Time and tide wite for none

Time and tide wite for none অহংকার পতনের মূল।

ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না।

13/02/2018

সাধারণ জ্ঞান (জনক) -
পদার্থ বিজ্ঞানের জনক : আইজ্যাক নিউটন।
সমাজ বিজ্ঞানের জনক : অগাষ্ট কোঁৎ।
হিসাব বিজ্ঞানের জনক : লুকাপ্যাসিওলি।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক : ইবনে সিনা।
দর্শন শাস্ত্রের জনক : সক্রেটিস।
রসায়ন বিজ্ঞানের জনক : জাবির ইবনে হাইয়ান।
ইতিহাসের জনক : হেরোডোটাস।
সনেটের জনক : পের্ত্রাক।
বিজ্ঞানের জনক : থ্যালিস।
মেডিসিনের জনক : হিপোক্রটিস।
জ্যামিতির জনক : ইউক্লিড।
বীজ গণিতের জনক : আল খাওয়াজমী।
জীবাণু বিদ্যার জনক : লুইস পাস্তুর।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক :এরিস্টটল।
অর্থনীতির জনক : এডাম স্মিথ।
অংকের জনক : আর্কিমিডিস।
বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক : চার্লস ডারউইন।
সনেটের জনক : পের্ত্রাক।
ক্যালকুলাসের জনক : আইজ্যাক নিউটন।
বাংলা গদ্যের জনক : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
বাংলা কবিতার জনক : মাইকেল মধুসুদন দত্ত।
বাংলা উপন্যাসের জনক : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
ইংরেজী কবিতার জনক : জিউফ্রে চসার।
মনোবিজ্ঞানের জনক : উইলহেম উন্ড।
প্রাণী বিজ্ঞানের জনক : এরিস্টটল।

13/02/2018

কাউকে ভালোবাসার জন্যে কোনো কারণ লাগে না, কাউকে কেন ভালোবাসো তার উত্তর যদি তোমার কাছে থাকে, তবে তা কেবলই পছন্দ, ভালোবাসা কোনো কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে না...

16/12/2017

আচ্ছা আর কয়েকদিন পর ই তো মিশনে চলে যাবো। ফোন ফেসবুক সব বন্ধ থাকবে, কমান্ডোর আদেশ। আর অর্ডার ছাড়া আমি ওখান থেকে ফোন না ও করতে পারি। পারবা থাকতে? নাকি এটা সেটা হয়ে গেছে ভেবে নিয়ে বাচ্চা দের মত কান্নাকাটি শুরু করে দিবা!!
-আবার ৬মাস পরে তো আসবাই তাই না। আমি জানি তুমি অবশ্যই আসবা। কাঁদবো না আমি.. দেখবা তো।
-আচ্ছা শুনো, বর্ডার থেকে আবার আমাদের ফোর্স কে সিয়েরা লিয়নে ও যাওয়া লাগতে পারে। যদি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেয়। ওখানে যদি যাই তাহলে হয়ত কথা বলতে পারবো দু'এক বার.. ফোন অন রাখবা। পরে যাতে না শুনি যে আম্মু ফোন নিয়ে ফেলছে তাই গত বারের মত তুলতে পারো নাই।
-পরীক্ষা তো আমার শেষ ই। আম্মু ফোন নিবে কোন দুঃখে। তুমি চিন্তা কইরো না তো। আচ্ছা আমার জন্য কি আনবা? দেশের বাইরে যাচ্ছো তো।
-ওরে আমার আশি একাশি বিরাশি!! যেখানে আমার এক কাপড়ে দিনের পর দিন থাকতে হবে। আফ্রিকান বাচ্চা গুলারে সামলানো লাগবে। ওদের খাওয়া ডিস্ট্রিবিউট করতে করতেই তো দিন চলে যাবে। বেড়াতে তো আর যাচ্ছি না রে..
যদি আবার ফিরে আসি তাহলে এখান থেকেই আপনার জন্য সুন্দর একটা শাড়ি কিনে দিবো। সবসময় তো আম্মুর শাড়ি গুলো পড়েন.. এখন থেকে আপনার শাড়ি পড়বেন।
-আচ্ছা হইছে। আমাকে আগে ওয়াদা দেন যে আমার হবু জামাই কে আপনি সহি সালামতে রাখবেন.. ওর কিচ্ছু হইতে দিবেন না। কিছু হইলেই স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ ধোলাই চলবে কিন্তু!
-জ্বি আচ্ছা ম্যাডাম। মনে থাকবে। তা কোথায় ভর্তি হলেন এডমিশন এর জন্য?
-রেটিনা.. ভর্তি হইছি তো এমনি। টিকবো তো আর না। আপনাদের মত এত মেধাবী তো আর আমি না।
-উহু ম্যাডাম। এটা তো ভুল বললেন। আপনি চাইলেই পারবেন। আমার বিশ্বাস আছে আপনার উপর.. আপনি পারবেন। আপনাকে বলে দি কি কি কর‍তে হবে?
-হ্যা বলে দেন আমার কি কি করতে হবে!!!!!
-তাহলে শুনেন। সকাল ৫টায় ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে একটু হাটবেন। এরপর হালকা কিছু খেয়ে পড়তে বসবেন। একদম উঠবেন ৯টায়। এরপর খাওয়া দাওয়া করে ৯টা থেকে ১১টা ফেসবুক গুতাবেন নাহয় যা খুশি তা করবেন। ঠিক ১২টায় গোসল সেরে যোহরের নামাজ পড়ে খেয়ে দেয়ে ঘুমাবেন ২ঘন্টা। এরপর উঠে নামাজ পড়ে পড়তে বসবেন। এরমধ্যে স্নেক্স খাওয়ার থাকলে খাবেন। যতক্ষণ ই পড়েন না ক্যানো যা পড়বেন মন দিয়ে পড়বেন। রুটিন বানিয়ে নিবেন যে কখন কোন সাব্জেক্ট টা পড়বেন। ঠিক আছে? বেশি রাত জাগবেন না আর ফেসবুক একটু কম ইউজ করবেন ম্যাডাম। আর এই কয়টা মাস প্লিজ পায়ে ধরি একটু কষ্ট করেন। পরে সব ঠিক হয়ে যাবে..
-ওই তুমি কি এটা তোমার ক্যাম্প পাইছো যে এত টা বাজে উঠতে হবে এটা এখন ওটা তখন... পারবো না যে একদম। তুমি আর কয়টা দিন থাকো না প্লিজ। না গেলে কি হয়?? আরো অনেক আর্মি ই তো ছুটি কাটাচ্ছে। তোমার ক্যানো এত দেশভক্তি জাগতেছে। কতদিন পর দেখা হইছে জানো না তুমি? তোমার কি একটুও কষ্ট হয় না আমার জন্য?
আমাদের কথা হয় না। দেখা হয় না.. হঠাৎ করে একেক জায়গা থেকে কল করো। মাঝেমধ্যে ধরতে পারি না.. তখন কত যে কষ্ট লাগে বুঝাতে পারবো না। প্লিজ আর কয়টা দিন থেকে যাও।
-ম্যাডাম.. আপনি কি মনে করেন আমার থাকার ইচ্ছা নাই? আপনার চেয়েও আমার বেশি ইচ্ছা... আমি আমার ফ্যামিলি কে ছেড়ে, আপনাকে ছেড়ে এত দূরে থাকি, কষ্ট টা কি সেটা আমার চেয়ে বেশি কেউ বুঝবে না.. আমি সব কিছু একটু ঠিক করে নি। এরপর সব কিছু চট্টগ্রামেই সেটেল করে নিবো। প্রমিজ..
-যাইয়ো না....
-যেতে হবে যে।
-তাহলে বিষ খাবো যে একদম।
-খেতে চাইলে খেতে পারেন। কারণ বাংলাদেশের বিষেও ভেজাল মিশায়। হা হা হা..
-এই চুপ। বেশি কথা বলবা না একদম.. তাড়াতাড়ি চলে আসবা। আর শুনো.. অন্য দেশের মেয়ে আর্মি গুলো থেকে দূরে থাইকো। একদম ধারেকাছে যাবা না। ঠিক আছে?
-জ্বি ঠিক আছে ম্যাডাম। আমার তো ৬টায় চলে যেতে হবে.. এবার ওঠা যাক। কি বলেন?
-আরেকটু থাকো না। একবার তো "ভালোবাসি" ও বলো নাই। মনে থাকবে...
-ম্যাম এটা কি বলেন তো?
-তোমার জানের জান পরানের পরাণ ডায়েরী আর কি। যেটা কখনোই দেখতে দাও না। কিসব হাবিজাবি লিখো...
-এটা আজকে আপনাকে দিয়ে যাচ্ছি। পড়বেন... আর বুঝতে পারবেন আপনি আমার জন্য আসলে কি!!
-ইমন শোনো..
-বলেন না..
-একবার জড়িয়ে ধরো না প্লিজ..!!
-উমম ম্যাম আপনাকে তো এমনিতেই আমার সারাক্ষণ আমার খালি মনে পড়ে। জড়িয়ে ধরলে তো আর কাজে মন দিতে পারবো না। ওটা পরের বারের জন্য তোলা থাকুক.. কেমন!?
-আচ্ছা..
-ম্যাম মন খারাপ হয়েছে?
-নাহ।
-আমি আবার চলে আসবো তো বাবা।
-হ্যা আসবা। ১বছর পর আসবা।
-না না এইবার খুব তাড়াতাড়ি আসবো। আমি আমার পিচ্চি টা কে মিস করি তো..
-দেখা যাবে তো কখন আসো। আচ্ছা তোমার টি-শার্ট টা আমাকে দিয়ে যাও। বাসায় স্যান্ডো গেঞ্জি পড়েই যাও। কেউ বললে বলবা যে একটা ফকিন্নি কে দান করে দিসো। ঠিক আছে?
-ছিঃ না। মানুষ পাগল ডাকবে। রাস্তায় মেয়েরা তাকায় লাগবে। ইস... না প্লিজ।
-তুমি এখন দিবা।
-ইন্নাহ।
-খুলোওও..
-পায়ে পড়ি আপনার।
-না আমার এইটা লাগবে।
-ক্যানো?
-কারণ এখানে তোমার গায়ের গন্ধ লেগে আছে। সারাক্ষণ এই শার্ট আমার সাথে থাকবে... আমি রাতে পাশে নিয়ে ঘুমোবো।
-এত পাগল ক্যানো আপনি? আচ্ছা গাড়িতে উঠেন.. বাসার কাছাকাছি গিয়ে খুলে দিচ্ছি।
-এতক্ষণে একটা ভালো ছেলের মত কাজ করসো। একদম কথা শুনো না যে তুমি।
-ওহে আমার কৃষ্ণকলি, আপনার চেয়ে ৯বছরের বড় আমি। বুঝলেন!
আপনার যা কথা শুনি আপনি তো তাও শুনেন না.. আমাকে যখনি পান নাকের ডগায় ঘুরান।
- হ্যা, কারণ তুমি আমার কাজের ছেলে..
-এত উচ্চপদের একটা সেনা কে আপনি কাজের ছেলে বলতেসেন, আচ্ছা ময়নাপাখি বুঝাই দিবো আমি। আসি একবার...
-হইসে যাও ভাগো।
ভালোবাসি যে...
-আসি আজকে। বেশি মোটা হয়ে যাইয়ো না.. অলরেডি তো যে ভোটকা হয়ে গেছ..
-একদম চুপ!!
দেখি যাও... তাড়াতাড়ি আসবা। আর যাওয়ার আগে একবার ফোন দিবা.. নাহলে আরেকজন কে বিয়ে করে ফেলবো। দেইখো..
-আমি বাদে অন্য কেউ তোমার দিকে তাকালেও সোজা ইনকাউন্টার করে দিবো। তাই সেটা হচ্ছে না..
-বাপ রে বাপ স্যরি.. ফোন দিও রে বাচ্চা টা!!
হাত টা ছাড়ো। এখন তো নিজেই যেতে দিচ্ছো না।
-আচ্ছা যান..
ইমনের ডায়েরী পড়ছি। সব টা জুড়ে কেবল আমি আর আমি...
অপেক্ষা করছি সে কখন আসবে। সেই যে শেষবারের মত কথা হলো ওর আর কোনো খবর পাই নি।
ও ভালো আছে তো??
Collected

