15/02/2026
চলুন আজ আপনাদের একটি অবৈধ আর অনৈতিকতায় ভরা গল্প শুনাই।
আর এই গল্পটা অন্য কারোও না বরং আমার নিজের জীবন কেন্দ্রিক আর সম্পূর্ণ বাস্তব নির্ভর। গত ৭ জুলাই ২০২৫ বাড়ি ছেড়েছি আর আমার এই বাড়ি ছাড়ার পিছনে সর্ব প্রথম এবং ব্যাপকভাবে দায়ী হলো ইয়াবা নামক সর্বনাশা মাদকদ্রব্য। একটু অপেক্ষা করুন আমার দিকে আঙ্গুল তোলার আগে আমি নিজেই আমার নিজের ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা আর একই সাথে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন স্বীকারোক্তি দিচ্ছি। বিগত ভয়াল সেই ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর থেকেই স্থায়ীভাবে নিজ গ্রামে অবস্থান করা শুরু করেছিলাম কিন্তু সেটা স্বাভাবিক অবস্থান নয় বরং ফেরারি জীবন যাপনের মধ্যে দিয়েই দিন কাটাচ্ছিলাম। হ্যাঁ মানতেছি বাড়ি আমাকে ছাড়তেই হত কিন্তু হয়তো সেটা সেই সময়ে না। হয়তো পরে কিংবা পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আরো অনেক পরে। তাহলে এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় কেনই বা সেই ৭ জুলাই তাইনা? আগস্ট ২০২৪ এ বাড়ি ফেরার পরে ব্যাক্তিগত জীবনের নানাবিধ সমস্যা, দুশ্চিন্তা আর অবসাদ কে কেন্দ্র করে শুরুর দিকে ইয়াবার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ি। এভাবে চলতে থাকে বেশ কিছুদিন তারপর ধারাবাহিকভাবেই এই সর্বনাশা মাদকের ব্যবসা চক্রের সাথে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ফেলি আর আমার সঙ্গ দেয় আমারই রক্তের সম্পর্কের কিছু আত্মীয়-স্বজন। এভাবে একটা পর্যায়ে শোলাকুড়ি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী নির্দিষ্ট একটা এরিয়াতে আমি হয়ে উঠি গডফাদার। আমার এই পথে পা বাড়ানোর শুরু থেকেই আমার বেশ কিছু কাছের মানুষজন আমাকে উৎসাহ এবং ইন্ধন দিয়ে সাহায্য করেছে শুধু তাই নয় ব্যবসার শুরুর দিকের মূলধনের জোগাড়ও তারাই করেছে। বিনিময়ে অবশ্য লভ্যাংশ নিতে এক চুলও ছাড় দেয়নি। তৎকালীন সময়ে শুধু আমি নই আমার মত আরো অনেক লেমনই গোটা শোলাকুড়ি ইউনিয়নে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল এবং তারা এখনো তাদের নিজ নিজ অবস্থানে ব্যবসা চলমান রেখে ঠাঁয় বিদ্যমান রয়েছে। আমি তাদের নাম উল্লেখ করতে চাচ্ছি না তবে তারা সকলেই ভালো এবং প্রভাবশালী পরিবার থেকে আসা। অতঃপর ব্যক্তিগত জীবন ও জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নিজেকে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে নিয়েছি। বের হয়ে আসতে পেরেছি সেই অন্ধকার জগত থেকে। আর আমার এই পরিবর্তনের গল্পের এক নায়িকাও আছে বটে। গল্পের সেই নায়িকার আপ্রাণ চেষ্টা আর বাবা-মায়ের অশেষ দোয়ায় আমি এখন আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে শোলাকুড়িতে যারা নেতৃস্থানীয় আসনগুলো পেয়েছেন তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাবো এবং আশা রাখবো যে বিষয়টি আপনারা বিশেষ দৃষ্টিতে দেখবেন। পুরো দেশকে পরিবর্তন করতে হয়তো পারবেন না কিন্তু নিজ নিজ অবস্থান থেকে চেষ্টা করলে হয়তো নিজের গ্রাম আর নিজের ঘরকে ঠিকই রক্ষা করতে পারবেন। এত জোরালো ভাবে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কারণ একটাই আর সেটা হলো মাদকদ্রব্য নিয়ে আমার ব্যবসা চলমান সময়ে আপনাদেরই ছত্রছায়ায় থাকা কিছু ব্যক্তিবর্গ আমার সাথে পার্টনারশিপ বা কমিশনে ফয়সালায় আসা যেটাই বলেন না কেন তার অনেক আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা ও চাপের শিকার আমাকে হতে হয়েছে। আর আমি তাদের এই প্রস্তাবনায় সারাদিনই বলেই ওই মুহূর্তে আমাকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে নয়তো আজ আমি এই গল্প শুনানোর মত অবস্থায় থাকতাম না। এখন দেখার বিষয় আপনারা কি সত্যিকার অর্থেই আপনাদের পদমর্যাদার সঠিক ব্যবহার আর দেশ সংস্কারের এই সুযোগকে কাজে লাগান কিনা। সবশেষে অভিবাবকদের উদ্দেশ্যে আমি একটা কথাই বলবো হ্যা আপনি অবশ্যই আপনার সন্তানকে স্বাধীনতা দিন তবে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। নজর রাখুন কোথায় কার সাথে উঠা বসা করছে। খুঁজ রাখুন কার সাথে সঙ্গ দিচ্ছে। শাসন করুন যেন সেই সঙ্গ কখনও দোষে পরিণত না হয় ব্যাস এতটুকুই। আমি চাই না শোলাকুড়ি তে আর কোনো লেমন এর জন্ম হোক।
মাদককে না বলুন, সুস্থ্য সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করুন।
লেমন
১১ নং শোলাকুড়ি ইউনিয়ন।