10/07/2025
🏛 বালিয়াটি জমিদার বাড়ি — সময়ের পটে আঁকা এক স্থাপত্য–সম্রাজ্য!
ঢাকা থেকে মাত্র ৩৫–৪০ কিলোমিটার দূরে, মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী—বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। এটি শুধুমাত্র একটি জমিদার বাড়ি নয়, বরং একটি যুগের প্রতীক, যেখানে রাজকীয়তা, ঐতিহ্য, শিল্প ও স্থাপত্য—সব মিলে গাঁথা এক অমর কাব্য। বাড়িটির সামনেই বিশাল খোলা মাঠ, সবুজ গাছগাছালি আর নীল আকাশ—সব মিলিয়ে এখানে যেন ইতিহাস ও প্রকৃতি পাশাপাশি বসবাস করছে। দীঘির পাড়ে বসে আপনি অতীতকে কল্পনায় ছুঁয়ে দেখতে পারেন। ভেতরের ঘরগুলোয় দাঁড়িয়ে চোখ বুজলে যেন শোনা যায়—নওয়াবদের পায়ের শব্দ, আনারকলির ঘুঙুর, কিংবা জমিদারদের বিচার সভার গম্ভীর সুর।
১৮শ শতাব্দীতে নির্মিত এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জমিদার গোবিন্দরাম সাহা, যিনি মূলত লবণের ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হন। পরবর্তীতে তার উত্তরসূরিদের হাত ধরে গড়ে ওঠে বিশাল এই প্রাসাদ–সমূহ। বাড়িটি মোট ৭টি প্রাসাদ নিয়ে গঠিত, যার মধ্যে ৫টি এখনো দৃশ্যমান ও সংরক্ষিত। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটি দীঘি, যা বাড়িটির সৌন্দর্যে যোগ করেছে এক অনন্য ব্যঞ্জনা। দেয়ালে ভিক্টোরিয়ান ও মোঘল স্থাপত্যের প্রভাব, উঁচু স্তম্ভ, ধাতব বারান্দা, কারুকাজময় দরজা–জানালা—সব মিলে এটি যেন এক স্থাপত্যজগতের জাদুকরী সৃষ্টি।
এই বাড়ি শুধু রাজকীয় জীবনের সাক্ষীই নয়, ব্রিটিশ আমলে জমিদারদের ক্ষমতা, সংস্কৃতি, প্রশাসন, এবং বিলাসিতার বহিঃপ্রকাশও এখানে প্রতিফলিত। ভারত বিভাগের সময় অনেক জমিদার পরিবার দেশ ছেড়ে চলে যায়—তাদের স্মৃতির সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে এই বাড়ি।
📌 কীভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে: গাবতলী বা সায়েদাবাদ থেকে মানিকগঞ্জগামী বাসে চেপে সাটুরিয়া। সেখান থেকে সিএনজি বা রিকশা করে বালিয়াটি গ্রাম।
ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলে ঢাকা–মনোহরদী সড়ক ধরে মাত্র ১.৫–২ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়।