাবে ব্যবহার করা শুরু করেন। এই সময় পাটের ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখেন তিনি।

দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের প্রচুর চাহিদা থাকায়,শেখ আকিজ উদ্দিনের পাট ব্যবসা দ্রুত সাফল্য অর্জন করে। কিন্তু এখানেও তিনি ধাক্কা খান। তার ব্যবসায়িক অংশীদার ২ লক্ষ টাকা আত্বসাত করে পালিয়ে যান। যা পুষিয়ে নিতে আকিজের বেশ বেগ পেতে হয়। এর পর আর কখনো অংশীদারী ব্যবসা তে যোগ দেন নি আকিজ উদ্দিন।

পাট ব্যবসার সাফল্য তাঁকে নতুন খাতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে এবং এই সময়ে তিনি বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দেন। ১৯৭০ সালে এক বন্ধুর সহয়তায় ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন যা তার ব্যবসায় বেশ গতি আনে।

১৯৭৭ সালে সরকার লোকসানে চলা "ঢাকা টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিস" Dhaka To***co Industries বিক্রি করার সিধান্ত নেয়। শেখ আকিজ উদ্দিন নিজের বিড়ির ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর উদ্দ্যেশে প্রায় ৮৩ লক্ষ টাকা দিয়ে ঢাকা টোবাকোর মালিকানা স্বত্ত কিনে নেন।লোকসানে চলা এই কারখানা কে লাভের মুখ দেখান আকিজ উদ্দিন।

১৯৭৮ ঢাকা টোবাকো ইন্ডাস্ট্রিস "Dhaka To***co Industries" ছিল দেশের মধ্যে ৩য়। প্রায় ৪ হাজার লোকবল নিয়ে চলা এই কারখানায় দৈনিক প্রায় ৩৫ হাজার কোটি সিগারেট উৎপাদিত হত। ২০১৮ সালে আকিজের তামাক বিভাগ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায় জাপান টোবাকোর কাছে বিক্রি হয় যা ছিল বাংলাদেশে যা ছিল তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে বড় একক প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ।

১৯৮০-এর দশকে শেখ আকিজ উদ্দিন চামড়াশিল্পে প্রবেশ করেন। এই সময়ে দেশের চামড়াশিল্প সংকটে ছিল এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে ছিল। এমনই একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল স্কটিশ এন্ড ফ্যামিলি বা "Scottish And Family" লেদার। স্কটিশ এক পরিবার এই প্রতিষ্ঠান টি চালালেও লাভের মুখ দেখতোনা। আকিজ উদ্দিন যখন এটি ক্রয় করেন,
তখন এটি ছিল একটি মৃতপ্রায় প্রতিষ্ঠান।

চামড়া ব্যবসায় অভিজ্ঞতা না থাকায় আকিজ তখন নিজের মেজ ছেলে শেখ মোমিনউদ্দিনকে লেদার টেকনোলজি "leather Technology" নিয়ে পড়াতে ইংল্যান্ড পাঠান। লেখাপড়া শেষে মোমিনউদ্দিন এসে সাফ লেদার এর কান্ডারী হোন। তিনি কারখানার আধুনিকায়ন করেন,নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসেন এবং দক্ষ শ্রমিক নিযুক্ত করেন। এর ফলে সাফ লেদার "SAF leather" দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পায় এবং বাংলাদেশকে নতুন করে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে সক্ষম করে তোলে।

১৯৯২ সালে সেজো ছেলের হাতে তুলে দেন প্রথম ম্যাচ ফ্যাক্টরির দায়িক্ত। এই ফ্যাক্টরিতে তৈরী হয় দেশের প্রথম অটোমেটেড মেশিনে "Automated Machine" তৈরি ম্যাচ ডলফিন "Match Dolphin" যা এখনো দেশের ঘরে ঘরে এখনো সমান তালে চলছে।

ঢাকার ধামরাই এ ৫০ একর জমি এবং ছেলে শেখ বশির উদ্দিন কে নিয়ে আকিজ উদ্দিন শুরু করেন আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড "Akij Food And Beverage Ltd" তাদের প্রথম পণ্য ছিল ফার্ম ফ্রেশ "Farm Fresh" দুধ যা ক্রেতা দের মধ্যে চরম সাড়া ফেলে।

