05/03/2022
একজন মধ্যবিক্ত ঘরের সন্তানের অতীত ঘাটলে কখনই মিলবেনা, কাউকে ভয়ঙ্কর ফাঁদে ফেলে তার ধন সম্পদ লুটে নেবার কোন গল্প।বরং মিলবে,তার জীবনে অসংখ্য না পাওয়ার গল্পের কথা,হাজারটা শুন্যতার কথা,অনেককে নিজের স্বাধ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর কথা।হুম তারা হাজারটা মিথ্যা কথা বলে,মন ভোলানো প্রলাপ জপতে জানে।নিজে কষ্টের সাগরে ভেসে গেলেও মুখে মুচকি হাসি দিয়ে বলতে পারে,"আমি ভাল আছি"।মন ভোলানো বাক্য জপে অন্যদেরকে মিথ্যা শান্তনা দিয়ে ভাল রাখে।তাদের অতীত ঘাটলে কখনই স্বার্থপরের কোন গল্প মিলবেনা।অন্যদেরকে ঠকিয়ে নিজে সম্পদশালী হবার গল্প বেড়িয়ে আসবেনা।
মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানের অতীত ঘাটলে বেড়িয়ে আসবে,নিজের মনকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে অন্যদেরকে সুখি করার গল্প।অন্যদের বিপদের হাত থেকে রক্ষা করার গল্প।নিজে না খেয়ে অন্যদের মুখে খাবার তুলে দেবার গল্প।নিজে ছেড়া কাপড় পড়ে পরিবারের জন্য নতুন কাপড় কিনে দেবার অসংখ্য গল্প।নিজের পকেট খরচ বাচিয়ে প্রিয়জনের জন্য প্রিয় কিছু জিনিস কিনে দেবার গল্প।হাজারটা স্বপ্ন বুকের কবরস্থানে দাফন করে অন্যদের স্বপ্ন পূরন করে দিয়ে হাসার গল্প।মধ্যবিক্ত ঘরের সন্তানেরা স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে,স্বপ্ন পূরন করার সাধ্য থাকেনা।তাই বলে তারা কাউকে দোষারোপ করতে জানেনা।নিয়তীকে মেনে নিয়ে চুপ করে থাকতে জানে।
মধ্যবিক্ত ঘরের সন্তানেরা মুখোশ পড়ে চারিদিকে ঘুরে বেড়ায়।হুম মুখোশ পড়ে ঘুরে বেড়ায়,তবে কারো ক্ষতি করার জন্য মুখোশ পড়েনা।নিজের জীবন বাজি রেখে অন্যদের বিপদে ঝাপিয়ে পড়তে জানে।সাময়িক সময়ের জন্য বড়লোকদের সাথে মিশতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করে।বড়লোকদের পা থেকে মাথা পযর্ন্ত অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে,তাদের পোষাক,তাদের কথাবলার ধরন দেখে নিজে নিজে অনমনে ঠোঁট মিলায় আর মনে মনে স্বপ্ন দেখে,ইস্ জীবনটা যদি ঠিক এই মানুষগুলোর মতো হতো!তাদের গায়ে জড়ানো পোষাকগুলোর মত যদি আমারও একটা পোষাক থাকতো।তাদের মত করে যদি দামি বাইক,দামি ঘড়ি,দামি হোটেলে বসে বসে দামী দামী স্বাদের খাবারগুলো খেতে পারতাম।
মধ্যবিক্ত ঘরের সন্তানেরা দুইবেলা না খেয়েও দিনটা কাটিয়ে দিতে জানে।তারা প্রত্যেকটা দিন দামি দামি খাবারের লিষ্ট তৈরি করেনা।বরং পরের দিনটায় একটু ডাল ভাত ভাগ্যে জুটলে শুকরিয়া আদায় করতে জানে।এদের জীবনে অভিমান মানায় না।এটা খাবো না,ওটা খাবোনা,এটা নেবো না,ওটা পড়বনা বলে দাবি করার মানুষ থাকেনা।জন্মের পরে যখন একটু বুঝতে শেখে,পৃথিবীটাকে চিনতে শেখে,সেদিন থেকেই এদের জীবনে শুধুমাএ বেচে থাকার লড়াই চলে।দুইবেলা পেটে কয়টা দানা পড়লেই শান্তিতে থাকে।এরা ছলনা জানেনা,অন্যরা এদের সাথে যা খুশি তাই আচরন করতে পারে,কিন্তু প্রতিবাদ করার শক্তি,সাহস,যোগ্যতা,ক্ষমতা কোনটাই থাকেনা।চুপচাপ নিরবে সব সহ্য করা ছাড়া এদের জীবনে কোন উপায় থাকেনা।
আকাশের তারা গোনার জন্য এদের বাসায় ব্যালকনী থাকেনা।খড়কুটোর ঘরের চৌকিতে শুয়ে এরা সারারাত টিনের ছিদ্র দিয়ে তারা গুনে।বৃষ্টির দিনে সেই ছিদ্রের পানিতে ভিজে সারারাত কাটিয়ে দিতে জানে।বাবার দেয়া দশটা টাকা পকেটে থাকলে সেটা খরচ করবার আগে দশবার ভাবে।এদের কাছে দশ টাকা দশ হাজার টাকার সমান।এরা যেখানে বসবাস করে,সেটার নাম বাসা নয়,খড়কুটোর সমন্ময়ে গড়া একটা কুড়েঘর।যেখানে বাবা,মা,ভাইবোন একত্রিত থাকে।আলাদা কোন রুম থাকেনা,আলাদা কোন ছাদ থাকেনা।
মধ্যবিক্ত ঘরের সন্তানদের কাছে সন্মানটা প্রচন্ড শীতের দিনে গায়ের চাদরের মত।যে চাদরটা শীতের দিনে যত্নে রাখে,আগলে রাখে।উঞ্চতা পাবে বলে কখনো হাতছাড়া করেনা।কারো ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকলে এরা শত কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে সেখান থেকে কেটে পড়ে।এদের পুরোটা জীবন ঝামেলার,ঝনঝাটের,সেজন্য কারো মাঝে ঝামেলার সৃষ্টি করেনা।এদের মাথা ভর্তি টেনশন,বুক ভর্তি স্বপ্ন,চোখ ভর্তি হতাশা।বুকে হাজারটা স্বপ্ন আছে,পূরন করার সাধ্য নেই।এদের আলাদা করে,আয়োজন করে কাঁদতে হয়না।চোখের কোণে দুফোটা জল সবসময়ই থাকে।