07/12/2017

এই যে শুনুন(নীল)
-জ্বি?(নীলু)
-বিএফ আছে?
-মানে?
-মানে মানে করার দরকার নেই আমি আরবি কিংবা
উর্দূতে বলছি না যে ভাষার জন্য আমি মানে
বাঙ্গালী জীবন দিয়েছে সেই বাংলা ভাষাতেই
বলছি।
-না কেন?
-হুমমমম না থাকলেই ভালো যদি থাকেও তারে মন
থেকে ডিলিট করে দেন।
-কেন?
-কেন মানে আমি কি আপনার সাথে এমনি এমনি কথা
বলছি?
-তো?
-প্রেম করবো।
-কার সাথে?
-আমার সামনে কি অন্য কেউ আছে?
-না তো
-তাইলে আপনার সাথেই।
-নো লাভ নো টেনশন।
-টেনশন না থাকলে জীবন চলে না তাই প্রেমটা
করতেই হবে।
-না লাগবে না টেনশন।
-টেনশন না লাগলেও প্রেমটা করতেই হবে।
আজ থেকেই রিলেশন শুরু।
-বললেই হলো নাকি?
-বললেই তো হবে, না বললে কি হতো?
-আপনার কথা শুনে আমার ঘুম ধরে গেছে।
-ঘুম মহামূল্যবান জিনিস, আর সেটা যেহুতু আমি
দিতে পেরেছি তার মানে প্রেম শুরু
-আপনার কথায় যাদু আছে তো আমি কি করবো?
-বেশি কিছু না প্রেম করলেই হবে।
-ইশ রে ভালো লাগে না প্রেম করতে।
-আপনার ভালো লাগতে হবে না আমার ভালো
লাগলেই হবে।
-না
-চুপ বেশি কথা বলবেন না আমি যা বলছি তাই।
-এই আমাকে ধোমকান কেন?
-প্রেমিকারে ধমকাবো না তো কারে ধমকাবো?
-আপনার মাথা প্রেম করবো।
-সমস্যা নেই যা ইচ্চা করতে পারেন তবে প্রেম
করতেই হবে।
-সব করবো তবে প্রেম করবো না!
-প্রেম না করলে সব করবেন কি ভাবে?
-ইইইই সাহস কত!
-সাহস না থাকলে কি প্রেম করা যায়? আমার সাহস
আছে মানে প্রেম করতেই হবে।
-না না না মানি না মানবো না।
-এটা ভাষা আন্দোলন না যে স্লোগান দিবেন।
-আপনি একটা ছাগল।
-সমস্যা নেই আপনি আমার ছাগি।
-ওকে বাই।
-তারমানে প্রেম শুরু?
- এই না আমি চলে যাবো তাই বললাম।
-ওকে বললেন মানে প্রেমটা শুরু।
-ইট দেখছেন?
-হুমমমম মাটি দিয়ে তৈরি হয়।
-এই ইট আপনার মাথা ফাটাবো কিন্তু।
-সমস্যা নেই হাসপাতালের নার্সের দ্বায়িত্ব নিতে
চান তো, আগে বলবেন না নিজেই ফাটাচ্ছি।
-মামার বাড়ির আবদার নাকি? চাইলেই বুঝি পাওয়া যায়?
-না চাইলে পাবো কি করে? আপনি কি আমার বাসার
সামনে গিয়ে বলতেন নীল বাইরে এসো
প্রেম করবো? বলতেন না তো? তাই নিজেই
চাইলাম।
-না চাইলেই পাওয়া যায় না
-না চাইলে কেউ দেয় বুঝি?
-আপনার সাথে কথা বলে আর পারবো না।
-তার মানে ধরে নিবো প্রেম করবেন?
-না শেষ।
-শুরু না হতেই শেষ হয় কিভাবে?
-কচু শুরু।
-সমস্যা নেই কচু খুব ভালো লাগে।
-তাইলে বসে বসে সেটাই খান।
-আজকেই খেয়েছি।
-আপনি যাবেন?
-কোথায় রিকশা আনবো একসাথে ঘুরবেন?
-জ্বি না মায়ের কোলে!
-এখন প্রেম করছি রাতে যাবো।
-কার সাথে প্রেম করছেন?
-কেন আপনার সাথে।
-যা ইচ্ছা ভাবেন তবে আমি গেলাম ঘুমাবো!
-একা ভাবা যায় না তাই আপনাকে নিয়েই ভাবছি।
-আপনার সাথে কথা বলে পারবো না।
-এটাই প্রেমের শুরু?
-আগে তো জানতাম প্রতিদিন এই রাম্তায় বসে থাকা
ছাড়া কাজ ছিলো না।
কথা বলার সাহস ছিলো না আজকে এতো কথা
বের হচ্ছে কোন দিক দিয়ে?
-কেন আপনার কি অন্য দিক দিয়ে কথা বের হয় নাকি?
-না তো!
-তাইলে আমারও মুখ দিয়েই বের হচ্ছে।
আর এতো দিন ভাবতাম আপনিই আগে বলবেন
কিন্তু বললেন না তাই নিজেই বলে দিলাম।
-এতো কিছু ভাবেন?
-না না আগে ভাবতাম আর ভাবি না।
-ভালো।
-হুমমম হুমমম এই তো হচ্ছে এখন বাসি শব্দটা এড
করেন তাইলেই হবে।
-বাসি না।
-ইশ রে হলো না এবার না শব্দটা বাদ দে।
-না
-এইতো হয়ছে দুইটা মিলিয়ে ভালোবাসি।
-জ্বি না ভালোবাসি না।
-তাইলে আড় চোখে তাকান কেন হুমমমম
প্রতিদিন?
-আরে তাকালেই কি প্রেম হয় নাকি?
আর কাধেন গিটারটা খুব ভালো।
-আর আমি?
-সেটা তো জানি না।
-প্রেম করেন জানতে পারবেন।
-মাথায় এই কথা ছাড়া আর কথা নেই?
-আছে তো
-সেটাই বলেন।
-love u
-এটা কি হলো?
-কেন অন্য কথা বললাম।
-ঘুরে তো একিই হলো।
-এই তো বুঝছেন।
-হুমমমম
-এটা কি love u এর উওর?
-আরে না না বুঝতে পারছি সেটার উওর।
-যাক অবশেষে প্রেমটা তো হলো।
-কেমনে?
-আমার কথা বুঝতে পারছেন তাই তো।
-আপনার কথা শুনে আমি শেষ।
-আমি জানি।
-কি জানেন?
-প্রেমে পড়ে গেছেন এটা?
-আম্মুকে ডাক দিবো বলে দিলাম।
-কেন সরাসরি বিয়ে কথা বলতে? সমস্যা নেই ডাক
দেন ।
-আপনি একটা পাগল
-প্রেম করলে একটু পাগল হতেই হয়।
-ওকে বাই
-তার মানে প্রেম শুরু?
-ইইইই নাক ফাটিয়ে দিবো কিন্তু.....
-সমস্যা নেই স্বামীর নাক ফাটাতেই পারেন,
বাইরের লোকের নাক ফাটিয়ে মার খাবেন নাকি?
-স্বামী আসলো কোথা থেকে?
-মানে কি প্রেম কি এমনি এমনি করছি নাকি?
বিয়ে করবো না?
-আজব তো।
-জানি আমি আজব সবাই বলে।
এই যে দেখেন সারাদিন আপনার জন্য বসে থাকি
পাগল ছাড়া আর কি?
-গিটারটার যত্ন নেন না? ময়লা পড়ে গেছে?
-গিটার আপনাকে ভাত কাপড় দিবে না আমি দিবো।
তাই গিটারের কথা না ভেবে আমার কথা ভাবেন।
-ভাবলাম
-কি ভাবলেন?
-আপনি বদ্দ উম্মাদ
-জানি।
-আর কি কি জানেন নিজের সম্পর্কে?
-প্রেমটা শুরু হোক সব বললো আস্তে
আস্তে।
-আস্তে না জোরে বলেন।
-love u(জোরে চৎকার দিয়ে বললাম)
সাথে সাথে আমার মুখটা চেপে ধরে
বললো....
-আরে আরে করছেন কি।
-আপনিই তো বললেন জোরে বলতে।
-এটা না। আর আমার বাসার সামনে এটা বললে প্রেম
করা হবে না বলে দিলাম।
-তারমানে?
-আপনি তো সব জানেন এটাও জেনে নেন।
বলেই চলে যাচ্ছে!
পিছন থেকে বললাম,,
-প্রেমের কি হলো?
-রাতে ফোন দিয়েন সব বলবো।
-নাম্বারটা?
-কেন সেইদিন আপনাকে দেখে পাশের
ফ্ল্যাক্সির দোকানে টাকা তুললাম না মোবাইলে
চোরের মত তো নাম্বারটা নিলেন।
একটা ফোনও তো দিলেন না।
-আমাকে দেখে কেন দিলেন?
-কি আর করার সারাজীবন কি এখানে বসে
থাকবেন?
বিয়ের বয়স তো পার হয়ে যাচ্ছে।
তাই ভাবলাম আর কি,
আর আপনি একটা গরু সাহস নেই ফোন দেওয়ার।
-অপেক্ষা ছিলেন নাকি?
-আপনি তো সব জানেন এটাও জেনে নেন।
আর এই ভাবে আগোছালো হয়ে থাকলে
দুইদিনেই ডিবোর্স দিয়ে দিবো বলে দিলাম।
হঠাৎ নীলুর ফোনটা বেজে উঠলো।
-এটা আমার নাম্বার (আমি)
-বলতে হবে না সেভ করাই আছে।
-তাইলে কি প্রেমটা শুরু?
-গরুর আবার প্রেম কিসের?
বলেই চলে যাচ্ছে বাসার দিকে।
তাকিয়ে আছি ওর চলে যাওয়ার দিকে।
মন বলছে তাকাবে।
কিন্তু না তাকিয়েই বাসার ভিতর ডুকে গেলো।
মনটাই খারাপ একবার তাকালে কি এমন হতো?
এমন সময় দেখলাম,
গেটের ফাক দিয়ে তাকিয়ে আছে।
দেখেই উপর দিকে ইয়াহু বলেই লাফ।
হাসতে হাসতে চলে গেলো।
একটাই প্রশ্ন মনে ........
আচ্ছা প্রেমটা কি শুরুই হয়ে গেলো?
Collected