এর পর ফ্রটিকা সহ জনপ্রিয় সব ব্র্যান্ড "Brand" একের পর এক বাজারে আসে আর জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। আকিজ ফুড এর কথা বললে মোজো্র নাম বলতেই হয়। জনপ্রিয় এই কোমল পানীয় এখন দেশিয় মার্কেট এ কোকা কোলা এবং পেপসির এর সাথে সমান তালে প্রতিযোগিতা করছে।

আর এত সব শিল্প প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন করে আকিজ উদ্দিন সৃষ্ট করে,আকিজ গ্রুপ "Akiz Group" এর। আকিজ গ্রুপ বর্তমানে কাগজ,বোর্ড "board" টেক্সটাইল "textile" সিমেন্ট "cement" সিরামিক "Ceramic" খাদ্যপণ্য এবং নির্মাণসামগ্রী সহ অনেক খাতে নেতৃত্বস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো এখন বাংলাদেশের শিল্প-অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং দেশের জন্য এক বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছে।

শেখ আকিজ উদ্দিনের আকিজ গ্রুপ "Akiz Group" আজ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তাঁর মৃত্যুর সময় আকিজ গ্রুপের অধীনে ছিল ৫০,০০০+ কর্মী এবং প্রায় ২৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। ২০০৯ সালের দিকে কোম্পানিটির মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৮৯ বিলিয়ন "billion" টাকা। আকিজ উদ্দিনের শ্রম,মেধা ও নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

শেখ আকিজ উদ্দিনের ব্যবসায়িক সাফল্য তাঁকে বিভিন্ন সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত করে। তাঁর প্রচেষ্টা দেশের শিল্প-বাণিজ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। তিনি পেয়েছেন বাংলাদেশ সরকার থেকে একাধিক ব্যবসায়িক সম্মাননা।

শেখ আকিজ উদ্দিন সমাজের প্রতি তার দায়িত্ববোধের জন্যও পরিচিত ছিলেন। তার সেবামূলক কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো "আদ দ্বীন ফাউন্ডেশন - Ad-din Foundation" এই ফাউন্ডেশন মূলত শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রেখে আসছে।

দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানই এর প্রধান লক্ষ্য। গ্রামীণ অঞ্চলে যেখানে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ কম,সেখানকার মানুষের জন্য এই ফাউন্ডেশনটি কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। আকিজ উদ্দিন বিশ্বাস করতেন যে,সুস্থতা ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয়। তাই,গ্রামের মানুষদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য তিনি বিনামূল্যে হাসপাতাল,ক্লিনিক এবং মেডিক্যাল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছিলেন।

শুধু স্বাস্থ্য নয়,শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিতেও তার উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। তিনি বহু স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন,বিশেষ করে যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে ছিল তাদের জন্য। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার জন্য তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন।

আদ দ্বীন ফাউন্ডেশন "Ad-din Foundation" এর বাইরে,শেখ আকিজ উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে অনেক দাতব্য কাজ করেছেন। যেমন মসজিদ নির্মাণ,
গরিবদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র এবং সমাজের দরিদ্র মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ।তার দানশীলতার কারণে তিনি স্থানীয়দের মধ্যে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।

আকিজ উদ্দিনে ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর মৃত্যু বরন করেন এবং তিনি তার পিছনে রেখে যান এক বিশাল শিল্প সাম্রাজ্য এবং একাধিক উত্তরাধিকারী। তার পরিবার বর্তমানে আকিজ গ্রুপের পরিচালনায় নিয়োজিত এবং তারা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় দায়িত্বে রয়েছেন।

আকিজ উদ্দিনের সন্তানদের মধ্যে বিশেষত দুইজন ছেলের নাম বেশ আলোচিত,শেখ নাসির উদ্দিন এবং শেখ বশির উদ্দিন। শেখ নাসির উদ্দিন বর্তমানে আকিজ গ্রুপের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করছেন,
যেখানে তিনি গ্রুপের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অন্যদিকে,শেখ বশির উদ্দিন গ্রুপের অধীনে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত।

আকিজ উদ্দিন একসময় কমলা বিক্রেতা হিসেবে জীবন শুরু করে,তিনি তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এক বিশাল ব্যবসায়ী সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন,যা আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। শুধু ব্যবসার মাধ্যমেই নয়,তার সমাজ সেবামূলক কাজ এবং মানবসেবা আজও তার নামকে উজ্জ্বল করে রেখেছে। আর তার উত্তরাধিকার রাও সেই ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বিস্তৃত ও বড় করে চলেছেন তার স্বপ্নের মতই।

