Nature photografhy

Nature photografhy Photography,story,travelling story,recipesharing

বড় বাবুর পনেরো মাস বয়সে ছোট বাবুর জন্ম। এর পনেরো মাস পর মেয়ের জন্ম। একেবারে পিঠোপিঠি ছোট্ট ছোট্ট তিনটি বাচ্চা সামলাতে গি...
24/11/2025

বড় বাবুর পনেরো মাস বয়সে ছোট বাবুর জন্ম। এর পনেরো মাস পর মেয়ের জন্ম। একেবারে পিঠোপিঠি ছোট্ট ছোট্ট তিনটি বাচ্চা সামলাতে গিয়ে আমি আমি যেন দিনে রাতে কয়েকবার করে যমদূতের সাক্ষাৎ পাচ্ছিলাম! কিছুতেই হিসেব মিলছিল না- কিভাবে আমার মতো খুব সচেতন, সতর্ক থাকা মানুষের এভাবে সারে চার বছরে তিনজন সন্তানের জন্ম হয়!
এমনিতেই শাশুড়ীর চোখের বিষ আমি তার মধ্যে বাচ্চারা হয়ে উঠছে আরেক ইস্যু! সারাদিন হাজার রকমের কথাবার্তা চলতো তার- বছর বছর আমি বাচ্চা পয়দা করছি, কত কারেন্ট হতে পারে, জগতেও কেউ হয়না আমার মতো মুর্খ! সারাক্ষণ বাচ্চাদের ট্যানট্যানানিতে উনার মাথায় অসুস্থতা বেধে যাচ্ছে! ঘুমোতে পারেননা চিল্লাপাল্লার জন্যে! যেখানে সেখানে বাচ্চাদের হাগুমুতুর দুর্গন্ধ, নোংরা ইত্যাদি ইত্যাদি!
এদিকে বাচ্চাদের বাবার আয় সীমিত! বাচ্চাদের ডায়াপার, ফর্মুলা, যত্নআত্তির উপকরণ আরও সব প্রয়োজনীয় নানা কিছু আনা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। সংসারে তার টাকাপয়সা দেওয়ার অবস্থা অনেকটা টানাটানির মধ্যে পড়ে যায়। এটা শাশুড়ীকে আরও মারমুখী করে দেয়!
ভাগ্যিস আমার ছোট্ট একটা ইনকাম সোর্স ছিল। অনলাইনে দেশের বাইরের বাঙালি বাচ্চাকাচ্চাদের কোরআন ও ধর্মীয় শিক্ষা দিতাম। এতে আমার মাস শেষে কিছু বৈদেশিক মূদ্রা হাতে জমা হতো। বাচ্চাদের নিয়ে শত কষ্ট, সময় সঙ্কট, অসুস্থতা, অস্থির পরিস্থিতিতেও এই টিউশনি করা ছাড়িনি আর।
রক্ষে ছিল, অধিকাংশ স্টুডেন্টই ছিল ইউরোপ ও ইউএসের বাসিন্দা সেক্ষেত্রে আমার রাতে ও ফজর নামাজ পরবর্তী ক্লাস শিডিউল থাকতো বেশি। আর আমার বাচ্চারা মোটামুটি সে সময়গুলোতে কমবেশি ঘুমোতো।
বুঝছিলাম আমার উপর মারাত্মক চাপ হয়ে যাচ্ছিল, আমি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছিলাম ভেতর থেকে একরকম। কিন্তু ঐ ক'টা টাকাপয়সা হাতে না থাকলে আমি আরও মরতাম! যেহেতু ফিড করতো বাচ্চা সেক্ষেত্রে প্রায়ই ক্ষুধার্ত থাকতাম। প্রেসার লো থাকতো। চোখ অন্ধকার হয়ে মাথা চক্কর দিতো। কিন্তু কখনও আমার জন্যে বাড়তি খাবার হতোনা ঘরে। তিনবেলা সবার সাথে ঐ একটু ভাত খাওয়া হতো এতটুকুই।
পরপর বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে শরীরের অবস্থা নাজেহাল হয়ে পড়েছিলো। সিজারে এনেস্থিসিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কোমড় ব্যাথা হতো প্রচুর। পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশন, নিয়মিত রাতজাগা, চব্বিশ ঘণ্টা বাচ্চাদের নিয়ে দৌড়ের উপর থাকা, ক্ষুধা তৃষ্ণায় দুর্বলতা, আবার রাতজেগে- সময়ে অসময়ে বিদেশের টাইম মেইনটেইন করে পড়ানোতে আমি অনেকটাই পাগলের মতো হয়ে থাকতাম! তার উপরে যখন শুনতে হতো- শাশুড়ীর নানা অপমান, তীর্যক ব্যাবহার, গালমন্দ- আমি ভেতর থেকে ভেঙেচুরে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়তাম যেন। আমার অসুস্থতা এসবে ক্রমেই যেন বেড়ে যাচ্ছিল।
আমার মা আসতেন মাঝেমধ্যে। দুই এক দিন থেকে আবার চলে যেতেন। বাড়িতে আমার বাবা সম্পূর্ণ একা, আম্মু ছাড়া কষ্ট হয়ে যেতো তাঁর খাওয়া দাওয়া নিয়ে।
বাপের বাড়ি গিয়েও যে থাকব ক'দিন- সে অবস্থা ছিলনা! খুব গ্রামীণ পরিবেশ, তাছাড়া আমার পিত্রালয়ের আর্থিক পরিস্থিতি দুর্বল ছিল! বাচ্চাদের বাবা আমি সেখানে থাকলে খরচ দিতে চাইত না! সবমিলিয়ে এক বিতিকিচ্ছিরি পরিস্থিতিতে পড়ে যেতে হতো আমাকে সেখানে!
ছোট বাবুর অস্তিত্ব যখন টের পাই নিজের মাঝে, আমার মা'ও আমাকে অনেক বকাঝকা করলেন। আমি প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পরছিলাম তখন। সব সময় অক্সিজেন নিয়ে থাকতে হতো। কষ্ট করে মা ছিলেন আমার পাশে ডেলিভারি পর্যন্ত। এতে তাঁকেও চূড়ান্ত অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রতিনিয়ত! জামাই বাড়ি এতদিন কিভাবে থাকেন শাশুড়ী! যেখানে শশুর বাড়ি থেকে জামাইকে দিতে হয়, সেখানে শাশুড়ী এসে আরও জামাইয়ের খায় ইত্যাদি কথাবার্তা!
কিন্তু মা পাশে না থাকলে সুস্থ্য স্বাভাবিক বাচ্চা জন্ম দেওয়া সম্ভব হতনা আমার পক্ষে।
বাবুর জন্মের কিছু দিন পর- মা চলে যেতে চাইলে আমি মা'কে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকলাম। মা'ও পুরো পথ কাঁদতে কাঁদতে নাকি দেশে ফিরেছিলেন সেদিন।
দেশে গিয়েও মা ফোন করতেন ঘন্টায় ঘন্টায়! চিন্তায় অস্থির থাকতেন আমাকে নিয়ে। আমি শুধু মা'র ফোন ধরে অনবরত কাঁদতে থাকতাম। কিছুদিন পর বাচ্চাদের দেখভালের জন্যে গ্রাম থেকে মধ্যবয়সী একজন মহিলাকে এনে দিলেন মা। আমি উনাকে চাচি ডাকতাম। উনি আসায় কিছুটা হালকা হলাম। চাচি বাচ্চাদের খুব সুন্দর ভাবে দেখাশোনা আদরযত্ন, করতে পারতেন।
