Sadik Mahmud Arpo

Sadik Mahmud Arpo A daily life warrior against the chaos of life.

26/05/2026

আপনার সকালটা কে চুরি করছে জানেন?

চলুন তাহলে চুরির মামলার তদন্তটা করে ফেলি। আর সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় কী জানেন? এই চুরির ঘটনার ভুক্তভোগী যেমন আপনারা, চোরটাও লুকিয়ে আছে ঠিক আপনাদের আশেপাশেই। আমি যদি এখন আপনাদের জিজ্ঞেস করি আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার ঠিক কতক্ষণ পর আপনারা আপনাদের স্মার্টফোনটা হাতে নিয়েছেন? অনেকেই হয়তো মনে মনে হাসছেন। কারণ উত্তরটা হলো: ঘুম থেকে ওঠার পর নয়, বরং চোখ খোলার আগেই আমরা হাতড়ে ফোনটা খুঁজি। ফোনের অ্যালার্ম বন্ধ করতে গিয়ে স্ক্রিনে ভেসে ওঠা একটা নোটিফিকেশন আমাদের টেনে নিয়ে যায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইউটিউবের এক অন্তহীন গোলকধাঁধায়।
ঠিক এই জায়গাটাতেই ডাকাতিটা হয়ে যায়। আপনার অজান্তেই, আপনার সুন্দর, শান্ত আর সম্ভাবনাময় সকালটা কেউ একজন চুরি করে নিয়ে চলে যায়।

আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কী? ক্যারিয়ার? টাকা? সিজিপিএ (CGPA)? উত্তর টা হচ্ছে, এসবের একটাও না, আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো 'ফোকাস' এবং 'সময়'। আর ঠিক এই দুটো জিনিসই প্রতিদিন সকালে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সকালের প্রথম এক ঘণ্টা নির্ধারণ করে দেয় আপনার পুরো দিনটা কেমন যাবে। বিজ্ঞান বলছে, ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি সক্রিয় আর সৃজনশীল থাকে। কিন্তু আমরা কী করছি? ঘুম থেকে উঠেই অন্যের জীবনের 'পারফেক্ট' মুহূর্তের ছবি দেখছি, রিলস স্ক্রল করছি, কিংবা কোনো নেতিবাচক নিউজ দেখে দিনের শুরুতেই ব্রেনটাকে ক্লান্ত করে ফেলছি। আপনি পড়ার টেবিলে বসার আগেই আপনার ব্রেন অলরেডি হাজারটা অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে জ্যাম হয়ে গেছে।

"যে নিজের সকালটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না, সে তার পুরো দিনটাকে নিয়ন্ত্রণ করার যোগ্যতা হারায়।"

কিন্তু মাত্র ৩টি ছোট পদক্ষেপ আপনার সকালটাকে আপনার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারে:

১. ফোনটাকে দূরে রাখুন: রাতে ঘুমানোর সময় ফোনটা বিছানা থেকে অন্তত পাঁচ হাত দূরে রাখুন। সকালে অ্যালার্ম বাজলে যেন আপনাকে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে সেটা বন্ধ করতে হয়।
২. প্রথম ৩০ মিনিটের নিয়ম: ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম ৩০ মিনিট কোনো সোশ্যাল মিডিয়া নয়। এই সময়টায় এক গ্লাস জল খান, একটু জানালার বাইরে তাকান, বুকে ভরে শ্বাস নিন কিংবা আজকের দিনের ছোট একটা টু-ডু লিস্ট (To-do list) বানান।
৩. নিজের সাথে কথা বলুন: সকালের শান্ত সময়টায় অন্যের লাইফস্টাইল না দেখে, নিজের ক্যারিয়ার আর স্বপ্ন নিয়ে ভাবুন।

সিদ্ধান্ত এখন আপনার।

26/05/2026

জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার আসল চাবিকাঠি "Mental Resilience"