#সংগ্রহকৃত

09/12/2025

ব্রিটিশ শাসনের সময় এক ব্রিটিশ অফিসার এক ভারতীয় যুবকের মুখে থাপ্পড় দেন। সাথে সাথে যুবকটিও তাঁর সমস্ত শক্তি দিয়ে বৃটিশ অফিসারকে এতো জোরে থাপ্পড় মারে অফিসার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এই অপমানে হতবাক হয়ে যাওয়া অফিসার ভাবলেন সামান্য এক ভারতীয় যুবক কীভাবে এমন এক সাম্রাজ্যের সেনা অফিসারকে থাপ্পড় মারল যে সাম্রাজ্যের সূর্য কখনো অস্ত যায় না।

তিনি দ্রুত তার পোস্টে গিয়ে ওই ভারতীয়কে কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য দাবী করলেন।
কিন্তু উচ্চপদস্থ কমান্ডার তাকে শান্ত করে বললেন ভারতীয় লোকটিকে শাস্তি না দিয়ে বরং তাকে পুরষ্কৃত করতে। আর পুরষ্কার হিসাবে তাকে দশ হাজার রুপি উপহার দিতে।

অফিসার ঘৃণায় চিৎকার করে বললেন এটা শুধু আমার, আপনার অপমান না। বরং এটা বৃটিশ মহারাণীরও অপমান। আর আপনি বলছেন তাকে শাস্তি না দিয়ে আরো পুরষ্কৃত করতে।

কমাণ্ডার এবার বললেন- এটা একটি সামরিক আদেশ আর তুমি দেরি না করে এ আদেশ পালন করবে।
জুনিয়র অফিসার তার কমান্ডারের আদেশ মেনে দশ হাজার রুপি সাথে নিয়ে ওই ভারতীয়ের কাছে গিয়ে বললেন- অনুগ্রহ করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আর এই দশ হাজার রুপি উপহার হিসাবে গ্রহণ করুন।

ভারতীয় যুবক উপহার গ্রহণ করলেন এবং ভুলে গেলেন যে তাকে তার দেশের মাটিতে এক ঔপনিবেশ সেনা অফিসার দ্বারা থাপ্পড় মারা হয়েছে।

সেই সময়ে দশ হাজার রুপি অনেক বড় অর্থ। তিনি এই অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে কয়েক বছরের মধ্যে জীবনের মান উন্নত করে বেশ বিত্তশালী হয়ে ওঠলেন। আগে ছিলেন একজন সাধারণ যুবক। এখন সমাজে বেশ প্রতিষ্ঠিত।


অনেক বছর পর সেই ইংরেজ কমান্ডার তার জুনিয়র অফিসারকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বললেন- তুমি কি সেই ভারতীয়কে মনে রেখেছো- যে তোমাকে থাপ্পড় মেরেছিলো?

অফিসার বলল: সেই অপমান আমি ভুলি কেমন করে?

কমান্ডার বললেন: এখন সময় এসেছে।তুমি তাকে খুঁজে বের করো এবং জনসম্মুখে তাকে জোরে থাপ্পড় মেরে এসো।
অফিসার বলল: সেটা কিভাবে সম্ভব। যে গরীব থাকা অবস্থায় আঘাতের পাল্টা জবাব দিয়েছিলো। আর এখন সে বেশ বিত্তবান। সেতো আমাকে মেরেই ফেলবে।

কমান্ডার বললেন: আমি যা বলছি তাই করো। এটাও তোমার উপর আদেশ।
জুনিয়র অফিসারকে আদেশ মানতে হয়। তিনি সেই ভারতীর কাছে গেলেন এবং খুর জোরে তাকে থাপ্পড় মারলেন।
কিন্তু এবার ঘটলো সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা।

ভারতীয় যুবক এবার কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। এমনকি সাহস করে অফিসারের দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারলো না।

অফিসার হতবাক হয়ে ফিরে এসে তার কমান্ডারের কাছে গেলেন।
কমান্ডার বললেন: আমি তোমার মুখে বিস্ময়ের ছাপ দেখছি। তুমি এতো বিস্মিত কেন?

