07/11/2024
বিপন্ন প্রায় এক পাখির গল্প
সময়টা ২০২০ সালের ডিসেম্বর। কোভিড-১৯ মহামারির প্রকোপ কিছুটা কমা শুরু হয়েছে। দেশের ভ্রমণ গন্তব্যগুলোও খুলছে ধীরে ধীরে। সবখানেই সামাজিক দূরত্বের নামে নানা বিধিনিষেধ। সেই দমবন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ছুটেছিলাম সাগর পাড়ে। গন্তব্য শেষ ভূখন্ড সেন্ট মার্টিন। এক যাত্রায় রেলগাড়ি, বিমান, জলযান হয়ে মার্টিন সাহেবের নামের দ্বীপে যখন পৌঁছলাম পরদিন দুপুরে। এর মাঝে অবশ্য রাতের সমুদ্র উপভোগ করেছি কক্সবাজারের বালুতটে। আর ঘুমিয়েছি সৈকতের পাড়েই এক ঝলমলে অট্রালিকার অনেক উপরের একটা ঘরে।
দেশের মনুষ্য বসতীর শেষ ভূখন্ডে দুপুর, সন্ধ্যা, রাতে সমুদ্রের সাথে মিতালী পাতিয়েও পরদিন বিছানা ছেড়েছিলাম সূয্যিমামা জাগার অনেক আগেই। উদ্দেশ্য একটাই, ছেঁড়াদ্বীপ যাবার পথে দুস্তর পারাবারে জলের মাঝ থেকে উঠে আসা সূর্যটাকে দেখা। আমার খুঁদে গাইড বাইক ড্রাইভ করছিল আর ক্যামেরা হাতে পিছনে বসে দেখছিলাম অপূর্ব সে সূর্যোদয়। জীবনে মনে রাখার মত আরও যে কয়টা সূর্যোদয় আছে এটা তার মাঝে উল্লেখযোগ্য একটা।
ছেঁড়া দ্বীপের কেয়া বন ঝাউবন এসবের ভেতর ইতিউতি ঘুরে তেমন কোন পাখি চোখে পড়ছিল না। দুয়েকটা বক, আর মাছরাঙা ছাড়া। হঠাৎ করেই চার পাঁচটা অচেনা পাখি চোখে পড়লো শ্যাওলা জমা নুড়ি পাথরের উপর। দ্রুত ক্যামেরার শাটার চাপতেই একসাথে উড়াল দিল তারা। তখনও চেনা হয়নি এদের নাম পরিচয়। বাড়ি ফেরার পর এক্সপার্ট দের সাহায্যে জানা হল এটা বিপন্ন প্রায় এক পাখি লাল শিলা বাটান বা লাল নুড়ি বাটান।
এরা মূলতঃ আমেরিকা, কানাডা, আর্জে ন্টিনার ফকল্যান্ড দ্বীপপূঞ্জ, রাশিয়া, ইউরোপ, নরওয়ে এবং আইসল্যান্ডে বসবাস করে। বাংলাদেশে এদের দেখা পাওয়া খুব কঠিন। এশিয়া মহাদেশে এদের চীন ও জাপানের কিছু দ্বীপে দেখা যায়।
বিশ্বজুড়েই এই পাখিরা আজ অস্তিত্ত্বের সংকটে। আমরা মানুষ যদি সচেতন হই পানি দূষণ, সমুদ্র দূষণ রোধ করি তবেই হয়তো ওরা ডানা ঝাপটে উড়ে যাবে নীলাকাশে। সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ হয়ে থাকবে আমাদের সাগরের বেলাভূমিতে।
পাখিটির ইংরেজী নাম - Ruddy turnstone