13/11/2017

ছেঁড়া শার্ট পরে থাকা ছেলেটিও খুব ভালো করে জানে, ছেঁড়া শার্টের পরিবর্তে ভালো একটা শার্ট পরলে তাকে খুব সুন্দর লাগত। বন্ধুদের আড্ডায় আপনাদের মজাদার টপিক থাকে ঐ ছেঁড়া শার্ট পরা আঁতেল বন্ধুটি। টিউশন কিংবা কাজের অজুহাতে আপনাদের সাথে পিকনিকে কিংবা পার্টিতে যোগদিতে না পারা বন্ধুটিকে আপনারা বলেন অসামাজিক, ব্যাকডেটেড। কখনো কখনো বা হাড় কিপটেও বলেন। পিকনিকে গেলে অনেক মজা হয়, অনেক আনন্দ পাওয়া যায়; এই আনন্দ যেমন আপনি পান, তেমনি ঐ হাড়কিপটে ছেলেটিও পায়। কিন্তু পিকনিকে যাওয়ার মত তার টাকা থাকলে তো সে যাবে! ভালো শার্ট কেনার টাকা থাকলে সে মার্কেটের সবচেয়ে দামি শার্টটিই কিনে নিয়ে আসত।

আপনি যখন বাবার টাকায় গোল্ডলিফে আগুন ধরিয়ে একটা টান দিয়ে "এই মামা যাবি " বলে রিক্সায় উঠে পার্টিতে যান, তখন ঐ হাড়কিপটে ছেলেটি নিজের ভার্সিটির টিউশন ফি'র টাকা যোগাড় করতে হেঁটে হেঁটে স্টুডেন্ট এর বাসায় পড়াতে যায়। তাকে লাইফের মিনিং বুঝাতে আসবেন না। লাইফ কী- সেটা আপনি এখনো বুঝেননি। লাইফের মিনিং কী সেটা আপনি টের পাবেন যখন গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরির জন্য দৌঁড়াতে হবে তখন। গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করার পর যেদিন বাবার পকেট থেকে মিথ্যা বই কেনার টাকা কিংবা ভার্সিটির নানা খরচের অজুহাত দেখিয়ে যখন আর টাকা নিতে পারবেন না, সেদিন বুঝবেন আপনি লাইফের মিনিং কী! তখন গোল্ডলিফের মাথায় আগুন ধরিয়ে রিক্সায় চড়ার আগে, নিজের মাথায় আগুন ধরে যাবে চাকরির জন্য। বাবার টাকায় বিলাসীতা করা এই আপনি যখন দেখবেন, বাবা রিটায়ার্ড করে আপনার চাকরির আশায় বসে আছে- তখন রাস্তায় রাস্তায় আপনাকেও আঁতেল হয়ে দৌঁড়াতে হবে।

ছেঁড়া শার্ট পরা কিংবা পিকনিকে না যাওয়া যে বন্ধুটিকে আপনি আঁতেল বলতেন, তার ক্যারিয়ার নিশ্চিতভাবেই আপনার আগে শুরু হবে। কারণ সে আপনার অনেক আগেই জীবনের মিনিংটা বুঝতে শিখেছে, সে আপনার আগেই ক্যারিয়ার প্ল্যানিংটা করে রেখেছে। যাকে একসময় আপনি আঁতেল বলতেন, সে যখন প্রপার প্ল্যানিং এ এগিয়ে গিয়ে ক্যারিয়ারকে স্ট্যাবলিশড করে ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল পার্টিতে যোগদান করবে, তখন আপনার নিজেকেই পৃথিবীর সেরা আঁতেল মনে হবে। নিজেকে তার সামনে তুচ্ছ মনে হবে। লাইফকে বুঝতে শিখুন। কেউ আঁতেল নয়। আজ যে আঁতেল, কাল সে হিরো হয়ে যাবে।

(Collected)
ছেঁড়া শার্ট পরে থাকা ছেলেটিও খুব ভালো করে জানে, ছেঁড়া শার্টের পরিবর্তে ভালো একটা শার্ট পরলে তাকে খুব সুন্দর লাগত। বন্ধুদের আড্ডায় আপনাদের মজাদার টপিক থাকে ঐ ছেঁড়া শার্ট পরা আঁতেল বন্ধুটি। টিউশন কিংবা কাজের অজুহাতে আপনাদের সাথে পিকনিকে কিংবা পার্টিতে যোগদিতে না পারা বন্ধুটিকে আপনারা বলেন অসামাজিক, ব্যাকডেটেড। কখনো কখনো বা হাড় কিপটেও বলেন। পিকনিকে গেলে অনেক মজা হয়, অনেক আনন্দ পাওয়া যায়; এই আনন্দ যেমন আপনি পান, তেমনি ঐ হাড়কিপটে ছেলেটিও পায়। কিন্তু পিকনিকে যাওয়ার মত তার টাকা থাকলে তো সে যাবে! ভালো শার্ট কেনার টাকা থাকলে সে মার্কেটের সবচেয়ে দামি শার্টটিই কিনে নিয়ে আসত।

আপনি যখন বাবার টাকায় গোল্ডলিফে আগুন ধরিয়ে একটা টান দিয়ে "এই মামা যাবি " বলে রিক্সায় উঠে পার্টিতে যান, তখন ঐ হাড়কিপটে ছেলেটি নিজের ভার্সিটির টিউশন ফি'র টাকা যোগাড় করতে হেঁটে হেঁটে স্টুডেন্ট এর বাসায় পড়াতে যায়। তাকে লাইফের মিনিং বুঝাতে আসবেন না। লাইফ কী- সেটা আপনি এখনো বুঝেননি। লাইফের মিনিং কী সেটা আপনি টের পাবেন যখন গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরির জন্য দৌঁড়াতে হবে তখন। গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করার পর যেদিন বাবার পকেট থেকে মিথ্যা বই কেনার টাকা কিংবা ভার্সিটির নানা খরচের অজুহাত দেখিয়ে যখন আর টাকা নিতে পারবেন না, সেদিন বুঝবেন আপনি লাইফের মিনিং কী! তখন গোল্ডলিফের মাথায় আগুন ধরিয়ে রিক্সায় চড়ার আগে, নিজের মাথায় আগুন ধরে যাবে চাকরির জন্য। বাবার টাকায় বিলাসীতা করা এই আপনি যখন দেখবেন, বাবা রিটায়ার্ড করে আপনার চাকরির আশায় বসে আছে- তখন রাস্তায় রাস্তায় আপনাকেও আঁতেল হয়ে দৌঁড়াতে হবে।

ছেঁড়া শার্ট পরা কিংবা পিকনিকে না যাওয়া যে বন্ধুটিকে আপনি আঁতেল বলতেন, তার ক্যারিয়ার নিশ্চিতভাবেই আপনার আগে শুরু হবে। কারণ সে আপনার অনেক আগেই জীবনের মিনিংটা বুঝতে শিখেছে, সে আপনার আগেই ক্যারিয়ার প্ল্যানিংটা করে রেখেছে। যাকে একসময় আপনি আঁতেল বলতেন, সে যখন প্রপার প্ল্যানিং এ এগিয়ে গিয়ে ক্যারিয়ারকে স্ট্যাবলিশড করে ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল পার্টিতে যোগদান করবে, তখন আপনার নিজেকেই পৃথিবীর সেরা আঁতেল মনে হবে। নিজেকে তার সামনে তুচ্ছ মনে হবে। লাইফকে বুঝতে শিখুন। কেউ আঁতেল নয়। আজ যে আঁতেল, কাল সে হিরো হয়ে যাবে।

(Collected)

12/11/2017

১) কাবা ঘরের ভেতরে কোনো
ইলেকট্রিক লাইট নাই।
(২) এ ঘরের মেঝে এবং ওয়াল মার্বেল পাথর
দ্বারা নির্মিত।
(৩) এ ঘরের কোনো জানালা নাই।
(৪) কাবা ঘরের ১টি মাত্র দরজা।
কাবা ঘরের ছাদে ১২৭ সে.মি লম্বা ও ১০৪ সে.মি. প্রস্থের একটি ভেন্টিলেটার আছে যেটি দিয়ে সূর্যের আলো ভেতরে প্রবেশ করে।
এটি একটি কাচ দিয়ে ঢাকা থাকে।
যখন কাবা ঘরের ভেতর পরিস্কার করা হয় তখন এই কাচটি খোলা হয়।
কাবা শরীফের দুটি সিলিং রয়েছে।
এর ভেতরের দেয়ালগুলি সবুজ ভেলভেটের পর্দা
দিয়ে আবৃত। এই পর্দাগুলি প্রতি তিন বছর পর পর পরিবর্তন করা হয়।
এর সিলিংকে তিনটি কাঠের পিলার ধরে রেখেছে। প্রতিটি পিলারের ব্যাস ৪৪ সে.মি.।
পবিত্র কাবা শরীফ পরিস্কার করার জন্যে এর দরজা বছরে দুইবার খোলা হয়। রমজান এর ১৫ দিন আগে
এবং হজ্জ এর ১৫ দিন আগে।
পরিস্কারের পরে মেঝে এবং দেয়াল সাদা কাপড় ও টিসু দিয়ে মোছা হয়।
এরপর দেয়ালগুলি পারফিউম দিয়ে
সুগন্ধযুক্ত করা হয়।
কাবা শরীফের কালো কাপড়ের আবরনটি (কিশওয়া)
প্রতি বছর ৯ই জিলহজ্জ পরিবর্তন করা হয়।
কাবা শরীফের দরজার চাবি বনী সায়বা নামক এক
গোত্রের কাছে থাকে।
মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) এই চাবী এই গোত্রের
কাছে দিয়েছিলেন,
যা কিয়ামতের আগ পর্যন্ত তাদের কাছেই থাকবে।
তারা কাবা শরীফ পরিস্কার করার
কাজের জন্য বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রেসিডেন্ট,
মন্ত্রী, কুটনীতিক ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের
দের অভিবাদন জানান।
মক্কা শহরের গভর্নর তাদের কাবা
শরীফের ভিতরে নিয়ে যান এবং
তারা জমজম কুপের পানি এবং গোলাপ জল দিয়ে কাবা শরীফের ভিতর পরিস্কার করেন!
হে-আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে তোমার ঘরে যাওয়ার
তৌফিক দান করুন "আমিন"
_শেয়ার করুন