অফিসার বলল: যখন সে দরিদ্র ছিলো। তখন সে পাল্টা আঘাত করেছিলো। কিন্তু আজ যখন তার বিত্ত রয়েছে তখন সে চোখ তুলে তাকাতে পর্যন্ত পারলো না। এটা কেমন করে সম্ভব।

ইংরেজ কমান্ডার ধীরভাবে বললেন: প্রথমবার তার কাছে তার সম্মান ছাড়া আর কিছু ছিল না। সে সেটাকেই সবচেয়ে মূল্যবান মনে করেছিল এবং তা রক্ষার করার জন্য সে মৃত্যু ঝুকি নিয়েও লড়েছিলো। আর এখন সে আর সেটা রক্ষার চেষ্টা করে নি। কারণ তার কাছে এখন তার সম্মানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে বিত্ত। যেদিন সে দশ হাজার রুপি উপহার হিসাবে গ্রহণ করেছে সেদিনই সে তার মর্যাদা, আত্ম সম্মানবোধ রুপির কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।

আর বিত্তের কাছে মানুষের আত্ম সম্মানবোধ যখন বিক্রি হয়ে যায় তখন যে কোন মানুষের মেরুদণ্ডও বাঁকা হয়ে যায়।

আসুন আত্মসম্মানবোধ বজায় রাখি। পদ , উপহার কিংবা কোনো কিছুর লোভে নিজেকে বিক্রি না করে নিজের মেরুদণ্ড শক্ত রাখি।

#সংগ্রহ কৃত

তিনি বিশ্বকে বদলে দেওয়ার জন্য টেলিফোন আবিষ্কার করেননি, আবিষ্কার করেছিলেন কারণ তিনি যে দুজন নারীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে...
05/12/2025

তিনি বিশ্বকে বদলে দেওয়ার জন্য টেলিফোন আবিষ্কার করেননি, আবিষ্কার করেছিলেন কারণ তিনি যে দুজন নারীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন, তারা তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেতেন না।
'অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহামবেল' সারা জীবন নীরবতার মধ্যে দিয়ে শব্দকে ধাওয়া করে গেছেন। তাঁর মা তাকে শুনতে পেতেন না। তার স্ত্রী তাকে শুনতে পেতেন না।
আর সেই অসহ্য কষ্ট যাকে ভালোবাসেন তাঁর কণ্ঠস্বর না শুনতে পাওয়া, এটাই তাঁকে মানব ইতিহাস বদলে দিতে চালিত করেছিল।

​স্কটল্যান্ডের এডিনবরা। ১৮০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়। যুবক অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল এমন একটি বাড়িতে বড় হয়ে উঠেছিলেন যেখানে নীরবতা একটি বিশেষ স্থান দখল করেছিল। তাঁর মা এলাইজা গুরুতর বধির ছিলেন। তিনি একটি কানের টিউবের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন, একটি লম্বা স্পিকিং ট্রাম্পেট তাঁর কানের সাথে চেপে ধরতেন, যাতে তিনি শব্দের ক্ষীণ কম্পন ধরতে পারেন। যখন অ্যালেক্সান্ডার তাঁর সাথে কথা বলতেন, তখন সরাসরি টিউবটির মধ্যে কথা বলতেন এবং তিনি যখন বুঝতে পারতেন, তখন তাঁর মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠত।
কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই তিনি নীরবতার মধ্যে বাস করতেন।
​তাঁর বাবা, অ্যালেক্সান্ডার মেলভিল বেল ছিলেন একজন স্পিচ বিশেষজ্ঞ যিনি "দৃশ্যমান স্পিচ টেকনিক" আবিষ্কার করেছিলেন।
এটি বধির ব্যক্তিদের শুনতে না পারা শব্দগুলি তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সঠিক শারীরিক অবস্থানগুলি দেখিয়ে কথা বলতে সাহায্য করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল।
বেল পরিবার কেবল একটি পরিবারই ছিল না, এটি ছিল শব্দ, বক্তৃতা এবং বধিরতার বাধা অতিক্রম করে যোগাযোগের চ্যালেঞ্জের একটি পরীক্ষাগার। যুবক অ্যালেক্সান্ডার আচ্ছন্ন হয়ে গেলেন এই ভেবে যিনি শুনতে পান না, তাঁর কাছে তিনি কীভাবে পৌঁছাবেন।

​১৮৭০ সালে, বেলের পরিবারে এক ট্র্যাজেডি আঘাত হানে। বেলের দুই ভাই-ই যক্ষ্মায় মারা যান। তাঁর বাবা-মা, তাঁদের শেষ জীবিত পুত্রকে একই ভাগ্য থেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে। পরিবারকে স্কটল্যান্ড থেকে কানাডার অন্টারিওর ব্র্যান্টফোর্ডে স্থানান্তরিত করেন।

