26/07/2026
— সম্পর্কের হিসাব-নিকাশ বনাম নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
জীবনসঙ্গী যদি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেন, সেখানে ভালোবাসা, যত্ন, সম্মান এবং একে অপরের পাশে থাকার আশ্বাসের চেয়ে যদি হিসাব-নিকাশ বেশি প্রাধান্য পায়, তবে তা সত্যিই কষ্টদায়ক।
একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো এমন একজন জীবনসঙ্গী পাওয়া, যিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে সুন্দর পরিকল্পনা করবেন। টাকা-পয়সা, শপিং, ভালোবাসা, যত্ন, আর সম্মান—এগুলো তো একটি সুস্থ সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ।
কিন্তু পরিস্থিতি যখন অন্যরকম হয়, তখন সেই পরিকল্পনাগুলোই কেমন যেন যান্ত্রিক ঠেকে। আপনি বেকার—সে তা আগে থেকেই জানত। এমনকি জেনেও সে আপনার প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়েছে, সাহায্য করেছে—এটিকে ছোট করে দেখার উপায় নেই। সে জানে আপনি তার প্রতি শতভাগ বিশ্বস্ত এবং তার কাছে কতটা বিশেষ। অথচ তারপরও তার কথাবার্তা এমন হয়, যেন একসঙ্গে থাকা বা না থাকা নিয়ে কোনো চুক্তিপত্রে (Agreement) স্বাক্ষর করতে হবে—যেখানে টাকা-পয়সা আর কাপড়-চোপড়ের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় মেলানো লাগবে।
যখন একজন পার্টনার এমনভাবে সবকিছু উপস্থাপন করে, তখন তা অবিশ্বাস্য ও কষ্টদায়ক মনে হয়। সে কি সবসময় চিন্তা করে যে, সে আমাকে খাওয়াতে পারবে কি না, হাত খরচের কিছু দিতে পারবে কি না, আমার শখ পূরণ বা শপিং করাতে পারবে কি না—এসব বিষয় নিয়ে আগে থেকেই হিসাব-কেতাব করা সত্যিই বড় লজ্জার।
সবচেয়ে বড় কষ্টের জায়গাটা হলো:
আপনি চেষ্টার কোনো ত্রুটি করছেন না। চাকরি বা ব্যবসার জন্য দিনরাত এক করে ফেলছেন, কিন্তু কোনোভাবেই সফলতা আসছে না। এমন চরম দুঃসময়ে যখন পার্টনারের একটু মানসিক জোর ও সহযোগিতা পাওয়ার কথা, তখন দিনশেষে শুনতে হয়— "আমাকেই তো সব করতে হবে!" সত্যি বিষয়টা কি অদ্ভুত নয়?
মূলত, আমাদের সমাজে একজন মেয়ের বিয়ের পর তার স্বামীই সবকিছু। বাবার বাড়ির পর স্বামীর কাঁধেই সে তার আশ্রয়ের বটবৃক্ষ খুঁজে পায়। আর সেই মেয়েটিকে বা পরিবারকে সুখে রাখার জন্য একজন পুরুষকে কত না সংগ্রাম করতে হয়! কেউ ব্যবসা করছে, কেউ চাকরি, কেউ রিকশা চালাচ্ছেন, আবার কেউ দিনমজুরের কাজ করছেন—কেবলমাত্র স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারকে একটু সুখে-শান্তিতে রাখার জন্য। জীবনের শেষ দিন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই সংগ্রামই একজন পুরুষের নিত্যসঙ্গী।
অথচ সেই স্বামী, ভাই কিংবা ভালোবাসার মানুষটি যখন কঠিন সময়ে একটু সহযোগিতা বা সান্ত্বনা আশা করে, তখন যদি উল্টো স্বার্থপরের মতো শুনতে হয়— "আমাকেই সব করতে হয়"—তবে সেই সম্পর্কের মানে কোথায় থাকে?
— এমন মানসিকতা সম্পর্কের ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
পরিকল্পনা করা সত্যিই চরম লজ্জাজনক।