10/11/2017

পিশাচ সংসার

লেখাঃ ইরাবতী (ভূতের পেত্নী)

আজকে আমার বিয়ে ৷ খুব ভালো স্টুডেন্ট না হওয়ায় ইন্টার পরীক্ষার পরেই বিয়ে জুটলো কপালে ৷ যার সাথে বিয়ে হচ্ছে তার সাথে কয়েবার কথা আর দেখাও হয়েছে ৷ ছেলেটাকে আমার ভালোই লেগেছে ৷ ওকে আমার ভাইয়া পছন্দ করেছে ভাইয়ার ফ্রেন্ডের আত্মীয় হয় শাকিল ৷ হ্যাঁ ওর নাম শাকিল ৷ রুবাইয়াত মোজাম্মেল শাকিল ৷ যেদিন ওরা আমাকে দেখতে এসে ওর পুরো নাম বলে আমিতো সবার সামনেই ফিক করে হেসে ফেলি ৷ কেমন আজগুবি নাম তিনটা নাম তিনরকমের কোন মিল নেই ৷

এরপর বিয়ে ঠিক হলো ৷ তারপর কয়েকবার ওর সাথো শপিং এ পার্কে গেছি ৷ ফাইনালি আজকে আমার আর শাকিলের বিয়ে ৷ সারারাত ঘুম হয়নি দুপুর থেকে ঘুম পাচ্ছিলো অনেক ৷ আম্মু বললো অনুষ্ঠানতো রাতে এখন একটু ঘুমিয়ে নে ফ্রেশ লাগবে ৷ আমিও একটা ফাকা রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে শোয়া মাত্রই ঘুম ৷

--আ আ পনি কে?

-- কেনো নিডোর স্বামীকে চিনতে পারছোনা?

-- শাকিল?? ওহ মাইগড তোমার চেহারা এমন কেনো? প্লীজ সামনে থেকে যাও ৷

-- হাহাহা যাবো? কেনো যাবো? আমি তো তোমাকে নিতে এসেছি ৷ এসো এসো ৷

নাদিয়া এই নাদিয়া নাদিয়া!!

ঘুম ভেঙ্গে গেলো আমার ৷ ওহ স্বপ্ন দেখছিলাম ৷ ইশ কি বাজে স্বপ্ন ৷ উফফ গড ৷
হ্যাঁ আম্মু আসছি ৷

-- কি রে কখন থেকে ডাকছি ৷ ঘুম হয়েছে? না হলেও আর ঘুমোনো যাবেনা চল রেড্ হতে হবে পার্লারের লোক এসেছে ৷

-- ওকে আম্মু তুমি যাও আমি হাত মুখ ধুয়ে আসছি ৷

-- ঠিক আছে ৷

ছিহ বিয়ের মতো শুভ দিনে কি সব স্বপ্ন দেখলাম তাও আবার শাকিলকে নিয়ে ৷ আচ্ছা ও কি বিয়ের পর আমার সাথে অনেক খারাপ ব্যাবহার করবে? তাই এমন স্বপ্ন দেখলাম ৷ ধুরু কি ভাবছি ৷ দুপুরের একটা আজগুবি স্বপ্ন নিয়ে আবার ভাবছি আমি ধ্যাত ৷ এখন কোন চিন্তা না রেডী হতে হবে সুন্দর করে ৷

-- নাদিয়া আপু আপনার বেনারশী কি কালার? সে অনুযায়ী সাজাবো ৷

-- কালো কালার ৷

-- কালো?? কি বলেন আপু? বিয়ের বেনারশী কখনো কালো হয়?

-- আরেহ আপু হয়না এখন হবে ৷ দেখবেন আমার দেখাদেখি কালো বেনারশী পড়বে সবাই ৷

-- কিন্তু এমন বেনারশী কই পেলেন আপু? এমন রংয়ের কি বেনারশী হয়?

-- আমার বর এনে দিয়েছে ৷

-- উনি কোথায় পেলো?

-- আচ্ছা আপনি সাজাবেন? না নিজেই সেজে নিবো আমি?

-- না না সরি আপু বেশী কথা বলছি কাজ বাদ দিয়ে ৷ আসুন কি আর করা কালোর সাথের সাজই দিয়ে দেই ৷

-- জ্বী প্লীজ ৷

এই পার্লারের মহিলাকে গোয়েন্দা বিভাগে দেয়া উচিত ছিলো ৷ সাজাতে এসে আমার মাথাই খারাপ করে দিলো ফাজিল মহিলা ৷ এখন যদি সাজ একটু উনিশ বিশ হয় এটার ঘাড় ই মটকায় দিবো আমি হুহ ৷

-- নাদিয়া আপু মেকআপ শেষ দেখুন তো ঠিক আছে কি না ৷

আয়নায় নিজেকে দেখে মহিলার উপর থেকে সব রাগ চলে গেলো ৷ দারুণ সাজিয়েছে তো ৷ নাহ বেশী কথা বললেও মহিলার সাজানোর হাত ভালো ৷

-- আপু আপনার তো লং হেয়ার বেনুনী করবো নাকি খোঁপা?

-- দেখেন যেটা মানাবে করুন আপনিই ভালো বুঝবেন ৷

-- আচ্ছা আপু চুলে তো ফুল দিতে হবে কিন্তু কালো রংয়ের ফুল তো নেই ৷

-- মানে?

-- না আপনার গেটআপ কালো এখন লাল বা সাদা ফুল তো অড হয়ে যাবে ৷

-- হুম তাও তো ঠিক ৷ এটা তো মাথায় আসেনি ৷ কি করা যায়?

-- আপু আপনার বর কে জিগেস করুননা কালো বেনারশী আনতে পেরেছে ফুলও পারবে ৷

কথাটা বলেই মহিলা মুচকি মুচকি হাসলো যেনো কালো ব্যাপারটায় সে খুব মজা পাচ্ছে ৷ আবারো মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো ৷

-- এত কথা বলেন কেন ভাই? ফুল দেয়া লাগবেনা এমনি
চুল বেধে দেন ৷

যাক ফাইনালী বাচাল মহিলার থেকে নিস্তার পেলাম ৷

ঢাকা শহরের জ্যামকে মাঝে মাঝে স্যালুট করতে ইচ্ছে করে ৷ শাকিলদের আসার কথা সাতটা আটটা নাগাদ এসে পৌছালো রাত বারোটায় ৷ কি অবস্থা কতো রাত হয়ে গেছে কেমন আজগুবি টাইপ ব্যাপার মধ্যরাতে না কি বিয়ে ৷ বেশীরভার আত্মীয়ই ঘুমে টলছে ৷ অনেকে চলেও গেছে ৷ আমার খুব রাগ হচ্ছে ৷ এটা বিয়ে বাড়ী? কেমন শোরগোল বিহীন মানুষজন কম ৷ কি আজব ৷ আজ সব মেজাজ খারাপ করা ব্যাপার ঘটছে সব ওই স্বপ্নটার দোষ ওই স্বপ্ন দেখেই কপাল খারাপ যাচ্ছে আমার ৷

বিয়ে পরানো শেষ হলে বাসা থেকে আর দেরী করলোনা কেউ কারণ আবার যেতে হবে এত রাত হয়ে গেছে এমনি ৷ আমার তো কান্না পাওয়ার কথা বাসা থেকে চলে যাবো কিন্তু আমার কান্নাই পাচ্ছেনা কি লজ্জার ব্যাপার ৷ কান্নার অভিনয়ও তো জানিনা তাহলে না হয় একটু করতাম ৷ ইশ সবাই কি ভাববে? কিন্তু কালকেও আমার এতো কান্না পেলো চলে যাবো বলে আজকেই কি হলো যে যাচ্ছি তাও কান্না আসছেনা? নাহ কি যে সব হচ্ছে ৷

গাড়ীতে উঠেই একটা এত সুন্দর স্মেল পেলাম ৷ মনে হলো পৃথিবীতে এর চেয়ে সুন্দর স্মেল আর হতে পারেনা ৷ যতক্ষণ গাড়ীতে ছিলাম আমি যেনো মাতাল হয়ে যাচ্ছিলাম স্মেলটায় ৷ মনে হলো এই স্মেল এর জন্য সারাজীবন এই গাড়ীতেই বসে থাকা যায় ৷

-- শাকিল শুনছেন ৷

-- হ্যাঁ বলো ৷

-- গাড়ীতে কোন এয়ার ফ্রেশনার দেয়া?

-- কোনো এয়ার ফ্রেশনার নেই তো গাড়ীতে ৷

-- তাহলে কিসের স্মেল এতো সুন্দর?

-- হবে কোন কিছুর গাড়ীতে তো ফুল গিফটস অনেক কিছু আছে হয়তো কোনোটার হবে ৷

-- ওহ ৷

পৌছালাম ১ ঘন্টায় অথচ এই রাস্তায় শাকিলরা সাত ঘন্টা জ্যামে ছিলো ৷ সত্যি এটা আজব নগরী ঢাকাই বটে ৷

শাকিলের মা নেই বাবা আর একমাত্র বোন ৷ বোনেরও বিয়ে হয়ে গেছে বাসায় শাকিল আর আমার শ্বশুড় আজ থেকে আমিও এড হলাম ৷

অবশেষে সব নিয়ম কানুন শেষে প্রায় সাড়ে তিনটার দিকে ঘরে যেতে পারলাম এবার ঘুমানো যাবে উফফ ৷

কিন্তু ঘরের ভেতর গিয়ে লাইট জ্বালিয়েই আমার পিলে চমকে গেলো !!!!!!

এটা ঘর?? বাসর ঘর?? সিরিয়াসলি?
পুরো ঘর খাট কালো গোলাপ দিয়ে সাজানো ৷ দেখে মনে হচ্ছে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া ঘর ৷ শাকিল কি কালো খুব পছন্দ করে? মানলাম করে তাই বলে কালো গোলাপে কেউ ঘর সাজায়? মাই গড ৷
আর এত কালো গোলাপ পেলই বা কোথায়? কালো গোলাপ তো খুব সহজলভ্য ও না ৷ যাই হোক ও আসলেই জিগেস করবো ৷ ভাবতে ভাবতেই চলে এলো শাকিল ৷

-- আপনার সমস্যা কি?

-- কেনো?

-- কালো গোলাপ দিয়ে কেউ ঘর সাজায়? পুরাই ভৌতিক লাগতেছে ৷ আর বিশ্রীও ৷

-- তোমার ভালো লাগেনি?

-- কি করে লাগবে? এর মধ্যে যদি সাপ থাকে বোঝাইতো যাবেনা ফোস করে ছেবল দিবে শুতে গেলে ৷ অথবা যদি কোন পোকা থাকে? ইশ কি রুচি আপনার ৷

-- আচ্ছা তুমি ফ্রেশ হও আমি এর মধ্যে এগুলো সরিয়ে ফেলছি ৷

-- জ্বী প্লীজ

-- ওকে ৷

নাদিয়া শোনো!!

