শৈশব কথা

শৈশব কথা যেখানে রূপকথারা জীবন্ত হয়, আর স্বপ্নরা কথা বলে। 🌈

অর্ক আর মিমি’র গুপ্তধন অভিযান শান্ত সুন্দর গ্রাম রতনপুরের এক কোণে বাস করত ছোট্ট ছেলে অর্ক। তার প্রিয় বন্ধু ছিল মিমি, একট...
15/08/2025

অর্ক আর মিমি’র গুপ্তধন অভিযান

শান্ত সুন্দর গ্রাম রতনপুরের এক কোণে বাস করত ছোট্ট ছেলে অর্ক। তার প্রিয় বন্ধু ছিল মিমি, একটি বাদামী রঙের ছোট্ট কাঠবিড়ালি। মিমি খুব দুষ্টু, কিন্তু খুবই বুদ্ধিমান। অর্কের সাথে তার দারুণ ভাব। সারাদিন তারা একসাথে খেলাধুলা করে, গাছে গাছে ঘোরে, আর নতুন নতুন অ্যাডভেঞ্চারের স্বপ্ন দেখে।

একদিন বিকেলে অর্ক আর মিমি বাড়ির পেছনের পুরোনো বটগাছটার নিচে বসে ছিল। মিমি হঠাৎ করে তার ছোট থাবা দিয়ে মাটির নিচে কিছু একটা খুঁজে পেল। কৌতূহল নিয়ে অর্ক খুঁড়তে শুরু করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে একটা ছোট কাঠের বাক্স বের করে আনল। বাক্সের উপর অদ্ভুত কিছু চিহ্ন আঁকা ছিল। অর্ক দ্রুত সেটা খুলতেই ভেতরে একটা হলুদ রঙের পুরোনো কাগজ পেল। কাগজটা খুলে দেখল, এটা একটা মানচিত্র!

মানচিত্রের ভাষা খুব অদ্ভুত, অনেকটা ধাঁধার মতো। অর্ক বুঝতে পারল এটা কোনো গুপ্তধনের মানচিত্র। মানচিত্রের এক জায়গায় লেখা, "চাঁদের আলো যখন পুকুরের জলের উপর সোনালী ঢেউ তুলবে, তখনই মিলবে পথের সন্ধান।" আরেক জায়গায় লেখা, "তিন পাহাড়ের মাঝে যে পাথরটি হাসে, সেখানেই পাবে গুপ্তধনের প্রথম অংশ।"

অর্ক আর মিমি অ্যাডভেঞ্চারে নামার জন্য প্রস্তুত হলো। কিন্তু রাতের বেলা মানচিত্রের লেখাটা পড়তে গিয়ে তারা বুঝল, গুপ্তধনটা তাদের গ্রামেই কোথাও লুকিয়ে আছে।

প্রথম ধাপে মানচিত্রে দেখানো হলো তিন পাহাড়ের মাঝে একটি হাসিমুখী পাথরের কথা। অর্ক আর মিমি পরের দিন সকালে গ্রামের উত্তর দিকে তিন পাহাড়ের দিকে যাত্রা করল। সারাদিন হেঁটে তারা সেখানে পৌঁছালো। মিমি খুব চটপটে, সে এক গাছ থেকে আরেক গাছে লাফিয়ে লাফিয়ে এগোতে লাগলো। হঠাৎ সে একটা বড়ো পাথরের সামনে থমকে গেল। পাথরটির উপর এমন কিছু চিহ্ন ছিল যা দেখতে ঠিক হাসিমুখের মতো। মিমি excitedly (উত্তেজিতভাবে) অর্ককে ডাকল। অর্ক এসে পাথরটার নিচে খুঁড়ে দেখল, সেখানে একটি ছোট লোহার বাক্স! ভেতরে ছিল একটি পুরোনো পিতলের চাবি।

