30/12/2025
প্রতিবছর থার্টিফার্স্ট নাইটের আগে একদল সচেতন মানুষ চিৎকার করে গলা ফাটান "দয়া করে আতশবাজি ফোটাবেন না।"
সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, আমরা অনেকেই তা কানে তুলি না।
ফলাফল, আতশবাজির আগুনে ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হওয়া, ফানুসের আগুন, বৃদ্ধ-শিশু ও অসুস্থদের চরম কষ্ট, এবং ভয়ে সিটিয়ে থাকা বোবা প্রাণীদের আর্তনাদ। এসব আমরা বারবার দেখেছি, তবু শিক্ষা নিইনি।
সত্যি বলতে, অল্প বয়সের অজ্ঞতা বা আবেগের বশে আমিও একসময় এসবের শামিল হয়েছি। পৌষ সংক্রান্তি বা থার্টিফার্স্ট নাইটে আতশবাজি উপভোগ করেছি। আজ যখন এর ভয়াবহতা বুঝি, তখন নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হয়...
আগামীকাল বছরের শেষ দিন, কিন্তু আমাদের জন্য এটি শুধুই উদযাপনের রাত নয়। আগামীকাল আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর শোকের দিন। বাংলাদেশের প্রথম সফল নারী প্রধানমন্ত্রীর প্রস্থান দিবস, আমাদের অভিভাবক হারানোর দিন। রাষ্ট্র এই দিনটিকে শোক হিসেবে পালন করবে।
তাই আমার অনুরোধ আইনের ভয়ে বা গ্রেপ্তারের ভয়ে নয়, নিজের বিবেকের তাড়নায় এবার আতশবাজি বন্ধ রাখুন। একজন অভিভাবকের চলে যাওয়ার দিনে নিশ্চয়ই উৎসবের নামে বাজি ফোটানো আমাদের সংস্কৃতি হতে পারে না।
সারা বছর যান্ত্রিক কোলাহলে ক্লান্ত শরীর ও মস্তিষ্ককে আজ একটু বিশ্রাম দিন। এই হই-হুল্লোড় বাদ দিয়ে, রাতের গভীর নিস্তব্ধতায় প্রিয়জনদের পাশে বসুন। ছাদ থেকে শহরের শান্ত রূপটা উপভোগ করুন। বিশ্বাস করুন, কোলাহলের চেয়ে নীরবতায় অনেক বেশি শান্তি।
আপনার নতুন বছরটি শুরু হোক শান্তিতে, পবিত্রতায় এবং সফলতায়।