-- আবার কি?

-- আলমারী তে একটা শাড়ী রেখেছি তোমার জন্য ফ্রেশ হয়ে ওটা পরবে প্লীজ?

-- ওলে বাবালে রোমান্টিক বরটা আমার আচ্ছা ওকে ৷

আলমারী খুলেই আমার চোখ কপালে উঠলো ৷ কালো শাড়ী ৷ উফ এই লোকটা নিশ্চিত কালো পাগলা ৷ হঠাৎ খেয়াল করলাম আলমারী তে রাখা দু চারটে ড্রেস বাদে সব কালো ৷ পুরো আলমারী টা অদ্ভুত লাগছে কেমন একটা ভয় করতে লাগলো আমার ৷ তাড়াতাড়ী আলমারী বন্ধ করে ফেললাম ৷

ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হলাম ৷ যা ভেবেছিলাম ওয়াশরুমের সব জিনিস কালো ৷ টাওয়েলটা পর্যন্ত ৷ মহা মুশকিল তো ৷ এই লোকের মাথা খারাপ আমি সিওর ৷

ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি পুরো ঘর পরিস্কার ২০ মিনিটের মধ্যে সারা ঘরের ফুল সরালো শাকিল তাও একা? একটা পাপড়ীও কোথাও নেই ৷ যাক ছেলেটা কাজের আছে ৷ ভালই হলো ৷ অলস মানুষ একদমই পছন্দ না আমার ৷

বিছানায় হেলান দিতেই সারা রাজ্যের ঘুম চলে আসলো ৷ একঘুমে সকাল নয়টা ৷ ইশশ ছিহ শ্বশুড় বাড়ীর প্রথম সকাল অথচ এত লেইট করে ফেললাম ৷
তারাতরী উঠে শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হয়ে বের হতে যাবো তখনই একটা পেরেকের সাথে শাড়ী টান খেলো সেটা ছোটাতে হঠাৎ দেখি বাথরুম সাদায় ঝকঝক করছে ৷

আমি কি রাত কানা হয়ে গেলাম? রাতে দেখলাম সব কালো এখন দেখি সাদা ৷ হায়হায় কানা হয়ে গেছি নির্ঘাত ৷

-- নাদিয়া

-- যাই ৷

ধুরু পরে ভাববো এমনি দেরী করো ফেলেছি যাই আগে ৷

আমি লজ্জায় শেষ প্রথম দিন শ্বশুড় বাড়ীতে ব্রেকফাস্টটাও বানাতে পারলামনা ৷

-- শাকিল আমি অনেক সরি

-- কেনো?

-- প্রথম দিন এতো দেরীতে-----

-- আরেহ কি যে বলো ৷ ক্লান্ত ছিলে এটা স্বাভাবিক এটা নিয়ে আবার সরি বলছে পাগলী মেয়ে ৷

ইশ আমার বরটা কত্ত ভালো ৷

-- নাদিয়া আমি অফিস যাচ্ছি ৷ বাবার খেয়াল রেখো ৷

-- ওক্কে ডার্কবয় যাও ৷

-- কি?

-- তোমাকে ডার্কবয় ই ডাকবো সারাদিন কালো নিয়েই পরে থাকো ৷ এইযে অফিস যাচ্ছো সব কালো ঘড়িটাও কালো ৷

-- হাহাহা ওকে নো প্রবলেম তাই ডেকো ৷ আসি বাই ৷

-- বাই ৷

দেখতে দেখতে আমরা ১ মাস পার করে ফেললাম ৷ বরটা আমার এতো ভালো কি বলবো ৷ আর শ্বশুর বাবার কথা তো কি বলবো সবসময় মামনী ছাড়া কথাই বলেনা ৷ আমার মতো গবেটের ভাগ্যে এত সুন্দর সংসার ছিলো কল্পনাই করতে পারিনি ৷
এটা ভাবতেই হঠাৎ যেনো মনে হলো কেউ কানের কাছে এসে বলে গেলো

" না দি য়া রাত এখনো বাকী"

আমার মাথাটা ঘুরে উঠলো ঠিক তখনি সেই স্মেলটা পেলাম যেটা গাড়ীতে পেয়েছিলাম ৷ আমি আবার মাতাল হয়ে যাচ্ছি ৷ কোনো ভয় করছেনা আর ৷

--মামনি কই তুমি ৷

ঘোর কেটে গেলো আমার তখনই গা কাটা দিয়ে উঠলো আমার কে বললো কানের কাছে কথা? আর স্মেলটা কই গেলো? আজব তো ৷ এমন হলো কেনো হঠাৎ ???

-- মামনি ৷

-- জ্ব জ্বী বা-বা যাই ৷

গলা শুকিয়ে আসছে আমার ৷ দিন দুপুরে কি সব হচ্ছে ৷

-- শাকিল ৷ তোমার সাথে কিছু কথা শেয়ার করবো ভাবছি ৷ কিন্তু এসব অতিমাত্রায় হাস্যকর শোনাবে তাই বলিনি ৷ বাট আজ যা হলো এরপর ভাবলাম যাই হোক তোমাকে বলা উচিত ৷

-- কি আজব নাদিয়া ৷ তুমি আমার বউ ৷ তুমি আমাকে সব টপিকেই বলতে পারো এতো ব্যাখ্যা দিয়ে ফরম্যালিটিস করছো কেনো?

-- আসলে শাকিল ৷ আমি হঠাৎ করেই কিছ একটাু স্মেল পাই ৷ আর তখনই নিজের ওপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি ৷ আমি বুঝি ফিল করি কিন্তু এমন একটা ঘোরের মধ্যে চলে যাই বুঝেও কোনো কথা বলতে পারিনা ৷ একবার হলে কথা ছিলো এই নিয়ে তারবার এটা হলো ৷

-- কি বলো সিওর কোনো স্মেলেই এমন হয়?

-- হ্যাঁ আমি সিওর ৷ আবার মাসখানেক আগে মনে হলো কানের কাছে এসে কেউ কিছু একটা বলে গেলো ৷ যানি এটা শুনলে সবাই হাসবে ৷

-- না না নাদিয়া আমি বুঝতে পারছি তোমার প্রবলেম ৷ তুমি বলো আর কি হয়েছে ৷

-- আজকে মুরগী কাটছিলাম হঠাৎ মাথাটা কাটতে গিয়ে ছিটকে গেলো ৷ আমার একটু সামনেই পরলো আমি ওটা আনার জন্য উঠলাম উঠেই দেখি নেই ৷ এটা কিভাবে হয় বলো? আমি স্টিল ওখানেই আছি বেড়াল বা কিছু টেনে নিয়ে গেলে তো দেখতে পেতাম ৷ সারা ঘর খুজেও আমি ওটা আর পেলামনা ৷ সব মিলিয়ে আমি খুব অস্বস্তিতে আছি ৷

-- কি বলো? তোমার এমন প্রবলেম হচ্ছে আগে কেনো শেয়ার করোনি?

-- আসলে আমি নিজেই সিরিয়াসলি নেই নি কিন্তু আজকের ব্যাপারটার পর একটু ঘাবড়ে গেছি ৷

-- ওকে ৷ তুমি সারা দিন একা বাসায় বাবাও তো ক্লাবে ফ্রেন্ডের বাসায় যায় তোমার দিন একাই যায় হয়তো তার জন্য ৷

-- শাকিল আমারও তাই ধারণা ৷ আমাদের বাসায় যিনি কাজ করেন তার মেয়ে আছে আমি বললেই পাঠিয়ে দিবে ওকে আনি? আমার সঙ্গীও হবে কাজেও হেল্প হবে ৷

-- আচ্ছা তাহলে কথা বলো ৷

রাতে খাবার সময় শাকিল আমাকে বললো

নাদিয়া এটা কি?

আমার চোখ ছানাবড়া ৷ আমি সিওর মুরগীর মাথা আমি খুজে পাইনি রান্না করা অসম্ভব কিন্তু শাকিল তো মুরগীর মাথা চামচে নিয়ে দিব্যি ধরে আছে ৷
আমি কি এতবড় মিস্টেক করলাম সত্যি? না এটা হতেই পারেনা ৷ কিন্তু কি বলবো এখন?

-- নাদিয়া দেখো হয়তো তুমি ডিপ্রেশানে আছে তাই এসব ফিল করছো প্রমাণ তো নিজেই পেলে ৷

-- হুম হতে পারে ৷

আজ শুক্রবার আজও শাকিলের কাজে যেতে হলো কি যে মেজাজ খারাপ হচ্ছে ৷ বাবা নাকি তার ফ্রেন্ডের বাসায় লাঞ্চ করবে তিনিও নেই ৷ তাও ভালো আমাদের বুয়ার মেয়েকে এনেছি ৷ বোরিং লাগবেনা নিশ্চই ৷

ময়না একটা ন্যকড়া আর ঝাডরু আনো তো দেখি আজ সব পরিস্কার করবো ৷

-- ময়না তুমি স্টোর রুমটা খোলো ওটা আসার পর পরিস্কার করিনি ৷ আমি আসছি ৷

-- আপু তালা দেয়া তো ৷

-- আচ্ছা দাড়াও চাবি ঘরেই আছে ৷

তালা খুলেই আবারো চমকে গেলাম ৷ পুরো রুম বোঝাই করা কালো গোলাপ ৷ এগুলো কি বিয়ের গোলাপগুলো? যদি তাই হয় এতো টাটকা কিভাবে হবে? আর তা না হলে এখানে এতো গোলাপ কীভাবে আসবে কে রাখবে? কিছুই বুঝতে পারছিনা ৷

আমার সত্যিই এখন খুব বিরক্ত লাগছে এসব ৷ কালো রংটাই যেন অসহ্য হয়ে যাচ্ছে আমার কাছে ৷ এমনিতে তালো রং সুন্দর তাই বলে জামা কাপড় থেকে শুরু করে চেয়ার টেবিল, বিছানার চাদর, এমন নি চিরুনীটাও কালো রংয়ের হলে যে কেউই বিরক্ত হবে ৷
আজ শাকিলকে বলবো সব কালো সরাতে হবে ৷ তখনই আবারো কেউ যেনো বললো

" পা র বে না স রা তে"

-- নাদিয়া ঠিক আছো?

-- আ আমার কি হয়েছিলো?

