24/10/2026
একজন নারীর জীবনে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ কী জানেন? নিজের শরীর, নিজের শিক্ষা আর নিজের আর্থিক স্বাধীনতা।
বিয়ের আগে হোক কিংবা বিয়ের পরে, সবার আগে নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ খাবার খান। হাঁটুন, শরীরচর্চা করুন, স্ট্রেংথ ট্রেনিং করুন, সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। ত্বকের যত্ন নিন। কারণ আজ নিজের শরীরকে অবহেলা করলে চল্লিশের পর তার মূল্য দিতে হতে পারে।
নিজের শরীরের পাশাপাশি নিজের উপার্জনের ব্যবস্থাও করুন। এমনভাবে নিজেকে তৈরি করুন, যেন একটা চশমার ফ্রেম বদলাতে, নিজের পছন্দের একটা লিপস্টিক কিনতে কিংবা নিজের প্রয়োজন মেটাতে কারও মুডের ওপর নির্ভর করতে না হয়। বাবা-মা, স্বামী কিংবা সন্তানের ভালোবাসা আপনার প্রাপ্য; কিন্তু নিজের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর জন্য অসহায় হয়ে থাকা আপনার নিয়তি হওয়া উচিত নয়।
পড়াশোনা করুন, ডিগ্রি অর্জন করুন, দক্ষতা বাড়ান। এমন যোগ্যতা তৈরি করুন, যাতে জীবনের যেকোনো পর্যায়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। কেউ যেন আপনাকে অপমান করে বলতে না পারে, “তুমি কী বোঝো? তোমার তো কোনো যোগ্যতাই নেই!” মনে রাখবেন, বিয়ে আপনার পরিচয়ের একটা অংশ হতে পারে, কিন্তু আপনার সম্পূর্ণ পরিচয় নয়।
আর একটা কথা নিজের যত্ন নেওয়া মানে শুধু সুন্দর থাকা নয়; সুস্থ থাকা, মানসিকভাবে শক্ত থাকা, নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারা এবং প্রয়োজনে নিজের দায়িত্ব নিজে বহন করতে পারা।
স্বামী-সন্তান, বাবা-মা, সংসার সবকিছুর প্রতি দায়িত্ব পালন করুন। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন না। কারণ আপনি নিজেই যদি অসুস্থ, অসহায় ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, তাহলে নিজের জীবন সামলানোই কঠিন হয়ে যাবে।
নিজের জন্য বই পড়ুন, ভালো গান শুনুন, নতুন কিছু শিখুন। কী দেখছেন, কী পড়ছেন, কাদের অনুসরণ করছেন সেদিকেও খেয়াল রাখুন। কারণ প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই একসময় আপনার চিন্তাভাবনা ও জীবনকে গড়ে তোলে।
আর অন্যের জীবন নিয়ে অযথা আলোচনা, কে কী পরল, কার সংসারে কী হলো, কে কী কিনল এসব নিয়ে সময় নষ্ট করার আগে একবার নিজের জীবনের দিকে তাকান। নিজের জীবনটা গুছিয়ে নেওয়ার মতো কাজের অভাব নেই।
আপনার শরীরের যত্ন নেওয়া বাকি, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া বাকি, নিজের স্বপ্ন পূরণ করা বাকি অথচ আপনি ব্যস্ত অন্যের জীবন নিয়ে!
নিজের জীবনের দায়িত্ব নিন। নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করুন। এমন একজন মানুষ হয়ে উঠুন, যিনি ভালোবাসতে জানেন, দায়িত্ব নিতে জানেন, আবার প্রয়োজনে নিজের জন্য শক্ত হয়ে দাঁড়াতেও জানেন।
কারণ জীবনের শেষ পর্যন্ত আপনার সঙ্গে আপনার নিজেরই থাকা হবে। তাই সবাইকে ভালো রাখতে গিয়ে নিজেকে অবহেলা করবেন না। নিজের জীবনকে এমনভাবে গড়ুন, যেন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার অসহায়ত্ব নয়, আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়ে।