অ্যালেক্সান্ডার তখন ২৩ বছর বয়সী, শোকে কাতর, একটি নতুন দেশে নতুন করে শুরু করছেন। তিনি ১৮৭১ সালে বোস্টনে চলে যান এবং তাঁর বাবার পদ্ধতি ব্যবহার করে বধির শিশুদের জন্য একটি স্কুল খোলেন। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। ছাত্ররা তাঁকে ভালোবাসত কারণ তিনি তাদের বিচ্ছিন্নতা সরাসরি বুঝতেন।
​এবং এরপরে তাঁর দেখা হয় মাবেল হাববার্ডের (Mabel Hubbard) সাথে।
​​মাবেল পাঁচ বছর বয়সে স্কারলেট জ্বরের কারণে তাঁর শ্রবণশক্তি হারিয়েছিলেন। তিনি আর কখনও শুনতে পাননি। কিন্তু তিনি ছিলেন মেধাবী, প্রাণবন্ত এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি অসাধারণ দক্ষতার সাথে ঠোঁটে পড়তে শিখেছিলেন। তিনি কথা বলতে শিখেছিলেন, যদিও তিনি নিজের কণ্ঠস্বর শুনতে পেতেন না। তখন বয়স বিশ পেরোনো বেলকে তাঁকে পড়ানোর জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল। পড়াতে গিয়ে তিনি মাবেলের প্রেমে পড়ে গেলেন।
​মাবেল ছিলেন গার্ডিনার গ্রিন হাববার্ডের মেয়ে, যিনি ছিলেন সেসময়ের একজন ধনী আইনজীবী। সম্পর্কটি অসম্ভব মনে হয়েছিল, যেখানে একজন দরিদ্র অভিবাসী শিক্ষক তাঁর ধনী ছাত্রীর প্রেমে পড়ছেন। কিন্তু মাবেল গ্রাহামবেলের মধ্যে কিছু দেখেছিলেন, যা ছিল তাঁর প্রবল সংকল্প, তাঁর দয়া ও তাঁর উজ্জ্বল মন। পরবর্তীতে তাদের বাগদান সম্পন্ন হলো। এবং বেল নীরবে একটি প্রতিশ্রুতি করলেন, আর সেটি হচ্ছে, যেকোনো উপায়ে, তিনি এমন একটি পথ খুঁজে বের করবেন যাতে সে তাঁকে শুনতে পায়।

​বেল কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন আবিষ্কারক, যিনি কিনা শব্দের যান্ত্রিকতা নিয়ে আচ্ছন্ন। দিনের বেলায়, তিনি বধির শিশুদের শেখাতেন। রাতে, তিনি তারযুক্ত সরঞ্জাম, ব্যাটারি এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক কয়েলে ঘেরা বোস্টনের একটি সংকীর্ণ গবেষণাগারে কাজ করতেন।
​তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল একটি "হারমোনিক টেলিগ্রাফ" তৈরি করা, বা এমন একটি যন্ত্র বানানো যা একই তারের উপর বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে একাধিক টেলিগ্রাফ বার্তা একই সাথে পাঠাতে পারত।
​কিন্তু তিনি যখন কাজ করছিলেন, তখন আরও একটি মৌলিক চিন্তা তাঁকে আচ্ছন্ন করল, "যদি কম্পন বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে এবং বিদ্যুৎ যদি পুনরায় কম্পন তৈরি করতে পারে" তবে কি মানুষের কণ্ঠস্বর একটি তারের মধ্য দিয়ে যেতে পারে? তিনি কি মাবেলের সাথে কথা বলতে পারবেন এবং সে তাঁকে শুনতে পারবে?
​তিনি আচ্ছন্নভাবে কাজ করে গেলেন। তাঁর সহকারী, টমাস ওয়াটসন, তাঁকে একের পর এক প্রোটোটাইপ তৈরি করতে সাহায্য করেছিলেন।

​১০ মার্চ, ১৮৭৬। বোস্টনের এক্সিটার প্লেসে বেলের পরীক্ষাগার। বেল ছিলেন একটি ঘরে। ওয়াটসন ছিলেন অন্য ঘরে, হলরুমে, গ্রহণকারী যন্ত্রটি নিয়ে। বেল নিজের গায়ে ব্যাটারির অ্যাসিড ফেলে দিয়েছিলেন। হতাশা ও যন্ত্রণায় তিনি চিৎকার করে বললেন:
​"মি. ওয়াটসন, এখানে আসুন আমি আপনাকে দেখতে চাই।"
​ওয়াটসন এটি শুনতে পেলেন। কিন্তু বাতাসের মাধ্যমে নয়। তারের মাধ্যমে, বিদ্যুতের মাধ্যমে।