-- তুমি নাকি মাথা ঘুরে পরে গিয়েছো ময়না আমাকে ফোন দিয়ে ডাকলো ৷

-- ওহ ৷

এক সপ্তাহ হলো আর অদ্ভুদ কিছু ঘটছেনা ৷ সব নরমাল আছে ৷ আমি আগের ব্যাপারগুলো আর মনে করিনা মনে আসলেও এড়িয়ে যাই ৷ কারণ আমি বুঝতে পারছি সব আমার মনের ভুল ৷ কিন্তু ওই কালো গোলাপগুলো,,,
উফ আবারো ভাবছি?? না না ভাববো না কাজে মন দিতে হবে ৷

অনেকদিন নিউজ দেখা হয়না ফেবুতেও ঢুকিনি তেমন, সংসার নিয়েই থেকেছি ৷ দেশের নাগরীক হিসেবে দেশের পরিস্থিতি তো জানা উচিত ৷

নিউজ চ্যানেল দেখেও শান্তি নেই রাজনৈতিক মারামারি, এই নেতা খুন ওই নেতা খুন এগুলোই ঘুরে ফিরে ৷ এমনিকি সবাই সিরিয়াল দেখে? এইসব সেম সেম ঘটনা প্রতিদিন ঘটে আর বিজ্ঞাপন তো মাশআল্লাহ শুরু আছে শেষ নেই ৷

আহা কি সুন্দর নিউজ, দুই নেতা খুন, এক্সিডেন্টে নিহত, নৌকাডুবিতে নিহত, রেহিঙ্গা নিহত, পার্লার কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু ৷ সব নিহত আহতের খবরে ভরা ভালো কোনো নিউজই নেই খেলার নিউজটাই মনে হয় একটু ডিফরেন্ট

আচ্ছা ওই মহিলাকে চেনা চেনা লাগছে কেনো? আরেহ এইতো সেই বাচাল মহিলা ৷ ও মা উনি মারা গেলো কীভাবে? ইশ মহিলার জন্য খারাপ লাগছে বাচাল হলেও সুন্দর সাজাতেন ৷ এটার বিস্তারিত দেখতে হবে খবরে তো ঠিকভাবে দেখতে পেলাম না ৷

ফেবুতে পাবো নিশ্চই ৷ পার্লার কর্মীর মৃত্যু লিখে সার্চ করলাম ৷ হুম একটু নিচেই পেয়ে গেলাম ৷ ছবিও এড করা দেখছি ৷ ফেবুর সুবাদে এখন লাশের ছবিও পাওয়া যায় ৷ ইশ মহিলাটার ঘাড়ের কাছে রক্ত কেউ ঘাড়ে আঘাত করেই মেরে ফেলেছে ৷ নাহ আর দেখা যাবেনা ৷ শেষে ভয় লাগবে এমনিতেই যথেস্ট প্যারা আছে আমার ৷ হোম বাটন টাচ করে ডাটা অফ করতে যাবো তখনই মনে হলো আমি কিছু একটা দেখলাম মহিলার পাশে ৷

আবারো ঢুকলাম ৷
আরেহ একটা কালো গোলাপ টেবিলে রাখা ৷ সাইড থেকে পিক তোলায় মহিলার ঘরের টেবিলটা পিকে উঠেছে ৷ কেমন যেনো অদ্ভূত লাগলো ব্যাপারটা ৷ কালো বমযাপারটা আমার সামনেই বার বার কেনো পরছে? আর এই মহিলা এই কালো গোলাপ ৷ আমীকে কি কিছু ইঙ্গীত দিচ্ছে???

আজ খুব বাজে একটা ব্যাপার হলো ৷
গরম পানি করে আনতে গিয়ে বাবার সাথে আচমকা লেগে পানি বাবার পায়ে পড়েছে একটু ৷ বাবা একটু ধমক দিয়েছে ৷
আমারই তো দোষ আমি ওই মহিলাকে নিয়ে ভাবতে গিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে গেছিলাম ৷ তার জন্যই বাবাকে খেয়াল করিনি ৷ ইশ কি হয়ে গেলো ধ্যাত ৷

-- বাবা আসবো?

-- এসো ৷

-- সরি বাবা ৷ আমার জন্য frown ইমোটিকন:-(

-- না না সমস্যা নেই এটা একটা মিস্টেক যাস্ট ৷

-- তবুও ৷ আপনাকে মুভ লাগিয়ে দেই একটু ৷

বাবার ড্রয়ার খুলতেই দেখলাম একটা কালো গোলাপ ৷ বাবার ড্রয়ারে এটা দেখে একটু অবাক হলাম আমি ৷

-- বাবা আপনি কি কালো গোলাপ পছন্দ করেন?

-- ম মানে? কেনো?

-- ড্রয়ারে দেখলাম ৷

বাবা কথাটা শুনেই হন্তদন্ত হয়ে ড্রয়ার খুললেন ৷ ওনার চোখ মুখ ভয়ে শুকিয়ে গেলো ৷

আমি কি করবো বুঝতে পারছিনা ৷ বাবাকেই জিগেস করলাম ৷

-- বাবা কি ব্যাপার? কোনো সমস্যা?

-- মামনি এর আগে কখনো কালো গোলাপ দেখেছো এই বাসায়?

-- বাবা কি যে বলেন বিয়ের দিন তো আমার ঘরটাই কালো গোলাপে ভরা ছিলো ৷ সেদিনও স্টোর রুমে দেখলাম ৷ কিন্তু কালো গোলাপ কে আনে? শাকিল?

-- কি বললে? তুমি এত কালো গোলাপ দেখেছো? তাও এই বাসায়?

এবার আমার ভয় লাগতে শুরু করলো ৷ বাবা এমনভাবে বললেন যেন উনি জানেননি না কিন্তু ঘর সাজানো হলে কি দিয়ে সাজানো হলো এটা বাবা জানবেনা তা কি করে হয়?

-- হ্যাঁ বাবা দেখেছি ৷ কিন্তু কেনো বাবা? কি হয়েছে?

-- তুমি শাকিলকে বলেছো এই ব্যাপারে?

-- না বাবা ৷

-- মামনি ৷ এই কালো গোলাপের প্রতিকার তুমি তাই তুমি এত গোলাপ দেখেও কিছু হয়নি ৷

-- বাবা কি বলছেন কিছুই বুঝতে পারছিনা ৷

-- মামনি তুমিই পারবে এসব থেকে শাকিলকে মুক্তি দিতে ৷

-- মানে? কিসের মুক্তি? বাবা? বাবা?

বাবা আর কিছু বলতে পারলেননা ৷ তিনি তখনই ব্রেইন স্টোক করেন ৷ হসপিটালে নিলাম কিন্তু বাবাকে বাঁচানো গেলো না ৷ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ৷ কেনো ভাবে আমিই কি বাবাকে মানষিক প্রেশার দিয়ে মেরে ফেললাম?

মাঝে তিনমাস পার হয়ে গেলো ৷ বাবার বলা কথাগুলো আমার মনে পরে এখনো কিন্তু শাকিলকে কেনো যেন বলতে ইচ্ছে করেনা ৷ কি বলতে চেয়েছিলো বাবা কে জানে ৷
ময়নাও বড়ীতে গেছে একা বাসায় খুব বোরিং লাগে ৷

কাজে ব্যাস্ত থাকলে একটু ভালো লাগবে ৷ আলমারী খুলে সব কাপড় নামালাম ৷ আলমারীর ভেতর মুছে ন্যপথলিন দিলাম ৷ এখন কাপড়গুলো ভাজ করে রেখে দিবো ৷ আমার ডার্কবয়ের সব ডার্ক ডার্ক কাপড় ৷

কাপড়ের ভেতর থেকে একটা ছোট্ট লক ডায়েরী পেলাম ৷ বলা বাহুল্য এটাও কালো রংয়ের 😂
আমার বরেরই হবে ৷ আমি কখনো কারো পার্সোনাল জিনিস নিয়ে ঘাটিনা সে যেই হোক সো ডায়েরীটা খোলার কোনো আগ্রহই এলোনা ৷
ডায়েরীটা রাখতেগিয়েই হাত থেকে পড়ে গিয়ে পা কেটে গেলো ৷ কি আজব না?

এই পিচ্চিএকটা ডায়েরী একটুও ওজন নেই ধারালোও না অথচ পায়ে পড়া মাত্র মনে হলো পা টা থেতলে গেলো বুঝি ৷ পায়ের ব্যাথায় জীবন শেষ আমার ৷ ডায়েরী হাতে নিয়ে দেখলাম না তো আসলেই কোন ওজন নেই ৷ কি হলো কিছুই বুঝলামনা ৷ আবারো রাখতে গেলাম আবারো হাত থেকে পরে গেলো ওটা এবার পায়ে পরেনি তবে একটা কাগজ বের হয়ে এলো ভেতর থেকে ৷

" শা কি ল তুমি আজীবন বন্দীই থাকবে"

কে লিখেছে এটা? কি আছে এই ডায়েরীতে ৷ বার বার যেনো এটা খোলার আভাস পাচ্ছি ৷ কেউ চায় আমি এটা খুলি? তাই বার বার রাখতে গিয়েও পারছিনা ৷

তখনই আবার সেই স্মেল ৷ কিন্তু এবার আমার একটুও ঘোর এলোনা ৷
নিজের কন্ট্রোলেই আছি ৷

লকটার চাবি তো নেই আমার কাছে কিভাবে খুলবো তাহলে? আচমকাই লকটা খুলে গেলো ৷ ওহ মাই গড কি সব ভৌতিক ব্যাপার হচ্ছে একা বাসায় ভূত মেরে ফেললেও কেউ জানতে পারবেনা ৷

সাহস নিয়ে খুললাম ডায়েরী ৷

"আমি রুবাইয়াত মোজাম্মেল শাকিল ৷
আজ প্রথম মারলাম জিনিয়া কে ৷ ওর সাহস বেড়ে গিয়েছিলো আমাকে থাপ্পর মারে কতো বড় সাহস"

" আমি সজল কে মারতে চাইনি কিন্তু ও আমার বোনকে হার্ট করেছে সো ওকে মরতেই হতো"

" চায়ের দোকানদার অযথাই ঝামেলা করলো তাই ওর প্রাণটাও নিয়ে নিলাম"

বন্ধ করে ফেললাম ডায়েরী ৷ দৌড়ে গিয়ে মাথায় পানি দিলাম ৷ আমি কি পড়লাম? নিশ্চিত পাগল হয়ে গেছি কি দেখতে কি দেখেছি ৷

কাপা কাপা হাতে আবারো হাতে নিলাম ডায়েরী ৷ আমি নরমালি মোটামুটি শক্ত মেয়ে ৷ তাই সবগুলো মার্ডার নিউজ পরেই যাচ্ছিলাম ৷
আমার জানতে হবে সমস্যাটা কোথায় ৷
২৬৬ নম্বর পাতায় চোখ আটকে গেলো ৷

"আম্মু তোমাকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু তুমি কেনো কালো গোলাপগুলো পুড়িয়ে দিলে? সেটা না দিলে তুমি আজ বেঁচে থাকতে "

ওহ মাই গড ৷ শাকিল! শাকিল ওর মাকেও মেরেছে? আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে ৷ তখনই বাবার কথাটা কানে বাজছে
মামনি তুমিই পারবে শাকিলকে মুক্তি দিতে ৷
তার মানে বাবা জানতো সব? কিন্তু আমি কীভাবে?
উফফ মাথা কাজ করছেনা ৷ কিন্তু না এটার সব জানতে হবে আমাকে ৷ আমি স্ট্রং থাকবো ৷

" আজমেরী পার্লার কর্মীর কতো বড় সাহস আমার বউয়ের বেনারশী নিয়ে কটাক্ষ করে"

আমার স্পষ্ট মনে আছে এ ব্যাপারে শাকিলকে আমি কিছুই বলিনি ৷ ও জানলো কিভাবে??