কিন্তু আরেক দিকে জ্বালা বাড়লো! উনি থাকবেন কোথায়? দিনে তো কোনো ভাবে চলে যায়। কিন্তু রাতে! ছোট্ট দু'রুমের বাসার এক রুমে হাসবেন্ড আমি বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমোই। আরেক রুমে শশুর শাশুড়ী। মাঝে এক চিলতে ড্রয়িং ডাইনিং স্পেসের একপাশে খাট রাখা- সেখানে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা আমার দেবর নেশা করে উপুড় হয়ে পড়ে থাকে। আরেক পাশে খাওয়াদাওয়া করা হয়। আমি খাওয়াদাওয়ার জায়গায় বিছানা করে দেই চাচিকে ঘুমোতে। কিন্তু চাচি অস্বস্তি বোধ করতেন। কারণ পাশেই এক গাঁজাখোর!
শাশুড়ীর বকবকানি আরও বেড়ে যায়! কারণ চাচির শোয়ার জায়গাটা দিয়ে হেঁটে বাথরুমে যেতে হয়। রাতে বাথরুমে যেতে তাদের অসুবিধা। নিত্য নতুন কথাবার্তার আমদানি শুরু হতে থাকে প্রতিনিয়ত! চাচি একজন মানুষের জন্যে অনেক খাবার লাগে! উনি ভাত খান বেশি! এত যোগান আছে কি যে সংসারে লোক রাখতে গেছি ইত্যাদি!
শাশুড়ির অত্যাচার, অপমান বেড়ে চলা বৈ কমছিল না! একদিক থেকে না হয় অন্য দিক থেকে! খাওয়া, পরা, থাকা সব কিছুতে খোঁটা দিয়ে দিয়ে আমার জীবনটা পুরোপুরি বিষিয়ে তুলছিল। আমি বাচ্চাদের নিয়ে রুমে দরজা লক করে বসে কাঁদতাম দিনরাত। মনে হতো আর বাঁচবোনা! স্বামী সংসার সবকিছু মূল্যহীন ঠেকতো!
বাসা থেকে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিলাম একসময়।
কাছেই এক আপুকে জানতাম যিনি হোমমেইড খাবার সরবরাহ করতেন। উনাকে প্রতিদিন আমার ও চাচির জন্যে সব খাবার, নাস্তা সরবরাহ করতে বললাম। তিন বেলা খাবারের সাদামাটা মেন্যু ঠিক করে দিলাম বাচ্চাকাচ্চা সহ আমি ও চাচির জন্যে। আপুটা আমাকে সব খাবার নিয়ম করে দেওয়া শুরু করলেন। বাচ্চাদের জন্যে খিচুড়ি, স্যুপ ও পুডিং তৈরি করে দিতেন প্রতিদিন। আমি চব্বিশ ঘণ্টা রুম বন্ধ করে বসে থাকতাম। শুধু খাবারের ফোন পেলে গিয়ে খাবার নিয়ে আসতাম। বাচ্চাদের জন্যে বেশি করে ড্রাই ফ্রুটস আনিয়ে রাখতাম, সাথে টক দই, ডিম সেদ্ধ, শরবত, সেরেলাক, ওটস খাওয়াতাম বেশিরভাগ সময়। তাছাড়া আমাদের খাবারের সাথে তাদের স্যুপ, পুডিং, খিচুড়ি তো আসতোই রেগুলার।
কিন্তু যন্ত্রণা পিছু ছাড়েনা! বাচ্চাদের বাবা এটা মেনে নিতে পারছিল না। আমার সাথে তার যত রাগ অভিমান শুরু হয়ে যায়! আমার এসবে নাকি বাসায় সে লজ্জা পাচ্ছে! আমি নাকি ডলার পাউন্ডের গরম দেখাচ্ছি। তার মা'কে অপমান করছি হ্যানত্যান! সব কিছুতে কমিউনিকেশন কমিয়ে দিতে লাগলো আমার সাথে!
সে বাসায় আসলেই শাশুড়ী গলা চড়াতো! কান্নাকাটির ভং ধরে আমাকে নিয়ে নানা অভিযোগের বিষ ঢালতো তার কাছে। আর সে আমার কাছে এসে নিজেকে নিজে আঘাত করতো। মাথা ঠুকতো। নিরুদ্দেশ হওয়ার ভয় দেখাতো আমাকে! এইসব পরিস্থিতি, পরিবেশে আমার চিন্তা ভাবনা লোপ পেয়ে যাচ্ছিল মারাত্মক ভাবে। শুধু একটা কথাই মাথায় ঘুরতো অনবরত, এই সব স্বামী সংসার দুরে ফেলে বাচ্চাদের নিয়ে আমার বেঁচে থাকাটাই জরুরী এখন।
বাচ্চাদের বাবা আমার একটু এদিক সেদিক মানবেনা কোনও ভাবে! কিন্তু তার মা যে আমার উপর চূড়ান্ত ভাবে মানসিক অত্যাচার চালাতো সেটা তার নিকট অতি স্বাভাবিক ছিলো। আমার সাথে তার সামনেই এত কিছু যে হতো- সে সব দেখেও নিশ্চুপ-নির্বিকার থাকতো। তার মা'কে একটু বোঝানোর চেষ্টা করেনি কখনও। তার মায়ের সব অন্যায়ের ক্ষেত্রে শুধু আমাকে ধৈর্য ধারণের উপদেশটুকুই দিতে পারতো।
আমার স্টুডেন্টরা সব ছোটছোট বাচ্চা, আর দেশের বাইরেই তাদের বেড়ে উঠা। আমাকে অনেকটা বিদেশের নিয়মে খুব ঠান্ডা মাথায় খুব আদর, যত্ন দিয়ে অসম্ভব কোমল ভাবে তাদেরকে টিচিং করতে হতো।
সব সময় আমার মনে হতো, টাকার জন্যে পরের বাচ্চাদের নানান ঝামেলা সহ্য করে সাবলীল ভাবে সব কিছুই যখন হ্যান্ডল করছি, আমার বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই আমি কখনও যেন এতটুকু অধৈর্য না হই। তারপরও মেজাজ হারিয়ে যেতো প্রায়ই। প্রচন্ড অপরাধবোধে ভুগতাম নিজ বাচ্চাদের নিয়ে। চিন্তা থাকতো সব সময় সহনশীলতার মধ্যে নিজেকে ধরে রাখতে।
এটাও মনে হতো, সব যখন সহ্য করার মিশনে আছি- তো শাশুড়ির ব্যাবহারটাও যেন ইগ্নোর করি। কিন্তু পারতাম না। তার দেওয়া কষ্ট, কথা, তাচ্ছিল্য এফোঁড়ওফোঁড় করে ঝাঁঝরা করে দিতো আমাকে। শ্বাস কষ্ট লাগতো আমার।
তারপরও চেষ্টা করতাম অনেক সময়। কিন্তু সবকিছু নিজের উপর দাবিয়ে দিতে গিয়ে মশা মাছির মতো পিষ্ট হতে থাকতাম মানসিক চাপে! হাসবেন্ড আমার এই অবস্থা গুলো একটুও বুঝতে চাইতো না! তার অবুঝ কথাবার্তা, সান্ত্বনা আমাকে আরও হতাশায় ডুবিয়ে দিতো।
দু'জন টুইন স্টুডেন্ট ছিল আমার। খুব ছোট্ট, চার কি পাঁচ বছর বয়স। দেখতে বেশ সুন্দর অনেকটা বিদেশীদের মতো ফর্সা ফুটফুটে তারা। কথাবার্তা খুব কম বলতো সে বাচ্চারা! ওদের মা'ও বিদেশিদের মতো দেখতে ছিল! সপ্তাহে এক কি দু'টো ক্লাস করতো সে বাচ্চারা। তাও ইরেগুলার! ওদের পড়ার সময় একটু শব্দ হওয়া যেত না। আমার ছোট্ট রুমটায় আমার বাচ্চারা একটু শব্দ করতেই ওদের মা এসে খুব কড়া কথা শোনাতো আমাকে! এই ভদ্রমহিলাকে যতবারই দেখতাম খুব রাগী ও অসুস্থ মনে হতো! আর এত ধর্মভীরু লাগতো যেন সব সময় হিজাব নিক্বাবে থাকে এমন।