​বেল ১৮৭৬ সালের ৭ মার্চ টেলিফোন আবিষ্কারের জন্য তাঁর পেটেন্ট পান। সেই বিখ্যাত প্রথম কলের তিন দিন আগে। কিন্তু ঠিক যেদিন বেল তাঁর পেটেন্ট ফাইল করেন, একই দিনে ইলিষা গ্রে নামে আরেকজন আবিষ্কারক প্রায় একই রকম একটি যন্ত্রের জন্য একটি পেটেন্ট কেভিয়াট (আবেদন করার উদ্দেশ্যের বিজ্ঞপ্তি) ফাইল করেন।

​কে প্রথম এটি আবিষ্কার করেছিলেন?
​আইনগত মামলাগুলি অবিলম্বে শুরু হয়েছিল টেলিফোন পেটেন্ট নিয়ে ৬০০ টিরও বেশি আইনি চ্যালেঞ্জ, যা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আবিষ্কারগুলির মধ্যে একটি করে তোলে। কিছু ইতিহাসবিদ এখনও বিতর্ক করেন যে বেল বা গ্রে (বা ইতালীয় আবিষ্কারক আন্তোনিও মেউচি, যিনি এর আগে একটি "টেলিট্রোফোনো" তৈরি করেছিলেন) সত্যিই কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য কিনা।
​কিন্তু বেলের পেটেন্ট বহাল রইল। আর টেলিফোন সবকিছু বদলে দিল।

​বেল খ্যাতি চাননি। তিনি আসলে এটির জন্য অনুতপ্ত ছিলেন। তিনি পরে বলেছিলেন, "টেলিফোন আমার জীবনে একটি অশান্তির কারণ হয়েছে।" তিনি তাঁর স্টাডি রুমে একটি টেলিফোন রাখতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি বধির শিশুদের শিক্ষাদানে তাঁর কাজকে যেকোনো আবিষ্কারের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন।
​কিন্তু বিশ্ব ভিন্নমত পোষণ করেছিল। টেলিফোন বলতে গেলে দুনিয়াজুড়ে ব্যপক আলোচিত ও জনপ্রিয় হলো। কয়েক বছরের মধ্যে টেলিফোন নেটওয়ার্ক শহর জুড়ে, তারপর দেশ জুড়ে, তারপর মহাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।

​বেল কখনও আবিষ্কার করা থামাননি। তিনি বিমান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন টেট্রাহেড্রাল ঘুড়ি তৈরি করেছিলেন এবং প্রাথমিক বিমান চালনা নকশা নিয়ে কাজ করেছিলেন যা রাইট ভাইদের প্রভাবিত করেছিল। তিনি হাইড্রফুয়েল বোট ডিজাইন করেছিলেন যা গতির রেকর্ড ভেঙেছিল। তিনি অপটিক্যাল টেলিযোগাযোগ নিয়ে কাজ করেছিলেন, যা ফাইবার অপটিক্সের পূর্বসূরি। তিনি শ্রবণ সমস্যা শনাক্ত করার জন্য "অডিওমিটার" তৈরি করেছিলেন। এবং সবসময়, তিনি তাঁর প্রথম ভালোলাগার কাজের কাছে ফিরে আসতেন, যা ছিল বধিরদের যোগাযোগে সহায়তা করা।

​তিনি ১৮৭৭ সালে মাবেলকে বিয়ে করেন। তাঁদের চারটি সন্তান ছিল (দুটি শৈশবে মারা যায়)। ৪৫ বছর ধরে, তাঁরা নিবেদিত অংশীদার ছিলেন। মাবেলের প্রতিভা তাঁর সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি স্বামীর আবিষ্কারের সময় তাঁর বেশিরভাগ ব্যবসায়িক বিষয় পরিচালনা করতেন।

