20/04/2022
আবার হোম অফিসের দিন শুরু!
গতকাল ওয়েদার ফোরকাস্ট এ বৃষ্টির পুর্বাভাস বলা মাত্রই সারা দেশে এক সপ্তাহের জন্য স্কুল-কলেজ অফিস-আদালত হোম অফিস এর ঘোষণা চলে এসেছে সরকারিভাবে। নিউজ দেখামাত্র দৌড়ে গিয়ে কিছু বাজার সদাই করে আনলাম এক সপ্তাহের জন্য; অন্য সময় অবশ্য এক সাথে এত বাজার করা যায় না, সাধারণ সময়ে রেশন কার্ডে কেবল দুইদিনের বাজার মজুদ রাখা এলাউ করে, তবে বৃষ্টির দিনের হিসাব আলাদা, এসময় সাত খুন মাফ। মাফ না করে উপায় আছে? আজকের এই অবস্থার জন্য তো কোন না কোন ভাবে আমাদের পুর্বসুরিরাই দায়ী! "দোষ করবে বাপ-দাদারা আর ভুগতে হবে আমাদের" - গজগজ করতে করতে ঘরে ঢুকলাম; বারান্দা থেকে প্রিয় গাছের টবগুলো টানাটানি করতে গিয়ে গলদঘর্ম দশা। বৃষ্টি পড়ে বহু কষ্টের কালেকশনের পুরনো আমলের গাছগুলো ধ্বংস তো হবেই, মাটির পিএইচ কমে এমন দশা হবে যে এই জাতের অন্য কোন গাছ লাগালে সেটাও আর ফলবে না।
তাও ভালো যে এখন আগে থেকে সতর্ক হবার সুযোগ আছে! দাদুর মুখে শুনেছি যে তাঁর বড়দাদাদের আমলে নাকি ওয়েদার ফোরকাস্ট অতটা ভালো ছিল না। তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে ঘন কালো মেঘের দেখা পেলে মানুষ দৌড়ে পালিয়ে ঘরে ঢুকে যেত, প্রস্তুতির সুযোগ তেমন একটা পেত না! আর মাঝে মাঝে বিনা নোটিশে ধুপধাপ গুঁড়িবৃষ্টি হলে তো কথাই নেই, দলে দলে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে লোক জমা হত!
বই পত্রে পড়েছি যে হাজার বছর আগে পৃথিবীর নাকি এমন অবস্থা ছিল না, বৃষ্টির পিএইচ তখন নাকি সাপ্লাই এর খাবার পানির মতই নরমাল ছিল! তারও বহু বছর আগে বৃষ্টির পিএইচ যখন আরও বেশি ছিল তখন নাকি বেশির ভাগ মানুষেরই বৃষ্টি ভীষণ প্রিয় ছিল, মানুষজন নাকি আবার খুশি মনে বৃষ্টিতে ভিজতো! ভাবা যায়? এখন আমাদের শরীর অভিযোজিত হয়ে পিএইচ এর সাধারণ সহনীয় মাত্রা ৭ থেকে কমে ৫ এ নেমে এসেছে, তবুও বৃষ্টিতে ভেজা মানে তো রীতিমতো সুইসাইড! তাও আবার এসিডে পুড়ে মরা - সবচেয়ে কষ্টদায়ক মৃত্যু! চিন্তা করলেও গা শিউরে উঠে!
আমার সংগ্রহে থাকা গাছগলো সেই পুরনো আমলের! কিছু কিছু গ্রিন হাউসে এখনো পুরনো গাছের চাষাবাদ হয়; সাধারণ নার্সারিতে সব অভিযোজিত গাছের সমাহার, যাদের পানি লাগে না, এসিড বৃষ্টিতে খুব একটা ক্ষতি হয় না, কড়া আলট্রা ভায়োলেট রোদে টিকে থাকে দিনের পর দিন। আমার গাছগুলো এমন রুক্ষ পরিবেশে টিকতে পারে না, ভীষণ সেনসিটিভ! আমি যে পানি খাই, ওদের সেই পানি দেই। বারান্দার বর্ধিত কার্নিশ ওদের সরাসরি কড়া রোদ থেকে রক্ষা করে। ইচ্ছা আছে সামনের বছর বারান্দাটাকে ছোট খাট গ্রিন হাউজে রূপান্তরিত করে ফেলব, তাতে করে বৃষ্টি-বাদলার দিনে ভয়ে ভয়ে থাকা লাগবে না। অবশ্য গ্রিন হাউজ বানাতে খরচ আছে, অনেক দিন ধরেই একটু একটু করে টাকা জমাচ্ছি এর জন্য, কিন্তু হুটহাট এক একটা প্রয়োজন এলেই টাকাটা ভাঙতে হয়, আর গ্রিন হাউজের প্ল্যান একটু একটু করে পিছায়। এই যেমন কিছু দিন আগে টাইসনের ফ্লু হল বিনা নোটিশে! টাইসন, আমার হুলো, ভীষণ আদরের। ওর এমন আচানক অসুখে আমি আতংকিত হয়ে গিয়েছিলাম! লাইগাকে ওর থেকে দূরে দূরে রেখেছিলাম এক সপ্তাহ; সে কী মন খারাপ আমার মিনিটার! তাও ভালো ফাঁড়াটা ভালোয় ভালোয় কেটে গেছে!
এখন দুশ্চিন্তায় আছি গাছগুলো নিয়ে! বৃষ্টির ভয়ে এদের ঘরের ভেতর তো ঠিকই নিয়ে আসলাম, কিন্তু আমি যখন অফিসের কাজে বিজি থাকবো তখন টাইসন আর লাইগার খুনসুটি থেকে এদের কে বাঁচাবে?!
বিঃ দ্রঃ হুট করে মন চাইল এমন একটা গল্প লিখতে! গল্প কি আরও আগাবো?