তারা ইউরোপে। বাংলাদেশের রাত ১০/১১ টার দিকে পড়তে আসতো টুইনেরা। আমি চেষ্টা করতাম আমার সব বাচ্চাদের তখন ঘুম পাড়িয়ে দিতে। কিন্তু মাঝেমধ্যে ব্যাতিক্রম হতো। একদিন আমার ছোট্ট বাচ্চাটা কিছুটা অসুস্থ, চাচির কাছেও থাকছিলনা। একটু কান্না করছিল ক্লাস টাইমে। এতে টুইনদের মা এসে আমাকে আবারও নানা কথা বলতে শুরু করল! আমি আর সামলাতে পারলামনা সেদিন। কেঁদে উঠি ডুকরে। হাতজোড় করে সে মহিলাকে বোঝানোর চেষ্টা করি কতটা নিরুপায় ও অসহায় আমি! শুধু টাকার প্রয়োজনীয়তায় আজ আমাকে বাচ্চাদের নিয়ে এতো কিছু সহ্য করতে হচ্ছে। মহিলা সেদিনও খুব অসুস্থ! আমার কান্না দেখে হকচকিয়ে যায়! নরম হয়ে আমার ব্যাপারে জানতে চায়। আমিও মন খুলে তাকে আমার স্ট্রাগল, কষ্টের সব কথাই বলি। উনি অবাক হয়ে পড়েন। বলে তুমি চলে যাও এখান থেকে। বলি একা তিনজন ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা নিয়ে বসবাস করা কত কঠিন আমাদের দেশে, কতটা সাহসের দরকার সর্বপরি কতটা এ্যাফোর্ট লাগে তা অকল্পনীয়। উনি খুব আগ্রহী হচ্ছিলেন আমার সাথে কথা বলতে!
ঐ রাতে সারারাত সে আপার সাথে কথা বলতেই যায়। হাসবেন্ড আমার ঢাকার বাইরে ছিলেন সেদিন। হঠাৎ প্রাণ খুলে কথা বলার কাউকে পেয়ে আমিও যেন সেদিন জমাট বাঁধিয়ে রাখা সব কষ্ট কথার ঝাঁপি খুলে দেই।
উনিও আমার সাথে সাথে উনার নিজের জীবনকাহিনী বলতে শুরু করেন। উনি কিডনি জটিলতা সহ নানা শারীরিক মানসিক অসুস্থতার মধ্যে ছিলেন। উনার বাবা বাংলাদেশি কিন্তু মা পোল্যান্ডের। সেদিনে বুঝছিলাম উনার ভালো বাংলা বলতে না পারা ও ফরেনারদের মতো চেহারা হওয়ার ব্যাপারটা।
টিনএজ বয়সেই মারা যান তার মা। বাবা বিয়ে থা আর করেননি। দুই বছর হয় বাবা একটা অ্যাক্সিডেন্টে পঙ্গু হয়ে ঘরে বসা! উনি বিয়ে করেছিলেন এক স্প্যানিশকে। টুইনদের জন্ম সে ঘরেই হয়। কিন্তু সে সম্পর্ক স্থায়িত্ব পায়নি।
উনি কথার মাঝে- আমাকে হঠাৎ জিজ্ঞেস করেন, বাচ্চাদের নিয়ে থাকার মতো একটা জায়গা পেলে আমি কি নিজের ইনকামে ওদেরকে নিয়ে একা চলতে পারব?
আমি কিছু না ভেবে তৎক্ষনাৎ বলি অবশ্যই পারা যাবে। উনি জানান, বাংলাদেশ আসবেন উনি, আমার সাথে দেখা করবেন জরুরি ভাবে। সেদিন এত কিছু বুঝিনি, বুঝতে চাইনিও আসলে!
সত্যিই উনি দেশে আসলেন পরের মাসেই। আমার লোকেশনের কাছাকাছি একটা শপিংমলে বাচ্চাদের নিয়ে আমাকে আসতে বললেন। আমরা নিরিবিলি একটা ফুড কর্নারে বসেছিলাম আলাপচারিতায়। যেহেতু সব বাচ্চাদের এনেছিলাম তাই চাচিকেও সাথে নিয়েছিলাম। ভদ্রমহিলা আমাদের সবাইকে দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন। অনেক কিছু খাওয়ালেন। বাচ্চাদের জন্যে কেনাকাটা করে দিলেন।
একসময় বাচ্চাদেরকে চাচিকে দিয়ে প্লে গ্রাউন্ডে পাঠিয়ে আড়ালে আমার কাছে উনার উদ্দেশ্য প্রকাশ করলেন। আসলে উনি উনার বেবিদের নিরাপত্তা খুঁজছেন!
উনার আরও একজন বাচ্চা ছিল, টুইনদের বড়ো। সে বাচ্চাকে ওর বাবা লুকিয়ে মেক্সিকো নিয়ে চলে যায়। কিছু দিন পর খবর পান সে বাচ্চাটা মারা গিয়েছে। এরপর থেকে ভদ্রমহিলা মানসিক ভাবে ট্রমায় আছেন। তার বাচ্চার বাবা নাকি অপরাধ চক্রের সাথে যুক্ত! এ বাচ্চাদেরও নিতে লোকটা নানান কু প্রচেষ্টা করে চলছে! এতে উনি বাচ্চাদের নিয়ে সবসময় আতঙ্ক উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।
উনি চাচ্ছেন বাংলাদেশে টুইনদের রাখতে। কিন্তু দেশে নির্ভরযোগ্য কেউ নেই উনার! আমাকে রিকোয়েস্ট করছিলেন, আমার বাচ্চাদের সাথে যেন তার বাচ্চা দু'টোকে রাখি! তাদের ইসলামি অনুশাসনে, ধর্মীয় শিক্ষায় বড়ো করি! এর বিনিময়ে উনি আমাকে আমার বাচ্চাদের নিয়ে বসবাস করার জন্যে একটা নিরাপদ সুন্দর ব্যাবস্থা করে দেবেন! সেখানে আমাদের সাথে তার বেবিরাও থাকবে। মাঝেমধ্যে উনি আসবেন দেশে, বাচ্চাদের দেখে যাবেন। আর বাংলাদেশে এই অখ্যাত আমার কাছে টুইনদের বাবা কখনোই পৌঁছুতে পারবেনা বলে তার আত্মবিশ্বাস।
সব শুনে আমি পাহাড় সমান বিস্ময় নিয়ে ভাবনার গহ্বরে পড়ে যাই। সত্য কি মিথ্যা ঠাহর করতে পারছিলামনা। কোন টোপ কিনা এটিও বুঝেছিলামনা। কিন্তু মনে একটি কথাই মাথাচাড়া দিচ্ছিল বারবার- আমার জন্যে জেলখানার মতো ছোট্ট রুমটার অসুস্থ, দমবন্ধ পরিবেশ থেকে মুক্তিটাই সবচেয়ে বড়ো। অমন অপমান জনক বিদঘুটে, অশান্তির বেড়াজাল থেকে বাচ্চাদের নিয়ে বেরিয়ে আসাটাই আমার জন্যে বড় প্রাপ্তি।
আমি হ্যা সূচক মাথা নাড়াই, সম্মতি দেই। বলি, ঢাকা শহরে আমাদের এই এলাকাটাকে মোটামুটি ভালো চিনি। এখানে বা এর নিকটবর্তী এরিয়ায় একটা বাসা নিয়ে দিলে আমি আমার বাচ্চাদের সাথে তার বাচ্চাদেরও রাখব, মানুষ করব, যা যা করতে হয় তার বাচ্চাদের করব। চাচিও থাকবেন আমাদের সাথে সব বাচ্চাদের দেখভালের জন্যে। আর একই এলাকায় থাকলেও আমি আপাতত কোন ধরনের যোগাযোগ রাখবনা আমার হাসবেন্ড বা তার পরিচিতজনদের সাথে।
উনি এক দৃষ্টিতে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। আমি প্রচন্ড ভয় অস্থিরতায় রিতীমতো ঘামছিলাম! কি করতে যাচ্ছি, কি হবে সামনে এমন চিন্তা উৎকন্ঠায় ঠকঠক করে কাঁপছিলাম।
উনি বললেন, আমি যেন প্রিপারেশন নিয়ে থাকি! এক সপ্তাহের মধ্যে উনি সব ঠিকঠাক করে ফেলতে চান। তার লইয়ারের কাছে গিয়ে আমাকে স্ট্যাম্পে সই করতে হবে! আমার ন্যাশনাল আইডি ও অন্যান্য সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কপি উনাকে দিতে হবে। এবং আমার দুজন নিকটস্থ, বিশ্বস্ত মানুষের সাথে উনাকে কথা বলিয়ে দিতে হবে। উনি তাদের সাক্ষী করে রাখবেন।