আমরা আমাদের জীবনে এমন অনেক মানুষকে দেখেছি যারা স্কুলের গণ্ডি পার হতে পারেনি, কলেজের পরীক্ষায় ফেল করেছে, কিন্তু পরবর্তীতে জীবনের কোনো এক মোড়ে গিয়ে সফলতার চূড়ায় পৌঁছেছে। প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় ফেল করা মানেই জীবনের সমাপ্তি নয়। কিন্তু বিপরীত দিকে, এমন অনেক মেধাবী মানুষকেও দেখা যায়, যারা সামান্য একটা ধাক্কা বা ব্যর্থতা নিতে না পেরে পুরো জীবনটাতেই ব্যর্থ হয়ে যায়। প্রশ্ন হলো, জীবনের এই চূড়ান্ত পরীক্ষায় যারা হেরে যায়, তাদের মূল ঘাটতিটা কোথায়? কারণটা একটাই "Mental Resilience" বা "মানসিক সহনশীলতা"।

মানসিক দৃঢ়তা কোনো জন্মগত গুণ নয়
অনেকেই মনে করেন, কিছু মানুষ জন্মগতভাবেই মানসিকভাবে খুব শক্ত মনের অধিকারী হয়। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। স্ট্রং মানুষ কখনো জন্ম নেয় না, তারা তৈরি হয়। যেভাবে কাঁচা লোহাকে আগুনে পুড়িয়ে আর হাতুড়ির পিটুনি দিয়ে ইস্পাতে রূপান্তর করা হয়, মানুষের মনও ঠিক সেভাবেই তৈরি হয়। প্রতিটা মানসিক চাপ, প্রতিটা ব্যর্থতা, আর সমাজ বা প্রিয়জনদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিটা "না" আসলে একেকটি হাতুড়ির আঘাত। এই আঘাতগুলো যারা সহ্য করতে পারে, তারা ভেঙে পড়ে না; বরং ভেতরে ভেতরে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।লাইফে যারা সফল হয়, তারা যে কখনো ব্যর্থ হয়নি এমন নয়। তফাৎটা হলো, তারা ব্যর্থতাকে জীবনের শেষ স্টেশন মনে করে না।

প্রতিটা চাপ (Pressure) মানুষকে তার সীমানা অতিক্রম করতে শেখায়।
প্রতিটা ব্যর্থতা (Failure) একটি নতুন শিক্ষা দেয়, যা কোনো বই পড়ে শেখা যায় না।
প্রতিটা "না" (Rejection) ভেতরের জেদটাকে বাড়িয়ে দেয়, নিজেকে প্রমাণ করার তীব্র ইচ্ছা তৈরি করে।

যাদের মধ্যে এই Mental Resilience থাকে না, তারা প্রথম ধাক্কাতেই ভেঙে পড়ে। তারা পরিস্থিতিকে দোষ দেয়, ভাগ্যকে দোষ দেয় এবং একসময় লড়াই করা ছেড়ে দেয়। আর লড়াই ছেড়ে দেওয়া মানেই হলো লাইফে ফেইল করা।
রেজিলিয়েন্স বা মানসিক সহনশীলতা কীভাবে তৈরি হয়?
যেহেতু এটি কোনো জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়, তাই একে সচেতনভাবে তৈরি করে নিতে হয়:

১. বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া: জীবন সবসময় মসৃণ চলবে না। কঠিন সময় আসবেই এই সত্যটাকে যত দ্রুত মানুষ মেনে নিতে পারে, তত দ্রুত সে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পায়।
২. ভুল থেকে শেখার মানসিকতা: "আমি কেন পারলাম না?" এই আফসোস না করে, "আমি কী ভুল করেছি এবং পরের বার কীভাবে ঠিক করব?" এই চিন্তা করা।
৩. আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা: কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের আবেগ ও হতাশাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই হলো আসল শক্তি।

22/05/2026
22/05/2026

Somewhere in Bangladesh

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, জামালপুর ।©️Sadik Mahmud Arpo
21/05/2026

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ, জামালপুর ।
©️Sadik Mahmud Arpo

Address

Jamalpur Sadar Upazila

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sadik Mahmud Arpo posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Sadik Mahmud Arpo:

Share

Category