30/10/2024
"শক্তি" দিয়ে তৈরী নয় মানুষের শরীর, পদার্থ দিয়ে তৈরী ; তাই মৃত্যুর পর মানুষের শরীরের শক্তির কোথাও যাওয়ার প্রশ্ন অযৌক্তিক।
বর্তমানে ধর্মগুরুরা আত্মা, জন্মান্তর ইত্যাদি মানুষের মাথায় গেঁথে দেবার জন্য “শক্তির নিত্যতা” সূত্র, কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা গুঁজে দিচ্ছে!
মানুষের শরীর অন্যান্য সব জীবের মতই বিভিন্ন “যৌগিক পদার্থ” যেমন বিভিন্ন রকমের প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, জল, ধাতব যৌগ ইত্যাদি দিয়ে তৈরী।
এই যৌগিক পদার্থগুলো আবার প্রধানত অক্সিজেন, কার্বন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, লোহা, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও খুব সামান্য পরিমাণ সোডিয়াম, পটাশিয়াম, দস্তা, মলিবডেনাম, কোবাল্ট ইত্যাদি মৌল থাকে।
মানুষের শরীরের প্রায় ৭০% ই জল।
এই জল আবার হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরী।
রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে মানুষের শরীরের ৬৫% ই অক্সিজেন, ১৮% কার্বন, ১০% হাইড্রোজেন, ৩% নাইট্রোজেন।
জীবনের জৈবরাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো পরস্পরের ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল।তাই যেকোন একটি জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া বন্ধ হলেই বাকি সব বিক্রিয়া সব বিক্রিয়া থেমে যাবে, এই অবস্থাই হল মৃত্যু। এরপর আর মানুষের শরীর জীবাণুদের আটকাতে পারবেনা, এখন যদি শরীর দাহ না করে কোন খোলা জায়গায় ফেলে রেখে দেওয়া হয় তাহলে জীবাণু ও ছত্রাকেরা মানুষের শরীরের সব যৌগিক পদার্থকে ভেঙে নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটাবে, এর ফলে জটিল যৌগগুলি সরল যৌগে পরিণত হবে, যেমন অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্যাটি অ্যাসিড, কার্বন-ডাই অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড, ফসফাইড ইত্যাদি। এগুলো মাটিতে মিশে গিয়ে উর্বরতা বৃদ্ধি করবে, এই মাটিতে ছত্রাক ও গাছ জন্মাবে, মানুষের শরীরের যৌগ গুলো গাছেরা কাজে লাগাবে।
কিছু মাছি ও পতঙ্গ মানুষের পচা মাংসে ডিম পাড়বে ও তাদের লার্ভারা মাংস খেয়ে বড় হবে, পূর্ণতা লাভ করে, ফলে মানুষের শরীরের পদার্থ মাছি ও পতঙ্গদের শরীরে স্থানান্তরিত হবে!
বিষ খেলে বা শরীরে কোনও ভাবে বিষ ঢুকলে এই রাসায়নিক বিক্রিয়াতে সাহায্যকারী কোন উৎসেচক বা এনজাইমের কাজে বাধা পড়ে, ফলে পরস্পরের ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল জীবনের রাসায়নিক বিক্রিয়া গুলো ধারাবাহিক ভাবে থেমে যায়।
শরীরের কোন অঙ্গই এককভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, সবাই সবার ওপর নির্ভরশীল, তাই একটা অঙ্গ কাজ বন্ধ করলেই সবার কাজ বন্ধ হয়।
অর্থাৎ মৃত্যু হল সমস্ত সেই সমস্ত জৈবরাসায়নিক ক্রিয়াকলাপ গুলির স্থায়ী, অপরিবর্তনীয় সমাপ্তি যা একটি পদার্থ সমষ্টিকে “জীবন” রূপে প্রতিভাত করে।