06/05/2016
DSLR বললেই আপনাদের মাথায় আসে রং-চং মাখানো কিছু অসম্ভব উজ্জ্বল রঙের পরিষ্কার ছবি।
এইসব ছবি ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারে দেয়া হয়। সবাই লাইক দেয়।
সুন্দর মেয়েটার সৌন্দর্যের পিছে ঢাকা পড়ে যায় একজন ফটোগ্রাফারের কাজ শেখার পরিশ্রম, এডিটিং করার ধৈর্য্য, ছবি ডেলিভারি দেয়ার কমিটমেন্ট।
দিনশেষে কপালে জোটে পচানি। "হেহে, আইছে শালা ফটোগ্রাফার, খালি মাইয়াগো ছবি তোলে। দে দেখি, আমার দুইটা ছবি তুইলা দে।" তাও আবার ফ্রিতে😃
যাই হোক, একটা ক্যামেরার ব্যাপারে বলি।
ক্যানোন কোম্পানির একটা খুব ভালো DSLR ক্যামেরা আছে, "সেভেন ডি" নামে। মোটামুটি দামী ক্যামেরা।
এরকম একটা ক্যামেরা আজকে সকালে বিক্রি হয়ে গেছে। ক্যামেরাটা বিক্রি করেছেন ফটোগ্রাফারHimel Nobii
ওনার মায়ের ক্যান্সার।
ধরা পড়েছে অনেক আগেই। ফার্স্ট স্টেইজের ট্রিটমেন্ট করতে পঁচিশ লাখ টাকা লেগেছে। ফ্যামিলিতে ফান্ড নাই আর। ইন্ডিয়াতে নিতে হবে মাকে, আরও সাত-আট লাখ দরকার এখনই।
এইজন্য হিমেল ওনার ক্যামেরাটা বিক্রি করে দিয়েছেন।
হিমেল আসলে ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফি করতেন, মানে প্রকৃতি থেকে বিভিন্ন প্রাণীর ছবি তুলতেন, মূলত পাখির ছবি। সেইসব ছবির কী কোয়ালিটি, প্রোফাইলে গিয়ে দেখে আসতে পারেন।
তার বন্ধুরা কেউ কেউ অবশ্য মানুষের ছবি তোলেন। এই ফটোগ্রাফার মানুষগুলো তাদের ক্যামেরা নিয়ে একটা ছোট্ট চেষ্টা করছেন তাদের জায়গা থেকে।
আগামী দুইদিন, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে আপনারা আসবেন। ওনারা আপনাদের ছবি তুলে দিবেন। এটাই পারেন ওনারা, শক্তিটা এটুকুই।
এই পরিশ্রমটার মূল্য ৫০০ টাকা থেকে শুরু। এরপর যে যতটা পারেন। ছবি না তুলে কেউ যদি টাকা পাঠিয়ে দেন - হবে। ইভেন্টের লিংক দেয়া আছে কমেন্টে, আপনাদের ওপর বাকীটা।
এখন, কারও যদি সামর্থ্য না থাকে কিছু দেয়ার, চলে আসবেন। কিছু না পারলে মায়ের জন্য শুভকামনা রেখে যাবেন। মানুষ এতোটাও মনে হয় খারাপ না যে, দুইটা ছবি তুলে দিতে বললে কেউ মানা করবে।
এরপর সেই ছবি আপনারা প্রোফাইল পিকচার দেন, বা গালি দেন - সবটুকুই ওনাদের। তালি বা গালি শিল্পীর আজীবন সঙ্গী।
তবু মা বেঁচে থাকুক। পৃথিবীর সকল মা বেঁচে থাকুক।
পৃথিবীর সকল মা ভালো থাকুক।
লিখা :- Shubhajit Bhowmik
এখন বাকি টা আপনাদের ইচ্ছা/মানবতা যা ই বলেন না কেন
smile emoticon
ইভেন্ট লিং
https://mobile.facebook.com/events/973401142755108/?active_tab=posts&_rdr
#চাইলে শেয়ার করতে পারেন।