আমি ভালো মন্দ সব বুঝছিলাম, কিন্তু শাশুড়ির অত্যাচারের কাছে এসব ঠুনকো মনে হতে লাগছিলো। মনে হচ্ছিল ঝুঁকি নিতে হলে নেই! তবুও স্বাধীন ভাবে শ্বাস নিতে পারব। লড়াই করেই বাঁচতে হবে আমাকে। জুবুথুবু হয়ে পড়ে থাকলে আমার উপর চড়াও হতে দিনকে দিন মানুষ বাড়বে। ঘুড়ে দাঁড়িয়ে একটু সাহস ও শক্তি না দেখালে যে কোনো সময় এই শহরের জনসমুদ্রে বাচ্চাদের নিয়ে খড়কুটোর মতো ভেসে যাব। ঘোর অন্ধকারে পা বাড়াতে পিছপা হলাম না আমি।
বাসায় ফিরে আসলাম স্বাভাবিক ভাবে। ফোনে সবিস্তারে বাবা মা'র সাথে কথা বললাম এ ব্যাপারে। সব শুনে উনারাও খেই হারিয়ে ফেলছিলেন যেন। যেহেতু ভদ্রমহিলা আমার নিকটস্থ মানুষের সাথে কথা বলবেন সেক্ষেত্রে আমার বাবা মা'কেই চুজ করলাম। তাদের বললাম ভদ্রমহিলার সাক্ষী হতে! বাবা মা ভয় পাচ্ছিলেন প্রচন্ড। আসলে আমি একা হলে তো কথা ছিল, কিন্তু সাথে ছোট্ট ছোট্ট তিনজন বাচ্চা! এই চিন্তাই তাদের মানসিক ভাবে দুশ্চিন্তায় কাবু করে দিচ্ছিল। আমিও ভেতর থেকে চিন্তায় দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলাম বেশ। তবুও কন্ঠে দৃঢ়তা ধরে তাদেরকে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছিলাম শুধু।
ভদ্রমহিলাকে জানালাম, আমার বাবা মা সাক্ষী হবেন। উনি সেদিনই তাদেরকে আনার ব্যাবস্থা করলেন ঢাকায়। কয়েকদিনের জন্যে একটা হোটেলে বাবা মা'কে রেখে আমরা ল ইয়ারের মাধ্যমে সব কিছু ফায়নাল করলাম। বাবা মা উনাকে সামনাসামনি দেখে, কথা বলে কিছুটা আস্বস্ত হলেন, ভরসা পেলেন।
আমি বাবা মা'কে অনুরোধ করি, কিছুদিন যেন আমার সাথে ভদ্রমহিলার দেওয়া সে বাসায় থাকে। হঠাৎ এমন কিছুতে আমি ভেতরে ভেতরে অসম্ভব নার্ভাস হয়ে পরছিলাম! মনে হচ্ছিল তাদের উপস্থিতি আমার ভয় দুর করবে এবং মানসিক শক্তি যোগাবে। মা বাবা বুঝলেন ব্যাপারটা। পাশে থাকার ভরসা দিলেন আমাকে।
দু'দিন পর ভদ্রমহিলা আমাকে সুবিধামতো তার বাসায় চলে আসতে জানান। আমি আর সময় নিলাম না! হাসবেন্ড তো সকালে অফিস চলে যায়। বাকি শশুর শাশুড়ী। তারা সেদিনকার নিরব দুপুরে যখন ভাতঘুমে, তখন চাচিকে আমাদের কাপড়চোপড়ের ব্যাগ পোটলা হাতে দিয়ে আগে বের করে দেই, পরে বাচ্চাদের নিয়ে আমি বের হই। দরজার আওয়াজে শাশুড়ী শোয়া থেকে উঠে ভ্রু কুঁচকে তাকায় আমার দিকে! আমি দ্রুত বাচ্চাদের নিয়ে বেরিয়ে পরি। এবং নিচে গিয়ে চাচিকে নিয়ে সামনে থাকা একটা সিএনজিতে চেপে বসি। পেছন ফিরে একটিবারও আর তাকাইনি! ভালো মন্দ চিন্তাও করতে চাইনি! সোজা চলে আসি আমাদের জন্যে রেডি রাখা বাসায়।
সেখানে ঢুকেই তো আমার চোখ ছাড়াক গাছ! বিশাল বড় সতেরো শত স্কয়ার ফিটের বাসা। বিশাল বিশাল রুম! গার্ড, সিসি ক্যামেরা সহ সে এ্যাপার্টমেন্টে চব্বিশ ঘণ্টা কড়া সিকিউরিটি। শশুড়ের বাসার অপজিট সাইডের এলাকাতেই আমাদের বাসাটা। চাচিও অসম্ভব খুশি, থাকার কষ্ট আর হবেনা উনার। আমাদের থাকার জন্যে প্রয়োজনীয় ফার্নিচার, ঘরোয়া সাংসারিক জিনিসপত্র সব দেওয়া হয়েছে। ভদ্রমহিলা উনার মেয়েদের নিয়ে এসেছেন। মেয়েরা তো আমাকে চেনে। কিন্তু কেন যেন কাছে আসতে চাইছিলনা আমার! আমি ও চাচি আদর করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু তাদের হাতটিও ধরতে দেবেনা। কিন্তু পজিটিভ ছিল আমার তিন বাচ্চার প্রতি! ওদের দেখে খুব খুশি হচ্ছিল টুইনেরা। খেলতে চাচ্ছিল। কথা বলতে আগ্রহ দেখাচ্ছিল। এটা ওর মা'কে স্বস্তি দেয়, খুশি করে। আমরাও হালকা হলাম এতে। যাক আমার বাচ্চাদের সাথে তারা খুশিতেই থাকবে তাহলে। টুইনদের সব জিনিসপত্র তার মা আমাকে বুঝিয়ে দিলেন। একটা রুমে শুধু নানান ধরনের টয় ও গাড়ি দিয়ে ভরা। দোলনা টানানো। ভদ্রমহিলা বললেন আপনার বাচ্চাদের সাথে এগুলো দিয়ে আমার মেয়েরা খেলবে। উনি আমাকে তার মেয়েদের কথা বলছিলেন আর ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছিলেন! আমি তাকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চাই। বলি, তার বেবিরা আমার কাছে আমানত। আমার দ্বারা যেন কিছুতেই এই আমানতের খেয়ানত না হয়। আজ থেকে পাঁচটা বাচ্চা আমার।
দু'দিন উনি ছিলেন আমাদের সাথে। এরপর চলে যান সেই সূদুরে নিজের ঠিকানায়। আর এদিকে আমার শুরু হয় পাঁচজন বাচ্চা নিয়ে একাকী এক ভিন্ন রকম যাত্রা। আমার সাথে যোগাযোগের সব ধরনের কন্টাক্ট নাম্বার, ইমেইল, অনলাইন প্লাটফর্মের যাবতীয় পথ সব কিছুই বন্ধ করে দেই। নিজের প্রফেশনের জন্যে আবারও সব নতুন ভাবে এ্যাকাউন্ট তৈরি করি।
আর আমার হাসবেন্ডের শুরু হয়, তার জীবনে কঠিন শাস্তি হয়ে আসা এক প্রবল দুঃসময়। সে পাগলের মতো আমাদের খুজতে শুরু করে। উদভ্রান্তের মতো আমার দেশের বাড়ি ও সব আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমার সন্ধান করতে থাকে এবং কান্নাকাটি করতে থাকে কিন্তু আমার ইচ্ছে সে একটা শাস্তি পাক। বুঝুক স্ত্রীকে অবমূল্যায়ন করার ব্যাপারটা কেমন ভয়াবহ। স্ত্রীর গুরুত্ব জীবনে কেমন তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করুক। প্রচন্ড অভিমান, ক্ষোভ থেকে ভালবাসার মানুষটার প্রতি আমার একটা জিঘাংসা তৈরি হয়ে গিয়েছিলো। আর তার প্রতি সেই কষ্ট অভিমান ও ক্ষোভ নিয়ে আমি বাচ্চাদের নিয়ে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলাম দীর্ঘ একটা সময়!!
#অভিমান
Ayisha Yashfah

