24/05/2026
২০২৫ সালে পবিত্র হজব্রত পালনের সৌভাগ্য আমার জীবনে এক অনন্য, অবর্ণনীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আসে। মিনার সাদা তাঁবুগুলোর ভেতরে বসে চারপাশে তাকালে আমার মনে হতো আমি পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র এক পরিবেশে অবস্থান করছি। ক্লান্ত শরীর সেখানে কিছুটা বিশ্রাম পেলেও মন বিশ্রাম নিতে পারত না; বরং আরও বেশি সজাগ, আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠত। চারদিকে লক্ষ লক্ষ হাজীর “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনি ভেসে আসত, যা আমার অন্তরকে গভীরভাবে কাঁপিয়ে দিত। মনে হতো, এ ডাক শুধু কানে নয়, সরাসরি হৃদয়ের গভীরে গিয়ে আঘাত করছে।
সেই মুহূর্তগুলোতে অজান্তেই আমার চোখ ভিজে যেত। কারণ এই ভূমিতে পৌঁছানো ছিল আমার জীবনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফল। কত দোয়া, কত অপেক্ষা, কত স্বপ্ন, সবকিছুর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক আকাঙ্ক্ষা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তাই তাঁবুর ভেতরে বসে থাকা প্রতিটি মুহূর্ত আমার কাছে এক একটি অমূল্য স্মৃতি হয়ে ধরা দিত।
আমি অনুভব করেছি, এখানে ধনী-গরিব, ছোট-বড় কোনো পার্থক্য নেই। সবাই সাদা ইহরামের এক সমান সাগরে ভেসে চলা একেকটি আত্মা। এই সমতার দৃশ্য আমাকে গভীরভাবে বিনম্র করে তুলেছে। নিজের অতীত ভুল, পাপ, অনুশোচনা সব যেন এক অদৃশ্য অশ্রুতে ধুয়ে যেতে চেয়েছে, মনকে হালকা ও পরিশুদ্ধ করেছে।
রাতের নীরবতায় যখন তাঁবুর কাপড় হালকা বাতাসে কাঁপত, তখন মনে হতো এ যেন আল্লাহর নিকটতম এক ডাকঘর, যেখানে প্রতিটি দোয়া সরাসরি আকাশে পৌঁছে যায়। সেই মুহূর্তে আমি হাত তুলে শুধু একটাই কথা বলেছি “হে আল্লাহ, আমাকে গ্রহণ করো।”
এই আবেগ, এই কৃতজ্ঞতা, এই আত্মসমর্পণ ২০২৫ সালের আমার পবিত্র হজযাত্রায় মিনার তাঁবুর সবচেয়ে গভীর ও চিরস্মরণীয় অনুভব হয়ে থাকবে। এছাড়া আমি গতবছর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।