04/01/2014
বাড়িওয়ালা আঙ্কেল সহজে ছাদ
খুলতে চান না।
কিন্তু সেদিন খুলেছিলেন।
তাসিন
বিকেলে ছাদে হাটতে গিয়ে দেখতে
ছেলেটিকে।
এত সুন্দর চেহারা কোন ছেলের
হতে পারে না।
হওয়া উচিত না।
ছেলেটা ছ'ফুটের মত লম্বা,
মুখে খোচা খোচা দাড়ি,
তবুও চেহারায় একটু মেয়েলীভাব আছে।
এরকম মেয়েলী ছেলে তাসিনের
ভাল্লাগে না।
কিন্তু এই ছেলেটাকে তার কেন যেন
ভীষণ ভাল
লেগে গেল।
আর ভাল লাগার জন্য
সে খানিকটা লজ্জাও পেল।
ছেলেটা কথা বলছিল ফোনে। অন্যের
কথা শোনা অনুচিত। তবুও তাসিন শুনল,
আর
কথা শুনে এটুকু
বুঝলো যে ছেলেটা রোজ এই সময়
ছাদে আসে।
ছেলেটা সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকলো,
তাসিনও থাকলো।
রাতে তাসিনের ঘুম হল
ছাড়া ছাড়াভাবে।
বারবার শুধু তার কথা মনে পড়ছিল।
(2)
পরদিনও তাসিনের ইচ্ছে হল
ছাদে ছুটে যেতে।
কারণ ছেলেটা এখন সেখানে।
কিন্তু যাওয়ার তো কোনই অজুহাত নেই।
অনেক ভেবেচিন্তে সে পরদিন কিছু
ফুলের চারা আর
টব কিনে আনলো।
বাড়িওয়ালা আঙ্কেলকে পটিয়ে সেগুল
এখন থেকে এগুলোর
অজুহাতে বিকেলে ছাদে যাওয়া যাব
তাসিন এরপর
থেকে মালিগিরি করতে লাগলো, আর
ফাকে ফাকে ছেলেটাকে দেখতো।
ছেলেটার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হত,
কিন্তু
আগবাড়িয়ে বলতে লজ্জা পেত।
ছেলেটাই এগিয়ে এল একদিন।
পরিচয়পর্ব ছাড়াও কিছু কথা হল দুজনের
মধ্যে।
তাসিন জানতে পারলো ওর নাম
নিশাত।
এটা ওদেরই বাড়ি। ওর আর ভাই বোন
নেই।
বাবা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার।
বাড়িতে নিশাত ওর
মাকে নিয়ে থাকে।
ভাল স্টুডেন্ট ছিল, কিন্তু ইচ্ছা হয়
নি বলে আর
পড়ে নি।
তাসিন ওর কাছে নিজের
কথা বলতে গিয়ে বেশ
বিব্রতবোধ করলো।
ওর ফ্যামিলির সাথে নিশাতের
ফ্যামিলির অনেক
পার্থক্য।
(3)
ওদের মাঝে বেশ সখ্য গড়ে উঠলো।
একদিন হঠাৎ নিশাত বলল যে ওর
মা তাসিনের
সাথে কিছু কথা বলতে চায়।
তাসিন ভেবেই পেল না ওর
সাথে কি এমন
কথা বলতে চায় নিশাতের মা।
পরদিন কেমন ঘোরের ভেতর দিন
কাটালো ও।
বিকেলের কিছু আগেই ওর
সস্তা প্রসাধনি দিয়ে সাজতে বসলো।
অনেক সময় নিয়ে সাজার পর আয়নায়
নিজেকে দেখে বেশ তৃপ্ত হল।
মনে মনে ভাবলো ছেলেরা এরকম
একটা মেয়ের
প্রেমে পড়তেই পারে।
(4)
নিশাত ওদের বাড়ির সামনেই
দাড়িয়ে ছিল।
তাসিন আসতেই ওকে ঘরে বসার
ঘরে নিয়ে গেল।
তাসিন কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেল।
যতটা ধনবান এদের
ভেবেছিল সে, এরা তার থেকেও
অনেক বেশি ধনবান।
তার মত মেয়ের কি কখনও এই
বাড়িতে জায়গা হবে?
নিশাত ভেতরে চলে গেল
মাকে আনতে।
তাসিন সব খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিল
এর মাঝে নিশাত ওর
মাকে নিয়ে ঢুকলো।
পায়ে হাত দেওয়া তাসিনের অপছন্দ,
তবুও সে মহিলার
পা ছুঁয়ে সালাম করলো।
তিনি ওকে হাতে ধরে টেনে তুললেন।
বেশ
মমতামাখা স্বরে তাসিনকে বললেন,
"কেমন
আছো মা?"
"ভালো আছি।" বলতে গিয়েও
তাসিনের
গলা কাঁপছিল।
কিছুক্ষণ টুকটাক কথার পর নিশাত হঠাৎ
বলল, "মা,
ওকে সেই কথাটা বলো। আমি যাই।"
কথাটা বলেই চলে গেল ও সে।
ওর মা তাসিনের
দিকে তাকিয়ে বললেন, "নিশাত
তোমাকে একটা কথা বলতে চায়,
নিজে বললেই পারে।
তবু আমাকে দিয়ে বলাবে।
কি যে লাজুক!"
কথাটা শুনে চুপ করে রইলো তাসিন,
অনুমান করার
চেষ্টা করলো নিশাত কি বলতে চায়।
ভাবতেই কেমন লজ্জা লাগলো।
"নিশাতে ভীষণ একা, কারো সাথেই
মানিয়ে চলতে পারে না।
কলেজে কারো সাথে মিশতে পারতো না
ছেড়ে দিল। শুধু তোমার
সাথে কীভাবে যেন বন্ধুত্ব
হয়ে গেল। ও চায় এই বন্ধুত্ব সারাজীবন
ধরে রাখতে।"
একটু থামলেন তিনি।
"এটাই তোমার কাছে ওর চাওয়া,
ওকে ছেড়ে যাবে না তো।"
"না।" আস্তে করে বললো তাসিন।
তার গলা কাঁপছিল।
এতটা সে আশা করে নি।
"প্রমিজ করো।"
"হুম।"
বেশ কিছুক্ষণ নিরবতার পর তাসিন হঠাৎ
বলে ফেললো, "আন্টি, নিশাত
কারো সাথে মেশে না কেন?"
নিশাতের মাকে দেখে মনে হল খুব
কঠিণ প্রশ্ন
করা হয়েছে তাকে।
যার উত্তর জানা নেই।
তিনি তাসিনের দিক থেকে চোখ
সরিয়ে থেমে থেমে বললেন, "নিশাত
আসলে......ও
আসলে হিজড়া! এই লজ্জায় ও
কারো সাথে মেশে না।"
বলার সময় তাঁর চোখে জল চলে আসলো।
তাসিন তা খেয়াল করলো না।
তার মাথায় একটা কথাই ঘুরছিল।
"হিজড়া!!! তার স্বপ্নপুরুষ হিজড়া!"
পরিশিষ্টঃ ছাদের
গাছগুলো শুঁকিয়ে গেছে।
বিকেলে এখন আর কেউ
মালিগিরি করতে যায় না।