দ্বিতীয় ধাপে মানচিত্রে বলা হলো, "যেখানে ফুল ফোটে কেবল এক রাতে, সেই গাছের তলায় মিলবে গুপ্তধনের দ্বিতীয় অংশ।" অর্ক আর মিমি অনেক ভেবেও বুঝতে পারল না, কোন গাছটার কথা বলা হচ্ছে। হঠাৎ মিমি অর্কের কাঁধের উপর থেকে লাফিয়ে নিচে নামল আর একটা ঝোপের দিকে ছুটল। সেখানে কিছু গাছ ছিল, যার ফুলগুলো শুধু রাতের বেলা ফোটে। অর্ক সেই গাছের তলায় খুঁড়ে দেখল সেখানেও একটা ছোট বাক্স। ভেতরে ছিল আরেকটা চাবি।

তৃতীয় ধাপের মানচিত্র ছিল সবচেয়ে কঠিন। "যেখানে নদীর জল দুই দিকে চলে যায়, আর মাঝখানে দুটি নৌকা পাশাপাশি ভেসে যায়, সেখানেই পাবে গুপ্তধনের শেষ অংশ।" এই ধাঁধাটা অর্ককে ভাবিয়ে তুলল। সে মিমিকে জিজ্ঞাসা করল, "মিমি, এর মানে কী?" মিমি তার ছোট্ট মাথাটা নাড়াল, যেন সেও কিছু বুঝতে পারছে না।

হঠাৎ অর্ক তার বাড়ির সামনে নদীর দিকে তাকাল। সে দেখল, দুটো ছোট নৌকা নদী থেকে আলাদা হয়ে দুই দিকে ভেসে যাচ্ছে। নদীর মাঝখানে একটা পুরোনো কাঠের সেতু ছিল। অর্ক বুঝতে পারল, এটাই সেই জায়গা। সে দ্রুত মিমিকে নিয়ে সেই সেতুর কাছে গেল। তারা সেতুর নিচে গিয়ে দেখল, একটা গোপন জায়গায় একটা বড় কাঠের সিন্দুক।

সিন্দুকে দুটো তালা ছিল। অর্ক তার কাছে থাকা দুটো পিতলের চাবি দিয়ে তালাগুলো খুলে ফেলল। সিন্দুক খুলতেই ভেতর থেকে ঝলমলে আলো বেরিয়ে এলো। সিন্দুকের ভেতরে ছিল অনেক সোনা ও রূপার মুদ্রা, হীরা, মুক্তা আর দামি রত্ন। গুপ্তধন পেয়ে অর্ক আর মিমি আনন্দে লাফাতে লাগলো।

অর্ক পুরো গুপ্তধন গ্রামের গরীব মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিল। সবাই তাকে বীর হিসেবে মানল। কিন্তু অর্ক জানত, তার এই অ্যাডভেঞ্চারে সবচেয়ে বড়ো বীর ছিল তার প্রিয় বন্ধু, ছোট্ট কাঠবিড়ালি মিমি।

এই গল্প থেকে আমরা শিখতে পারি যে গুপ্তধন কেবল সোনা-রূপার সিন্দুকে থাকে না, বরং সত্যিকারের বন্ধুত্ব, সাহস আর বুদ্ধির মধ্যেও লুকিয়ে থাকে। যখন আমরা একে অপরের পাশে থাকি, তখন সবচেয়ে কঠিন কাজটাও সহজ হয়ে যায়।
সুতরাং, জীবনের সবচেয়ে বড়ো গুপ্তধন হলো জ্ঞান, সাহস এবং অন্যের প্রতি ভালোবাসা।

Precious 💕
22/07/2023

Precious 💕

10/09/2021

জীবনে সুখি হওয়ার সহজ উপায়

08/09/2021

কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা যেভাবে চোখের যত্ন নিবে

26/05/2021

সুখেরই জিবন নষ্ট করে দিয়েছো নিজেরই হাতে
চাই না আমি ছলনার প্রেম যে প্রেম জানে কাঁদাতে🎧

Address

Ramna

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শৈশব কথা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to শৈশব কথা:

Share