৪৪৪ তম পেজে এসে বাবার মৃত্যু দিয়ে শেষ হলো এই অভিশপ্ত ডায়েরী ৷ বাবার মৃত্যুর কারণ আমাকে ধমক দেয়া ৷ ওহ নো আমি আর ভাবতে পারছিনা শাকিল একজন পিশাচ? তা না হলে এতগুলো মানুষ সাথে নিজের মা বাবাকেও মারলো শাকিল??

আর এত পিচ্চি একটা লক ডায়েরীতে এতগুলো পেইজ অথচ দেখে বোঝার উপায় নেই ৷

আমি হতবম্ভ হয়ে আছি ৷ নিজেকেই নিজের বিশ্বাষ হচ্ছে না ৷ এই মানুষের সাথে প্রায় আট নয় মাস হলো সংসার করছি কোনদিন তো তার কোন খারাপ বিহেভ দেখিনি ৷ আমি কি করবো এখন?

কলিং বেল বাজলো আমার বুকের ভেতর ধক করে উঠলো নিশ্চই শাকিল ওহ মাই গড আমি ওর সামনে গেলে যদি ও আমাকে মেরে ফেলে? ওতো সব জানতে পারে ৷ পার্লারের মহিলা আর বাবার ধমকই যার প্রমাণ ৷ দুটোর কোনটাই ওকে আমি বলিনি ও তাও জানতে পেরেছে ৷ তাহলে ওর ডায়েরী পরেছি এটাও নিশ্চই ও জানে ৷

--আপু দরজা খুলেন না ক্যান ৷

ওহহহ ময়না এসেছে শাকিল না ৷ দৌড়ে গিয়ে দরজা খুললাম ৷ ময়নাকে দেখে একটু স্বস্তি পেলাম ৷ কিন্তু আবার চিন্তা বাড়তে থাকলো ৷ আমাকে সিম্পল কথা বলার জন্য দুজন প্রাণ হারালো যদি ময়না কখনো ভুলে কিছু বলে ফেলে? তখন তো ময়নাকেও
ওহ নো ৷ এটা হতে দেয়া যাবেনা ৷

ময়নাকে কিছু টাকা দিয়ে বাড়ী পাঠিয়ে দিলাম ৷ আমি কাউকে নিয়ে রিস্ক নেবোনা ৷ আর আমিও বাড়ী যেতে পারবো না ৷ যদি বাড়ীর কারো ক্ষতি হয়? তখন?

না আমাকে থাকতে হবে এবং আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো ৷

নাহ সব কাপড় গুছিয়ে রাখতে হবে শাকিল আসার আগেই ৷
এখন চারটা বাজে শাকিল আসবে ছয়টায় বেঁচে থাকার উপায় খুজতে আরো দু ঘন্টা পাওয়া গিয়েছে ৷ এক মিনিটও নষ্ট করা যাবেনা ৷
আমি জানি এই বাসার ভেতরই প্রশ্নের উত্তর পাবো কিন্তু তার জন্য তো সময় দরকার সেই উত্তর কোথায় আমি তা জানিনা ৷ কিন্তু যেটুকু সময় পেয়েছি এর মধ্যেই খুজতে হবে আমার ৷

স্টোর রুমে ক্লু খুজলাম কিন্তু সেখানে কালো গোলাপগুলো ছাড়া কিছুই পেলামনা ৷ গোলাপগুলো এখনো তাজা যেনো মাত্র গাছ থেকে তোলা অথচ সেদিনও ফুলগুলো টাটকা দেখেছিলাম আজও সেইম আছে ৷ আগে না বুঝলেও এখন বুঝি এগুলো পিশাচসিদ্ধ ফুল হয়তো তাই টাটকা ৷ যাই হোক রুম লক করে আমার ঘরে খুজলাম সবখানে কিন্ত কিছুই পেলাম না একঘন্টা শেষ ৷ বাবার রুমে আসলাম যদি কিছু পাওয়া যায় এখানে ৷

আমার মোটেও ভালো লাগছেনা এসব করতে কিন্তু আমার করার কিছু নেই সমাধান আমাকেই বের করতে হবে ৷ এই মূহূর্তে চাইলেই চলে যেতে পারি কিন্তু তাতে সবার জীবনের হুমকি হতে পারে তাই সেটা সম্ভব না ৷ আমার মনকে আবার শক্ত করলাম ৷ আমাকে পারতেই হবে ৷ টেনশন করলেই আমি দুর্বল হয়ে যাবো ৷ না না না নাদিয়া রিল্যাক্স ৷ তোমার কিচ্ছু হবেনা তুমি ঠিক থাকো ৷

বাবার ঘরেও কিছু পেলামনা ৷ এখন উপায় একটাই ৷ আমি জানি এটা খুবই অবান্তর উপায় আর এটার কোন লজিকই নেই তবুও এটাই শেষ ভরষা ৷

সেই কন্ঠস্বরটা যে আমার কানের কাছে দুবার কিছু বলেছিলো ৷ সে যেই হোক অবশ্যই ক্ষতি করবেনা ৷ সে বারবারই আমাকে কিছু ইঙ্গিত দিয়েছে ৷ যেমন রাত বাকী আবার গোলাপ সরাতে পারবোনা ৷ এসব কেনই বা বললো সে? আর যখনই গভীরভাবে কিছু ভেবেছি তার কন্ঠ পেয়েছি ৷

আপনি কোথায়? প্লীজ আসুন আমার দরকার আপনাকে ৷ আমি জানিনা আমি বাঁচবো কিনা কিন্তু একবার আসুন আমি জানতে চাই এই রহস্য ৷ জানতে চাই কোথার এর শেষ ৷

নাহ কোন লাভ হলোনা ছয়টা প্রায় বাজতে চললো ৷ এখনো কোন কিছুই পেলামনা আমি ৷ শুরু মানেই তো শেষ ৷ এটারও শেষ আছে কিন্তু সেটা কি? আমি কি কিছু মিস করছি? কিছু দেখেও দেখছিনা? বুঝতে পারছিনা ৷

" তু মি পা র বে না দি য়া তু মি ই পা র বে মা ম নি"

আবার সেই কন্ঠ ৷ শুনছেন? কি পারবো আমি? প্লীজ বলুন ৷ কে আপনি? প্লীজ ৷

আমার খুব কান্না পাচ্ছে কন্ঠটা আর কিছুই বললোনা ৷ ইশ কি হবে এখন?
আচ্ছা উনি আমাকে মামনি বললেন কেনো? এটা তো বাবা বলতো ৷ কিন্তু কন্ঠটা তো মেয়েলী আর বাবা বেঁচে থাকতেও এই কন্ঠ শুনেছি সো বাবা হতে পারেনা ইম্পসিবল ৷ তাহলে কে? কে বলতে পারে? কে? কে হতে পারে? কে? কে? মা????????

ইয়েস! আমার শ্বাশুড়ী মাই হবেন ৷ না হলে মামনি বলবে কেনো? তিনি মামনি বলে আমাকে হিনটস দিয়েছেন যে তিনি আমার শ্বাশুড়ী ৷ বাবার ডাকটা তিনি যানেন তাই এটাই ডেকে বুঝিয়েছেন ৷

" তু মি অ নে ক বু দ্ধি ম তী মা ম নি"

আবার! ইয়েস আমি তাহলে ধরে ফেলেছি এটা মা ৷ মা হয়তো ডিরেক্ট আমাকে কিছু বলতে পারছেননা কিন্তু তিনি আমাকে সাহায্য করতে চাইছেন ৷

Incoming call
Dark Boy........

-- হ্যা হ্যালো ৷

-- নাদিয়া আজ আসতে লেইট হবে একটু ৷

-- কেনো?

-- একটু কাজ পরে গেছে ৷ তুমি ভয় পাচ্ছো না তো?

-- ন ন না না কিসের ভয়?

-- টেক ইউর টাইম বাই ৷

ওহ গড তার মানে শাকিল জেনে গেছে সব? টেক ইউর টাইম কেনো বললো? সে দেখতে চায় আমি কি করতে পারি? সে সুযোগ দিলো আমাকে? তার মানে সে এসেই আমাকে মেরে ফেলবে? ওহ নো আর ভাবতে পারছিনা আমি ৷

যাই হোক আমাকে উপায় খুজতে হবে ৷ এমনিও মরতে হবে হবে ওমনিও মরতে হবে উপায় খুজতে তো দোষ নেই ৷

আচ্ছা আমার শ্বাশুড়ীর জিনিসপত্র কোথায়? আমি কি সেখান থেকে কিছু পাবো? কিন্তু বাবার ঘরে তো শুধু বাবার জিনিস ৷ মৌলী কে ফোন দিবো? ও হয়তো জানবে মার জিনিস কোথায় কিন্তু যদি জিগেস করে কেনো? কি উত্তর দিবো? না না ওকে জড়ানোর দরকার নেই ৷ এমনিও ও নাকি বিয়ের পর আসেইনা এই বাসায় শুধু আমার বিয়ের সময় এসেছিলো তাও রাতে থাকেনি ৷ তার মানে ও এখানে ইনবভল্ব থাকতে চায়না ৷ থাক ওকে বিপদে ফেলবোনা আমি ৷

"" তো মা র ঘ রে ই বো সো মা ম নি""

আমার ঘরে বসবো কেনো? এই টেনশনে বসবো কি ভাবে? frown ইমোটিকন:-(
আমার ঘরে? ইয়েস তার মানে ক্লু আমার ঘরেই ৷ থ্যাংইউ মা kiss ইমোটিকন:-*

কিন্তু ঘর তো দেখা শেষ কিছু তো পাইনি ৷ ফ্যান বন্ধ হলো ক্যান? কেমন লাগে ?

ওহ মাই গড সানসেট চেক করাই হয় নি আমার তো মাথাতেই নেই সানসেটের কথা ৷

উঠে পরলাম চেয়ার নিয়ে ৷ একটা বস্তা মতোন জিনিষ ছাড়া আর কিছুই নেই ৷ বস্তা ধরে নামালাম ৷ বস্তা খুলতেই জিনিষ দেখেই বুঝলাম এগপলো মায়েরই জিনিষ ৷ কিছু শাড়ী ৷ কিছু গয়না, কসমেটিক্স কিছু বক্স ৷
তার মানে ফ্যান অফ হয়েই ছিলো আমার চোখ যেনো উপরে যায় সেজন্য ৷ উফফ লাভ ইউ মা ৷ এই দুঃখের সময়ও ভীষণ খুশী লাগছে আমার মায়ের হেল্প করা দেখে ৷

" স ম য় নে ই"

মানে কি? তার মানে শাকিল আসছে? না না এখন আমি হার মানবোনা ৷ কিন্তু কিছুই পাচ্ছি না ৷ এই বক্সগুলোয় কি থাকতে পারে? সব বক্সে ১, ২, ৩, ৪, ৫ এবাবে লেখা পাঁচটা বক্স ৷

প্রথমটা খুললাম ৷ একটা কালো গোলাপ ৷ উফ আবার এই ঘোড়ার ডিম? এটা তো স্টোররুমে বোঝাই করা unsure ইমোটিকন:-\

দুই নম্বর বক্স খুললাম ৷ একটা লাল কাপড় ৷ এই আন্ডা দিয়ে কি করবো??

