08/03/2025
•• এতে গন্ধপুষ্পে ••
১.
— বাব্বা! আজ সূর্য কোনদিকে উঠলো! সকাল সকাল উঠে... ও বাবা! স্নানও সেরে ফেলেছিস দেখছি!
— তুমি যে কী বলো না মা! তাড়াতাড়ি না উঠলে সরস্বতী পুজোর অঞ্জলি দেবো কী করে!
— কী! সরস্বতী পুজোর অঞ্জলি দিবি বলে তু্ই তাড়াতাড়ি উঠেছিস?
ছেলের কপালে হাত ঠেকায় মল্লিকা।
— না, জ্বর তো নেই! তাহলে তোর কী হয়েছে খোকা!
— যাহ্ বাবা! আমার আবার কী হবে?
— না মানে যে ছেলে প্রতিবছর তিথি পেরিয়ে যাওয়ার পাঁচ-দশ মিনিট আগে ছুটে ছুটে এসে অঞ্জুলি দেয়, তাও আবার আমার আর তোর বাবার দশবার ডাকার পরে; সে কিনা সকালবেলা তাড়াতাড়ি...
— তুমিও যে কী বলো না মা! আমি ও তো বড় হচ্ছি বলো... নিজের সেল্ফ ইমপ্রুভমেন্ট এর দিকে নজর...
— হ্যাঁ হয়েছে! সরস্বতী পুজোর দিন আর মিথ্যে বলিস না। সব বুঝছি আমি; কীসের জন্য তাড়াতাড়ি উঠেছিস।
— মা মা মানে! কী... কী... কী... বুঝছো মা!
— কিছু না! কিছু না!
তা তোর জ্যান্ত সরস্বতীর বুঝি আকাশী রঙ পছন্দ?
— জ্যা... জ্যা... জ্যান্ত সরস্বতী মা... মানে?
— না মানে, ভালো বেশ পাঞ্জাবিটা। ওই যে খাটে রাখা নতুন প্যাকেট দিয়ে উঁকি মারছে।
— আ... আসলে মা...
— আর ততলিয়ে কাজ নেই। তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে এসে অঞ্জলিটা দিয়ে নে নাহলে তোর জ্যান্ত সরস্বতীর সাথে এপয়েন্টমেন্টটা মিস হয়ে যাবে।
এই বলে মুচকি হাসতে হাসতে মল্লিকা ছেলের ঘর ছেড়ে ঠাকুর ঘরের দিকে চলে যায়।
— মা বুঝেই গেলো তাহলে। যদিও ভালোই হয়েছে, আমি তো ভেবেইছিলাম সেমেস্টার এক্সামটা হয়ে গেলে ওকে নিয়ে আসবো মায়ের সাথে দেখা করাতে।
২.
— তোমায় যে আজ কী সুন্দর লাগছে কী বলবো ঋতু!
— ধুস, তুমিও না শুভম!
এত তাড়াতাড়ি এলে কী করে? আন্টি মানে তোমার মা সন্দেহ করেননি তো।
— সন্দেহ করেনি মানে! মা সব বুঝে গেছে।
— কীইইইইই! বুঝে গেছে মানে?
— মায়ের পাগল উস্কো-খুস্কো কুম্ভকর্ণ ছেলে হঠাৎ সকাল সকাল উঠে পাঞ্জাবি পরে সেজেগুজে তৈরি হলো, কেন বুঝবে না বলো!
— এবার কী হবে তাহলে?
— কী আবার হবে! ফাইনাল সেমেস্টারটা হয়ে গেলে তোমায় নিয়ে গিয়ে মায়ের সাথে দেখা করাবো।
— তুমি আমাকে নিয়ে এত সিরিয়াস, শুভম!
— ভীষণ সিরিয়াস! আজ কোন সকালে উঠেছি শুধু তোমায় শাড়ি পরে দেখবো বলে, পুজোর ফুল ছুঁড়ছি আর ভাবছি কখন আমাদের দেখা হবে...
— অসভ্য একটা! এমন করলে মা সরস্বতী পাপ দেবে।
— দিক! আমার জ্যান্ত সরস্বতী আছে তো! তুমি...
— যাহ্!
লজ্জায় মুখ নামিয়ে নেয় ঋতু। ওকে আরও কাছে টেনে নেয় শুভম।
৩.
— তবে রে! আঁকুপাঁকু দেখেই বুঝেছি যে পুজোয় মন নেই... সবার নাম লিখে রাখছি... সেমেস্টারে দেখাবো মজা!
— কিন্তু মা, তাহলে যে ওদের প্রেমটা পুরো ঘেটে যাবে!
— চুপ! তু্ই একদম ওদের হয়ে কথা বলবি না হাঁসু! মাই পুজো, মাই রুলস! আমাকে বিদ্যার দেবীর বদলে প্রেমের দেবী করে ছেড়ে দিয়েছে পাজিগুলো। সরস্বতী পুজোকে বাঙালী ভ্যালেন্টাইন্স ডে বানিয়ে দিয়েছে তাও কিছু বলিনি কিন্তু এবার কিছু একটা করতেই হবে আমাকে। এবার থেকে অঞ্জলি দেওয়ার সময় যদি কেউ মন দিয়ে না দেয়, তার খবর আছে।
— ওকে মা! আমি বীণাটা বাজিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিচ্ছি তোমায়। তুমি নাম লিখতে থাকো।
— হ্যাঁ দে।