15/10/2026
“আল্লাহর কসম স্যার, আমি অসুস্থ মানুষ! আমি স্ট্রোকের রোগী… আমার রিকশার তার কাটিয়েন না স্যার!”
কথাগুলো শুনলে কিছুক্ষণের জন্য হলেও থমকে যেতে হয়। একজন অসহায় রিকশাচালকের এমন আকুতি শুধু একটি ভাইরাল ভিডিও নয়, বরং আমাদের সমাজের কঠিন বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকার রাস্তায় এক অসুস্থ রিকশাচালক তাঁর রিকশাটি রক্ষা করতে কর্তব্যরত কর্মকর্তার কাছে বারবার অনুরোধ করছেন। তাঁর কণ্ঠে অসহায়ত্ব, চোখেমুখে আতঙ্ক আর কথায় ফুটে উঠেছে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারানোর ভয়।
হয়তো এই রিকশার চাকার সঙ্গেই ঘুরছে তাঁর পুরো সংসারের ভাগ্য। দিনশেষে সামান্য উপার্জনটুকু দিয়েই হয়তো চলে পরিবারের খাবার, ওষুধ আর নিত্যদিনের প্রয়োজন। সেই মানুষটির কাছে রিকশা হারানোর আশঙ্কা যে কতটা ভয়াবহ, তা তাঁর অসহায় আর্তনাদেই স্পষ্ট।
নিয়মের প্রয়োজন আছে, আইন মানাও প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। কিন্তু আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক বিবেচনারও কি কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়? একজন অসুস্থ, অসহায় মানুষের জীবিকার প্রশ্ন যখন সামনে আসে, তখন একটু সহানুভূতি কি খুব বেশি চাওয়া?
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন। কেউ তাঁর খোঁজ জানতে চাইছেন, কেউ আবার পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। এই সহানুভূতিই মনে করিয়ে দেয়, আমাদের সমাজে মানবিকতা এখনো হারিয়ে যায়নি।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, যে বয়সে একজন মানুষের বিশ্রাম নেওয়ার কথা, যে শারীরিক অবস্থায় তাঁর চিকিৎসা ও যত্নের প্রয়োজন, সেই অবস্থাতেও তাঁকে জীবিকার জন্য রাস্তায় নামতে হচ্ছে।
একজন মানুষের অসহায় কান্না যেন কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েক দিনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থাকে। তাঁর মতো অসংখ্য মানুষের জীবনসংগ্রামের কথাও আমাদের ভাবতে হবে।
আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক, কিন্তু সেই আইনের প্রয়োগে যেন মানুষের প্রতি মমতা হারিয়ে না যায়।
কারণ, আইন সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে, আর মানবিকতা সমাজকে বাঁচিয়ে রাখে। 🖤