27/06/2026
মাওলানা মওদুদী রহ. বলেন,
প্রতি বছর মহররম মাসে কোটি কোটি মুসলমান শিয়া হোক বা সুন্নী হযরত ইমাম হুসাইন রা.-এর শাহাদাতের শোকে দুঃখ প্রকাশ করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, খুব কম মানুষই সেই মহান উদ্দেশ্যের কথা চিন্তা করেন, যার জন্য ইমাম হুসাইন (রা.) নিজের জীবন কুরবানি দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজের পরিবারের প্রিয়জনদের, এমনকি নিষ্পাপ শিশুদেরও এই পথে উৎসর্গ করেছিলেন।
এখন প্রশ্ন হলো, ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাত আজও কেন মানুষের হৃদয়কে নাড়া দেয়? কেন তেরোশো বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও প্রতি বছর তাঁর স্মরণে মানুষ শোক প্রকাশ করে? যদি তাঁর আত্মত্যাগ কোনো মহান আদর্শ ও উদ্দেশ্যের জন্য না হতো, তাহলে শুধু ব্যক্তিগত ভালোবাসার কারণে এত দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে তাঁকে স্মরণ করার তেমন কোনো অর্থ থাকত না।
ভাবুন, যদি ইমাম হুসাইন (রা.)-এর কাছে নিজের জীবনই সবচেয়ে মূল্যবান হতো, তাহলে তিনি কখনোই তা কুরবানি দিতেন না। তাঁর এই আত্মত্যাগই প্রমাণ করে যে, সত্য ও ন্যায়ের সেই মহান উদ্দেশ্য তাঁর কাছে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয় ছিল।
তাই আমরা যদি সেই উদ্দেশ্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য কোনো চেষ্টা না করি, বরং তার বিপরীত পথে চলি, তাহলে শুধু তাঁর জন্য কান্নাকাটি করা বা তাঁর হত্যাকারীদের গালি ও অভিশাপ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। কিয়ামতের দিন এ ধরনের শোক প্রকাশ থেকে ইমাম হুসাইন (রা.) সন্তুষ্ট হবেন এমন আশা করারও কোনো কারণ নেই। আল্লাহ তাআলার কাছেও এর বিশেষ কোনো মূল্য থাকবে না, যদি আমাদের জীবন তাঁর আদর্শ ও উদ্দেশ্যের অনুসরণ না করে।
(মাওলানা মওদুদীর বয়ান থেকে সংকলিত)..