​২ আগস্ট, ১৯২২। কানাডার নোভা স্কটিয়ায় নিজের বাড়িতে বেল মারা যান। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। আর সেসময় মাবেল তাঁর পাশেই ছিলেন।
​৪ আগস্ট, তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দিন, এমন কিছু ঘটল যা আগে কখনও হয়নি: সন্ধ্যা ৬:২৫-এ, উত্তর আমেরিকার প্রতিটি টেলিফোন নীরব হয়ে গেল। এক মিনিটের জন্য, ১ কোটি ৩০ লাখ টেলিফোন অকেজো হয়ে গেল। কোনো কল নেই। কোনো রিং নেই। কোনো কণ্ঠস্বর নেই।
​যে বিশ্বকে বেল কথা বলতে শিখিয়েছিলেন, সেই বিশ্ব নীরবতায় থেমে গিয়েছিল, সেই মানুষটিকে সম্মান জানাতে যিনি তাঁর প্রিয়জনদের জন্য নীরবতা ভাঙার চেষ্টা করে পুরোটা জীবন কাটিয়েছিলেন।

​অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল টেলিফোন আবিষ্কার করেছিলেন কারণ তাঁর মা তাঁকে শুনতে পেতেন না এবং তাঁর স্ত্রী তাঁকে শুনতে পেতেন না, এবং সেই অসহ্য দূরত্ব তাঁকে একটি পথ খুঁজে বের করতে চালিত করেছিল। তিনি বিশ্বকে সংযুক্ত করার জন্য তাঁর এই কর্মযজ্ঞ শুরু করেননি। তিনি তাঁর নিজের দুনিয়াকে সংযুক্ত করার জন্য শুরু করেছিলেন, আর তা হচ্ছে, তিনি যে দুজন নারীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন তাঁদের জন্য।
​কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত হৃদয়ের কষ্ট সমাধান করতে গিয়ে, তিনি মানবতাকে বিপ্লবী কিছু দিলেন, যা ছিল অসম্ভব দূরত্বেও প্রিয়জনদের কণ্ঠস্বর শোনার ক্ষমতা।

​টেলিফোন যুগের চাহিদার জন্য জন্ম নেয়নি। এটি জন্ম নিয়েছিল ভালোবাসার মানুষের জন্যেও। এবং সম্ভবত এই কারণেই এটি কাজ করেছিল।
​তিনি তাঁর সারা জীবন নীরবতার মধ্যে দিয়ে শব্দকেই তাড়া করেছিলেন। এবং শেষ পর্যন্ত, তিনি বিশ্বকে দূরে থেকেও কণ্ঠস্বর শুনার ক্ষমতা দিলেন।
​অ্যালেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল। শিক্ষক। আবিষ্কারক। পুত্র। স্বামী। সেই মানুষ যিনি শূন্যতার মধ্য দিয়ে বিশ্বকে কথা বলতে শিখিয়েছিলেন।
"তাঁর এই আবিষ্কার ​খ্যাতির জন্য নয়। ভালোবাসার জন্য।"

ভূমিকম্প? দৌড়াবেন না—বাঁচার চেষ্টা করুন!ঢাকার অধিকাংশ আবাসনই ৫–৭ তলার অ্যাপার্টমেন্ট। এ ধরনের ভবনে ভূমিকম্পে বাঁচা বা মা...
22/11/2025

ভূমিকম্প? দৌড়াবেন না—বাঁচার চেষ্টা করুন!
ঢাকার অধিকাংশ আবাসনই ৫–৭ তলার অ্যাপার্টমেন্ট। এ ধরনের ভবনে ভূমিকম্পে বাঁচা বা মারা যাওয়ার সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করে—আপনার প্রথম ১০–২০ সেকেন্ডে নেওয়া সিদ্ধান্ত।
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে দৌড়ে সিঁড়ির দিকে যাওয়াই সবচেয়ে সাধারণ ভুল—এবং এটিই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ।

❌ কম্পন শুরু হলে যে ভুলগুলো প্রাণঘাতী হতে পারে
১. সিঁড়ির দিকে দৌড়ানো
বিশ্বের বিভিন্ন স্ট্রাকচারাল রিসার্চ অনুযায়ী—
নিচের তলা ধসে পড়লে ওপরের তলা সরাসরি সিঁড়ির উপর ভেঙে পড়ে।

ধাক্কাধাক্কি, ভিড়, আলো নিভে যাওয়া—
৯০% মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত সিঁড়িতেই ঘটে।

২. বারান্দায় যাওয়া
বারান্দার রেলিং ভূমিকম্পে একাধিক দিক থেকে চাপ পায়, যা সহজেই ভেঙে নিচে পড়ে যেতে পারে।
৩. লিফট ব্যবহার
কম্পনে লিফট জ্যাম, দড়ি ছিঁড়ে যাওয়া, মাঝপথে আটকে পড়া—সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে।