আমার মেয়ের বয়স ১১ বছর। জন্ম থেকেই বোবা। জন্ম থেকে এই পর্যন্ত তার মুখ  থেকে আমরা একটা কথাও শুনিনি। তবে আমরা কখনও তাকে অ...
12/11/2025

আমার মেয়ের বয়স ১১ বছর। জন্ম থেকেই বোবা। জন্ম থেকে এই পর্যন্ত তার মুখ থেকে আমরা একটা কথাও শুনিনি। তবে আমরা কখনও তাকে অবহেলা করিনি, বরং তাকে আরো বেশি ভালোবেসেছি।

''আজকে অফিস থেকে বাসায় আসলাম, ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, আমার বউ এসে বলল,

- জানো, আজকে একজন মানুষের খোঁজ পেয়েছি, যিনি নাকি বোবা মানুষ কে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে, মাত্র ১০,০০০ টাকার বিনিময়ে।

- যদি টাকা নিয়ে ভেগে যায় বা আমার মেয়ে কথা না বলে, তাহলে?

- আরে, উনি আগে কাজ করে। তোমার মেয়েকে ঠিক করে দিবে। আর তোমার মেয়ের মুখে কথা শুনে, তারপর এ টাকা দিবা।

- আচ্ছা। ট্রাই করা যায়। দেখি, যদি আমার মেয়ে কথা বলতে পারে তাহলে তো সত্যিই আমি অনেক খুশি হব।

- তো আমরা কবে যাচ্ছি?

- দুইদিন পর, আমার অফিস থেকে ১ সপ্তাহর ছুটি দিবে তখন।

- ঠিক আছে।

এরপর মেয়ের সাথে সময় কাটিয়ে, অফিস এর ফাইল গুলো দেখে ঘুমিয়ে গেলাম। এভাবে কেটে গেলো দুইদিন।
আজ শুক্রবার, উনি শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার থাকে, তাই আমরা কালকে যাওয়ার প্ল্যান করতাছি।

শনিবার,

আজকে আমরা গেলাম সেই লোকটার কাছে, প্রথমে দেখে তাকে কেমন যেন মনে হলো, তাও কিছু বললাম না।
তাকে চিকিৎসা করতে বললাম।
তিনি আমাদের রুমের বাইরে যেতে বলল।

প্রায় ১.৫ ঘণ্টা পর তিনি আমাদের ডাক দিলেন।
আমরা ঢুকার সাথে সাথেই আমার মেয়ে আমাকে বাবা ডাক দিয়েই জড়িয়ে ধরলো।
এই মুহূর্ত টা আসলেই সুন্দর ছিল।
এরপর লোকটাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাকে পেমেন্ট করলাম ১০,০০০ টাকা।

আমাদের 3 জনের দিন খুব মজার সাথেই কাটতে লাগলো। মেয়ে নিয়ে ঘুরতে যাই, যা খেতে চায় খাওয়াই, কথা বলি।
এভাবে ৩ মাস কেটে গেলো, আমরা সুখী পরিবার।
কিন্তু, হঠাৎ ই একদিন মেয়ে আবার কথা বলা বন্ধ করে দিলো। মেয়ে আগের মত কথাহীন হয়ে গেলো। আমি অস্থির হয়ে গেলাম।

আসলে কি এতদিন স্বপ্ন ছিল? নাকি বাস্তব।
আমরা আবার সেই লোকটার কাছে গেলাম, যিনি আমার মেয়ের চিকিৎসা করেছিলেন।

ওনাকে ১০০০০ পে করার পর আমার মেয়ে আবার ঠিক হয়ে গেলো, কিন্তু ,৩ মাস।
এরপর আবার। কথাহীন বালিকাতে। পরিণত হয়।

এরপর লোকটার কাছে গেলেই আবার ঠিক হয়ে যায় ১০০০০ টাকার বিনিময়ে।
এভাবে ৪ বার গিয়েছিলাম। আমার মেয়ে প্রায় ১ বছর কথা বলল, ৪০,০০০ টাকার বিনিময়ে।

৫ম বার আর গেলাম না। আমার কেনো যেন একটা খটকা লাগলো। কেনো ৩ মাস?
Why 3Months?

#ভণ্ড
০১

পরপর দুইবার বিকট শব্দে চারপাশটা কেঁপে উঠল। চারদিকের বাতাসে মুহুর্তেই একধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। আশেপাশে থাকা মানুষগুলো ভয়ে...
30/10/2025

পরপর দুইবার বিকট শব্দে চারপাশটা কেঁপে উঠল। চারদিকের বাতাসে মুহুর্তেই একধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। আশেপাশে থাকা মানুষগুলো ভয়ে বারবার শিউরে উঠছে, কেউ কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। দূর থেকে দেখতে লাগলাম— কয়েকজন যুবক মিলে একজন মধ্যবয়সী মানুষকে বেধড়ক পেটাচ্ছে।

কৌতূহলী, সাহসী কিছু মানুষ এগিয়ে গেল ঘটনাস্থলের দিকে। আমরাও ভয়ে ভয়ে কিছু দূর পর্যন্ত গিয়ে দেখলাম— লোকটাকে এমনভাবে পেটানো হচ্ছে , তার গায়ের রক্তে মাটিটা লাল হয়ে উঠেছে। লোকটা কাঁপা কাঁপা গলায় কিছু একটা অনুরোধ করে বলে চলছে , কিন্তু ছেলেগুলোর মুখে করুণার বিন্দুমাত্র ছায়া নেই। তারা অন্ধ ক্রোধে উন্মত্ত।

কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রশাসনের কয়েকজন সদস্য সেখানে এসে হাজির হলেন। আমরা দূর থেকে দাঁড়িয়েই দৃশ্যটা দেখছিলাম। কাছে যাওয়ার সাহস হচ্ছিল না, তবু কৌতূহলটা যেন বুকের ভেতরে চেপে রাখা বড়ো দায়। খানিকটা সাহস সঞ্চয় করে আরও কিছুটা সামনে এগোলাম।
অদ্ভুত এক অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল মনে! ভয় যতটা, তার থেকেও যেন বেশি মুগ্ধতা, আর অজানা আকর্ষণ জড়িয়ে আছে মুহূর্তটার ভেতর।

আমার থেকে কিছুটা দূরেই তিনজন সুদর্শন যুবক দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে দেখে চোখ সরানো দায়, অদ্ভুত এক ব্যক্তিত্ব, রাগে ঝলসে উঠছে তার চোখদুটি। দেখলাম, সে এক প্রশাসনের কর্মকর্তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করছে। লোকটা কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু ছেলেটি যেন আগুনের মতো ফেটে পড়ছে— রূঢ়, কঠিন, অথচ তাতে অদ্ভুত এক টান আছে। পাশে থাকা বাকি দুইজন বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও সে যেন নিজের আগুনেই জ্বলছে।
আমাদের মতো আসেপাশের সকলেই, উৎসুক দৃষ্টিতে সবটা দেখতে লাগলো।

কিছুক্ষণ পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলো । চারপাশের মানুষ আবারও নিজেদের কাজে ফিরে গেল। আমরাও সরে এলাম সেখান থেকে। তবে আসার আগে চোখে পড়ল” ছেলেগুলোর সঙ্গে একজন মেয়েও ছিল। মেয়েটা দেখতে অত্যাধিক সুন্দরী। হয়তো মেয়েটাকে নিয়েই এই গোলমালের সূত্রপাত।

দেখেছো, নিজের পরিচয়টা দিতেই ভুলে গেছি! আমি তাসফিয়া তাসনিন হিমি। এবার ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে ছাএী। লাইফে এই প্রথমবারের মতো রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বাইরে বেরিয়েছি। উহু ! রাতে বললে ভুল হবে৷ বেড়িয়েছি তো সেই বিকেলে।
সারা বিকেল ঘোরাঘুরির শেষে।ক্লান্ত আমরা, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একটা দোকানের সামনে আইসক্রিম খাচ্ছিলাম । কিন্তু সেই আইসক্রিম পুরোপুরি খেতে পারলাম কই। তার আগেই তো চোখের সামনে কতকিছু ঘটে গেল!

