16/08/2024
থানকুনি পাতা :
থানকুনি Apiaceae পরিবারের এক ধরনের খুব ছোট বর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ। অনেকটা একাদশী-দ্বাদশীর চাঁদের মতো দেখতে থানকুনি পাতা গোলাকৃতির এবং পাতার কিনারে খাঁজ রয়েছে। অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামণি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি প্রভৃতি নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে সবাই চেনে।
এর বৈজ্ঞানিক নাম Centella asiatica.
সাধারণত স্যাঁতসেঁতে ও লবণাক্ত আবহাওয়ায় থানকুনি ভালো জন্মে। বাংলাদেশ, ভারত, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া এবং এশিয়ার অন্যান্য প্রান্তে এই উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের দেশে পুকুরপার বা জলাশয়ের পাশে এগুলো বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশে, রাস্তার পাশে বা ক্ষেতের আলে এই উদ্ভিদের উপস্থিতি নজরে আসে।
এ ছাড়া থানকুনি শহরাঞ্চলে বাড়ির ছাদে বা বারান্দার টবেও চাষ করা যায়।
একই প্রজাতির দুই ধরনের থানকুনি দেখা যায়- বড় পাতা আর ছোট পাতা থানকুনি। ভারতের কোচবিহারে ছোট পাতার থানকুনিকে বলে খুদে মালি আর বড় পাতার থানকুনিকে বলে ঢোল মালি। পাতার বোঁটা লম্বা, দু-তিন ইঞ্চিরও বেশি লম্বা হতে পারে।
মাটি সরস ও উর্বরা হলে পাতা একটু বড় হয়, বোঁটাও লম্বা হয়। আর অনুর্বর-রুক্ষ মাটিতে পাতা ছোট হয়। বড় পাতার থানকুনির চেয়ে ছোট পাতার থানকুনি বেশি উপকারী। থানকুনির লতা কিছুদূর গিয়ে শিকড় ছাড়ে, তারপর আবার চলতে থাকে। এ জন্য তার একটি নাম আছে, মণ্ডূকপর্ণী।
মণ্ডূক অর্থ ব্যাঙ। ব্যাঙের মতো সে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে আর শিকড় থেকে নতুন গাছ হয়।
থানকুনি পাতায় আছে প্রচুর ভিটামিন সি। তাই এই পাতা নিয়মিত খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। এই পাতার রস মুখে মাখলে ব্রণ দূর হয়। মুখে ঘা ও অন্যান্য ক্ষতের জন্যও এই রস উপকারী। এ ছাড়া সর্দি, আমাশয়, গলা ব্যথা বা সাময়িকভাবে কাশির প্রকোপ কমাতে এই পাতার রস সাহায্য করে।
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। থানকুনি পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো এসিড, বিটা ক্যারোটিন ও ফাইটোকেমিক্যাল ত্বকে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থানকুনি। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও কমায়।