30/10/2025
#নন্দিতার গল্প
নন্দিতা মাত্র পনেরো বছরের এক মেয়ে। স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে, আর তার হাসিটা এমনই মিষ্টি যে স্কুলের প্রায় সবাই তাকে চিনত। বন্ধুরা বলত, “তোর হাসিটা না, পুরো জাদু!”
সময় যেতে যেতে স্কুলে, কোচিংয়ে, এমনকি ফেসবুকেও অনেক ছেলেই তার প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করে। কেউ তাকে ফুল দিত, কেউ ভালোবাসার প্রপোজাল পাঠাত। একসময় এই সংখ্যা বেড়ে যায় — প্রায় চল্লিশজন ছেলে নন্দিতার প্রতি আগ্রহ দেখায়।
প্রথমে নন্দিতা এসবকে মজার খেলা মনে করত। কারো মেসেজের উত্তর দিত, কারো সাথে একটু হাসাহাসি করত। কিন্তু ধীরে ধীরে সে বুঝতে শুরু করে — সবাই তার হাসি ভালোবাসে, কেউই তার মনটা জানতে চায় না।
একদিন তার প্রিয় বন্ধু রাফি বলল,
— “নন্দিতা, সবাই তোমায় পেতে চায়, কিন্তু কেউ তোমার স্বপ্নটা জানতে চায় না। ভালোবাসা মানে শুধু পছন্দ না, ভালোবাসা মানে বোঝা।”
এই কথাটা নন্দিতার মনে গভীরভাবে লাগে।
সে বুঝতে পারে, ভালোবাসা মানে সংখ্যায় বড় কিছু নয় — বরং একজন মানুষ, যে সত্যিই তোমার প্রতি সম্মান, বিশ্বাস আর ভালোবাসা রাখে।
এরপর নন্দিতা নিজের পড়াশোনায় মন দেয়। যেসব ছেলেরা শুধু বাহিরটা দেখত, তারা দূরে সরে যায়।
আর রাফি — যে সবসময় পাশে ছিল, কখনো প্রপোজ করেনি — সে-ই একদিন নন্দিতার চোখে সত্যিকারের ভালোবাসার মানে হয়ে দাঁড়ায়।
---
শেষ কথা:
নন্দিতা শিখেছিল, ভালোবাসা একদিনে আসে না, আর অনেক মানুষের ভালো লাগা মানে ভালোবাসা নয়। সত্যিকারের ভালোবাসা আসে সম্মান, বিশ্বাস আর সময়ের পরীক্ষায় টিকে থেকে।
---