হটাৎ ফোনের শব্দ চমকে উঠলাম। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখি —“আম্মু” লেখাটা জ্বলজ্বল করছে। বুকের ভেতরটা কেমন হুড়মুড় করে উঠলো। ভয়ে ভয়ে ফোনটা কানের কাছে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে বললাম,
“হ্যালো আম্মু! আমি আসতেছি, আর কিছুক্ষণের মাঝেই বাসায় পৌঁছে যাবো। তুমি একদম টেনশন কইরো না। আমি একদম ঠিক আছি। আচ্ছা, বাসায় আসলে কথা বলমুনি। হুম? আল্লাহ হাফেজ!”

এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে ফোনটা কেটে দিলাম। আম্মুকে কিছু বলার সুযোগই দিলাম না। কারণ ভালো করেই জানি— আজ তার বকুনি থেকে রেহাই নেই!

বলেছিলাম রাত আটটার আগেই ফিরব, অথচ এখন ঘড়ির কাটা সাড়ে নয়টা ছুঁইছুঁই, আমি এখনও রাস্তায়। কখন যে এতটা সময় হয়ে গেল, টেরই পেলাম না।
অসম্পূর্ণ সেই আইসক্রিমটাকে, কিছুতেই ভুলতে পারছিনা! তাই আবারও ফিরেছি দোকানে।উফফ, পৃথিবীর অনেক কিছু ছেড়ে দেওয়া যায়, কিন্তু আইসক্রিম নয়! শীত হোক কিংবা গরম। আমার কাছে আইসক্রিম হলো এক অন্যরকম নেশা।

“দেখছিস, ছেলেগুলার সাহস? পুলিশের সাথেও কী রাগী ভঙ্গিতে কথা বলল! আর ওই ছেলেটা— উফফ, কী হ্যান্ডসাম! কী অ্যাটিটিউড, কী স্মার্টনেস! সাদা শার্টে যেন আরো কিউট লাগছিল। আমার তো ভীষণ ভালো লেগেছে। ইশ! নামটা যদি জানতাম!”

এমন কথা শুনে আমরা সকলে সরু চোখে তাকালাম সানজিদার দিকে। এই মেয়েটা যাকে দেখবে, তার উপরই ক্রাশ খাবে— এ যেন চব্বিশ ঘণ্টা ‘ছেলেভাবনায়’ ডুবে থাকা এক নাটকীয় প্রাণী। তবে আজ ওর কথায় অস্বীকার করার উপায় নেই-ছেলেটা সত্যিই অদ্ভুত সুন্দর ছিল। যেন অন্য দেশের মানুষ, চোখে কেমন এক গভীর রহস্য।

আমরা সাতজন— আমি, সানজিদা, সায়রা, অনামিকা, নুহুল, ইফাদ, আর রিফাত। ছোটবেলা থেকেই আমরা একে অপরের ছায়া। একই রাস্তায় হেঁটেছি, একই স্কুলে পড়েছি, একই উঠোনে হেসেছি।

রিফাত আর ইফাদ এরা টুইন। তবে এরা দুজন আসলে একদম উল্টো মেরুর মানুষ।না এদের মুখে মিল আছে না চলাফেরায়।
নুহুল আর অনামিকা— এরা দুজন চাচাতো ভাই-বোন। কিন্তু তাদের সম্পর্কটা সাপ-নেউলের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।এরা সারাদিন ঝগড়া করে, অথচ কেউ অসুস্থ হলে অন্যজন কেঁদে একাকার করে।
বাকি রইলাম, আর আমি আর সায়রা!আমরা হলাম, দুরন্ত জুটি! স্থির থাকা আমাদের স্বভাবে নেই। যেন বাতাসের মতো ছুটে বেড়াই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়।

ঠিক তখন রিফাত বলে উঠল,
“এই হিমি, তোকে কেউ ডাকতেছে!”
“কে?”
“রাস্তার ওপারে তাকিয়ে দ্যাখ তো!”

তাকিয়ে দেখি— সত্যিই! মিনহাজ চাচা, আমাদের ড্রাইভার, গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো আম্মুই পাঠিয়েছে। মনে হয় কলও দিয়েছিলো এটা বলার জন্যই।কিন্তু আমি তো কিছু না শুনেই, কল কেটে দিলাম। আজকে আমার কপালে দুঃখ আছে, সেটা ভালো করেই বুঝতে পারছি। তাই আর দেরি না করে আমরা সবাই উঠে বসলাম গাড়িতে।

ভাবছো নিশ্চয়— সবাই মিলে এক গাড়িতে কেন?
কারণ, আমরা সবাই একই বাড়ির বাসিন্দা। বিশাল ১৫ তলার বাড়ি, কিন্তু প্রতিটা পরিবার আলাদা ফ্লোরে থাকে। আমাদের রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও, সেই সম্পর্কের থেকে কোন অংশে কম নয়। তার জন্যই তো তখন বললাম, আমরা ছোটবেলা থেকেই একসাথে বড় হয়েছি।

———
নগরীর অভিজাত অঞ্চলের এক প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল সিকদার ম্যানশন।শুধু একটি বাড়ি নয়, এক ইতিহাস।
এর মূল কর্তা মনিরুজ্জামান সিকদার, এক সময়ের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, আজও যার নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে।
দুই ছেলেকে নিয়েই তাঁর সংসার—মুমিনুল সিকদার ও জাহিদ সিকদার।
কন্যা নেই, কিন্তু একদিন ভাগ্যের নির্মমতায় হারানো বোনের দুই মেয়েকেই তিনি নিজের কন্যার মর্যাদায় বড় করেছেন।

বোন মুনিয়া সিকদার, অকালমৃত্যুর আগে রেখে গিয়েছিলেন দুই নিষ্পাপ সন্তান,-আরফা ও নিলু।
মায়ের মৃত্যুর পর, আর ফিরে দেখা হয়নি পিতার। তিনি অন্যত্র নতুন সংসার গড়েছিলেন।
তখন মনিরুজ্জামান সিকদারই হয়ে ওঠেন সেই দুই ছোট মেয়ের আশ্রয়, অভিভাবক, আর জীবনের একমাত্র ভরসা।
তিনি তাদের পরিচয় দিয়েছেন সিকদার পরিবারের কন্যা হিসেবেই—মেয়ে নয়, রক্তের চেয়েও ঘন ভালোবাসা দিয়ে।

মনিরুজ্জামান সিকদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র মুমিনুল সিকদার,তার স্ত্রী রিনা সিকদার,
আর তাঁদের সন্তান–এক কন্যা ও এক পুত্র।
#ইসরাত_রিমা, অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী; রূপে, বুদ্ধিতে, স্বভাবে—মাশাল্লাহ, সবার প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু।
আর ছোট ছেলে মুনতাসীর সাকিল সিকদার, পরিবারের ব্যবসার কর্ণধার।
দবছর’দুয়েক আগে সে বিয়ে করেছে মীরাকে।এখন তাদের ছোট্ট এক বছরের পুত্র #সিকদার_মায়ান সিকদার ম্যানশনের প্রিয়মুখ।

মনিরুজ্জামান সিকদারের কনিষ্ঠ পুত্র জাহিদ সিকদার,তার স্ত্রী আরিফা সিকদার।আর তাঁদের দুই পুত্র— #আনান_ইয়ামিন সিকদার ও #সিকদার_আরহান_রিদয়ান_ইভান ।

