27/02/2025
তাজিংডং বাংলাদেশের একটি পর্বতশৃঙ্গ, যা সরকারিভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত। আগে ‘কেওক্রাডং’কে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মনে করা হতো। আধুনিক গবেষণায় এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়। বর্তমানে ন্যাচারাল অ্যাডভেঞ্চার নামে একটি বেসরকারি সংস্থা ‘সাকা হাফং’ পর্বতকে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে দাবি করে।
তবে এটি এখনো সরকারি স্বীকৃতি পায়নি।
স্থানীয় উপজাতীয়দের ভাষায় ‘তাজিং’ শব্দের অর্থ বড় আর ‘ডং’ শব্দের অর্থ পাহাড়। এই দুটি শব্দ থেকে তাজিংডং পর্বতের নামকরণ হয়। সরকারিভাবে একে বিজয় পর্বত নামেও সম্বোধন করা হয়।
এটি বান্দরবান থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং রুমা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে। তাজিংডং পর্বতের উচ্চতা এক হাজার ২৮০ মিটার (৪১৯৮.৪ ফুট)।
এই পর্বত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নের সাইচল পর্বতসারিতে অবস্থিত। এ পর্বতের পাশে একটি উপজাতীয় পল্লী রয়েছে।
এ পাড়ার নাম নতুন সিম্পলম্পি পাড়া।
উন্নত যোগাযোগ এবং পরিবহনব্যবস্থা না থাকায় এটি বাংলাদেশের অন্যতম দুর্গম উপজেলা। তাজিংডংয়ে যেতে হলে পর্যটকদের প্রথমে রুমায় পৌঁছতে হয়। রুমায় যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হয়। বিকেল ৪টার পর কাউকে বগা লেক, কেওক্রাডং বা তাজিংডংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করতে দেওয়া হয় না।
বর্ষাকালে কৈখংঝিরি পর্যন্ত জিপে করে যাওয়া যায়। সেখান থেকে নৌকায় করে এক ঘণ্টায় রুমায় পৌঁছানো সম্ভব। তবে শীতকালে জিপেই রুমার ব্রিজঘাট পর্যন্ত যাওয়া যায়।
রুমা সদর থেকে বগা লেক পর্যন্ত পিকআপ বা জিপ ভাড়া পাওয়া গেলেও বগা লেক থেকে তাজিংডংয়ে পৌঁছতে পাহাড়ের মধ্য দিয়ে হাঁটা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাজিংডংয়ে পৌঁছানোর যাত্রাপথ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হওয়ায় সঙ্গে মহিলা ও শিশুদের না নেওয়াই ভালো।
রুমা বাজারে থাকার জন্য কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলে থাকতে হলে পর্যটকদের আগাম বুকিং করতে হয়। অন্যথায় খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। তবে ভাগ্য ভালো হলে আদিবাসীদের বাসায় রাত কাটানোর সৌভাগ্য হতেও পারে।
তাজিংডংয়ে যাওয়ার জন্য পর্যটকদের শুকনা খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, গরম কাপড়, টর্চলাইট, ওরস্যালাইন, মশা তাড়ানোর লোশন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র রাখতে হয়।