05/11/2020
Day-1
Dhaka-Sylhet-Ratargul-Bichanakandi-Sylhet
আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে ভালোভাবে আমাদের সিলেট ভ্রমনের ইতি নামাতে পেরেছি।কিন্তু বিপত্তি কিন্তু ঘটেছিলো প্রথমেই!
ট্রেন ৮ঃ৩০ এ!
উপবন এক্সপ্রেস,স্টেশনে গিয়ে শুনি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক বিলম্ব হবে এমনকি টিকিটও ফেরত নিচ্ছে!টিম মেম্বার ছিলাম ৫জন,হুটহাট ডিসিশন নিয়ে ট্রেনের টিকিট ফেরত দিয়ে চলে গেলাম সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে।হানিফ এন্টারপ্রাইজে চেপে বসলাম ১০ঃ৩০ এ আর সিলেটের কদমতলিতে ৩ঃ৩০ এই পৌছে দিলো!এতো তাড়াতাড়ি চলে আসবো আশা করি নি।যেহেতু আমাদের হোটেল বুকিং দেয়া ছিলো তাই হাটা শুরু করলাম আমাদের হোটেল রয়েল পাম্পের দিকে।কিন ব্রীজ, আলী আমজাদের ঘড়ি আর সার্কিট হাউজ উকি দিয়ে চলে এলাম হোটেলে।হোটেলে চেক ইন করে ফ্রেশ হয়ে একটু রেস্ট নিয়ে, ফজরের নামাজ শেষ করলাম।হোটেলের ছাদ থেকে সিলেটে প্রথম সকাল দেখার লোভ আর সামলাতে পারলাম নাহ।ছাদে গিয়ে সূর্যদয় দেখে সবাই মিলে চলে গেলাম পাচ ভাইতে সকালের নাস্তা করতে।আখনী,পরোটা,নেহারি,সুপ সবাই মিলে শেষ করে বেরিয়ে পড়লাম প্রথম দিনের প্লান অনুযায়ী। আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সি.এন.জি ঠিক করে বেরিয়ে পড়লাম রাতারগুল আর বিছানাকান্দির উদ্দেশ্যে।সি.এন.জি,নৌকা,হোটেল সব কিছুতে আমাদের দিক নিদর্শনা দিয়েছেন এলাকার শ্রদ্ধেয় বড়ভাই মুন্সি আবু হাসান ভাই।বলাই বাহুল্য তিনি না থাকলে আমাদের ট্যুরটা হইতো এতো সুন্দর হতো নাহ। মঞ্জু আহমেদ মামার সি.এন.জি তে আমাদের যাত্রা শুরু হলো।পথিমধ্যে দেখা মিললো মালনিছড়া চা বাগানের।তারপর ধোপাগুল বাজার থেকে ডানে মোড় নিয়ে ১ঃ৩০ মিনিটের মধ্যেই আমাদের প্রথম স্পট রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টে পৌঁছে গেলাম।এখান থেকেই আমাদের নৌকা ভাড়া করে যেতে হবে বনের মধ্যে।প্রসাশনের নির্ধারিত ৭৫০ টাকা
ভাড়া দেখে আমরা নৌকা নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম ছোট খাল দিয়ে।ছবিতে আর ভিডিওতে যেমনটি দেখেছিলাম বাস্তবের সাথে তার মিল পাচ্ছিলাম নাহ,কিন্তু ১৫-২০ মিনিট পরেই হুবুহু মিল খুঁজে পেলাম কেননা ততক্ষণে আমরা কড়জ আর অন্যান্য গাছগুলো খুজে পেয়েছি।কিন্তু হঠাৎ করেই শুরু হলো বৃষ্টি। এমন বৃষ্টি যে আর থামবার নামই নেই,আমাদের ৫জনের সাথে ছিলো শুধু একটা ছাতা তাই ব্যাগে থাকা ক্যামেরার প্রটেকশনের জন্য ছাতাটা বিলিয়ে দিলাম।টানা ২ঘন্টা ভিজেছি বনের মধ্যে ভেবেছিলাম প্রথম দিনেই বুঝি সবার জ্বর এসে যায়!কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ পুরো ট্যুর জুড়ে কারো কোনো সমস্যা হয়নি।বৃষ্টির টাপুর টুপুর শব্দ আর পানিতে নিমজ্জিত গাছ একটা অন্যরকম প্রশান্তি যোগ করেছিলো তা বলার অপেক্ষা রাখে নাহ।১টার পর পরই আবার বিছানাকান্দির পথে আমরা সালুটিকর বাজার থেকে ডানে মোড় নিয়ে চলে গেলাম বিছানাকান্দিতে। কিন্তু এখানে আপনার বিপ্তত্তি ঘটার মতো সম্ভাবনা বেশি কেননা নৌকার ঘাট আছে ৩-৪টা। সি.এন.জি মামারা সাধারণত পীরগঞ্জেই নামিয়ে দেয় কেননা এটা সবার আগে আসে,এখান থেকে বিছানাকান্দির দূরত্ব বেশি।নৌকা ভাড়া চেয়ে বসবে ২০০০-৩০০০টাকা।যেহেতু আমাদের আগে থেকে জানা ছিলো আর এক সপ্তাহ আগে এক বন্ধু গিয়েছিলো তাই আমরা মামাকে বললাম হাদারপাড় নৌকা ঘাটে নিয়ে যেতে এখান থেকে ৬০০-৮০০টাকার মধ্যে নৌকা পেয়ে যাবেন আর ৮জন যেতে পারবেন।বিছানাকান্দির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আমরা অনেকটা সময় পার করে মাগরিবের সময় সি.এন.জিতে উঠি সিলেটের উদ্দেশ্য। ৮টার দিকে হোটেলে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে পাচ ভাই রেস্টুরেন্টে সব রকম ভর্তা আর আইটেম শেষ করেও বিল আসলো ৮৪০টাকা!
দুপুরে না খাওয়াতে এমন খুদা লেগেছিলো মনে হয়েছিল আমরা বুঝি ১সপ্তাহ অনাহারে ছিলাম।হোটেলে ফিরে সবাই গল্প শেষ করে আমাদের প্রথম দিনের স্মৃতি মাখা দিনটা মনে করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম।
প্রথম দিনের খরচঃ
ঢাকা টু সিলেট (বাস)- ৪৭০টাকা
হোটেল (২২০০/৫)= ৪৪০টাকা
সকালের নাস্তা= ৮০টাকা (পাচ ভাই)
সি.এন.জি(৮০০/৫)= ১৬০টাকা
রাতারগুলে নৌকা(৭৫০/৫)= ১৫০টাকা
বিছানাকান্দিতে নৌকা (৮০০/৫)= ১৬০টাকা
রাতের খাবার=১৬০টাকা (পাচ ভাই)
সর্বমোট=১৬২০ টাকা
DaY-2
DaY-3
DaY-4 coming soon.......
বিস্তারিত দেখতে চোখ রাখুনঃ
Channel Name:
Tauhiduzzaman Rabbi
YouTube link:
https://www.youtube.com/channel/UCUSOod-DKmIqTmbCV0YElSw
Sylhet Vlog - (DAY 1-4)
(Series Coming soon)
কোনোকিছু জানার থাকলে কমেন্ট বা ইনবক্সে নক দিতে পারেন।বিস্তারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বার ও গুগল লোকেশন ভিডিওর ডেসক্রিপশনে দেয়া হবে।