আনান, বয়স প্রায় আটাশ, পরিবারের দায়িত্বে পরিপক্ব,দেশের বাইরে থেকে পরিচালনা করে সিকদারদের আন্তর্জাতিক ব্যবসা।
অন্যদিকে, ছোট ছেলে ইভান-দীর্ঘ একুশ বছর পর বিদেশের মাটিতে কাটানো জীবন শেষে সদ্য ফিরেছে বাংলাদেশে।
চার বছর বয়সে পরিবারসহ পাড়ি জমিয়েছিল ইউএসএ,তারপর এত বছরেও আর তার দেশে ফেরা হয়নি।
এবার ফিরেছে, তবে তার আগমন যেন এক নতুন রহস্যের সূচনা।
কারণ, সে ফিরেই যেন সিকদার ম্যানশনের প্রতিটি দিনকে অস্থির করে তুলেছে–প্রতিদিনই অচেনা অজানা কাউকে না কাউকে মেরে হসপিটালে পাঠাচ্ছে।
সিকদার রিশান, অত্যন্ত সুদর্শন, বুদ্ধিদীপ্ত ও ব্যক্তিত্বময় এক তরুণ।তার মধ্যে এক অদ্ভুত মিশ্রণ—ঠান্ডা রাগ, অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ, আর রহস্যময় নীরবতা।সে মেয়েদের অপছন্দ করে।মেয়েদের থেকে সবসময় দূরত্ব বজায় রেখে চলে।

একসময় পুরো পরিবারই বাস করত বিদেশে।কিন্তু পনেরো বছর আগে তারা স্থায়ীভাবে ফিরে আসে নিজের মাতৃভূমিতে, নতুন করে গড়ে তোলে তাদের বিশাল টেক্সটাইল রপ্তানি ব্যবসা।বর্তমানে সিকদার এক্সপোর্ট গ্রুপ নামেই তারা পরিচিত-দেশে-বিদেশে সমান খ্যাতি ও মর্যাদা নিয়ে।
তবু, ঐ ঐশ্বর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে বহু না-বলা গল্প,অমীমাংসিত সম্পর্ক, রহস্য।

———

সুরে সুরে গানে কবিতায়, তোমাকেই খোঁজে মন।
তবু হায়...! তুমি দাও না ধরা।
ও..ও বারে বারে কথা থেমে যায়।
আরও একা এ জীবন মনে হয়, থাকি দিশেহারা।
মনের অনুরাগে, বাজে এ কোন রাগিনী।
কাছে এসে কেন, কাছে আসতে পারিনি।
আমি আজও বুঝিনি, আমি আজও বুঝিনি........!

বাসায় এসে আম্মুর বকা খেয়ে, মনের দুঃখে গান গাচ্ছিলাম। হটাৎ ফোন বেজে ওঠায়, গান গাওয়া ফেলে দৌড়ে ফোনের কাছে গেলাম। অনামিকা কল করেছে। কলটা ধরে, অনামিকার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে ম্যাসেনজারে ঢুকলাম।
কিছুক্ষণ ফোনের দিকে হা করে তাকিয়ে রইলাম। কারণ আজকে রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিউজে দেখিয়েছে। যেহেতু আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম, তাই ক্যামেরায় আমাদেরও উঠানো হয়েছে। পুরো নিউজ দেখিনি। তবে অনামিকার পাঠানো রিলসটাতে এটুকুই লেখা দেখলাম,
'বাংলাদেশের নামকরা ড্রাগ ব্যবসায়ী জোসেফকে পুলিশি আওতায় আনা হয়েছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, সিকদার আরহান রিদয়ান ইভানের কারণে অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছে। প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান সিকদারের নাতি — সিকদার ইভান।'

“যাক, তাহলে লোকটা খারাপ বলেই ওভাবে মেরেছে! আমার তো লোকটাকে দেখে মায়াই হচ্ছিল। কী মারটাই না মারলো! বাবাহ্ কি সাংঘাতিক ব্যাপার- নামকরা ড্রাগ ব্যবসায়ী জোসেফ! বুঝি না বাপু, এদের কি কোনো কাজ নেই? ব্যবসা করবে ভালো কথা, তাই বলে ড্রা*গসের ব্যবসা কেন?”
একটু থেমে আবার নিজেকেই বললাম,
“যাকগে, আগে দেখি ক্যামেরায় আমরা কেমন দেখাচ্ছি!”

ভিডিওটা চালিয়ে দেখলাম রাতের আবছা আলোয় আমাদের মুখ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। তবে একটা দৃশ্য একদম পরিষ্কার সানজিদা সেই হ্যান্ডসাম ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছে। মুহূর্তেই মনটা ভালো হয়ে গেল। সানজিদাকে খেপানোর জন্য দারুণ এক বিষয় পেলাম!

বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত দশটার বেশি বেজে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম, আজ আম্মুর বকার সঙ্গে হয়তো একটু মারও খেতে হবে। কিন্তু না— আম্মু শুধু বকেছে, মারেনি। অবশ্য এখন পর্যন্ত কখনো মার খাইনি। আমি হচ্ছি আব্বুর আদরের ‘মহারানী’। আর হবো না কেন? মাহবুবুর রহমানের একমাত্র মেয়ে আমি। মাহবুবুর রহমান হলো আমার কলিজার আব্বুর নাম। আমাদের ছোট্ট সুখী পরিবার— আব্বু, আম্মু, ভাইয়া আর আমি এই চারজনের।

রুমের ভিতরে বসে বসে বোর হচ্ছি। যাই, গিয়ে দেখি আম্মু কী করছে!
আম্মুর রুমে উঁকি মারতেই আম্মু দেখে ফেলেছে। ধরা পড়া চোরের মতো তাকিয়ে আছি। আম্মু এখনো আমার উপর রেগে আছে। আমি খিলখিলিয়ে হেসে উঠলাম; পরক্ষণেই দাঁত কেলিয়ে উদাস ভঙ্গিতে বলে উঠলাম,
"মিসেস ফারহানা রহমান! আপনার সাহস কী করে হলো, আমার মতো নান্নামুন্না একটা বাচ্চার উপর এভাবে রেগে থাকা! আমি এটা ভেবে অবাক হচ্ছি, দিনেদিনে আপনার সাহস বেড়ে গেছে। আচ্ছা, আপনার এই সাহস হলো কিভাবে, জানতে পারি।"

আমার কথা শুনে আম্মু তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া দেখালো না। শুধু আড় চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আম্মু আমার উপর অভিমান করে আছে। আমি আর থাকতে পারলাম না। দৌড়ে গিয়ে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলাম,
"আর কখনো এমন ভুল হবে না, আম্মু! প্রমিজ করছি, আর তোমার কথার অবাধ্য হবো না। প্লিজ, আমার সঙ্গে কথা বলো। তুমি কথা না বললে আমার ভাল্লাগে না।"

আমার কথা শুনে আম্মু মৃদু হাসলো। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কাতর কন্ঠে বলে উঠল,
“তুই আর নোভান ছাড়া আমার আছে কে, বল? আজ তুই কী চিন্তায় ফেলেছিলি জানিস? তোর আব্বু জানলে আমার উপরই রাগ করত। তোরা ছাড়া আমরা কেমন অসহায়, সেটা তুই জানিস না।”

আম্মুর কথা শুনে বুকের ভিতরটা ভার হয়ে এলো। চোখদুটো ছলছল করে উঠলো।
#নোভান_মাহরুজ_হিমালয় আমার একমাত্র আদরের ভাইয়ের নাম। ভাইয়া বর্তমানে লন্ডনে, এইসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পড়াশোনার জন্য গেছে। ভাইয়াকে সামনাসামনি দেখি না প্রায় চার বছর হলো। আব্বুর ইচ্ছে ছিল-ভাইয়া যেন বিদেশে পড়াশোনা করে বড় হয়। সেই ইচ্ছে পূরণ করতেই তাকে দূরে পাঠানো।

