28/04/2024
যদি চাও, তবে তুমি একজন পড়ুয়া মেয়ের সাথে প্রেম করো। এমন কোনো মেয়ের প্রেমে পড়ো, যে শাড়ি বা চুড়ির বদলে কেবল বই কিনেই টাকা শেষ করে ফেলে। অতিরিক্ত বই রাখতে গিয়ে যার আলমারির শেষ তাকটুকুও শেষ হয়ে যায়। এমন মেয়ের সাথে প্রেম করো, যার কাছে সবসময়েই পড়তে-চাওয়া বইয়ের তালিকা থাকে, বারো বছর বয়স থেকেই যার একটা লাইব্রেরি কার্ড আছে।
এমন এক মেয়েকে খুঁজে বের করো যে পড়ে।
কীভাবে বুঝবে?
তার ব্যাগে সবসময়েই একটা না-পড়া বই থাকবে। বইয়ের দোকানের তাকগুলোর ওপর দিয়ে মুগ্ধ চোখ বুলিয়ে নিয়ে যাবে যে, আর পছন্দের বই দেখলে নিঃশব্দে চিৎকার করে উঠবে। পুরনো বইয়ের দোকানে একটা বই হাতে নিয়ে কোনও অদ্ভুত মেয়েকে তার পাতা শুঁকতে দেখছো --- ওই হচ্ছে পড়ুয়া। ওরা কখনোই বইয়ের পাতার গন্ধ না শুঁকে থাকতে পারে না – পাতাগুলো হলদেটে হলে তো কথাই নেই।
রাস্তার ধারের কফির দোকানটায় অপেক্ষা করতে করতে বই পড়বে সে। তার মগে উঁকি দিলে দেখবে – সেখানে সর ভাসছে, কারণ ইতিমধ্যেই ডুবে গেছে সে বইয়ের মধ্যে। লেখকের তৈরি পৃথিবীতে হারিয়ে গেছে। সেখানে বসে পড়লে তোমার দিকে কঠিন চোখে তাকাতে পারে সে – পড়ার মাঝখানে কেউ বাগড়া দিলে পছন্দ করে না ওরা! বইটা তার ভাল লাগছে কিনা জিজ্ঞেস কোরো। আরেক কাপ কফি কিনে দিও তাকে।
শেক্সপীয়রকে নিয়ে তুমি সত্যি সত্যি কী ভাবো সেটা তাকে জানিও। ‘রোমিও জুলিয়েট’-এর প্রথমাঙ্ক সে শেষ করতে পেরেছে কিনা জেনে নিও। যদি বলে, সে জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’ বুঝতে পেরেছে – ধরে নিও নিজেকে বুদ্ধিমতী প্রমাণ করার জন্যই কেবল এ কথা বলছে সে। জিজ্ঞেস করো – সে এলিসকে ভালবাসে, নাকি এলিসের মত হতে চায়।নিজেকে যদি সে জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন ভাবে, তার এই ভ্রমটুকুকে মিথ্যা করে দিও না।
পড়ুয়া মেয়ের সাথে প্রেম করা সহজ। জন্মদিন, বড়দিন, বার্ষিকী যাই বলো না কেন – যে কোন উপলক্ষ্যেই তাকে বই উপহার দাও। কথার মালায় গাঁথা উপহার দিও তাকে – গানে, কবিতায়। নেরুদা, পাউন্ড, সেক্সটন, কামিংস-এর বইও দিতে পারো। কথা মানেই ভালবাসা – সেটা যে তুমি বোঝো তা তাকে জানিও। বই আর বাস্তবের পার্থক্য সে জানে – এটুকু বুঝে নিও; তবে নিশ্চিত থাকতে পারো – নিজের জীবনকে সে একটু হলেও তার প্রিয় বইয়ের মত করে গড়ে নিতে চাইবে। যদি চায় – তাতে তোমার দোষ নেই কিন্তু! তাকে কোন না কোনভাবে চেষ্টাটুকু তো করতে হবে।
তুমি যদি কোন পড়ুয়া মেয়েকে খুঁজে পাও, তাকে নিবিড় করে নিও। রাত দুটোয় ঘুম ভেঙে যদি দেখো একটা বই বুকে জড়িয়ে বসে সে কাঁদছে – তাকে এক কাপ চা বানিয়ে দিও, আর জড়িয়ে ধরে রেখো। কয়েক ঘণ্টার জন্য হয়তো তাকে তুমি হারাবে – কিন্তু সে শেষমেশ তোমার কাছেই ফিরে আসবে। সে এমনভাবে কথা বলবে যেন বইয়ের চরিত্রগুলো সব বাস্তব – কারণ কিছুক্ষণের জন্য তারা আসলে তাইই হয়ে উঠবে।
হয়তো দেখবে একদিন সে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করেনি, স্নান করেনি, বিছানা থেকে নামেনি।একটা সুর সেদিন তার পিছু নিয়েছে। এটা উপভোগ করো।দেখবে বিকেলে দু'দিকে দুই বেণী ঝুলিয়ে সবুজ টিপ পরে তোমাকে সে বলছে বাগবাজার গঙ্গার ঘাট যাবে।ঘাটের নিভু নিভু অল্প আলোয় তোমাকে সে শেষের কবিতা শোনাবে।আর ফেরার পথে মেট্রোতে একটা বইয়ে ডুব দেবে।নিজেকে ব্রাত্য মনে করো না।দেখো একহাতে বই আর অন্য হাতে তোমাকেই সে ছুঁয়ে আছে।
তুমি এমন এক মেয়ের সাথে থেকে যেয়ো যে পড়ে – কারণ তুমি তার যোগ্য। তোমার জীবনটাকে সবচেয়ে বেশি রাঙিয়ে দিতে পারে এমন মেয়েই পাওয়া উচিত তোমার। তবে, তোমার যদি তাকে একঘেয়েমি, বাজে সময় আর আনাড়ি প্রস্তাব ছাড়া আর কিছু না দেওয়ার থাকে – তবে তোমার একলা থাকাই ভাল। তুমি যদি পৃথিবী আর এর বাইরের অন্য সব পৃথিবীকেও পেতে চাও – তবে আবারো এমন মেয়ের সাথে প্রেম ক’রো যে পড়ে।
প্রয়োজনে তার সাথে মিথ্যে বলো। সে যদি ব্যাকরণ বোঝে, তাহলে এটাও বুঝে নেবে যে তোমার মিথ্যে বলার প্রয়োজন ছিল। কথার বাইরেও আরো অনেক কিছু থাকে: প্রেরণা, মূল্যবোধ, বিরোধ, সংলাপ। তাকে হতাশ করো। কারণ যে মেয়ে পড়ে, সে জানে যে ব্যর্থতা থেকেই এক সময় পরম পাওয়া আসে। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে না তুমি মিথ্যে বললে। সে কখনোই ছেড়ে যাবে না।
(collected)