✔️ বাঁচার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়: Drop – Cover – Hold On
১. বেডরুমে থাকলে
খাটের নিচে ঢুকে মাথা–ঘাড় ঢেকে রাখুন। খাট ভেঙে পড়লেও ভেতরে “লাইফ ট্রায়াঙ্গেল” তৈরি হয়, যা নিরাপদ।
২. ড্রয়িং/ডাইনিং
মজবুত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন।
কাঁচ, জানালা, বড় ফ্রেম, শোকেস থেকে দূরে থাকুন।
৩. কিছুই না পেলে
দেয়ালের কোণে বসে মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখুন।
একে বলা হয় “সেফ কর্নার পজিশন”—ভবন ধসে পড়লেও সাধারণত কোণার অংশ সম্পূর্ণ চাপে ভাঙে না।
৪. বাথরুম
অনেক সময় সবচেয়ে শক্ত অংশ। বালতি/হেলমেট মাথায় দিলে আঘাত কমে।
৫. মাথা রক্ষার ব্যবস্থা
হেলমেট, বালতি, ঝুড়ি, ব্যাগ—যা পাবেন তাই মাথার ওপর চেপে ধরুন।
ভূমিকম্পে যেকোনো ভাঙা বস্তু মাথা লক্ষ্য করে পড়ে।

🏠 ১ম বা ২য় তলায় থাকলে আপনি সবচেয়ে ভাগ্যবান
এই দুই তলায় থাকা মানুষদেরই নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
✔️ কম্পন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই দরজা খুলে রাখুন, জ্যাম হয়ে গেলে বের হতে পারবেন না।
✔️ প্রথম ১৫–২০ সেকেন্ডে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামুন।
✔️ বাইরে এসে ভবন থেকে অন্তত ১০০ ফুট দূরে দাঁড়ান।
✔️ বিদ্যুতের খুঁটি, তার, গাছের নিচে দাঁড়ানো ❌
✔️ সম্ভব হলে খোলা মাঠে অবস্থান নিন।

🆘 ধ্বংসস্তূপে আটকে গেলে কী করবেন? (ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ প্রোটোকল)
✔️ চিৎকার করবেন না → ধুলো ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসনালী বন্ধ করে দিতে পারে
✔️ হুইসেল থাকলে বাজান → দূর থেকে সহজে শোনা যায়
✔️ না থাকলে, দেয়াল বা পাইপে ৩ বার করে টোকা দিন → এটি আন্তর্জাতিক “SOS Rescue Signal”
✔️ মোবাইলের টর্চ অন রাখুন, কিন্তু কথা বলবেন না → ব্যাটারি বাঁচাতে হবে
✔️ মুখে কাপড় চেপে রাখুন → ধুলো কম ঢুকবে, শ্বাস নেওয়া সহজ হবে

আজ থেকেই ন্যূনতম কিছু প্রস্তুতি নিন
🔸 বিছানার পাশে জুতা, হেলমেট, হুইসেল রাখুন
🔸 ভারী আলমারি, ফ্রিজ, টিভি—দেয়ালে স্ক্রু দিয়ে ফিক্স করে রাখুন
🔸 গ্যাস সিলিন্ডার চেইন বা স্ট্যান্ড দিয়ে বেঁধে রাখুন
🔸 ঘরের দরজা যেন অটো-লক না হয়
🔸 চাবি সবসময় হাতের কাছে রাখুন
🔸 জরুরি নম্বর পরিবারে সবার ফোনে সেভ করুন

একটি লাইন মনে রাখুন:
🔸 ৪র্থ তলা বা তার উপরে থাকলে — দৌড়ানো মানে মৃত্যুর ঝুঁকি। আশ্রয় নিন।
🔸 ১ম–২য় তলায় থাকলে — প্রথম ২০ সেকেন্ডই আপনার জীবন। দ্রুত বের হন।

শেষ কথা
প্রস্তুতি ছাড়া বাঁচা ভাগ্যের উপর।
প্রস্তুতি থাকলে বাঁচা আমাদের হাতে।
প্রকৃতি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—
মানুষ ভঙ্গুর, কিন্তু সচেতনতা আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
একটু প্রস্তুতি, একটু জ্ঞান— অনিশ্চিত এক মুহূর্তেও জীবন বাঁচাতে পারে।
#ভূমিকম্প

Address

Salla, Kalihati
Tangail
1974

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when SM Tarek vlogs posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to SM Tarek vlogs:

Share