24/05/2026
পরপর চার পুত্রসন্তানের মৃত্যু দীর্ঘশ্বাস হয়ে জমে ছিল ফকির আহমেদের বুকে। কপালপোড়া মানুষটা প্রতিবারই আশায় বুক বেঁধেছিলেন এইবার হয়তো তাঁর কোনো না কোনো পুত্র বাঁচবে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে একে একে সবাই চলে গেছে। সেই গভীর শোক আর হতাশার মাঝেই আবারও মা হতে চলেছেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, জাহেদা। কিন্তু ফকির আহমেদের মনে কোনো আনন্দ নেই। অনাগত সন্তানের দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে আছেন তিনি। ঠিক করলেন, এবার যদি পুত্রসন্তান হয়, তাহলে তাঁর এমন অদ্ভুত নাম রাখবেন, যা আগে কেউ শোনেনি। অনাগত সন্তানকে বাঁচানোর এটাই শেষ প্রয়াস।
সেদিন ঝড় এলো। বাতাসে কাঁপছে গাছ, ঘরের চাল উড়ে যাচ্ছে, ফুঁসে উঠেছে প্রকৃতি। এমন ঝড় আগে কখনও চুরুলিয়া গ্রামে দেখা যায়নি। সেই ভয়াল রাতে প্রসববেদনায় কাতরাচ্ছেন জাহেদা। ঘরের বেড়া উড়ে গেছে। ফকির আহমেদ তখন ঘরে নেই। স্ত্রীর প্রসববেদনার খবর পাওয়া মাত্রই আর দেরি না করে বাড়ির দিকে ছুটে চললেন। বাড়িতে পৌঁছতেই আকাশ ফাটিয়ে গগনবিদারী বজ্রপাতটা হলো।
এমন আলোয় এত ভয়ংকর শব্দ ফকির আহমেদ কখনও শোনেননি। তাঁর চোখ ঝলসে গেল। সেই চোখঝলসানো আলোতেই ঝড়ে ভেঙে যাওয়া আঁতুড়ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখলেন সদ্যজাত সন্তানের মুখ। বলিষ্ঠ, দীপ্ত এক মুখ। তাঁর নিজের পুত্র। সারা পৃথিবী যেন থমকে গেছে, বাতাস স্তব্ধ, কেবল সদ্যজাত শিশুটি ক্রমাগত কেঁদে নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। বহু আকাঙ্ক্ষিত ধন, ছোট পুত্রকে কোলে নিয়ে সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করে ফকির আহমেদ পুত্রের নাম দিলেন তারাক্ষ্যাপা।
আজ সেই তারাক্ষ্যাপার জন্মদিন৷ যিনি পরে হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির বিদ্রোহের প্রতীক, মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর, আমাদের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
শুভ জন্মজয়ন্তী🌼
২৪ মে, ১৮৯৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬
collected tales by Pollob