09/01/2026
"মেয়েটা ফর্সা কিন্তু চেহারার কাটিং ভালো না।"
"ফেস কাটিং নাকি দারুণ কিন্তু শ্যামলা।"
"মাশা আল্লাহ সুন্দর কিন্তু অনেক খাটো।"
"সুন্দর হলেও দোষ একটা মেয়ে হিসেবে বেশি লম্বা।"
"মেয়ে পার্ফেক্ট কিন্তু কত মোটা"
"দেখলে মনে হয় শরীরে কঙ্কাল বাদে কিছু নাই।"
এই যে কথাগুলো, এগুলো শুনতে শুনতে একটা মেয়ের মন ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে যায়। কারণ সমাজের কিছু মানুষ আছেন যারা জাজ না করলে মনে হয় তাদের শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় জানেন কোথায়? এই জাজিংটা সবচেয়ে বেশি হয় বিয়ের সময়। তখন মেয়েটা মানুষ না, যেন একটা প্রোডাক্ট। রং মিলছে না, হাইট ঠিক না, নাক একটু এমন, হাসি একটু তেমন। যোগ্যতা চরিত্র মন এসব যেন সিলেবাসেই নেই। শুধু মাপজোক আর কম্পারিজন।
একটা মেয়ে সারাদিন হাজারটা লড়াই করে। পড়াশোনা করে, কাজ করে, পরিবার সামলায়, নিজের স্বপ্নগুলো চেপে রাখে। আর শেষে এসে শুনতে হয় তুমি ঠিক মতো সুন্দর না। এই কথাগুলো বাইরে থেকে হালকা মনে হলেও ভেতরে ভেতরে গভীর দাগ কাটে। সেলফ কনফিডেন্স ভেঙে যায়। আয়নায় তাকালেই নিজের দোষ খুঁজতে থাকে। এটা কি ন্যায্য?
সমাজের ওইসব লোক থাকবেই। তারা থাকেই। আজ রং নিয়ে বলবে, কাল হাইট নিয়ে, পরশু বয়স নিয়ে। তাদের কথা শেষ হবে না।
কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কতটা গুরুত্ব দেব। একটা মেয়ের মূল্য কি শুধু বিয়ের বাজারে তার লুক দিয়ে মাপা হবে? সে কি মানুষ না? তার কি অনুভূতি নেই?
সুন্দর মানে শুধু ফর্সা বা শ্যামলা হওয়া না। সুন্দর মানে কনফিডেন্স। সুন্দর মানে নিজের জায়গায় ঠিক থাকা। সুন্দর মানে নিজের মতো করে বাঁচা সমাজের সার্টিফিকেট লাগবে না। আপনি যদি চান নিজের জন্য নিজেকে একটু পরিবর্তন করতে সেটা শুধু হবে নিজের ইচ্ছায়। কারো কথার চাপে পড়ে না।
যদি আপনি এই কথাগুলো শুনে বড় হয়ে থাকেন, জেনে রাখুন সমস্যা আপনার না। সমস্যা ওই মানসিকতার। আপনি যথেষ্ট। আপনি সুন্দর। আপনি নিজের মতো করেই ঠিক আছেন। আর হ্যাঁ, যারা জাজ করে তারা আসলে নিজেদের অসন্তুষ্টির শব্দই ছড়ায়। একটু স্মাইল করুন আর এগিয়ে যান।
নিজের গল্প নিজেই লিখুন। এইটাই আসল গ্লো।