তিন নম্বরটা খুললাম ৷ একটা কাগজ ৷

" লাল রংয়ে বন্দী করো কালো
এক কাঠিতেই জ্বালিয়ে ফেলো আলো
জ্বলবে যখন অগ্নী শিখা
সময় চাকা থামিয়ে দিও
যার সাথে তার প্রাণটা বাধা
দেখবে তবে আলোর দিশা"

এটার মানে কি? কে জানে?

চার নম্বরটায় একটা ম্যাচের বক্স ৷

পাঁচ নম্বর বক্সটা ফাকা ৷

কিছুইবুঝতে পারছিনা এসবের ৷

কলিং বেল!! চলে এসেছে শাকিল ৷ কি করবো এবার? এতদুর এসেও কিছুই পারলামনা আমি ৷ মায়ের সব জিনিস কোনোরকমে বস্তায় ভরে খাটের নিচে ঢুকিয়ে দিলাম শুধু বক্সগুলো আমার হ্যান্ডব্যাগে রাখলাম ৷
হ্যাঁ আমি রেডী ৷ জানিনা বেঁচে থাকবো কি না কিন্তু মৃত্যুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত আমি ৷

-- এতো দেরী হলো?

-- ব বাথরুমে ছ ছিলাম ৷

-- এভাবে কথা বলছো কেনো?

-- ক কই? এমনি শরীরটা ভা লো না ৷

-- এসো

শাকিল হাত ধরে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে আমাকে ৷ সবসময় ওর স্পর্শ আমার কাছে স্বর্গসুখ লাগে আজ জেনো মনে হচ্ছে শত শত কালো সাপ আমার হাতটাকে পেচিয়ে রেখেছে ৷ আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে ৷ জ্ঞান হারাচ্ছি আমি!!!!

কতক্ষণ জ্ঞান ছিলোনা জানিনা ৷ উঠে দেখলাম ঘরে আমি একা ৷ আমার হ্যান্ডব্যাগটা পাশেই ছিলো হাতে নিলাম নাহ বক্সগুলো ঠিক আছে ৷ কিন্তু শাকিল কোথায়? ঘরে কোথাও নেই ও ৷ আর আমারই বা কি হলো হঠাৎ? কি হয়েছিলো আমার? শাকিল কি কিছু করেছে? কিছুই মনে পরছেনা ৷

-- নাদিয়া!

চমকে গেলাম আমি ৷

-- কোথায় ছিলে?

-- মিষ্টি আনতে গিয়েছিলাম ৷

-- মানে? (নিশ্চই আমাকে মারবে সেই খুশীতে)

-- আমি বাবা হচ্ছি তাই ৷

-- কিহ?????

আমি আকাশ থেকে পরলাম ৷ এ কি হলো? এত ভালো খবর এতো খারাপ সময়ে কেনো পেলাম আমি? নিজের ওপর রাগ হচ্ছে অনেক ৷ শাকিল আমাকে জড়িয়ে ধরলো আমার আবারও বিষাক্ত লাগছে সব ৷

-- নাদিয়া!

-- বলো ৷

-- কালো গোলাপটা লাল কাপড়ে মুড়ে একটা কাঠি দিয়ে আগুন জ্বালাতে হবে তারপর আমার হাতের ঘড়িটা ও সেই আগুনে পোড়াতে হবে তাহলেই আমার অস্বিত্ব শেষ হবে ৷ তোমার ধাধার উত্তর এটাই ৷

-- শ শ শা কি ল আ আ মি ৷

-- হয়তো খেয়াল করোনি আমি কখনো এই ঘড়ি হাত থেকে খুলি না ৷ এটাই তার কারণ ৷ আমার জন্মের পর আমাকে নাকি একদিন পাওয়া যাচ্ছিলোনা এরপর একাই একাই ফিরেছি এরপর থেকেই আমি অস্বাভাবিক ৷ আমি কাউকে মারতে চাইনা নাদিয়া কিন্তু আমার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রন থাকেনা ৷ আমার মাকেও আমি বলেছিলাম সব ৷ আমার মা কে কেউ একজন আমাকে মারার উপায় বলেছিলো ৷ আমি যখন আমার মামা, মামাতো ভাই এদের মারলাম আমার মা তখন আমাকে মারতেই গোলাপ পুড়িয়েছিলেন কিন্তু তিনি লাল কাপড়ে মোড়াতে ভুলে গিয়েছিলেন বাকীটা তুমি যানো ৷
আর কালো সবসময় অশুভ তাই কালো ব্যাপারটায় আমি জড়িতো ৷
আমি চাই তুমি আমাকে মুক্তি দাও এই অভিশপ্ত জীবন থেকে ৷

--

-- নাদিয়া! তুমি ছাড়া কেউ পারবেনা এটা ৷ তাই সব ইঙ্গীত উপায় তোমার সামনে একাই চলে এসেছে ৷ আমি জানিনা তোমার কোনো ক্ষতি কেনো আমার পিশাচ স্বত্বা করছেনা তবে তা করার আগেই তুমি আমাকে মুক্তি দাও ৷ নাদিয়া তোমার পায়ে পরছি ৷ আমার অনাগত সন্তানের দোহাই ৷ তুমি এটা করো ৷

আমি জানিনা এসব কি হচ্ছে ৷ শাকিল কি সত্যি বলছে? কিন্তু আমি কিভাবে ওকে মারবো?

-- নাদিয়া তুমি হয়তো জানোনা তোমার পুরো ফ্যামলির সবাই মরবে আমার হাতে ৷ আমার পিশাচ স্বত্বা জাগার আগে এটা করো ৷

শাকিল কি পাগল হয়ে গেছে? না আমি পারবোনা কিভাবে সম্ভব এটা???

দু দিন আমি কোনো কথা বলিনি একটা শব্দও না ৷ আমার জীবনটা এমন হলো কেনো?

Incoming call
Baba....

-- নাদিয়া কি ব্যাপার?

-- হুম

-- ময়না কাল তোর বাসায় ১ ঘন্টা বাইরে দাড়িয়ে ছিলো তুই নাকি দরজা খুলিসনি ৷ তোর মা এতোবার ফোন দিচ্ছে কথা বলিসনা রিসিভ করে সমস্যা কি তোর?

-- বাবা রাখি ৷

আমি জানিনা আমি কি করবো পাথর হয়ে আছি কোনো ফিলিংসও আসছেনা ৷ ফিলিংস এলো বিকেলে যখন বাবার মৃত্যু সংবাদ পেলাম!!!!

শাকিলের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই সামান্য ব্যাপারে আমার বাবাকে মারলো শাকিল??? আমি জানি ওকে কিভাবে মারতে হবে এবং আমি আজই সেটা করবো ৷ হ্যাঁ আজই ৷

আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে শাকিলের দুহাতের ভেতর ৷ ওকে মারার চেষ্টা করায় ও আমাকে মেরে ফেলছে ৷ আমার নিঃশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে ৷ কিন্তু আমি কিছুই করতে পারছিনা ৷ হাত পা অবশ হয়ে আসছে ৷ কিন্তু আবছা চোখে দেখছি শাকিলের দুচোখ দিয়ে অনর্গল পানি পরছে ৷ কেনো পরছে? কে জানে? তবে আমিও তো ভালোবেসেছিলাম আমার ডার্কবয়কে ৷

মাটিতে পরে গেলাম ৷

শাকিল ছেরে দিলো আমাকে? কেনো? আমি সত্যিই বেঁচে আছি তো?? হ্যাঁ আছি তো ৷ কিন্তু........

শাকিল আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে তার পিশাচ স্বত্বাটাও আমাকে ভালোবাসে ৷ তাই সে মারতে পারলোনা বোধহয় ৷ ঠিক আছে তবে ৷ গল্পের শেষটা তবে আমিই লিখবো ৷

১ মাস পর ৷

আমার মা আজ আমাকে বকেছেন আমি জানি কি ঘটতে চলেছে ৷

-- শাকিল বাসায় এসো এই মুহূর্তে আসবে ৷

-- কি ব্যাপার নাদিয়া?

-- চলো ৷

-- কোথায়?

-- মার বাসায় ৷

স্পষ্ট শাকিলের পৈশাচিক হাসিটা দেখতে পেলাম ৷ মানুষ মারার আনন্দের হাসি ৷

মার বাসায় আসলাম মার সামনে শাকিলকে বসিয়ে পাশের রুমে গেলাম ৷ সময় হয়েছে মা কে মারবে শাকিল ৷ তার পৈশাচিক স্বত্ত্বা জেগে উঠেছে ৷ এটার অপেক্ষাতেই ছিলাম ৷ দৌড়ে এসে শাকিলকে জড়িয়ে ধরলাম মায়ের সামনেই ৷

"ভালোবাসি তোমাকে"

শাকিল থেমে গেলো smile ইমোটিকন:-)

প্রতিটা খুনের আগে আমি জানতে পারি কিভাবে পারি তা আমি জানিনা আর এভাবেই আমার ডার্কবয়কে আটকে ফেলি আমি ৷ আমি কোনো ছলনা করে ভালোবাসি বলিনা তাকে স্যতিই ভালোবাসি ৷ হ্যাঁ ও খুনি ৷ নিজের বাবা মা আত্মীয়, আমার বাবা সবার খুনী ও কিন্তু তবুও আমি ওকে ভালোবাসি ৷
বাবা ঠিকই বলেছিলো আমিই পারবো ওকে মুক্তি দিতে ৷

এখন,
আমাদের ছেলের বয়স পাঁচ ৷
আজকাল আমার ডার্কবয় আর মানুষ মারেনা ৷ আমি পেরেছি তার পিশাচ স্বত্বাকে দমিয়ে দিতে ৷ ভালোবাসার চেয়ে বড় শক্তি আর কি হতে পারে? জানিনা আর কখনো আবার ওর পিশাচ স্বত্ত্বা জাগবে কিনা শুধু জানি তাকে আগলে রাখবো রাখবোই ৷

শ্বাশুড়ি মা কিন্তু এখনো আসেন ৷ ওই যে স্মেলটা পাই ওটা মা এলেই পেতাম ৷

কালো ডায়েরীটা পুড়িয়ে দিয়েছি লাল মলাটের ডায়েরী এনেছি ৷

প্রথম পাতায় লিখে রেখেছি

" তুমি যাই হও তুমিই আমার বাস্তব

Address

Sreemangol, Moulvi Bazar, Sylhet
Moulvi Bazar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Time and tide wite for none posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category