আমরা এই ভবনটার সপ্তম ফ্লোরে থাকি। এটা আমাদের নিজস্ব ভবন। আমাদের আরও বাড়ি আছে, তবে আমরা এখানেই বেশি থাকি। কারণ আব্বু নিজের ব্যবসার কাজে বেশিরভাগ সময়ই আমাদের থেকে দূরে থাকে। বাসায় শুধু আমি আর আম্মুই থাকি। এখানে আমার সকল ফ্রেন্ডরা আছে, তাছাড়া এখানে থাকা প্রায় সকল পরিবারের মানুষই খুব ভালো। আমাদের মনে হয়, তাঁরাও আমাদের পরিবারের অংশ। আম্মুরও একা মনে হয় না, আমিও বন্ধুদের সঙ্গে যখন ইচ্ছে গল্প করতে পারি।

আম্মু আর আমি কিছুক্ষণ টুকটাক কথা বলছি। এর মাঝেই ভাইয়ায় ভিডিও কল দিয়েছে। ফোনটা হাতে নিয়ে হাসিমুখে ভাইয়াকে বলে উঠলাম,
"ভাইয়া, তাড়াতাড়ি দেশে চলে আসো। আর ভালোলাগে না, তোমায় ছাড়া। খুব মিস করছি তোমায়।"

ভাইয়া আমার কথা শুনে হাসিমুখে উত্তর দিলো,
"খুব শীঘ্রই চলে আসবো, তাস্ফি। তুই শুধু দোয়া কর, তোর জন্য অনেক গিফট নিয়ে আসবো, বুড়ি।"

ভাইয়ার কথা শুনে খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে। ভাইয়া যখন বলছে, তাহলে সত্যি সত্যি দেশে আসবে। কী আনন্দ হচ্ছে, বোঝাতে পারবোনা। ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে উৎফুল্ল হয়ে বলে উঠলাম,
"আমার গিফট লাগবে না, ভাইয়া। তুমি আসলেই হবে। লাফ ইউ, ভাইয়া, উম্মাহহহহ! তাড়াতাড়ি চলে আসো।"

এটুকুই বলেই ফোনটা আম্মুর হাতে ধরিয়ে দিলাম। এত আনন্দ হচ্ছে, আমার ভাইয়া আসবে। উফফ, ভাবতেই খুশিতে কান্না করতে ইচ্ছে করছে। এই খুশি সেলিব্রেশন করতে সকল ফ্রেন্ডদের কল দিয়ে আমাদের বাসায় আসতে বলেছি। ওরা আসলে সকলে মিলে চিপস, চানাচুর খাবো।

ভাইয়াকে আমি ভীষণ ভালোবাসি। ভাইয়া যখন বাংলাদেশে ছিল, আমাকে নিয়ে অনেক ঘুরাঘুরি করতো। আমার করা ভুলগুলো ভাইয়া সবসময় নিজের মাথায় নিতো। তারপর আম্মুর বকা শুনতো। আমি একটু অসুস্থ হলে ভাইয়া খুব কান্না করতো। আমার এখনো মনে আছে, একদিন আমার হাত কেটে গেছিল। তখন হাত থেকে রক্ত বের হতে দেখে ভাইয়ার সে যে কি কান্না। ভাইয়া আমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে।

—–—

"ইভান, এভাবে নিজের শত্রুর বাড়ানোর কোন মানে আছে। তুই দেশে আসার পর থেকে কি শুরু করেছিস, বলতো!"
এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে সেটা ইভান ভালো করেই জানতো। রুশান তাহমিদ ইভানের প্রানের বন্ধু। রুশান সবসময়ই ইভানের সঙ্গে থাকে। রুশান মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। তার পৃথিবীতে কেউ নেই। একমাত্র বাবাই ছিল, যে রুশানকে কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছিল, কিন্তু বেশ কিছু বছর আগে তার বাবা মারা গেছে। সেই থেকে রুশানকে সবসময় নিজের সঙ্গেই রাখে ইভান।

রুশান নিজের প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে ইভানের দিকে তাকিয়ে রইল। ইভান একটা চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে। দৃষ্টি সীমাবদ্ধ ফোনের স্ক্রিনে। হঠাৎ রুশানের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে, ঠোঁটের কোনে অদ্ভুত হাসি ফুটিয়ে বলল,
“ইউ ডোন্ট নো, ইভান ডাজন’ট চেস এনিওয়ান উইদাউট আ রিজন।”

রুশান সরু চোখে তাকিয়ে রইল ইভানের দিকে। ইভান কখন কী করে, সেটা সে ছাড়া কেউ জানে না। কী কারণে করে, তাও কাউকে বলে না। তবে রুশানের কাছ থেকে কখনোই কিছু লুকায় না সে। রুশান ভ্রু কুঁচকে আবারও বলল,
"হুম, জানি! কিন্তু........"
"উহু, নাথিং’স গোইং টু হ্যাপেন।"

রুশানের পুরো কথা না শুনেই ইভান ফোনের দিকে তাকিয়ে কথাটা বলে উঠল। রুশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বসে রইলো। সে জানে, এখন ইভানকে জিজ্ঞেস করলেও কিছু বলবে না। ইভান একমনে কিছুক্ষণ ফোন ঘাটলো। ফোনের দিকে তাকিয়েই হুট করে বলে উঠল,
"আই’ম গোয়িং হোম। টেল ফাহাদ টু টেক দ্য কার আউট। আই’ম রিয়েলি টায়ার্ড।"

ইভানের কথা শুনে সঙ্গে সাথেই রুশান কল দিয়ে ফাহাদকে গাড়ি বের করতে বলেছে। কিছুক্ষণ পরেই ইভান হেটে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। রুশান সেদিকে তাকিয়ে ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলল। পরক্ষণেই সে তার পিছনে যেতে যেতে বিরবির করে বলল,
"কি হয়েছে, কে জানে! ঠিক বুঝে উঠতে পারছিনা। কি চলছে ওর মনে, কে জানে? জিজ্ঞেস করলাম, তাও কিছু বলল না।"

ইভান এতক্ষণ অফিসে ছিল। অফিসে এসে কারোর সঙ্গে কোনও কথা না বলে, নিজের কেবিনে এসে এতক্ষণ চুপচাপ ফোন চালিয়েছে। রুশানও ইভানের পিছুপিছু এসেছিল।
ইভানকে দেখেই ফাহাদ গাড়ির দরজা খুলে দিল। আর ইভান চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসলো। রুশান গাড়ির কাছে এসে দাঁড়াতেই ইভান গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠল,
"গেট ইন দ্য কার, রুশান। ফাহাদ, ড্রাইভ স্লোলি, ওকে!"

ফাহাদ আর রুশান দুজনেই গাড়িতে উঠে বসলো। ফাহাদ নরম গলায় বলে উঠল,
"জ্বি বস, ধীরে ধীরেই চালাচ্ছি!"

ইভানের কাণ্ড-কারখানা কিছুই বুঝতে পারছেনা রুশান। রুশান বেশ বিরক্ত হলো ইভানের উপর। খানিকটা রাগ দেখিয়ে প্রশ্ন করলো,
"একটু আগে বললি, টায়ার্ড লাগছে, বাড়ি যাবি। এখন আবার বলতাছো, গাড়ি ধীরে ধীরে চালাতে? কাহিনি কী, ভাই!"

রুশানের কথা গায়ে লাগলো না ইভানের। সে নিজের মতো ফোন চালাচ্ছে। হঠাৎ রুশানের দিকে তাকিয়ে বলল,
"ইউ ডোন'ট নো, ইভান ডাজন’ট সে এনিথিং উইদআউট আ রিজন।"

ইভানের কথা শুনে রুশান চুপচাপ তাকিয়ে রইল। ফাহাদ ধীরে ধীরে গাড়ি চালাচ্ছে। মিনিট পাঁচেক পরেই ইভান আচমকা বলে উঠল,
" স্টপ দ্যা কার, ফাহাদ! "

চলবে........

#সূচনা_পার্ট
#হৃদয়_রেখার_অন্তরালে
#তাসফিয়া_মেহেরিন_কবিতা

Address

Rajshahi
6300

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nature photografhy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Nature photografhy:

Share

Category